ক্ষমা করা আর শাফায়েত কর কি একই বুঝায়?
ক্ষমা করা (مَغْفِرَة / يَغْفِرُ) এবং শাফায়াত করা (شَفَاعَة) একই বিষয় নয়।
সাফায়াত شَفَاعَة = কারও পক্ষে কথা বলা/সুপারিশ করা। মাগফেরাত مَغْفِرَة = অপরাধ ক্ষমা করা।
শাফায়াত شَفَاعَة — এর ধারণা হলো কারও পক্ষে মধ্যস্থতা বা সুপারিশ করা।
যেমন: مَن يَشْفَعْ شَفَاعَةً حَسَنَةً “যে ভালো শাফায়াত করে…” ৪:৮৫
এখানে শাফায়াতকারী অন্য কারও পক্ষে কিছু করছে।
অন্যদিকে— مَغْفِرَة — মাগফিরাত– এটি ক্ষমা করা বা অপরাধ ঢেকে দেওয়া।
“নিশ্চয়ই আল্লাহ সমস্ত পাপ ক্ষমা করেন।” ৩৯:৫৩
অর্থাৎ ক্ষমা করার কাজটি সরাসরি আল্লাহর সঙ্গে যুক্ত।
আল্লাহ কাউকে ক্ষমা করবেন—এ দাবি কুরআনে সরাসরি প্রতিষ্ঠিত।
কিন্তু “আল্লাহ নিজেই কারও জন্য শাফায়াত করবেন” এ ভাবে বলা কুরআনের সরাসরি বক্তব্য নয়।
“তিনি যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন।” ৪:৪৮
তারা কি আল্লাহ ছাড়া শাফায়াতকারী গ্রহণ করেছে?” ৩৯:৪৩
অতএব আল্লাহ কাউকে ক্ষমা করবেন/করতে পারেন—এটি সরাসরি কুরআনিক বক্তব্য। পক্ষান্তরে شَفَاعَة (শাফা‘আহ) শব্দটি ক্ষমা করার সমার্থক নয়। সাধারণ অর্থে এটি মধ্যস্থতা/সুপারিশ।
বলুন, সমস্ত শাফায়াত আল্লাহরই। (৩৯:৪৪)
এর ঠিক আগের আয়াতে বলা হয়েছে:
তবে কি উহারা আল্লাহ্ ব্যতীত অপরকে সুপারিশকারী ধরিয়াছে ? (৩৯:৪৩)
অর্থাৎ এখানে কুরআন শাফায়াতকারী গ্রহণ করার ধারণা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে, তারপর বলছে— “সমস্ত শাফায়াত আল্লাহরই।”
