প্রচলিত সালাত কাঠামো বনাম কোরানে বর্নিত সালাতের কাঠামোঃ
কুরআনের আলোকে সালাতে কাঠামো কেমন হতে পারে? প্রথমে প্রচলিত সালাত কাঠামো দেখে নেই ।
১. সালাতের মনোস্থিরে দাঁড়িয়ে দোয়া “আমি আমার মুখমণ্ডল (সমগ্র সত্তা) সেই সত্তার দিকে নিবদ্ধ করেছি যিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন। আমি একনিষ্ঠভাবে তাঁরই দিকে ঝুঁকেছি। আমি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত নই।”
এটি মূলত Quran-এর সূরা আল-আন‘আম-এর ভাষা থেকে নেওয়া।
style=”text-align: justify;”>২. الله أكبر (আল্লাহু আকবার) তাকবীর সংকল্প বাঁধা। “আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ।” (নামাজ শুরু করার তাকবীর)
৩. কোরআন পাঠ করা “পরম করুণাময়, অতি দয়ালু আল্লাহর নামে।”
৪. সূরা ফাতিহা: সকল প্রশংসা আল্লাহর, যিনি সকল জগতের প্রতিপালক। তিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু। বিচার দিবসের মালিক। আমরা একমাত্র তোমারই ইবাদত করি এবং তোমারই সাহায্য চাই। আমাদের সরল পথ দেখাও। তাদের পথ, যাদের তুমি অনুগ্রহ করেছ। যারা তোমার ক্রোধের পাত্র নয় এবং পথভ্রষ্টও নয়।
৫.সাথে অন্য আয়াত বা সূরা পড়া। যেমনঃ সূরা কাউসার নিশ্চয়ই আমি আপনাকে প্রাচুর্যময় কল্যাণ দান করেছি। অতএব আপনার প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে সালাত প্রতিষ্ঠা করুন এবং কুরবানি করুন। নিশ্চয়ই আপনার শত্রুই নির্বংশ হবে।
৬. الله أكبرবাংলা অর্থ “আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ।”
৭. রুকু سبحان ربي العظيم বাংলা অর্থ: “আমার মহান প্রতিপালক সকল ত্রুটি থেকে পবিত্র।” ৮. سمع الله لمن حمده বাংলা অর্থ “যে আল্লাহর প্রশংসা করে, আল্লাহ তার প্রশংসা শুনেন।” ৯. ربنا ولك الحمد বাংলা অর্থ: “হে আমাদের প্রতিপালক! সকল প্রশংসা তোমারই।” ১০. الله أكبر “আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ।”
১১. সিজদা سبحان ربي الأعلى বাংলা অর্থ: “আমার সর্বোচ্চ প্রতিপালক সকল ত্রুটি থেকে পবিত্র।”
১২. দুই সিজদার মাঝে رب اغفر لي বাংলা অর্থ: “হে আমার প্রতিপালক, আমাকে ক্ষমা করুন।” এরপর দ্বিতীয় সিজদা। ১৩. দ্বিতীয় রাকাত। আবার সূরা ফাতিহা। এরপর (আপনার উদাহরণ অনুযায়ী) সূরা লাহাব। আবু লাহাবের দুই হাত ধ্বংস হোক। তার ধন-সম্পদ তার কোনো উপকারে আসবে না। সে জ্বলন্ত আগুনে প্রবেশ করবে। তার স্ত্রীও (জ্বালানি বহনকারী হবে)। তার গলায় থাকবে খেজুরের আঁশের পাকানো রশি। এরপর আগের মতো রুকু ও সিজদা।
বৈঠকে (তাশাহহুদ)। আত্তাহিয়্যাতু। বাংলা অর্থ: সমস্ত মৌখিক সম্মান, সমস্ত ইবাদত এবং সমস্ত পবিত্রতা আল্লাহর জন্য। হে নবী! আপনার উপর শান্তি, আল্লাহর রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক। আমাদের উপর এবং আল্লাহর সৎ বান্দাদের উপরও শান্তি বর্ষিত হোক।
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। এবং সাক্ষ্য দিচ্ছি যে মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল।
দরুদে ইবরাহিম
বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ! মুহাম্মদের উপর রহমত বর্ষণ করুন। যেমন আপনি ইবরাহিমের উপর রহমত বর্ষণ করেছিলেন। নিশ্চয়ই আপনি প্রশংসিত, মহিমান্বিত। মুহাম্মদের পরিবারকে বরকত দিন। যেমন ইবরাহিমের পরিবারকে বরকত দিয়েছিলেন। নিশ্চয়ই আপনি প্রশংসিত, মহিমান্বিত।
সালাম السلام عليكم ورحمة الله বাংলা অর্থ “আপনাদের উপর শান্তি এবং আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক।” ডানে একবার, বামে একবার।
পুরো কাঠামোর বাংলা মর্ম যদি সবকিছু ধারাবাহিক বাংলায় সাজানো হয়, তাহলে এর সারমর্ম দাঁড়ায়— আমি একমাত্র সৃষ্টিকর্তার দিকে নিজেকে সমর্পণ করছি। তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ। তাঁর নাম নিয়ে শুরু করছি। আমি তাঁর প্রশংসা করছি, তাঁরই ইবাদত করছি, তাঁরই সাহায্য চাইছি এবং সরল পথ প্রার্থনা করছি। তিনি আমাকে অসীম কল্যাণ দিয়েছেন। আমি তাঁর সামনে বিনীত হচ্ছি, ঘোষণা করছি—তিনি মহান, তিনি সর্বোচ্চ এবং সকল ত্রুটি থেকে পবিত্র। আমি তাঁর প্রশংসা করছি, তাঁর কাছে ক্ষমা চাইছি। শেষে সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ তাঁর রাসূল। আমি নবীর জন্য ও ইবরাহিমের পরিবারের জন্য রহমত কামনা করছি এবং উপস্থিতদের প্রতি শান্তির শুভেচ্ছা জানিয়ে সালাত শেষ করছি।
কিন্তু সুরা কাউসার সুরা লাহাব ইত্যাদি পড়া বা সালাতে বলা অসামাঞ্জস্য মনে করি। নিজের প্রার্থনা মুলক আয়াতগুলি শ্রেয়।
এবার কোরানের আলোকে যদি একটি সালাতের কাঠামো দাড় করাতে চাই সেখানে কোন রাকাতের সংখ্যা আসে না। আত্তাহিয়াতু, দরুদ এসব আসে না। কুরআনে স্পষ্টভাবে পাওয়া যায়: আল্লাহকে স্মরণ করা। সালাত প্রতিষ্ঠার নির্দেশ। কিয়াম (দাঁড়ানো)। রুকু। সিজদা। কুরআন তিলাওয়াত। আল্লাহর তাসবীহ। দোয়া।
কুরআনে বর্ণিত বাক্য ব্যবহার করে নির্মিত একটি সম্ভাব্য সালাতের রূপ”। এটি কুরআনের নিজস্ব ভাষার উপর ভিত্তি করে একটি গবেষণামূলক বিন্যাস, কুরআনের দাবি করা বাধ্যতামূলক রূপ নয়। কুরআনের ভাষায় সম্ভাব্য সালাত। ১. দাঁড়ানো (কিয়াম) بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ বাংলা পরম করুণাময়, অতি দয়ালু আল্লাহর নামে। এরপর إِنَّ صَلَاتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ • لَا شَرِيكَ لَهُ (সূরা আল-আন‘আম ৬:১৬২–১৬৩) বাংলা: আমার সালাত, আমার ইবাদত, আমার জীবন ও আমার মৃত্যু—সবই বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। তাঁর কোনো শরিক নেই। ২. কুরআন তিলাওয়াত কুরআন নির্দেশ দেয়— “কুরআন থেকে যা সহজ হয় তা পড়।” (সূরা আল-মুযযাম্মিল ৭৩:২০) অতএব পড়া যেতে পারে—নিজ চাওয়া পাওয়ার আবেদন প্রার্থনামুলক আয়াত সমুহ। ৩. রুকু: কুরআনের নির্দেশ اركعوا “রুকু কর।” (সূরা আল-বাকারা ২:৪৩) রুকুতে কুরআনের ভাষায় বলা যেথনা তে পারে— سُبْحَانَ رَبِّي অথবা سُبْحَانَ اللَّهِ অথবা سَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الْعَظِيمِ (সূরা আল-ওয়াকিয়া ৫৬:৭৪) বাংলা: আপনার মহান প্রতিপালকের নামের পবিত্রতা ঘোষণা করুন। ৪. আবার দাঁড়ানো। কুরআনে নির্দিষ্ট কোনো বাক্য উল্লেখ নেই। অতএব আল্লাহর প্রশংসা করা যেতে পারে— الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ সকল প্রশংসা আল্লাহর। ৫. সিজদা: কুরআনের নির্দেশ اسجدوا সিজদা কর। সিজদায় বলা যেতে পারে— سَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الْأَعْلَى (সূরা আল-আ‘লা ৮৭:১) বাংলা: আপনার সর্বোচ্চ প্রতিপালকের নামের পবিত্রতা ঘোষণা করুন। ৬. দোয়া: কুরআনের দোয়া رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ (সূরা আল-বাকারা ২:২০১) বাংলা: হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের দুনিয়ায় কল্যাণ দিন। আখিরাতেও কল্যাণ দিন। এবং আগুনের শাস্তি থেকে রক্ষা করুন। অথবা رَبِّ اغْفِرْ وَارْحَمْ وَأَنْتَ خَيْرُ الرَّاحِمِينَ ( ২৩:১১৮) বাংলা: হে আমার প্রতিপালক! ক্ষমা করুন। দয়া করুন। আপনিই সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু। এই কাঠামোর বৈশিষ্ট্য। এখানে লক্ষ্য করবেন— শুরুতে কুরআনের ঘোষণা। কুরআন তিলাওয়াত। রুকু। আল্লাহর তাসবীহ। সিজদা। কুরআনের দোয়া। পুনরায় কুরআন তিলাওয়াত। সমাপ্তিতে সালাম। অর্থাৎ প্রতিটি বাক্যই কুরআনের ভাষা থেকে নেওয়া হয়েছে।
