হুরমতে মুসাহারা’ (বৈবাহিক সম্পর্কজনিত হারাম হওয়া) অনুচ্ছেদের মাসআলা।
ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী হানাফী ফিকহের অনুন্য নির্ভরযোগ্য কিতাব।
আরবী মূল গ্রন্থে এই মাসআলাগুলো যেভাবে বর্ণিত হয়েছে: কামোদ্দীপনার (শাহওয়াত) সময়কাল: স্পর্শ বা তাকানোর সময় কামোদ্দীপনা (কামভাব) থাকা শর্ত। স্পর্শ বা নজর করার পর যদি আলাদাভাবে কামভাব জাগ্রত হয়, তবে তা হুরমতে মুসাহারা সাব্যস্ত করবে না।
কামোদ্দীপনার আলামত বা লক্ষণ: একজন সক্ষম বা যুবক পুরুষের ক্ষেত্রে শাহওয়াতের লক্ষণ হলো তার জননেন্দ্রিয় জাগ্রত ও শক্ত হওয়া (انتشار الآلة)। আর যদি আগে থেকেই শক্ত থাকে, তবে তা আরও বৃদ্ধি পাওয়া। (উৎস: তাবয়ীনুল হাকায়েক)।
বৃদ্ধ বা অক্ষম ব্যক্তির ক্ষেত্রে লক্ষণ: যিনি বৃদ্ধ বা নামর্দ (পৌরুষত্বহীন), তার ক্ষেত্রে জননেন্দ্রিয় শক্ত হওয়া শর্ত নয়; বরং অন্তরে তীব্র কামভাব বা হৃদস্পন্দন সৃষ্টি হওয়াই শাহওয়াতের লক্ষণ। (উৎস: আল-খুলাসা / জাওয়াহিরুল আখলাতী)।
ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী হানাফী ফিকহের নির্ভরযোগ্য কিতাব। আরবী মূল গ্রন্থে এই মাসআলাগুলো যেভাবে বর্ণিত হয়েছে: কন্যার উরুর মধ্যবর্তী স্থানে স্পর্শ বা প্রবেশের মাসআলা: মূল আরবী ইবারতে স্পষ্ট উল্লেখ আছে যে, কোনো ব্যক্তি যদি তীব্র কামভাব নিয়ে নিজের স্ত্রীর খোঁজে আসে এবং তাকে না পেয়ে অবচেতন বা ভুলবশত নিজের (প্রাপ্তবয়স্ক বা সহবাসের উপযুক্ত) কন্যার উরুর মাঝে লিঙ্গ প্রবেশ করায় বা স্পর্শ করে, তবে সেখানে যদি লিঙ্গ পূর্বের চেয়ে আরও অতিরিক্ত শক্ত বা উদ্দীপিত না হয়, তবে ‘হুরমতে মুসাহারা’ সাব্যস্ত হবে না (অর্থাৎ কন্যার মা বা ওই ব্যক্তির স্ত্রী তার জন্য হারাম হবে না)। তবে যদি অতিরিক্ত কামভাব বা উদ্দীপনা প্রকাশ পায়, তাহলে হানাফী ফিকহের নিয়ম অনুযায়ী স্ত্রীর সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন বা হারাম হয়ে যায়। (উৎস: তাবয়ীনুল হাকায়েক)।
মাদ্রাসায় কেন এত বলৎকার ঘটনা দেখা যায়? কারন এগুলি ফিকাহ বা শরীয়া আইনে দন্ডনীয় নয়।
শরীয়া আইন বা ফিকার কিতাবে বালকের সাথে বলৎকার বা পিতা কতৃক কন্যার সহবাস বিষয়ে বর্নিত:
১) বালকের সহবাসের হুকুম: মূল কিতাবে বলা হয়েছে, যে বালক সহবাসের উপযুক্ত বা সক্ষম (মুরেহিক/مراهق), তার স্পর্শ বা সহবাস প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের মতোই হুরমতে মুসাহারা (যেমন: শাশুড়ির সাথে বা নির্দিষ্ট কিছু আত্মীয়ের সাথে বিবাহ হারাম হওয়া) সাব্যস্ত করে। এর জন্য মানদণ্ড হলো— যার সমবয়সী বালকেরা সাধারণত সহবাস করতে পারে এবং যাদের দেখলে নারীরা পর্দা বা লজ্জা পেয়ে থাকে। (উৎস: ফাতাওয়া কাযীখান)
২) স্ত্রীকে তলব করে না পেয়ে স্বীয় কন্যার উরুদ্বয়ের মধ্যবর্তী স্থানে তা প্রবেশ করায় তবে এতে এই কন্যার মা তার জন্য হারাম হবে না। যতক্ষণ পর্যন্ত না তার জননেন্দ্রীয় আরো বেশি শক্ত হয়। (তাবয়ীন)”
আরবী وَأَوْلَجَ بَيْنَ فَخِذَيْ ابْنَتِهَا لَا تَحْرَمُ عَلَيْهِ أُمُّهَا مَا لَمْ يَزْدَدْ انْتِشَارًا ، كَذَا فِي التَّبْيِينِ (অর্থ: …এবং তার কন্যার উরুর মাঝে প্রবেশ করাল, এতে তার মা তার জন্য হারাম হবে না যতক্ষণ না লিঙ্গের উত্তেজনা/শক্ত হওয়া আরও বৃদ্ধি পায়; ‘তাবয়ীন’ কিতাবে এমনই রয়েছে)। . فَمَنْ انْتَشَرَتْ آلَتُهُ فَطَلَبَ امْرَأَتَهُ وَأَوْلَجَ بَيْنَ فَخِذَيْ ابْنَتِهَا لَا تَحْرَمُ عَلَيْهِ أُمُّهَا مَا لَمْ يَزْدَدْ انْتِشَارًا ، كَذَا فِي التَّبْيِينِ . ثُمَّ هَذَا الْحَدُّ فِي حَقِّ الشَّابِّ ، أَمَّا الشَّيْخُ وَالْعِنِّينُ فَحَدُّهُمَا تَحَرُّكُ قَلْبِهِ أَوْ زِيَادَةُ تَحَرُّكِهِ إنْ كَانَ مُتَحَرِّكًا لَا مُجَرَّدُ مَيَلَانِ النَّفْسِ فِئَهُ يُوجَدُ فِيمَنْ لَا شَهْوَةَ لَهُ أَصْلًا كَالشَّيْخِ الْفَانِي …”
(উৎস: আল-ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়া/আলমগীরী, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা-২৭৫, দারুল ফিকর সংস্করণ)
