পরকালে বিচার হবে ধর্মের নাকি কর্মের ভিত্তিতে?
“যিনি সৃষ্টি করেছেন মরণ ও জীবন, যাতে তোমাদেরকে পরীক্ষা করেন-কে তোমাদের মধ্যে কর্মে শ্রেষ্ঠ? তিনি পরাক্রমশালী, ক্ষমাময়।” (সুরা মুলক ৬৭:২)
পরকালে আল্লাহ আমাদের জিজ্ঞেস করবেন না— “তুমি কোন ধর্মের অনুসারী ছিলে? বরং কুরআন স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয়- বিচার হবে আমাদের কর্ম, নৈতিকতা ও সত্যের প্রতি অবস্থান অনুযায়ী।
“আজ প্রত্যেক ব্যক্তিকে তার কৃতকর্ম অনুযায়ী প্রতিফল দেওয়া হবে। আজ কোনো যুলুম করা হবে না।” (সূরা গাফির ৪০:১৭)
“যে কেউ অণু পরিমাণ সৎকর্ম করবে, সে তা দেখতে পাবে। আর যে কেউ অণু পরিমাণ অসৎকর্ম করবে, সেও তা দেখতে পাবে।”( ৯৯:৭–৮)
যদি কেবল ধর্মীয় পরিচয়ই বিচার নির্ধারণ করত, তাহলে কর্মের হিসাবের প্রয়োজনই থাকত না। কুরআনে এমন কোন আয়াত নেই যেখানে বলা হয়েছে , পরকালে প্রশ্ন হবে — নাম কী ছিল, ধর্ম কী ছিল, পরিচয় কী ছিল? বরং প্রশ্ন হবে— কী করেছিলে? সত্যের পক্ষে ছিলে, না অন্যায়ের পক্ষে?
যদি বিচার ধর্মীয় পরিচয়ের ওপর নির্ভর করত, তাহলে পক্ষপাতের অভিযোগ আসত। কুরআন আগেই সেই ধারণা নাকচ করে দিয়েছে—
“নিশ্চয়ই আল্লাহ মানুষের প্রতি সামান্য যুলুম ও করেন না।” (সূরা ইউনুস ১০:৪৪)
পক্ষপাতহীন বিচার কেবল তখনই সম্ভব, যখন মানদণ্ড হয় কর্ম ও নৈতিকতা, পরিচয় নয়।
কুরআনের দৃষ্টিতে পরকালে মুক্তির মানদণ্ড একটাই – ঈমানের সাথে ন্যায় ও সৎ কর্ম।
“যে কেউ ঈমান আনে এবং সৎকর্ম করে— সে পুরুষ হোক বা নারী—আমি তাকে পবিত্র জীবন দান করব।” (সূরা নাহল ১৬:৯৭)
“পরকালে হিসাব হবে না পরিচয়ে, হবে প্রতিটি কাজের ওজনে— ধর্ম বিশ্বাসে নয়, কর্মেই জান্নাত, এই সত্যই লেখা আছে কুরআনে।”
