“আরবের কাফেরদের ধর্ম পালন ও বর্তমান অধিকাংশ মুসলমানের ধর্ম পালনের মধ্যে কুরআনের আলোকে আমি কোনো পার্থক্য দেখি না।”
কুরআনের আলোকে ধর্ম পালনের মানদণ্ড কুরআন জানায়, মক্কার মুশরিকরা আল্লাহকে অস্বীকার করত না। বরং তারা স্বীকার করত যে আসমান ও পৃথিবীর স্রষ্টা আল্লাহ।
“যদি তুমি তাদের জিজ্ঞেস কর, ‘কে আসমান সমূহ ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন?’ তারা অবশ্যই বলবে, ‘আল্লাহ।'” (৩১:২৫, আরও দেখুন ২৯:৬১, ৩৯:৩৮, ৪৩:৮৭)
dir=”ltr” style=”text-align: <img src=;” data-wp-more=”more” data-wp-more-text=”” data-mce-placeholder=”1″>justify;”>তবুও কুরআন তাদের সমালোচনা করেছে। কারণ, যখন তাদের আল্লাহর নাযিলকৃত নির্দেশ অনুসরণ করতে বলা হতো, তখন তারা বলত: “বরং আমরা আমাদের পিতৃপুরুষদের যে পথে পেয়েছি, সেটাই অনুসরণ করব।” (৩১:২১)
একই বক্তব্য আরও এসেছে:২:১৭০, ৫:১০৪, ৭:২৮, ২১:৫৩, ৩১:২১, ৪৩:২২–২৪
কুরআন নির্দেশ দেয়: “তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে যা তোমাদের কাছে নাযিল করা হয়েছে, তোমরা তারই অনুসরণ কর; তাঁকে ছাড়া অন্য অভিভাবকদের অনুসরণ করো না।” (৭:৩)
আরও বলা হয়েছে: “এই কিতাব আমি নাযিল করেছি, এটি বরকতময়। অতএব তোমরা এর অনুসরণ কর।” (৬:১৫৫)
এবং, “যে বিষয়ে তোমরা মতভেদ কর, তার ফয়সালা আল্লাহর কাছে।” (৪২:১০)
কুরআন ধর্মীয় বিষয়ে মানুষকে অন্ধ অনুসরণ থেকেও সতর্ক করেছে: “তারা তাদের আলেম ও সন্ন্যাসীদের আল্লাহকে বাদ দিয়ে প্রভু বানিয়ে নিয়েছে।” (৯:৩১)
এছাড়া বলা হয়েছে: “যখন তাদের বলা হয়, ‘আল্লাহ যা নাযিল করেছেন তার দিকে এসো’, তারা বলে, ‘আমাদের জন্য আমাদের পূর্বপুরুষদের পথই যথেষ্ট’।” (৫:১০৪)
উপরের আয়াতগুলোর আলোকে আমার উপলব্ধি হলো, কুরআন ধর্ম পালনের চূড়ান্ত মানদণ্ড হিসেবে আল্লাহর নাযিলকৃত কিতাবের অনুসরণ-এর ওপর জোর দেয়। পাশাপাশি অন্য কোন কিতাবকে নয়।
যে কোনো যুগে যদি মানুষ আল্লাহর কিতাবের পরিবর্তে বা তার সমান্তরালে বংশগত রেওয়াজ, পূর্বপুরুষের প্রথা, বা তাদের রচিত কোন কিতাব অথবা মানুষের বক্তব্যকে চূড়ান্ত মানদণ্ড বানিয়ে ফেলে, তাহলে কুরআনের এসব আয়াত সেই প্রবণতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
কুরআনের আয়াত দিয়ে নিশ্চিতভাবে বলা যায় যে: কুরআন পূর্বপুরুষদের অন্ধ অনুসরণকে সমালোচনা করেছে।
কুরআন নাযিলকৃত নির্দেশনাকে অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে।
কুরআন ধর্মীয় কর্তৃত্বের উৎস সম্পর্কে মানুষকে সতর্ক করেছে।
তাই সমসাময়িক তুলনামূলক মূল্যায়ন বলা যায়, বর্তমান অধিকাংশ মুসলমান দের অবস্থা ঠিক মক্কার মুশরিকদের মতো ।
