Categories
Blog

হেদায়েত প্রাপ্তী

 

—“আল্লাহ যাকে ইচ্ছা হিদায়াত দেন”—

১)  “তিনি যাকে ইচ্ছা সরল পথে হিদায়াত দেন” (2:213)

২) “বরং আল্লাহ যাকে ইচ্ছা হিদায়াত দেন” (2:272)

৩)  “তিনি যাকে ইচ্ছা হিদায়াত দেন” (6:39)

৪) আল্লাহ শান্তির গৃহের দিকে আহ্বান করেন এবং যাকে ইচ্ছা সরল পথে হিদায়াত দেন (10:25)

৫) “কিন্তু তিনি যাকে ইচ্ছা হিদায়াত দেন” (16:93)

৬) “আল্লাহ যাকে ইচ্ছা সরল পথে হিদায়াত দেন”(24:46)

৭)  “আপনি যাকে ভালোবাসেন তাকে হিদায়াত দিতে পারেন না; বরং আল্লাহ যাকে ইচ্ছা হিদায়াত দেন”(28:56)

৮) “নিশ্চয় আল্লাহ যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন এবং যাকে ইচ্ছা হিদায়াত দেন” (35:8)

৯) “আল্লাহ যাকে ইচ্ছা নিজের দিকে বেছে নেন এবং যে ফিরে আসে তাকে হিদায়াত দেন” (42:13)

১০) তিনি যাকে ইচ্ছা হিদায়াত দেন” (74:31)

উপরের আয়াত গুলি থেকে স্বাভাবিক ভাবে ধারনা জাগে তাহলে মানুষের কি দোষ?  হেদায়েত প্রাপ্তি বা পথভ্রষ্টতা তো আল্লাহর হাতে।

কোরআনে দুই দিক একসাথে এসেছে:। আবার  মানুষকে নিজেও চাইতে হয়।

যেমন: “যে ফিরে আসে, তাকে হিদায়াত দেন” (42:13)

তার মানে— হিদায়াতের মালিক: আল্লাহ। শর্ত: মানুষের অভিমুখ (ফিরে আসা, চাওয়া)।  ফল: আল্লাহর ইচ্ছায় হিদায়াত।

মানুষ দায়মুক্ত নয়। মানুষ নিজের পথ নিজেই বেছে নেয়।

“সত্য তোমাদের রবের পক্ষ থেকে—যে চায় ঈমান আনুক, যে চায় অস্বীকার করুক ” (18:29) এখানে স্পষ্ট: ইচ্ছা/পছন্দ মানুষের। চেষ্টা ছাড়া কিছু পাওয়া যায় না।

২) সূরা আন-নাজম (৫৩:৩৯) “মানুষের জন্য কেবল তাই আছে, যা সে চেষ্টা করে” আল্লাহ জুলুম করেন না সূরা ইউনুস (১০:৪৪) “আল্লাহ মানুষের প্রতি কোনো জুলুম করেন না, বরং মানুষ নিজের উপর জুলুম করে”।

তাহলে “আল্লাহ যাকে ইচ্ছা হিদায়াত দেন” এর মানে কি? কোরআন নিজেই ব্যাখ্যা দেয়—  শর্ত আছে: যে ফিরে আসে।

৩) সূরা আশ-শূরা (৪২:১৩) “আল্লাহ যাকে ইচ্ছা বেছে নেন এবং যে ফিরে আসে তাকে হিদায়াত দেন”।

যারা চায়, তাদের পথ সহজ করা হয়।

৪) সূরা আল-লাইল (৯২:৫-৭) “যে দান করে, তাকওয়া অবলম্বন করে…আমি তার জন্য সহজ পথ সহজ করে দেই”।

৫) যারা সৎপথে চলতে চায়, তাদের আরও হিদায়াত দেওয়া হয়। সূরা মুহাম্মদ (৪৭:১৭)

৬) “যারা হিদায়াত গ্রহণ করে, আল্লাহ তাদের আরও হিদায়াত বাড়িয়ে দেন” #আর যারা চায় না? তারা নিজেরাই পথ হারায়।

৭) সূরা আল-বাকারা (২:২৬) “এর দ্বারা তিনি অনেককে পথভ্রষ্ট করেন, কিন্তু কেবল ফাসিকদেরকেই পথভ্রষ্ট করেন”

তারা সত্য থেকে মুখ ফিরায়। ৮) সূরা আস-সাফ (৬১:৫) “তারা যখন বেঁকে গেল, আল্লাহ তাদের হৃদয় বেঁকিয়ে দিলেন

তাহলে মানুষের কি দোষ?”

দোষ আছে, কারণ: সে নিজে নির্বাচন করে, সে চেষ্টা করে বা করে না।  (১৮:২৯, ১০:৪৪) “হিদায়াত পেতে চেষ্টা করলে কি ফল হবে?” কোরআনের স্পষ্ট উত্তর: চেষ্টা করলে,হিদায়াত বাড়ে (৪৭:১৭) পথ সহজ হয় (৯২:৭) চেষ্টা না করলে: পথভ্রষ্ট হয় (৬১:৫)

অর্থাৎ  মানুষ চায় — চেষ্টা করে — আল্লাহ হিদায়াত দেন।

মানুষ মুখ ফিরায় — আল্লাহ তাকে ছেড়ে দেন। # হিদায়াত জোর করে দেওয়া হয় না—যে চায়, তাকে আল্লাহ পথ দেখান।

By Ekramul hoq

I am A.K.M Ekramul hoq MA.LLB. Rtd Bank Manager & PO of Agrani Bank Ltd. I am interested writing and reading. Lives in Bangladesh, District Jamalpur.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

``` }