قُلْ كُلٌّ يَعْمَلُ عَلَىٰ شَاكِلَتِهِ فَرَبُّكُمْ أَعْلَمُ بِمَنْ هُوَ أَهْدَىٰ سَبِيلًا (১৭:৮৪)
( কুল কুল্লুন ইয়া’মালু ‘আলা শাকিলাতিহি, ফা-রাব্বুকুম আ’লামু বিমান হুয়া আহদা সাবীলা।)
১) قُلْ (কুল) – বল
২) كُلٌّ (কুল্লুন) – প্রত্যেকেই / সবাই
৩) يَعْمَلُ (ইয়া’মালু) – কাজ করে, আমল করে
৪) عَلَىٰ (আলা) – উপর / অনুযায়ী
৫) شَاكِلَتِهِ (শাকিলাতিহি) – তার স্বভাব, প্রকৃতি, পদ্ধতি, মানসিক গঠন, নিজস্ব ধারা
৬) فَ (ফা) – অতঃপর / সুতরাং
৭) رَبُّكُمْ (রাব্বুকুম) – তোমাদের রব
৮) أَعْلَمُ (আ’লামু) – সর্বাধিক অবগত
৯) بِمَنْ (বিমান) – কে সম্পর্কে
১০) هُوَ (হুয়া) – সে ১১) أَهْدَىٰ (আহদা) – অধিক হিদায়াতপ্রাপ্ত,অধিক সঠিক পথের
১১) سَبِيلًا (সাবীলা) – পথ
সরল বাংলা অনুবাদঃ বলুন, প্রত্যেকেই তার নিজস্ব স্বভাব, মানসিক গঠন ও পদ্ধতি অনুযায়ী কাজ করে। অতএব, তোমাদের রবই সর্বাধিক জানেন কে সবচেয়ে সঠিক পথের ওপর রয়েছে।
লক্ষনীয় “شَاكِلَة (শাকিলাহ)” শব্দের বিশ্লেষণ এটি কুরআনে মাত্র একবার (১৭:৮৪) এসেছে। এর অর্থ হতে পারে:- স্বভাব,প্রকৃতি, চরিত্র, মানসিক গঠন,নিজস্ব ধারা বা পদ্ধতি, প্রবণতা।
অর্থাৎ আয়াতটি বোঝায় যে, মানুষ তার অন্তর্গত চরিত্র, চিন্তা ও প্রবণতার আলোকে কাজ করে; আর প্রকৃতপক্ষে কে সঠিক পথের ওপর আছে, তা আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।
শাকিলাহ شَاكِلَة এটি কুরআনের হ্যাপাক্স লেগোমেনন (hapax legomenon)—অর্থাৎ এমন একটি শব্দ, যা সমগ্র কুরআনে মাত্র একবার ব্যবহৃত হয়েছে।
আরবিতে সর্বনাম (pronoun) পরিবর্তনের সঙ্গে শব্দের শেষ অংশও পরিবর্তিন হয় যেমনঃ
১) رَبِّي (রাব্বী) – আমার রব
২) رَبُّكَ (রাব্বুকা) – তোমার রব (একবচন, পুরুষ)
৩) رَبُّكِ (রাব্বুকি) – তোমার রব (একবচন, নারী)
৪) رَبُّكُمْ (রাব্বুকুম) – তোমাদের রব (বহুবচন)
৫) رَبُّهُ (রাব্বুহু) – তার রব (পুরুষ)
৬) رَبُّهَا (রাব্বুহা) – তার রব (নারী)
৭) رَبُّنَا (রাব্বুনা) – আমাদের রব
এখানে رَبُّكَ، رَبُّكُمْ، رَبِّي, رَبُّهُ ইত্যাদিতে যে পরিবর্তন হচ্ছে, তা মূলত সংযুক্ত সর্বনাম (الضمائر المتصلة / attached pronouns) যোগ হওয়ার কারণে।
এগুলোকে নাহুতে মুযাফ (مضاف) + মুযাফ ইলাইহ (مضاف إليه) গঠন হিসেবেও বিশ্লেষণ করা হয়।
উদাহরণ: رَبُّ = রব (মূল শব্দ) رَبُّكَ = তোমার রব (كَ = তোমার) رَبُّكُمْ = তোমাদের রব (كُمْ = তোমাদের) رَبِّي = আমার রব (ي = আমার) رَبُّهُ = তার রব (هُ = তার) رَبُّهَا = তার রব (নারী) (هَا = তার)
এখানেই আরবী ভাষার সমৃদ্ধতা নিহীত যেমনঃ ১৭:৮৪-এর আয়াতে: فَرَبُّكُمْ أَعْلَمُ..
এখানে رَبُّكُمْ (রাব্বুকুম) এসেছে, কারণ নবী সাঃ-কে বলা হচ্ছে।
قُلْ (বলুন) — অর্থাৎ তিনি মানুষকে সম্বোধন করে বলছেন। তাই এখানে বলা হয়েছে।
“অতএব, তোমাদের রবই সর্বাধিক জানেন…” যদি আয়াতে “তোমার রব” (একজনকে উদ্দেশ করে) বলা হতো, তাহলে আরবি হতো: فَرَبُّكَ أَعْلَمُ (ফা-রাব্বুকা আ’লামু) = “অতএব, তোমার রবই সর্বাধিক জানেন।”
অতএব, رَبُّكَ = তোমার রব (একবচন) رَبُّكُمْ = তোমাদের রব (বহুবচন)।
