কিয়ামত – হাশরের প্রচলিত ধারনাঃ
কিয়ামত বলতে সাধারণত আমরা একটি মহাপ্রলয় বা ধ্বংসের দিন বুঝি যেদিন এই পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে।
#কিন্তু কোরআনের বর্ণনা অনুযায়ী তথাকথিত পৃথিবী ধ্বংসের নামে কিয়ামতের অস্তিত্বই নেই আলামত তো দূরের কথা।
আসলে কিয়ামত শব্দটির অর্থ আমরা সাধারনত মহাপ্রলয় দিবস জানি যা হাশরের আগে সংঘটিত হবে। আসলে “قيامة” এর সঠিক অর্থ হল এমন একটি ঘটনা যখন বিচার (judgment) সংঘটিত হয়, যা মূল্যায়ন (assessmentl ঘটায়। তাহলে يَوْمَ الْقِيَامَةِ অর্থ হল বিচার দিবস/বিচারের সময় , মূল্যায়নের দিন/সময়।
আমাদের বহুল পরিচিত আরেকটি শব্দ হলো হাশর (حْشر) যার ভুল অর্থ আমাদের মাঝে প্রচলিত। আল কুরআনের প্রায় সব অনুবাদে হাশরের অর্থ করা হয়েছে সমবেত করা/একত্র করা। যেমন
ثُمَّ اِلٰی رَبِّہِمۡ یُحۡشَرُوۡن অতঃপর তাদেরকে তাদের রবের কাছে সমবেত করা হবে (৬:৩৮) (বায়ান ফাউন্ডেশন)
وَ یَوۡمَ نَحۡشُرُہُمۡ جَمِیۡعًا আর যেদিন আমি তাদের সকলকে সমবেত করব (৬:২২) (বায়ান ফাউন্ডেশন)
কিন্তু আরবি হাশর শব্দের অর্থ একত্র করন নয়। আরবীতে “حْشر” কে “بَعَثَ منَ المَوْت” বলা হয় যার অর্থ “মৃত্যুর পরে পুনরুজ্জীবতকরণ”, “মৃত্যু থেকে পুনরুত্থান”, “মৃত্যুর পর পুনরুৎপাদন”, “পুনরায় জীবন দান করা” ইত্যাদি। আরবী بَعَثَ শব্দের অর্থ পুনরুত্থান (raise), পুনরুৎপাদন /পুনরুজ্জীবিত করা (regenerate) ইত্যাদি।
যদিও উপরোক্ত আয়াতগুলো বর্তমান কালবাচক শব্দ। কিন্তু প্রায় সব অনুবাদেই বিচার দিবস বা পুনরুত্থান দিবস ভবিষ্যতে সংগঠিত হবে ধরে নিয়ে এই আয়াতগুলোকে নিয়ম বহির্ভূতভাবে ভবিষ্যৎ কাল হিসেবে অনুবাদ করা হয়েছে।
অথচ বিচার এবং পুনরুত্থান একটি চলমান প্রক্রিয়া। ثُمَّ اِلٰی رَبِّہِمۡ یُحۡشَرُوۡن এর সঠিক অর্থ হলো “অতঃপর তাদের রবের কাছে তারা পুনরুজ্জীবিত /পুনরুত্থিত হয়” (৬:৩৮)।
কেয়ামতের দিন কথিত হাশরের মাঠে পৃথিবীর শুরু হতে শেষ পর্যন্ত সকল মানুষকে একত্রিত করা হবে এই ধারণাকে প্রতিষ্ঠিত করতে جَمِیۡعًا অর্থ করা হয়েছে সকলকে বা একসাথে।
কিন্তু ৬:২২ এ جَمِیۡعًا এর অর্থ হল “একটি সংগ্রহ/সংগৃহীত কোন কিছু (a collection), একত্র করা (putting together)”। যা তাদের আত্মা এবং শরীরের সংগ্রহ/ একত্র করা বুঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে।
তাহলে وَ یَوۡمَ نَحۡشُرُہُمۡ جَمِیۡعًا এর সঠিক অর্থ দাঁড়ায়
“আর একত্র করার দিনে, আমরা তাদেরকে পুনরুজ্জীবিত করি। ” (৬:২২)।
কোরআনের বর্ণনা অনুযায়ী মূল্যায়নের দিন ( يَوْمَ الْقِيَامَةِ) মানুষের পুনরুত্থান হবে।
ثُمَّ اِنَّكُمْ بَعْدَ ذٰلِكَ لَمَيِّتُوْنَ ؕ এরপর অবশ্যই তোমরা মৃত্যু বরণ করবে। (২৩:১৫)
ثُمَّ اِنَّكُمْ يَوْمَ الْقِيٰمَةِ تُبْعَثُوْنَ তারপর কিয়ামাতের দিন তোমাদেরকে পুনরুত্থিত করা হবে। (২৩:১৬) (তাইসিরুল কোরআন)
সুতরাং মৃত্যুর পর পুনরুত্থিত করে মানুষের মূল্যায়ন তথা কেয়ামত শুরু হয় এবং এই মূল্যায়ন অনুযায়ী মানুষের অবস্থান নির্ধারিত হয়। লোকটি যদি সৎকর্মশীল হয় পুনরুত্থানের পর তার অবস্থান হবে জান্নাত। আর না হলে জাহান্নামের কঠিন শাস্তির মাধ্যমে তার আকৃতি পরিবর্তন করে যখন পুনর্জন্ম হবে, তখন তার পূর্বের কৃতকর্মের উপর নির্ভর করে সে একটি নতুন পরিবেশে নতুন পরিস্থিতিতে একটি নিম্নমানের জীবন (জাহান্নাম) লাভ করবে, যার মধ্যে সে তার পরবর্তী জীবন পার করবে।
কৃতকর্মের কারণে সে যে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হবে তা মোকাবেলা করে সে যদি সৎ মানুষের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে তাহলে সে জান্নাত লাভ করতে পারবে, অন্যথায় এই প্রক্রিয়া চলতে থাকবে।
#এখন প্রশ্ন হল মৃত্যুর পর পরই কি মানুষের মূল্যায়ন হয়? নাকি অনন্তকাল পরে যখন পৃথিবীর কথিত মহাপ্রলয়ে ধ্বংস সম্পন্ন হবে তখন?
কুরআনের শিক্ষা কখনই বলে না যে আমরা যখন মারা যাব, তখন আমরা অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য আমাদের কবরে শান্তিতে ঘুমাব। এই পৌত্তলিক বিশ্বাসের বিপরীতে, কুরআন আমাদের মৃত্যুর পরে দ্রুত জবাবদিহিতা এবং অবিলম্বে প্রতিদানের কথা বারবার উল্লেখ করেছে।
অনুগ্রহ করে কুরআনের সূরা গাফিরের ৪০:১৭ নং আয়াতটি দেখুন: الْيَوْمَ تُجْزَى كُلُّ نَفْسٍ بِمَا كَسَبَتْ لَا ظُلْمَ الْيَوْمَ إِنَّ اللَّهَ سَرِيعُ الْحِسَابِ (40:17) আজ প্রত্যেককে তারা যা অর্জন করেছে তার প্রতিদান দেয়া হচ্ছে, আজ কোন অন্যায় নয়, আল্লাহ দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী। – ৪০:১৭।
উপরোক্ত ৪০:১৭ নং আয়াতে “الْيَوْمَ” শব্দটি সুনির্দিষ্ট আকারে মৃত্যুর দিনকে বোঝায় কারণ এই আয়াতের প্রেক্ষাপট বিচার দিবস নয়, বরং ৪০:১১ নং আয়াতের “قَالُوا رَبَّنَا أَمَتَّنَا” অংশটি প্রেক্ষাপট হিসাবে, মৃত্যুর কথা এবং মৃত্যুর দিনে ঘটে যাওয়া সমস্ত ঘটনা পরবর্তী আয়াতে বলা হচ্ছে।
#আমাদের প্রচলিত বিশ্বাসের বিপরীতে, কুরআন আমাদেরকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয় যে মৃত্যুর পর পরই জবাবদিহিতা সম্পন্ন করা হয়। এবং বারজাখের (যা পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী সম্ভাব্য জীবনকে পৃথক করে) আবরণে তার কৃতকর্মের মূল্যায়ন অনুসারে পুনরুত্থানের পর মানুষকে জাহান্নাম বা জান্নাতের পরিবেশে ফেরত পাঠানো হয়।
حَتّٰۤي اِذَا جَآءَ اَحَدَهُمُ الْمَوْتُ قَالَ رَبِّ ارْجِعُوْنِ ۙ
অবশেষে যখন তাদের কারো মৃত্যু আসে, সে বলে, ‘হে আমার রব, আমাকে ফেরত পাঠান’। (২৩:৯৯)
لَعَلِّي أَعْمَلُ صَالِحًا فِيمَا تَرَكْتُ كَلَّا إِنَّهَا كَلِمَةً هُوَ قَائِلُهَا وَمِن وَرَائِهِم بَرْزَخٌ إِلَى يَوْمِ يُبْعَثُونَ ‘যাতে আমি পেছনে ফেলে আসা জীবনে সৎকাজ করতে পারি।’ কখনোই নয়, এটি কেবল একটি শব্দ যা সে উচ্চারণ করে। আর তাদের পিছন দিক থেকে সেই দিনের জন্য বাধা রয়েছে, যেদিন তারা পুনরুত্থিত হয়। (২৩:১০০)
(২৩:৭৪) নং আয়াতে উল্লিখিত যারা পরকালে বিশ্বাস করে না এবং সরল পথ হতে বিচ্যুত, মৃত্যুকালে তারা আবার পূর্বের জীবনে ফেরত পাঠানোর আকুতি জানায়, যাতে তারা সৎকাজ করতে পারে। আল্লাহ জানিয়ে দিলেন যে, পূর্বের জীবনে ফেরত যাওয়ার কোন সুযোগ নেই। কারণ পিছনে রয়েছে একটি মৃত্যু নামক বাধা/অন্তরায় (separator – بَرْزَخٌ) যা তাদের দুই জীবনকে আলাদা করেছে। তারা আবার সৎ কাজ করার সুযোগ পাবে কেবল যখন তাদেরকে মূল্যায়নের পর পুনর্জ্জীবিত করা হবে।
২৩:১০০ আয়াতে رَائِهِم অর্থ “তাদের পিছনে”। অথচ সকল বাংলা অনুবাদে رَائِهِم অর্থ করা হয়েছে “তাদের সামনে”, যাতে বোঝানো যায়, মৃত্যুর পর কবরে একটি বারজাখী জীবনের সম্মুখীন হতে হবে। তাতে আল্লাহর নাযিলকৃত শব্দের বিপরীত হলেও অসুবিধা নেই!
আরবি بَرْزَخٌ (বারজাখ) শব্দের অর্থ পর্দা, পৃথায়ক, আড়াল, অন্তরায়, অন্তরাল, প্রতিবন্ধক, বাধা ইত্যাদি। অথচ আমাদেরকে বোঝানো হয়েছে বার্জাখ নামে একটি জগত রয়েছে! সূরা আর রহমান এর ২০ নং আয়াতটি দেখুন যেখানে একই বার্জাখের কথা উল্লেখ রয়েছে।
بَیۡنَہُمَا بَرۡزَخٌ لَّا یَبۡغِیٰنِ (55:20) তাদের (দুই সাগরের) মাঝখানে একটি অন্তরাল আছে, যা তারা অতিক্রম করতে পারে না। (৫৫:২০) (ফজলুর রহমান)
মৃত্যুর পরপরই জবাবদিহিতা ও প্রতিদানের কথা কুরআন স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে।
قِيلَ ادْخُلِ الْجَنَّةَ قَالَ يَا لَيْتَ قَوْمِي يَعْلَمُونَ তাকে বলা হল, জান্নাতে প্রবেশ কর, সে বলল: হায় আমার সম্প্রদায় যদি জানত (৩৬/২৬)
بِمَا غَفَرَ لِي رَبِّي وَجَعَلَنِي مِنَ الْمُكْرَمِينَ যে আমার রব আমাকে ক্ষমা করেছেন এবং আমাকে সম্মানিত ব্যক্তিদের মধ্যে স্থান দিয়েছেন! (৩৬/২৭)
কুরআনের উপরোক্ত আয়াতে মৃত্যুর সময় অর্থাৎ কথিত কিয়ামত প্রতিষ্ঠার পূর্বে জান্নাতে প্রবেশের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এছাড়াও এই আয়াতগুলির ব্যাকরণগত কাঠামো কোনও ভবিষ্যত ক্রিয়াকে নির্দেশ করে না, প্রকৃতপক্ষে উভয় আয়াতই অতীত কালের।
এমনকি, মৃত্যুর ঠিক পরে তাৎক্ষণিক একটি হিসাব হয়ে গেছে, যা মৃত্যু থেকে কথিত কিয়ামত পর্যন্ত তথাকথিত ঘুমের রাজ্যের ধারণাকে প্রত্যাখ্যান করে।
#কেউ যুক্তি দিতে পারে যে উপরের আয়াতগুলিতে মৃত্যুর সময় উল্লেখ করা হয়নি এবং একইভাবে জবাবদিহিতার কথা বলা হয়নি। #তবে এটি একটি সাধারণ জ্ঞান যে ‘জান্নাতে প্রবেশ’ মৃত্যু এবং জবাবদিহির বিষয়। যাই হোক, নিম্নলিখিত আয়াতগুলি এই দৃশ্যটিকে আরও স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করে যেখানে মৃত্যুর সময় জবাবদিহিতা এবং শাস্তির কথা বলা হয়েছে।
وَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنِ افْتَرَىٰ عَلَى اللَّهِ كَذِبًا أَوْ قَالَ أُوحِيَ إِلَيَّ وَلَمْ يُوحَ إِلَيْهِ شَيْءٌ وَمَن قَالَ سَأُنزِلُ مِثْلَ مَا أَنزَلَ اللَّهُ وَلَوْ تَرَى إِذِ الظَّالِمُونَ فِي غَمَرَاتِ الْمَوْتِ وَالْمَلَائِكَةُ بَاسِطُو أَيْدِيهِمْ أخْرِجُوا أَنفُسَكُمُ الْيَوْمَ تُجْزَوْنَ عَذَابَ الْهُونِ بِمَا كُنتُمْ تَقُولُونَ عَلَى اللَّهِ غَيْرَ الْحَقِّ وَكُنتُمْ عَنْ آيَاتِهِ تَسْتَكْبِرُونَ আর তার চেয়ে বড় জালেম আর কে, যে আল্লাহর বিরুদ্ধে মিথ্যা আরোপ করে অথবা বলে, এটা আমার প্রতি ওহী করা হয়েছে; অথচ তার প্রতি কোন কিছুই নাযিল করা হয়নি, আর যে বলে: আল্লাহ যা নাযিল করেছেন আমিও তার মত নাযিল করতে পারি? এবং তুমি যদি দেখতে যখন জালেমরা মৃত্যুর যন্ত্রণার মধ্যে থাকবে এবং ফেরেশতারা তাদের হাত বাড়িয়ে দেবে: তোমাদের আত্মা ছেড়ে দাও; আজ তোমাদেরকে লজ্জাজনক শাস্তি দেওয়া হবে কারণ তোমরা সত্য ব্যতীত আল্লাহর বিরুদ্ধে কথা বলেছিলে এবং তাঁর বাণীর প্রতি অহংকার করেছিলে। (৬/৯৩)
الَّذِينَ تَتَوَفَّاهُمُ الْمَلَائِكَةُ طَيِّبِينَ يَقُولُونَ سَلَامٌ عَلَيْكُمُ ادْخُلُوا الْجَنَّةَ بِمَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ যাদেরকে ফেরেশতারা শুদ্ধ অবস্থায় মৃত্যুবরণ করায়। তারা বলে: ‘তোমাদের প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক! তোমরা যা করতে তার জন্য জান্নাতে প্রবেশ কর।” (১৬:৩২)
وَلَوْ تَرَى إِذْ يَتَوَفَّى الَّذِينَ كَفَرُوا الْمَلائِكَةُ يَضْرِبُونَ وُجُوهَهُمْ وَأَدْبَارَهُمْ وَذُوقُوا عَذَابَ الْحَرِيقِ এবং তুমি যদি দেখতে যে, মৃত্যুর সময় যখন ফেরেশতারা অবিশ্বাসীদের আত্মা কেড়ে নেয়, তারা তাদের মুখ এবং তাদের পিঠে আঘাত করে এবং [বলে], “জ্বলন্ত আগুনের শাস্তি আস্বাদন কর”। (৮:৫০)
ثُمَّ رُدُّوا إِلَى اللَّهِ مَوْلَاهُمُ الْحَقِّ أَلَا لَهُ الْحُكْمُ وَهُوَ أَسْرَعُ الْحَاسِبِينَ অতঃপর তারা, তাদের প্রকৃত রব আল্লাহর কাছে প্রত্যাবর্তিত হয়। বিচার একমাত্র তাঁরই। তিনি হিসাব গ্রহণে দ্রুততম। (৬/৬২)
সূরা ওয়াকিয়ায় ডান দিকবর্তী ও বাম দিকবর্তী লোকের মৃত্যুকালীন ধারাবাহিক বর্ণনা এসেছে –
فَلَوْلَا إِذَا بَلَغَتِ الْحُلْقُومَ
তাহলে কেন নয়, যখন মৃত্যুর সময় আত্মা কণ্ঠাগত হয় । (৫৬/৮৩)
وَأَنتُمْ حِينَئِذٍ تَنظُرُونَ
এবং সেই মুহুর্তে তোমরা তাকিয়ে থাক। (৫৬/৮৪)
(56/84) وَنَحْنُ أَقْرَبُ إِلَيْهِ مِنكُمْ وَلَكِن لَّا تُبْصِرُونَ
আর আমরা তোমাদের চেয়ে তার নিকটবর্তী, কিন্তু তোমরা আমাদের দেখতে পাও না। (৫৬/৮৫)
فَلَوْلَا إِن كُنتُمْ غَيْرَ مَدِينِينَ
তাহলে কেন নয়? যদি তোমাদের প্রতিদান দেয়া না হয়। (56/86)
تَرْجِعُونَهَا إِن كُنتُمْ صَادِقِينَ
ইহাকে ফিরিয়ে আনো যদি তোমরা সত্যবাদী হও (৫৬/৬৭)
فَأَمَّا إِن كَانَ مِنَ الْمُقَرَّبِينَ
অতঃপর সে যদি আল্লাহর নৈকট্য প্রাপ্ত বান্দাদের একজন হয় (৫৬/৮৮)
فَرَوْحٌ وَرَيْحَانٌ وَجَنَّتْ نَعِيمٍ
তখন সুখ এবং অনুগ্রহ এবং আনন্দময় জান্নাত। (৫৬/৮৯)
وَأَمَّا إِن كَانَ مِنْ أَصْحَابِ الْيَمِينِ
আর সে যদি ডান দিকবর্তীদের অন্তর্ভুক্ত হয় (৫৬/৯০)
فَسَلَامٌ لَّكَ مِنْ أَصْحَابِ الْيَمِينِ
তাহলে তোমার জন্য শান্তি যারা ডান দিকবর্তী (৫৫/৯১)
وَأَمَّا إِن كَانَ مِنَ الْمُكَذِّبِينَ الضَّالِّينَ
কিন্তু সে যদি পথভ্রষ্ট মিথ্যাবাদীদের অন্তর্ভুক্ত হয়,(৫৬/৯২)
فَنُزُلٌ مِنْ حَمِيمٍ
তখন স্বাগত জানানো হবে ফুটন্ত পানি দিয়ে (৫৬/৯২)
وَتَصْلِيَةُ جَحِيمٍ
এবং জাহান্নামের আগুনে জ্বালিয়ে (৫৬/৯৪)
إِنَّ هَذَا لَهُوَ حَقَّ الْيَقِينِ
নিঃসন্দেহে এটাই নিশ্চিত সত্য, (৫৬/৯৫)
সূরা ফজরে বলা হয়েছে
يَا أَيَّتُهَا النَّفْسُ الْمُطْمَئِنَّةُ হে আশ্বস্ত আত্মা (৮৯:২৭)
ارْجِعِي إِلَى رَبِّكِ رَاضِيَةً مَّرْضِيَّةً
তোমার রবের কাছে ফিরে যাও তাকে সন্তোষজনকভাবে সন্তুষ্ট করে। (৮৯/২৮)
فَادْخُلِي فِي عِبَادِي সুতরাং আমার আনুগত্যদের মধ্যে প্রবেশ কর (৮৯/২৯)
وَادْخُلِي جَنَّتِي এবং আমার জান্নাতে প্রবেশ কর (৮৯/৩০)
#উপরের আয়াতগুলি নিশ্চিত করে যে যখন সৎ কর্মশীলদের পূর্বনির্ধারিত জীবন শেষ হয়ে যায়, তখন মৃত্যুর ফেরেশতা কেবল তাদের পার্থিব দেহ ছেড়ে স্বর্গে যাওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানায়।
কথিত কিয়ামত প্রতিষ্ঠার আগে এটি ঘটে কারণ এই কর্মের জন্য উল্লেখিত সময় সীমার কোন শর্ত নেই এবং এই আয়াতগুলি (৮৯/২৭-৩০) ভবিষ্যতের কালের নয়।
সুতরাং, (৮৯/২৭-৩০) আয়াতগুলোতে আল্লাহ (সুবহানাহু ওয়া তায়ালা) সন্তুষ্ট আত্মাদের তাঁর জান্নাতে প্রবেশের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।
অন্যদিকে আমরা এটাও পড়েছি যে, অন্যায়কারীরা তাদের মৃত্যুর মুহুর্তে জানে যে তারা জাহান্নামের জন্য নির্ধারিত।
ফেরেশতারা তাদের মুখে এবং পিছনে মারধর করে (৮/৫০ এবং ৪৭/২৭), এবং তাদের আত্মাকে বের করে দেওয়ার নির্দেশ দেয় (৬/৯৩), তারপর “তাদের আত্মা ছিনিয়ে নেয়” (৭৯/১)।
অনুগ্রহ করে উপসংহার হিসেবে কুরআনের নিচের আয়াতটি দেখুন।
فَرِحِينَ بِمَا آتَاهُمُ اللهُ مِن فَضْلِهِ وَيَستَبْشِرُونَ بِالَّذِينَ لَمْ يَلْحَقُوا بِهِم مَنْ خَلْفِهم الا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ
আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে যা দিয়েছেন তা লাভ করে তারা আনন্দিত আর যে সব ঈমানদার লোক তাদের পেছনে (পৃথিবীতে) রয়ে গেছে, এখনও তাদের সাথে এসে মিলিত হয়নি, তাদের কোন ভয় ও চিন্তা নেই জেনে তারা আনন্দিত। (৩/১৭০) (তাইসিরুল কোরান)
এই আয়াতের তাৎপর্য সত্যিই মহান। এখানে বলা হয়েছে যে, আমরা পৃথিবীতে থাকাকালীন অবস্থায় কিছু সৎকর্মশীল আছেন যারা ইতিমধ্যেই আল্লাহর কৃপায় জান্নাতে আনন্দ করেছেন এবং বাকি বিশ্বাসীদের তাদের সাথে যোগ দেয়ার জন্য অপেক্ষায় আছেন। এর অর্থ হল জবাবদিহিতা মৃত্যুর পরেই সম্পন্ন হয় এবং কিছু লোক পরবর্তী পর্যায়ে অগ্রসর হয়, যখন আমরা এখনও পৃথিবীতে বাস করছি।
সতর্কীকরণঃ এই লেখাটি শুধুমাত্র তাদের জন্য যারা তাদের প্রচলিত বিশ্বাসের বিপরীত হলেও, আল কুরানে বর্নিত আল্লাহর প্রকৃত বিধানের আনুসরন করতে চায়।এবং তাদের অর্জিত বিশ্বাসকে সত্যের মানদণ্ডে যাচাই করার সাহস রাখে। আর যারা ভিন্নমত পোষণ করেন তাদের প্রতি আমার পূর্ণ শ্রদ্ধা রয়েছে। আপনাদেরকে সালাম।

One reply on “কিয়ামত ও হাশর কোরানের উপলব্ধি”
৫৬:৮৭ কে ৫৬:৬৭ লেখা হয়েছে আবার ৫৬:৯৩ কে ৫৬:৯২ লেখা হয়েছে।
বিষয়টি বুঝতে ৮৩:৭-৯ এবং ১৮-২১ (সিজ্জিন ও ইল্লিন) সংক্রান্ত আলোচনা যুক্ত করা সেই সাথে ৯৯ নং সুরা যিলযাল এর আলোচনা প্রাসঙ্গিক।