পত্নী অথবা অধিকারভুক্ত দাসিগণ ব্যতীত, নিজেদের যৌন অঙ্গকে সংযত রাখার নির্দেশ। (সূরা মুমিনুন আয়াত ৬)
আমাদের অধিকাংশ মনে করেন দাস প্রথা বিলুপ্ত হয়েছে এটি মন গড়া ফতোয়া বা চ্যাট জিপিটি মামার অনুমান। দাস হিসাবে মানুষের ক্রয় বিক্রয় বা ক্রীত দাস প্রথা সংস্কার হয়েছে মাত্র।
অন্যদিকে ” অধিকার ভুক্ত দাসী ” শব্দটাকে অনেকে বর্তমান কাজের মেয়ের সাথে তুলনা করে বসেন। সমস্যাটা এখানে।
কোন নারীকে যদি আপনার ডান হস্তের অধিকারে নেন, অর্থাৎ তার ভরন পোষন, অসুখ বিষুখ, ভুত ভবিষ্যৎ সকল দায়িত্ত যদি কোন কাজের মেয়ের নেন তবে তার সাথে যৌন মিলনে কোন নিষেধ নাই। সে আপনার অধিকার ভুক্ত দাসী এবং তার সাথে যৌনকর্মে দোষনীয় নয়।
তবে বর্তমান সমাজে ৫/১০ হাজার টাকা বেতন দিয়ে রাখা কাজের মেয়েকে দাসি বলার সুযোগ নেই।
মুসলিম শাসক সুলতান সোলেমান মুভি দেখেন নাই। তার হেরেমে থাকা দাসীদের সাথে তিনি যৌন মিলন করতেন।
إِلّا عَلىٰ أَزوٰجِهِم أَو ما مَلَكَت أَيمٰنُهُم فَإِنَّهُم غَيرُ مَلومينَ
আয়াতে “দাসী” (أَمَةٌ / إِمَاءٌ) শব্দটি নেই। কুরআন এখানে অন্য একটি বাক্যাংশ ব্যবহার করেছে। ব্যাকরণ দিক দিয়ে যা বিশ্লেষন করলে দাসি শব্দটি প্রতিস্থাপিত হয়।
إِلَّا عَلَىٰ أَزْوَاجِهِمْ أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُمْ
১) إِلَّا (ইল্লা) حرف استثناء (ব্যতিক্রমবাচক অব্যয়) যার অর্থ: “তবে”, “ব্যতীত”।
২) عَلَىٰ (আলা) حرف جر (জার অব্যয়) অর্থাৎ এর পরে যে শব্দ আসে, তা مجرور (জার) হয়।
৩) أَزْوَاجِهِمْ (আযওয়াজিহিম) أزواج = “স্ত্রীগণ/জোড়াসঙ্গী” (جمع تكسير)
৪) هم = “তাদের” (সর্বনাম) على-এর কারণে এটি مجرور হয়েছে।
৫) أَوْ (আও) حرف عطف (সংযোজক অব্যয়) অর্থ: “অথবা”।
৬) مَا (মা) এখানে অধিকাংশ নাহু-বিদের মতে اسم موصول (relative pronoun)। যার অর্থ: “যাদেরকে” বা “যা”।
আরবিতে ما কখনও অ-বুদ্ধিমান বস্তুর জন্য, আবার অনেক সময় একটি শ্রেণি বা মালিকানাধীন সত্তা বোঝাতেও ব্যবহৃত হয়। তাই শুধু “বস্তু” অর্থ করা বাধ্যতামূলক নয়।
৭) مَلَكَتْ (মালাকাত) فعل ماضٍ (অতীতকাল) অর্থ: “মালিক হয়েছে”।
শেষে تْ এসেছে কারণ ক্রিয়াটি مَا-এর (ব্যাকরণগতভাবে একবচন স্ত্রীলিঙ্গ রূপে গণ্য) সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এসেছে।
৮) أَيْمَانُهُمْ أيمان = “ডান হাতসমূহ” (يمين-এর বহুবচন)
৯) هم = “তাদের”
পুরো বাক্যাংশের অর্থ: “তাদের ডান হাত অধিকার করেছে”—এটি একটি আরবি বাগধারা, যার অর্থ তাদের বৈধ মালিকানায় এসেছে।
প্রশ্ন জাগতে পারে “আয়াতে দাসীর আরবি শব্দ কোথায়?”
উত্তর: কোথাও নেই। আয়াতে أَمَة (দাসী) বা إِمَاء শব্দ ব্যবহৃত হয়নি।
তাহলে অনুবাদে “দাসী” কেন আসে?
কারণ “مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُمْ” ছিল সে সময়ের আরবি ভাষায় একটি প্রচলিত পরিভাষা (idiomatic expression)। কুরআনের নাযিলের যুগে এই পরিভাষা সাধারণভাবে যুদ্ধবন্দী বা বৈধ মালিকানাভুক্ত নারী-পুরুষ দাসদের বোঝাতে ব্যবহৃত হতো। যেহেতু এখানে যৌন সম্পর্কের প্রসঙ্গ, তাই এটিকে নারী অধিকারভুক্ত ব্যক্তি (দাসী) হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
১) “أَزْوَاجِهِمْ”-এর সঙ্গে সম্পর্ক কী?
ব্যাকরণগতভাবে লক্ষ্য করুন: عَلَىٰ أَزْوَاجِهِمْ এবং أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُمْ এই দুটি অংশ أَوْ দ্বারা সংযুক্ত। অর্থাৎ দুটি সমমানের (معطوف ومعطوف عليه) ব্যতিক্রম
১) তাদের স্ত্রীদের ক্ষেত্রে (أزواجهم) ২) অথবা যাদেরকে তাদের ডান হাত অধিকার করেছে (ما ملكت أيمانهم) অর্থাৎ أَزْوَاجِهِمْ-এর পরে আলাদা করে “দাসী” শব্দ বসানো হয়নি; বরং “مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُمْ” একটি স্বতন্ত্র বাক্যাংশ, যা أزواجهم-এর সমান্তরালে দ্বিতীয় ব্যতিক্রম হিসেবে এসেছে।
আরবি ব্যাকরণের দৃষ্টিতে—
এখানে أَمَةٌ (দাসী) শব্দ নেই। ১) جارية (বাঁদী) শব্দ নেই। ২) نساء (নারী) শব্দও নেই। ৩) زوجة (স্ত্রী) শব্দও নেই; আছে أزواج।
অর্থাৎ “ما ملكت أيمانهم” একটি সম্পূর্ণ relative clause: এখানে ما = relative pronoun। ملكت = relative clause-এর ক্রিয়া এবং أيمانهم = ক্রিয়ার কর্তা (فاعل)
