সূরা মুমিন (গাফির) — আয়াত ৬০
وَقَالَ رَبُّكُمُ ادْعُونِي أَسْتَجِبْ لَكُمْ ۚ إِنَّ الَّذِينَ يَسْتَكْبِرُونَ عَنْ عِبَادَتِي سَيَدْخُلُونَ جَهَنَّمَ دَاخِرِينَ
আর তোমাদের রব বলেছেন— “তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব। নিশ্চয়ই যারা আমার ইবাদত করা থেকে অহংকার করে, তারা লাঞ্ছিত অবস্থায় জাহান্নামে প্রবেশ করবে।”
১️) “ادْعُونِي” — আমাকে ডাকো
ধাতু: د ع و (দা-‘আ-ওয়া) فعل أمر (আদেশবাচক ক্রিয়া) مخاطب جمع (তোমরা সবাই)
দু‘আ শব্দের মৌলিক অর্থ: ডাকা/আহ্বান করা/ মুখ ফেরানো/নির্ভরতার সাথে কাউকে সম্বোধন করা কোরআনে দু‘আ মানে শুধু চাওয়া নয়, বরং— নিজের অসহায়তা স্বীকার করে একমাত্র আল্লাহর দিকে মুখ ফেরানো
২️) “أَسْتَجِبْ لَكُمْ” — আমি সাড়া দেব ধাতু: ج و ب (জবাব দেওয়া) فعل مضارع (বর্তমান/ভবিষ্যৎকাল) شرط–جواب শর্তের জবাব “তোমরা ডাকো” → “আমি সাড়া দেব”
লক্ষ্য করুনঃ এখানে কোনো সময়, শর্ত, পদ্ধতি নির্ধারণ নেই।এটি খোলা প্রতিশ্রুতি, কিন্তু পদ্ধতি আল্লাহ নির্ধারিত।
৩️) হঠাৎ পরিবর্তন: দু‘আ → ইবাদত
আয়াতের সবচেয়ে গভীর ভাষাগত মোড়
প্রথম অংশ: ادْعُونِي — আমাকে ডাকো
দ্বিতীয় অংশ: عَنْ عِبَادَتِي — আমার ইবাদত থেকে
এখানে আল্লাহ বলেননি:“যারা আমাকে ডাকে না”
বরং বলেছেন:যারা আমার ইবাদত থেকে অহংকার করে
কোরআনিক সিদ্ধান্ত: দু‘আ = ইবাদতের মূল সত্তা।এ কারণেই কোরআনে দু‘আ ত্যাগ করা মানে—
আত্মনির্ভরতা অহংকার রবের মুখাপেক্ষিতা অস্বীকার
৪️) “يَسْتَكْبِرُونَ” — অহংকার করে শব্দমূল ك ب ر — বড় হওয়া। استكبار = নিজেকে বড় মনে করা। এখানে অহংকার মানে:আল্লাহকে অস্বীকার করা নয় বরং আল্লাহর কাছে না ঝোঁকা
অর্থাৎ:“আমি নিজেই যথেষ্ট”—এই মানসিকতা।
৫️) শাস্তির ভাষা: “دَاخِرِينَ”
শব্দমূল د خ ر — অপমানিত, লাঞ্ছিত
শুধু জাহান্নামে প্রবেশ নয়, লাঞ্ছিত অবস্থায় প্রবেশ
যে দুনিয়াতে নিজেকে বড় করেছে,আখিরাতে তাকে ছোট করে দেওয়া হবে।
আয়াতের কোরআনিক উপলব্ধি (সংক্ষেপে)
১. দু‘আ আলাদা কোনো ঐচ্ছিক আমল নয় ২. দু‘আ না করা = ইবাদত থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া ৩. আল্লাহর কাছে না চাওয়া = আত্মম্ভরিতা 4. অহংকারের শেষ পরিণতি = দাখিরীন (লাঞ্ছনা)
কোরআন বলছে— আল্লাহর কাছে না চাওয়া মানুষ অবিশ্বাসী নয়, কিন্তু অহংকারী ইবাদত বিমুখ।
তাহলে আজকের মানুষের সবচেয়ে বড় সংকট কি— দু‘আ না করা, নাকি নিজেকে যথেষ্ট মনে করা?
