কোরানে বর্নিত সাবেঈন কাদের বলে?
কোরআনে তিন জায়গায় “الصابئين” শব্দটি এসেছে।
কোরআন তাঁদেরকে ইহুদী, নাসারা, মুশরিক এর পাশাপাশি একটি আলাদা ধর্মীয় গোষ্ঠী হিসেবে উল্লেখ করে, যাদের সম্পর্কে বলা হয়।
যে-ই হোক—মুমিন, ইহুদী, নাসারা বা সাবিইন যদি ঈমান আনে, সৎকর্ম করে, তবে তারা পুরস্কার পাবে।(৫:৬৯)
এখানে “সাবিইন” স্পষ্টভাবে আলাদা জাতি/ধর্মীয় সম্প্রদায়।
তাদের ধর্মগ্রন্থের নাম কি?
ঐতিহাসিকভাবে যাদেরকে সাবেইন (الصابئون / الصابئين) বলে মনে করা হয় তারা প্রকৃত মান্দাই/মান্দায়ীরা নামে পরিচিত। তাদের প্রধান ধর্মগ্রন্থের নাম হলো: গিনজা রাব্বা (Ginza Rabba)। যার অর্থ: “মহা সম্পদ / মহান গ্রন্থ” এটিই তাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধর্মগ্রন্থ। এটি দু’ভাগে বিভক্ত।
১) Right Ginza – মৃত্যু-পরবর্তী জীবনের আলোচনাসহ ধর্মীয় আচার।
২) Left Ginza – আদম, সৃষ্টিজগত, আত্মার যাত্রা ইত্যাদি বিষয়।
অন্যতম প্রাচীন একেশ্বরবাদী ধর্মের লোক গুলিকে আরবিতে বলা হয় সাবেইয়ুন (Sabaeans) যাদের কথা কোরআনেও উল্লেখ আছে “الصابئين” নামে। এদের অবস্থান ছিল ইরাক ও ইরানের দক্ষিণাংশ। তাদর ধর্মের নাম মান্দিয়া।
এদের ধর্মের মূল বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:
১. একেশ্বরবাদ মান্দিয়ানরা একজন সর্বশক্তি মান সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাস করে, যাকে তারা বলে— “হাইয়ি রাব্বা” (The Great Life / মহান জীবন)
২. নবী হিসেবে ইয়াহইয়া (জন দ্য ব্যাপ্টিস্ট) এরা ইয়াহইয়া নবীকে তাদের প্রধান নবী মনে করে। খ্রিস্টানদের মতো তারা যিশুকে নবী বা ঈশ্বর মনে করে না, বরং অনেক সময় যিশুর প্রতি সমালোচনাও দেখা যায় তাদের ধর্মগ্রন্থে।
৩. পবিত্র পানির ধর্ম মান্দাই ধর্ম সম্পূর্ণভাবে পবিত্র নদীর পানি-কেন্দ্রিক। তাই তাদের ধর্মীয় কর্মকাণ্ড সবসময় নদীর পাশেই হয়।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রীতিগুলো:
ক) মাসবুতাহ (Baptism) – পবিত্র স্নান।
প্রায় প্রতিটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে তারা নদীতে স্নান করে। এটি তাদের কাছে পাপমোচন ও আত্মার পবিত্রতার প্রতীক।
খ) মাসিক শুভ শুক্রবার। প্রতি সপ্তাহে নির্দিষ্ট দিনে নদীর ধারে সাদা পোশাকে তারা সমবেত হয়।
৪. মৃত্যু-পরবর্তী জীবনে বিশ্বাস
মান্দায়ীরা আত্মার যাত্রায় বিশ্বাস করে— আত্মা “আলো’র জগতে” ফিরে যায় যদি সে পবিত্র হয়।
৫. ধর্মের বর্তমান অবস্থাঃ
ইরাক যুদ্ধ ও নিপীড়নের কারণে তারা আজ বিলুপ্তপ্রায়। বিশ্বে মোট মান্দায়ীর সংখ্যা আনুমানিক ৫০ থেকে ৭০ হাজার মাত্র। অস্ট্রেলিয়া, সুইডেন, যুক্তরাষ্ট্রেও কিছু কমিউনিটি গেছে।
মান্দাইনরা মুসলিম বা খ্রিস্টান নয়, এরা আলাদা এক ধর্ম ইসলাম, খ্রিস্টধর্ম, ইহুদিধর্মের আগের সময় থেকেই তাদের অস্তিত্ব ছিল। কোরআনে উল্লেখিত “সাবিইন” গণ আসলে তারাই।

