Categories
Blog

লৌহে মাহফুজ

_____ #লৌহে মাহফুজের #বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাঃ লৌহে মাহফুজ/ হার্ড ডিক্স/ ফোল্ডার / আলিফ লাম মীম একেকটি ফোল্ডার যা এই স্বর্গীয় অলৌকিক হার্ডডিস্কে রক্ষিত, যেখানে সমস্ত মানব ইতিহাস, ভবিষ্যৎ, ন্যায়-অন্যায়, সৌভাগ্য-দুর্ভাগ্য এমনকি প্রতিটি গোপন চিন্তাও এনক্রিপ্টেড আকারে সংরক্ষিত।” ১০০০ বছর আগের ইবনে আব্বাস, ইবনে, কুরতুবী, মারেফুল কোরানের তাফসীর দিয়ে আপনি বর্তমান প্রেক্ষাপটের তাফসীর বুঝতে চাইলে হবে না। তাঁরা সে সময়ের পারিপার্শিকতা ও জ্ঞান বিজ্ঞানের আলোকে যে তাফসীর করেছে তা সে সময়ের জন্য অবশ্যই বিচক্ষনতার দাবী রাখে অনস্বীকার্য। আধুনিক বিজ্ঞানের অগ্রগতিতে এখন কোরানের তাফসীর আরো সমৃদ্ধ। আজ যা সমৃদ্ধ মনে হচ্ছে আমার নিকট ৫০০ বছর পর এটিও বেক ডেটেট হয়ে যাবে। এ ভাবে কিয়ামত অব্দি কোরানের গবেষনার দাড় প্রস্থ ও চলমান থাকবে। লৌহে মাহফুয (اللَّوْحِ الْمَحْفُوظِ) — ইসলামী পরিভাষায় এটি সেই সংরক্ষিত বোর্ড বা তাকদীরের রেজিস্টার, যেখানে আল্লাহ তা’আলা সমগ্র সৃষ্টি ও ঘটনার পূর্বনির্ধারিত নির্দেশাবলি লিখে রেখেছেন। এটি কুরআন ও হাদীস উভয়সূত্রেই এক গুরুত্বপূর্ণ বিশ্বাস। #এই শিলা খন্ডকে আধুনিক বিজ্ঞান ভিত্তিক আলোচনায় হার্ড ডিস্ক বলা যেতে পারে। এটি এমন একটি ডিস্ক যা বিলিয়ন -ট্রিলিয়ন টেরাবাইটে গঠিত। যা মানুষের সীমিত জ্ঞানের কল্পনার বাহিরে। যেখানে সৃষ্টি জগতের সকল কিছু আদি অন্ত যা ঘটবে বা অতীতে ঘটে গেছে সব লিপি বদ্ধ আছে। স্রষ্টার এই অপারেটিং সিস্টেম থেকে কোন তথ্য কেহ ডিলিট করার ক্ষমতা রাখে না। এমন কি সন্মানিত আজ্ঞাবাহী ফেরেস্তাদেরও সেখানে প্রবেশ অধিকার নাই। কারন আমরা যে কোরআন দেখছি এটি মুল কোরআন এর কপি মাত্র। এটি সংরক্ষনের কথা আল্লাহ বলেন নাই। এটি পুড়িয়ে ফেললেও সংরক্ষনের বিষয় প্রশ্নবিদ্ধ হবে না। কারন উম্মুল কিতাব বা মূল কিতাব বিষয়ে আল্লাহ সূরা রাদের ৩৯ নং আয়াতে জানানঃ يَمْحُوْا اللّٰهُ مَا يَشَآءُ وَيُثْبِتُ ‌ۖ ‌ۚ وَعِنْدَهٗۤ اُمُّ الْكِتٰبِ #আল্লাহ যা ইচ্ছা মুছে দেন এবং যা ইচ্ছা স্থির রাখেন; আর তাঁর নিকট আছে ‘উম্মুল কিতাব’।” কুরআনের আয়াতে লৌহে মাহফুয: ১) সুরা বুরুজ-২১ بَلْ هُوَ قُرْآنٌ مَّجِيدٌ, فِي لَوْحٍ مَّحْفُوظٍ বাংলা অনুবাদ: বরং এটি এক গৌরবময় কুরআন, সংরক্ষিত লৌহে (ফলকে) আছে। #ব্যাখ্যা: এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, কুরআন আল্লাহর নিকট ‘লৌহে মাহফুয’-এ সংরক্ষিত আছে। অর্থাৎ কুরআন কোনো হঠাৎ প্রকাশ নয়, বরং পূর্ব থেকেই নির্ধারিত ও সংরক্ষিত এক ঐশী গ্রন্থ। ২) সূরা আল-আনআম (৬:৫৯) وَعِندَهُ مَفَاتِحُ الْغَيْبِ… إِلَّا فِي كِتَابٍ مُّبِينٍ (ওয়া ‘ইন্দাহু মাফাতিহুল গায়ব… ইল্লা ফী কিতাবিম মুবীন) আল্লাহর নিকট রয়েছে অদৃশ্য জগতের সব চাবি… কোনো কিছুই নেই যা একটি স্পষ্ট কিতাবে লিপিবদ্ধ নয়। ইঙ্গিত: اللَّوح المحفوظ। ৩) সূরা আল-হাদীদ (৫৭:২২) مَا أَصَابَ مِن مُّصِيبَةٍ فِي الْأَرْضِ… إِلَّا فِي كِتَابٍ مِّن قَبْلِ أَن نَّبْرَأَهَا (মা আসাবা মিন মুসীবাতিন ফিল আরদি… ইল্লা ফী কিতাবিম মিন ক্বাবলি আন নাবরআহা।) অনুবাদঃ যে কোনো বিপদ, যা পৃথিবীতে আসে, তা এমন কিছু নয় যা আমরা সৃষ্টি করার আগেই এক কিতাবে (অর্থাৎ লৌহে মাহফূজে) লেখা হয়নি। ৪). সূরা আন-নামল (২৭:৭৫) বাংলা অনুবাদ: আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর কোনো গোপন বিষয় নেই যা এক স্পষ্ট কিতাবে নেই। ব্যাখ্যা: এই “كِتَٰبٖ مُّبِينٍ” বা ‘স্পষ্ট কিতাব’ থেকেও বোঝানো হয় লৌহে মাহফুয, যেখানে প্রতিটি জিনিসের বিস্তারিত বিবরণ লিপিবদ্ধ। লৌহে মাহফুয কী? #সংরক্ষিত ফলক/তক্তা/ হার্ড ডিক্স”, যা এমন এক নূরানী কিতাব, যেখানে আদি থেকে অন্ত পর্যন্ত সব সৃষ্টি, ঘটনা, রিজিক, মৃত্যু, জান্নাত-জাহান্নামের সিদ্ধান্ত—সব কিছু লিখিত আছে। এটি আল্লাহর ‘علم’ তথা চূড়ান্ত জ্ঞান ও সিদ্ধান্তের প্রতীক। আপনি যদি হাদীসের দিকে তাকান হাদীসও একই ইংগীত করে। হাদীসে উল্লেখ: রাসূল ﷺ বলেন আসমান ও যমীন সৃষ্টি করার ৫০ হাজার বছর আগেই সমস্ত কিছু একটি কিতাবে (লৌহে মাহফুযে) লিপিবদ্ধ ছিল। ( সহীহ মুসলিম, হাদীস: ২৬৫৩) আমাদের সকল কর্ম, মৃত্যু, রিজিক—সব কিছু তাতে লিখা আছে। #উপসংহার: লৌহে মাহফুয হলো আল্লাহর পূর্বজ্ঞান ও সিদ্ধান্তের এক শাশ্বত দলিল। এটি কুরআনে বিশ্বাসের গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ “তাকদীর”-এর মূল উৎস। আমরা কুরআনের প্রতি যেমন বিশ্বাস রাখি, তেমনি এর লিপিবদ্ধ উৎস লৌহে মাহফুয সম্পর্কেও ঈমান রাখি। অবশ্যই। আমরা এখন তিনটি পর্যায়ে লৌহে মাহফুয (اللَّوْحِ الْمَحْفُوظ) বিষয়টি বিশ্লেষণ করবো: তাকদীর বা কদর লৌহে মাহফুযে লিপিবদ্ধ। এটি আল্লাহর পূর্বজ্ঞান ও পরিকল্পনার দলিল। দুঃখে আশাবাদ: রিজিক, মৃত্যু বা সুযোগ সবই নির্ধারিত। “লৌহে মাহফুয (اللَّوْحُ الْمَحْفُوظُ)” এবং “তাকদীর (تَقْدِيرٌ)” — এই দুটি শব্দ ইসলামী বিশ্বাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও পরস্পর সম্পর্কযুক্ত হলেও তাদের ব্যুৎপত্তি, ব্যবহার ও তাৎপর্যে কিছু মৌলিক পার্থক্য আছে। নিচে তুলনামূলক ভাবে বিশ্লেষণ করছি: শাব্দিক অর্থ “সংরক্ষিত ফলক” — যেখানে সব লেখা আছে নির্ধারিত পরিমাণ, ভাগ্য, পূর্বলিখিত বিধান আরশের নিচে আল্লাহর নিকট মানুষের ভাগ্য ও ঘটনার সাথে সম্পর্কিত লৌহে মাহফুয = Divine Record তাকদীর = Divine Execution Plan #এক কথায়: “তাকদীর হল যা ঘটবে, আর লৌহে মাহফুয হল যেখানে তা লেখা আছে।” #এবার প্রশ্ন উদয় হতে পারে —– যদি সব কিছু আগে থেকেই লৌহে মাহফুযে লেখা, তাহলে আমি ভালো কাজ করব কি মন্দ — তা তো নির্ধারিত? তাহলে আমি দায়ী কেন? সূরা ইনসান (৭৬:৩):” “আমি মানুষকে পথ দেখিয়ে দিয়েছি — সে চায় কৃতজ্ঞ হোক বা অকৃতজ্ঞ।” এখানে আল্লাহ স্পষ্ট বলেছেন: পথনির্দেশ দেয়া হয়েছে, পছন্দ করার স্বাধীনতা মানুষের আছে। সূরা কাহফ (১৮:২৯): “যে চায় ঈমান আনুক, আর যে চায় কুফর করুক।” আল্লাহ মানুষের ইচ্ছা ও নির্বাচনক্ষমতাকে স্বীকৃতি দিয়েছেন। #যুক্তিবাদী বিশ্লেষনঃ লিখিত জ্ঞান ≠ বাধ্য করা আল্লাহ জানেন আপনি কী করবেন। এটা জ্ঞান; নির্দেশ নয়। যেমনঃ আপনি জানেন সূর্য উঠবে — আপনি তার কারণ নন। লৌহে মাহফুয আল্লাহর পূর্বজ্ঞান আপনি যা করবেন, আল্লাহ তা জানেন এবং লিখেছেন। তিনি জানেন আপনি স্বাধীনভাবে কী পছন্দ করবেন। মানবিক বিচার = কর্ম অনুযায়ী লৌহে মাহফুযে আপনি কী করবেন তা লেখা আছে, তবে তা আপনার নিজস্ব ইচ্ছায় করা কাজ। সুতরাং আপনি দায়ী। একটি উদাহরন দেখি– ধরা যাক একজন শিক্ষক জানে, “ফারুক পড়াশোনা না করায় ফেল করবে” — তিনি তা ডায়েরিতে লিখলেন। এখন ফারুক যদি সত্যিই না পড়ে ও ফেল করে, তবে সে কি বলতে পারে: > “স্যার আমার ফেল আগে থেকেই লিখে রেখেছিলেন, তাই আমি দায়ী না!” ❌ #এখানে লেখাটা পূর্বজ্ঞান, কিন্তু কার্যকারণ ফারুকের কর্মে। তাকদীরের সারাংশ: 1. মূল তাকদীর (লৌহে মাহফুয) পরিবর্তন হয় না। 2. দ্বিতীয় স্তরের তাকদীর (সানাবি, উমরি, ইয়াওমি) আল্লাহর ইচ্ছায় দোয়া ও আমলের মাধ্যমে বদলাতে পারে। 3. মানুষ স্বাধীন ইচ্ছা দিয়ে কাজ করে এবং সেই কাজের ভিত্তিতেই জবাবদিহি করতে হবে। #চূড়ান্ত ভাবনা: “আল্লাহ জানেন তুমি কী করবে, কিন্তু তিনি তোমাকে বাধ্য করেননি। তুমি করছো, আর তিনি জানেন।” এ,কে,এম,একরামুল হক

By Ekramul hoq

I am A.K.M Ekramul hoq MA.LLB. Rtd Bank Manager & PO of Agrani Bank Ltd. I am interested writing and reading. Lives in Bangladesh, District Jamalpur.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

``` }