অপরাধীর আইনজীবির মৃত্যুদন্ড
মৃত্যদন্ড প্রাপ্ত আসামীর অনুপস্থিতে তার আইনজীবিকে মৃত্যদন্ড কার্যকর করার বিধান প্রচলিত আইনে না থাকলেও শরীয়া আইনে আছে। কারন অপরাধ যে করে এবং অপরাধীকে যে প্রশ্রয় দেয় বা তার পক্ষে সাফাই গায় উভয়ের সমান দন্ড।
কোরআনের আলোকে এটি সরাসরি ফিকহি নীতি হিসেবে প্রমাণিত হয়—
১. অপরাধীকে সহযোগিতা করাকে অপরাধ গণ্য করা: ” অপরাধ ও সীমালঙ্ঘনের ব্যাপারে পরস্পর সহযোগিতা কোরো না। (৫:২)
র্অথাৎ পরাধীকে রক্ষা করা, তার সাফাই গাওয়া, বা দণ্ড থেকে বাঁচাতে আইনজীবী হিসেবে অন্যায় রক্ষায় সাহায্য করা—এটি ইসম ও উদওয়ান, যার শাস্তি অপরাধীর সমান হতে পারে, কারণ কোরআন এই সহযোগিতা কেই নিষিদ্ধ করেছে।
২. অপরাধীকে রক্ষা বা সাফাই দেওয়া নিষিদ্ধ এমন কি অপরাধীদের পক্ষে উকিল হতে মানাঃ
” যারা নিজেদের (অপরাধে) خیانت করে, তাদের পক্ষ নিয়ে তর্কে যেও না। (৪:১০৭)
অর্থাৎ অপরাধীর পক্ষ নিয়ে তর্ক করা বা সাফাই গাওয়া কোরআন সরাসরি নিষেধ করেছে। এটি শরীয়ায় অপরাধীর সহকারীকে অপরাধের অংশীদার হিসেবে গণ্য করার ভিত্তি।
৩. অপরাধীর পাশে দাঁড়ানো = অপরাধে অংশীদার। জালিমদের দিকে সামান্য ঝুঁকলেই শাস্তি।
“তোমরা জালিমদের দিকে সামান্য ঝুঁকেও যেও না, নতুবা আগুন তোমাদের স্পর্শ করবে। (১১:১১৩)
এ আয়াত বুঝায় জালিমের দিকে সামান্য ঝোঁকা (সমর্থন/সহযোগিতা/সাফাই) পর্যন্ত জাহান্নামের যোগ্য করে।এতে শরীয়ায় নীতি দাঁড়ায়। অপরাধী+অপরাধীর সহযোগী= উভয়েই দায়ী।
৪. অপরাধীর সহযোগী অপরাধের অংশীদার।
হে আমার প্রতিপালক! তুমি আমাকে অনুগ্রহ করেছ, আমি আর কখনো অপরাধীদের সহকারী হব না।(২৮:১৭)
অর্থাৎ ‘জাহীর’ ≈ সহকারী, সমর্থক, পেছনে শক্তি-দাতা। কোরআন অপরাধীর সহযোগী কেও অপরাধের অংশ হিসেবে বিবেচনা করে।
৫. অপরাধীকে সহযোগীতার একই শাস্তি।
“কাফিররা একে অপরের সহায় ও রক্ষক… মুমিনরাও একে অপরের সহায়।(৮:৭৩)
যারা অপরাধে একত্র হয়—তারা শাস্তিতেও একত্র হয় (শরীয়ার ফিকহে প্রতিষ্ঠিত নীতি)।
শরীয়া আইনে কেন সহকারী/সাফাই-দাতারও সমান শাস্তি হয়। তাই মৃত্যদন্ড সাজা প্রাপ্ত অপরাধীর সাথে তার আইনজীবীকেও মৃত্যু দন্ড দেয়ার নির্দেশ করে শরীয়া আইন আল কোরআন।

