বাংলাদেশ সংবিধান Article 123
বাংলাদেশে সাংবিধানিক শূন্যতা (Vacuum of Power)
সংসদ নেই (সব সদস্য পালিয়েছে) প্রধানমন্ত্রী নেই রাষ্ট্রপতি একা রয়েছেন
এ ক্ষেত্রে প্রধান মন্ত্রী- রাষ্ট্রপতি -প্রধান বিচার পতি ও সেনা প্রধানের দায়িত্ত, ভুমিকা ও ক্ষমতা প্রয়োগের সীমাবদ্ধতা।সংবিধান সম্মত ভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা ও পুনঃপ্রতিষ্ঠা নিশ্চিত করা।
রাষ্ট্রপতির ক্ষমতাঃ রাষ্ট্রপতি একা দীর্ঘমেয়াদী সরকার পরিচালনা করতে পারবেন না।সংসদ বিলুপ্ত হওয়া বা কোন কারনে অচল হলে — Article 123 অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে সাধারণ নির্বাচন বাধ্যতামূলক।
রাষ্ট্রপতি Emergency Powers (Article 141) অনুযায়ী ২৪–৭২ ঘণ্টার মধ্যে: রাষ্ট্রপতি প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও জরুরি পরিষেবা নিশ্চিত করবেন। নির্বাচনী কমিশন সক্রিয় করবেন ৭২ ঘণ্টার মধ্যে। সংসদের বিলুপ্তি বা অচলতা আনুষ্ঠানিক ভাবে রেকর্ড করা আদালতকে অবহিত করা।
প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব ও ক্ষমতাঃ
আদালত তত্ত্বাবধান করতে পারে—নির্বাচন ও প্রশাসন নিশ্চিত করার জন্য। নির্বাচন সুষ্ঠু করতে প্রশাসন (Article 126) সম্পূর্ণ সহযোগিতা দেবে। নির্বাচন তত্ত্বাবধান: নিশ্চিত করা যে নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করা। Emergency Powers ব্যবহার। সীমিত ভাবে রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য নির্দেশনা প্রদান। রাষ্ট্রপতি এককভাবে সরকার পরিচালনার চেষ্টা করলে হস্তক্ষেপ করা।
মূল নীতি সারসংক্ষেপঃ রাষ্ট্রপতি একাই দীর্ঘকাল রাষ্ট্র পরিচালনা করতে পারবেন না। নির্বাচনের জন্য ৯০ দিনের সময়সীমা বাধ্যতামূলক। রাষ্ট্রপতি এবং আদালত শুধু তত্ত্বাবধান করতে পারেন উপদেষ্টা সরকার গঠন বা ১৮ মাস শাসন সংবিধান বিরুদ্ধ।
বাংলাদেশের সংবিধান-এর অনুচ্ছেদ ১২৩ (Article 123)-এর বিস্তারিত ব্যাখ্যাঃ এটি নির্বাচনের সময় নির্ধারণ (Time for holding elections)-এর বিষয়ে সংবিধানের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারা। এর মূল উদ্দেশ্য হলো পরবর্তী সাধারণ নির্বাচন কখন অনুষ্ঠিত হবে সে বিষয়ে সংবিধানগত বাধ্য বাধকতা নির্দিষ্ট করা। নির্বাচন-সময়ের মূল বিধান (Article 123(3)) ধারা ১২৩(৩) অনুযায়ী: সাধারণ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে নিম্নোক্ত সময়গুলোর মধ্যে: যদি সংসদ মেয়াদ শেষ হওয়ার কারণে বিলুপ্ত হয় (i.e., পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার পর), তাহলে সেই মেয়াদ শেষের পূর্ববর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। যদি সংসদ অন্য কোনো কারণে (মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে) বিলুপ্ত হয়, তাহলে সেই বিলুপ্তির পর ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। অর্থাৎ মেয়াদ শেষ বা বিলুপ্তির পর সর্বোচ্চ ৯০ দিনে নির্বাচন করতে হবে।
সাংসদ (জাতীয় সংসদ)-এর সাধারণ নির্বাচন: #যদি সংসদ তার মেয়াদ শেষ হওয়ার কারণে বিলুপ্ত হয়, তাহলে ওই মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে। #আর যদি সংসদ মেয়াদ শেষ না হয়ে অন্য কারণে বিলুপ্ত হয়, তাহলে বিলুপ্তির পর ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে।
এমপিরা পালালেও: সংসদ আপনা আপনি বিলুপ্ত হয় না হয় রাষ্ট্রপতির একক সিদ্ধান্তে বিলুপ্তও হয় না।
#সংসদ বিলুপ্ত হতে পারে কেবল: সংবিধান অনুযায়ী।প্রধানমন্ত্রীকে কেন্দ্র করে (Article 72) রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার সীমা (খুব গুরুত্বপূর্ণ) সংবিধান Article 48(3): রাষ্ট্রপতি তাঁর সকল ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে প্রয়োগ করবেন। “উপদেষ্টা সরকার” কি সংবিধানে আছে? না, নেই। উপদেষ্টা সরকার / জাতীয় সরকার / প্রেসিডেন্সিয়াল কেয়ারটেকার– এগুলোর কোনোটি সংবিধানে নেই।
অতীতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছিল—সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে আদালতের রায়ে তা বাতিল হয়েছে।
