Categories
Blog

পিঁপড়ার নাফস কোন প্রকৃতির

 

পিঁপড়ার নাফস কেমন? 

সকল প্রাণে রুহ থাকে কিন্তু সকল রুহের সাথে নাফস থাকে না।  এ বিষয় নিয়েই আলোচনা আজ।

নাফসের তিন অবস্থান রুহের এক। নাফসের  মৃত্যু হবে, বিচার হবে।  রুহের তা হবে না। নাফসের বিপরীতেই খান্নাস। পবিত্র নাফস যুক্তে  মানব সত্তা ইনসান।  অপবিত্র নাফস যুক্ত মানব সত্তা খান্নাস।  আর খান্নাস রুপকেই  ইবলিশ বলে ।  জীন ও নাস উভয়ের মাঝ থেকে তা হতে পারে খান্নাস। 

নফস (نَفْس) ও রূহ (رُوح)—দুটিকে কুরআন কোথাও সরাসরি “নফস হলো এটি, রূহ হলো এটি”—এমন সংজ্ঞা দেয়নি। তাই নিচে শুধু কুরআনের আয়াত ও শব্দের ব্যবহার ধরে পার্থক্যটি বোঝার চেষ্টা করছি। তার আগে সংক্ষিপ্ত আকারে জেনে নেই —-

১) নফস (نَفْس) কাকে বলে? নাফস  نَفْس — নাফস/নফস শব্দের মূল অর্থের পরিসর হলো—সত্তা, ব্যক্তি, নিজস্ব সত্তা। কুরআনে এটি মানুষের ব্যক্তিসত্তা বোঝাতেও ব্যবহৃত হয়েছে। যেমন: كُلُّ نَفْسٍ ذَائِقَةُ الْمَوْتِ কুল্লু নাফসিন যায়িকাতুল মাওত “প্রত্যেক নফস মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে।”

২) রূহ (رُوح) কাকে বলে? রুহ رُوح — রূহ কুরআনে একটি পৃথক ধারণা। এর প্রকৃতি সম্পর্কে মানুষকে সীমিত জ্ঞান দেওয়া হয়েছে: “তারা তোমাকে রূহ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। বলো, রূহ আমার রবের আমর (أَمْر)-এর অন্তর্ভুক্ত; আর তোমাদের জ্ঞান অতি সামান্যই দেওয়া হয়েছে।” ১৭:৮৫

কুরআন এখানে রূহের পূর্ণ প্রকৃতি ব্যাখ্যা করেনি; বরং বলেছে— রূহ আমার রবের আমর থেকে।

৩) মানুষের মধ্যে রূহের প্রবেশের কথা “তারপর তিনি তাকে সুবিন্যস্ত করলেন এবং তার মধ্যে তাঁর রূহ থেকে ফুঁকলেন।” ৩২:৯

অর্থাৎ আদমের দেহ গঠনের পর তার ভিতর রবের রুহ থেকে আদম দেহে রুহ ফুকলেন।  বিষয়টি কি জটিল নয়?

৪) তাহলে নফস ও রূহের প্রধান পার্থক্য কী?

নফস (نَفْس) – ব্যক্তিসত্তা/নিজ সত্তা রূহ (رُوح) – রবের আমরের অন্তর্ভুক্ত এক বিশেষ বিষয়

নফস (نَفْس) – প্রত্যেক নফস মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করে রূহ (رُوح) –  মানুষের মধ্যে রূহ দেওয়া হয় যার মৃত্যু নাই

নফস (نَفْس) – নফস সম্পর্কে কুরআনে বিস্তর আলোচনা আছে রূহ (رُوح) –  রূহ সম্পর্কে মানুষের জ্ঞান সীমিত বলা হয়েছে

নফস (نَفْس) – নফস ভালো-মন্দের সঙ্গে জড়িত রূহ (رُوح) –  রূহকে এভাবে নৈতিক সত্তা হিসেবে বর্ণনা করা হয়নি।

নফস (نَفْس) – এর বিচার হবে। রূহ (رُوح) –  বিচার নাই, মৃত্যু নাই।

নফস (نَفْس) –  নফসের নৈতিক অবস্থাও পরিবর্তিত হয়। রূহ (رُوح) –   রুহের কোন পরিবর্তন নাই

এই নাফস আবার তিন প্রকারের  হয়ে থাকে।

নফস (نَفْس) –  পরিবর্তন হয়ে তিন অবস্থায় থাকে।

ক) নফসে আম্মারাহ “নিশ্চয় নফস মন্দ কাজের প্রতি প্রবলভাবে নির্দেশ দেয়।”

খ) নফসে লাওয়ামাহ “আমি শপথ করছি আত্মভর্ত্সনাকারী নফসের।”৭৫:২

গ) নফসে মুতমাইন্নাহ “হে প্রশান্ত নফস!” ৮৯:২৭

প্রাথমিক ধারনায় বলা হয় নফস (نَفْس) –  শুধু মানুষের থাকে অন্য কোন প্রাণীর নেই। কারন যার নাফস আছে তাকেই বিচারের সন্মুখিন হতে হবে।  আবার মানুষ ও জীন ছাড়া কোন প্রাণীর বিচার হবে না, কোরান এ কথাও বলে। এ জন্য মানুষের ভাল মন্দ বুঝার, বিচার করার স্বাধীন ক্ষমতা আছে।  তাই একমাত্র নাফসধারী মানুষকে বিচারের সন্মুখিন হতে হবে। 

রূহ (رُوح) –  রূহ শুধু মানুষের ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হয়নি।  কুরআনে رُوح শব্দটি বিভিন্ন প্রসঙ্গে এসেছে। যেমন:“বিশ্বস্ত রূহ তা নিয়ে অবতরণ করেছে।” এখানে রূহ বলতে ফেরেশতা জিবরীল-কে বোঝানো হয়েছে।কুরআনের অন্য আয়াতের সঙ্গে মিলিয়ে। আবার: ১৯:১৭ এ

“অতঃপর আমরা তার কাছে আমাদের রূহ পাঠালাম…” এখানেও রূহ একজন প্রেরিত সত্তা হিসেবে এসেছে।

অতএব রূহ = মানুষের আত্মা—এমন সরল সমীকরণ কুরআনের সব ব্যবহারের সঙ্গে খাপ খায় না।

রূহ (رُوح) –  একটি গুরুত্বপূর্ণ কুরআনিক সম্পর্ক।

মানুষ সৃষ্টির প্রসঙ্গে কোরান  দুটি ধাপের বর্ণনা জানায়। প্রথম  দেহের গঠন,  অতঃপর রূহ প্রদান (৩২:৭–৯)

“তিনি মানুষের সৃষ্টি শুরু করেছেন মাটি থেকে।” “তারপর তাকে সুবিন্যস্ত করলেন এবং তার মধ্যে তাঁর রূহ থেকে ফুঁকলেন।” এরপর—“ তোমাদের জন্য শ্রবণ, দৃষ্টিশক্তি ও অন্তরসমূহ সৃষ্টি করলেন।”

এই শ্রবন শক্তি, দৃষ্টিশক্তি ও অন্তরসমূহ সৃষ্টি করলেন।” বাক্য গুলিই নাফসকে ইংগীত করে।

যদিও কোরান সরাসরি তা বলে না। এটি বিভিন্ন আয়াতের  অনুভুতি ও আমার প্রজ্ঞা হতে গৃহীত উপলবদ্ধি।

অর্থাৎ প্রথম আদমের নির্জীব  দেহ গঠিন > অতপর রবের নিজ  রুহ থেকে আদম দেহে রুহ ফুকালেন।  দেহের  নড়াচরা মুভমেন্ট শুরু > অত:পর শ্রবন, দৃষ্টিশক্তি ও অন্তরসমূহ সৃষ্টি করলেন। অর্থাৎ নাফসের সংযোজন।

আদম হয়ে উঠল পুর্নাঙ্গ মানব। যার সৃষ্টি হল ভাল মন্দ বিচার করার সীমিত স্বাধীন ইচ্ছে শক্তি।

তাই এই স্বাধীনতা প্রাপ্ত ইচ্ছে শক্তি নামক নাফস কে জবাবদিহির সন্মুখিন হতে হবে, হাশর হবে, বিচার হবে এবং পুরস্কৃত অথবা তিরস্কৃত হয়ে অনন্ত কাল জান্নাত বা জাহান্নামে অবস্থান করবে।

প্রত্যেক নফসকে সে যা করেছে তার পূর্ণ প্রতিদান দেওয়া হবে এবং তাদের প্রতি কোনো জুলুম করা হবে না। ৩৯:৭০

১) كُلُّ نَفْسٍ مَا عَمِلَتْ (৩:৩০) প্রত্যেক নফস তার করা কর্ম দেখতে/পেতে থাকবে।

২) تُوَفَّىٰ كُلُّ نَفْسٍ مَّا أَسْلَفَتْ (১০:৩০) প্রত্যেক নফস তার পূর্বকৃত কর্মের পূর্ণ প্রতিদান পাবে।

৩) تُوَفَّىٰ كُلُّ نَفْسٍ مَّا عَمِلَتْ (৩৯:৭০) প্রত্যেক নফস তার করা কর্মের পূর্ণ প্রতিদান পাবে।

৪) تُجْزَىٰ كُلُّ نَفْسٍ بِمَا كَسَبَتْ (৪০:১৭) প্রত্যেক নফস তার অর্জন অনুযায়ী প্রতিদান পাবে।

৫) كُلُّ نَفْسٍ بِمَا كَسَبَتْ رَهِينَةٌ (৭৪:৩৮) প্রত্যেক নফস তার অর্জনের কারণে দায়বদ্ধ/বন্ধক।

উক্ত আয়াত গুলি প্রমাণ করে দেহ বা রুহের বিচার হবে না। বিচার হবে নাফসের। 

নাফস প্রদানে দৃষ্টি,শ্রবন,অন্তর ভাল-মন্দ বিচার ও ইচ্ছে শক্তির সত্তার প্রবেশ করানো পর অর্থাৎ নাফস প্রদানের পর মানুষ পুর্নাঙ্গতা লাভ করে।

এই স্বাধীন ইচ্ছে শক্তি নামক নাফস মানব দেহে দেয়ার জন্যই মানুষকে  বিচার এর সন্মুখিন হতে হবে।  এই ইচ্ছে শক্তির বিলুপ্তি বা অবসান কেই মৃত্যু বলা হয়।  রুহের বা দেহের মৃত্যু হয় না। মৃত্যু হয় নাফসের। তাই তো কোরান বলে ” কুল্লি নাফসে যায়পকাতু মাউত” অর্থাৎ প্রত্যেক ইচ্ছা শক্তির মৃত্যুর স্বাদ গ্রহন করতে হবে। এটি চিরন্তন। 

এখন প্রশ্ন জাগে মানুষের নির্জীব দেহে রুহ দিয়ে সঞ্চালন ক্ষমতা অর্পন অতপর নাফস দিয়ে ভাল মন্দ বিচার করার ইচ্ছা শক্তি দিলেন —- কিন্ত পশু – পাখি, কীটপতঙ্গের দেহে কি অনুরুপ রুহ দিয়ে প্রাণের সঞ্চালন ঘটিয়েছিলেন অত:পর নাফস নামক ইচ্ছে শক্তি প্রবেশ করানো হয়েছিল?

কোরান এখানে সুস্পষ্ট কোন বার্তা জানায় না।  তবে ইংগীত রয়েছে যা প্রজ্ঞার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেয়া যায়।

যে কোন প্রানীর দেহ ও দেহ কোষে প্রান থাকলেও সঞ্চালন ক্ষমতা থাকে না।  যেমন শুক্রাণু, ডিম্বানুতে প্রাণ এর অস্তিত্ত থাকে কিন্তু সঞ্চালন শক্তি থাকে না।

তাই পশু প্রাণী কীট-পতঙ্গ এর নির্জীব দেহে প্রান থাকলেও তা সঞ্চালনের জন্য (অর্থাৎ  নড়া চড়া, ঊড়ার)  রুহ বা রবের আমর আবশ্যক। 

তাই পশু পাখি, কীট-পতঙ্গ এমন কি ব্যাকটেরিয়ার মত অনুজীব ইত্যাদীরও রুহ আছে স্বীকৃতি দিতে হয়।

যদিও কোরানে সরাসরি এমন কোন আয়াত সে বার্তা জানায় না।

এবার সবচেয়ে বড় একটি প্রশ্ন এসে দাড়ায় পশু-পাখি, কীট -পতঙ্গ তো মৃত্যু বরন করে এবং বিচার দিবসে তাদেরকেও সমবেত করা হবে কোরান সে বার্তা জানায়।

তাহলে কি তাদেরও বিচার হবে?  দ্বীতিয়ত যেহেতু রুহের মৃত্যু হয় না, মৃত্যু হয় নাফসের। অবশ্যই তাহলে পশু-পাখি, কীট-পতঙ্গ সবার নাফস আছে।  তা না হলে তাদের মৃত্যু হয় কেন?

এবার আরো জটিল প্রশ্নের সন্মুখিন হতে হচ্ছে।  যদি পশু প্রানী, কীট-প্তঙ্গের নাফস বা ভাল-মন্দ বিচার শক্তি নামক ইচ্ছা শক্তি প্রদত্ত হয়,  তবে মানুষের মত তাদেরও বিচারের সন্মুখিন হতে হবে।  কিন্তু কোরান বার্তা দেয় বিচার দিবসে পশু পাখি, কীট-পতঙ্গ সবাইকে সমবেত করা হবে।

ثُمَّ إِلَىٰ رَبِّهِمْ يُحْشَرُونَ “তারপর তাদের রবের কাছে তাদের সমবেত করা হবে।” (৬:৩৮) যখন বন্য পশু একত্র করা হইবে, (৮১:৫)

কিন্ত এ আয়াত বলে না বিচারের জন্য সমবেত করা হবে।

অন্যদিকে কোরান এটাও বলে একমাত্র জীন ও ইনসানকে সৃষ্ট করা হয়েছে তার ইবাদতের জন্য এবং তাদর স্বাধীন ইচ্ছা শক্তি ও ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে তাই  তাদের কর্মের হিসাব নেয়া হবে,  বিচার করা হবে এবং ফলাফল অনুযায়ী পুরস্কৃত অথবা তিরস্কৃত অর্থাৎ অনন্ত জীবন জান্নাত বা জাহান্নাম দেয়া হবে। 

পশু প্রাণীর বিচার বিষয়ে কোরানে সুস্পষ্ট আয়াত না থাকলেও প্রজ্ঞা দিয়ে নিশ্চিত বলা যায় পশু-পাখি , কীট-পতঙ্গের কোন কর্মের হিসাব বা বিচার হবে না।

এবার প্রশ্ন আসে যদি পশু-পাখির কর্মের হিসাব হবে না অর্থাৎ বিচার হবে না, নাফস থাকা সত্তেও তাহলে একই নাফস মানুষের থাকার জন্য তার হিসাবের সন্মুখিন হতে হবে কেন?  বিচারের সন্মুখিন হতে  হবে কেন?

হ্যা, এটাই এ আলোচনার মুখ্য বিষয়।

তার আগে বলতে হয় যারা বলেন: কোরানে যা বলে নাই তা আমার জানার দরকার নাই তাদের জন্য এ আলোচনায় আসার প্র‍্যয়োজন নেই। 

কারন নির্বোধ অন্বেষন করে না তৈরি খাদ্য মান্না-সালাওয়া খেতে পছন্দ করে। 

অন্যদিকে কোরান বলে এ কিতাব জ্ঞানীদের জন্য নিদর্শন।  আরো বার্তা দেয় তারা কি কোরান নিয়ে — গভীর —-চিন্তা ভাবনা করে না?  নাকি তাদের অন্তর তালাবদ্ধ?  কোরান আরো বলে এ কিতাবে চিন্তাশীলদের জন্য রয়েছে চিন্তার খোরাক।  আমি ইহাতে কিছুই লিপিবদ্ধ করতে বাদ রাখিনি। এ কিতাবে রয়েছে বিস্তারিত ব্যাখ্যা। 

কিছু অর্ধ শিক্ষিত মানুষ কোরানের সরল বাংলা অনুবাদ পড়ে হারাম হালালের জ্ঞান অর্জন ও প্রচলিত ইবাদত এর পার্থক্য উপলবদ্ধি করতে পেরে নিজেকে মহাপন্ডিতের আসনে বসে অন্যকে শুধু ধিক্কার জানাতে পটুয়সী হয়ে বসেছেন।  ভাব টা এমন মোল্লার সাথে লড়াই করে শহীদ হবেন। 

আমি তাদের এড়িয়ে চলি।  রবের বার্তার মুল লক্ষ্য নিজেকে প্রচলিত ধারনার ইবাদতে মশগুল থাকা নয়।

তার প্রেরিত বার্তা নিয়ে চিন্তা ধ্যানে ডুবে তার সৃষ্টিজগত নিয়ে ভাবা।  গবেষনা প্রজ্ঞার দ্বার উন্মোচনে ব্রত হওয়া।

ইব্রাহীম আঃ থেকে সকল নবী রাসুল সিদ্দীক সালেহীন এভাবেই তাদের ঈমানকে একিনে পৌছায়ে সফল হয়েছেন।

এবার আসা যাক পশু প্রানীর নাফস থাকা সত্তেও কেন বিচারের সন্মুখিন হবে না পক্ষান্তরে মানুষ এই নাফসের অধিকারী হওয়ার জন্য কেন বিচারের সন্মুখিন হবে?

তার কারন “কুরআনের আলোকে মানুষই সেই নফসপ্রাপ্ত সত্তা, যাকে স্বাধীন নির্বাচন, নৈতিক দায়িত্ব এবং কর্মের জবাবদিহির জন্য বিচার করা হবে।

এবার পিঁপড়ার কাছে ফিরে আসি। পিঁপড়ার ঘটনা:

“একটি পিঁপড়া বলল, ‘হে পিঁপড়ারা! তোমরা তোমাদের বাসস্থানে প্রবেশ করো।’” — ২৭:১৮

অর্থাৎ কোরআন পিঁপড়াকে এমন একটি জীব হিসেবে দেখাচ্ছে যে: উপলব্ধি করে,যোগাযোগ করে, অন্যদের সতর্ক করে,নিজের সম্প্রদায় সম্পর্কে সচেতন। কিন্তু আয়াতটিতে نَفْس নেই, رُوح-ও নেই।

সবচেয়ে বড় প্রমাণ: “পৃথিবীর কোনো বিচরণশীল প্রাণী নেই … তারা তোমাদের মতোই সম্প্রদায়।”(৬:৩৮)

এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়: কোরআন প্রাণীদের ব্যাপারে أُمَم (সম্প্রদায়) বলেছে।

কিন্তু বলেনি: أنفس = তাদের নফস অথবা: أرواح = তাদের রূহ আছে।

তাহলে “মৃত্যুটা হয় কীভাবে?”—কোরআনের উত্তর কী?

এখানে আমরা তিনটি স্তর আলাদা করতে পারি: কোরআনের সরাসরি বক্তব্য, জীবন কে দেন?

আল্লাহ — يُحْيِي

মৃত্যু কে দেন? আল্লাহ — يُمِيتُ

জীবন কোন কিছুর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত? পানি — ২১:৩০

নফসের সঙ্গে মৃত্যু সম্পর্কিত? হ্যাঁ — ৩৯:৪২, ২১:৩৫

রূহ = জীবনীশক্তি? সরাসরি বলা নেই। পিঁপড়ার রূহ আছে? সরাসরি বলা নেই। পিঁপড়ার নফস আছে? সরাসরি বলা নেই। পিঁপড়ার মৃত্যু হয়?

কোরআন প্রত্যেক জীবনের সাধারণ জীবন-মৃত্যু কাঠামো দিয়েছে; নির্দিষ্ট পিঁপড়ার মৃত্যু-মেকানিজম বলেনি।

মৌমাছির ক্ষেত্রেও একই ধারা বর্ণিত, “তোমার রব মৌমাছিকে ওহি/নির্দেশ দিয়েছেন।” — ১৬:৬৮

তারপর মৌমাছি: “পাহাড়ে, গাছে এবং মানুষ যা নির্মাণ করে তাতে ঘর বানাও…” অর্থাৎ প্রাণীর জীবন কেবল বেঁচে থাকা নয়; কোরআন তাদের নির্দিষ্ট আচরণ ও কার্যপ্রণালী-ও দেখাচ্ছে।

✅ “আল্লাহ জীবন দেন এবং মৃত্যু দেন”—সরাসরি কোরআনিক। ✅ “প্রত্যেক জীবন্ত জিনিসের সঙ্গে পানি সম্পর্কিত”—সরাসরি কোরআনিক। ✅ “নফসকে আল্লাহ মৃত্যুর সময় গ্রহণ করেন”—সরাসরি কোরআনিক। ✅ “পিঁপড়া জীবন্ত সম্প্রদায়ের সদস্য এবং তার নিজস্ব আচরণ/যোগাযোগ আছে”—সরাসরি কোরআনিক।

অন্যান্য প্রাণী জীবিত ও সচেতন হতে পারে, তাদের নিজস্ব আচরণ ও প্রবৃত্তি থাকতে পারে; কিন্তু কুরআন তাদেরকে মানুষের মতো নৈতিকভাবে দায়বদ্ধ নফস হিসেবে উপস্থাপন করে না। তাই মানুষ ও পশু-পাখি,কীট-পতঙ্গের নাফস একই প্রকৃতির নয়। পশু পাখির নাফসে কোন নৈতিকভাবে দায়বদ্ধ  নেই বলে তাদের মানুষের মতো বিচার হবে না। 

যদিও কোরান সরাসরি এভাবে বলে নাই। কিন্তু কোরানের আলোকে অর্জিত প্রজ্ঞার মাধ্যমে এ সিদ্ধন্ত আমরা নিতে পারি।

By Ekramul hoq

I am A.K.M Ekramul hoq MA.LLB. Rtd Bank Manager & PO of Agrani Bank Ltd. I am interested writing and reading. Lives in Bangladesh, District Jamalpur.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

``` }