Categories
Blog

ধর্মীয় কুসংস্কার

ধর্মীয় কুসংস্কারে ডুবে থাকা  মানব জাতীঃ

তোমাদের মূর্খদের কাল্পনিক বিশ্বাস, ফকীহদের আইনের চুলচেরা বিশ্লেষণ, বৈরাগ্যবাদীদের কৃচ্ছ্রসাধনা এবং অমুসলিম জাতিদের তোমাদের ওপর প্রাধান্য ও শাসন প্রতিষ্ঠার কারণে তোমাদের আল্লাহ‌ প্রদত্ত আসল শরীয়াতের ওপর যেসব বিধি বন্ধনের বাড়তি বোঝা আরোপিত হয়েছে, আমি সেগুলো রহিত করবো এবং আল্লাহ‌ যেগুলো হালাল বা হারাম গণ্য করেছেন সেগুলোই আমি তোমাদের জন্য হালাল ও হারাম গণ্য করবো।

১. সূরা আল-আ’রাফ ৭:১৫৭ — নবী সা:-এর দায়িত্ব: বোঝা লাঘব করা, শৃঙ্খল মুক্ত করা: “যারা অনুসরণ করে উম্মী নবী রসূলকে তিনি তাদের ওপর থেকে তাদের বোঝা নামিয়ে দেন এবং শৃঙ্খল (বাঁধন) খুলে দেন যা তাদের ওপর চাপানো ছিল।”

এই আয়াত সরাসরি বলে যে পূর্ববতী উম্মতদের ওপর যে অতিরিক্ত আইন, কষ্টকর বিধান ও বাধ্যবাধকতা আরোপিত হয়েছিল—রসূল ﷺ সেগুলো লাঘব করেন।

২. সূরা আন-নিসা ৪:১৬০ — পূর্ববর্তী জাতিদের অবাধ্যতার কারণে কঠোর বিধান আরোপ:

“ইহুদিদের অন্যায়-জুলুমের কারণে আমি তাদের ওপর কিছু পবিত্র বস্তু হারাম করে দিয়েছিলাম—যেগুলো আগে তাদের জন্য হালাল ছিল…”

এখানে বলা হয়েছে যে তাঁদের কল্পিত চুলচেরা আইন নয়, বরং অপরাধ ও জুলুমের কারণে কিছু হালাল জিনিস হারাম করা হয়।

৩. সূরা আল-আন’আম ৬:১৪৬ — বিধিনিষেধ কঠোর হওয়ার কারণ – এখানে জোর দিয়ে বলা হয়েছে যে কিছু কঠোরতা শাস্তিমূলক ছিল, মৌলিক শরীয়তের অংশ নয়।

৪. সূরা আল-বাকারা ২:২৮৫ — অতিরিক্ত বোঝা না দেওয়ার নীতি- “আল্লাহ কোন প্রাণকে তার সামর্থ্যের বাইরে দায়িত্ব দেন না।” নবীর আগমনে উম্মতের ওপর বোঝা কমিয়ে সামর্থ্যের মধ্যে শরীয়ত স্থাপন—এই নীতির ইঙ্গিত এখানে।

“নবী সা: এসে মানুষের কল্পিত কঠোরতা, ফকীহদের বাড়তি আইন, কঠোর সাধনা, অন্য জাতির শাসনজনিত কার্যবিধি—এসব রহিত করে আল্লাহর মূল শরীয়তই প্রতিষ্ঠা করেছেন”—তার সবচেয়ে স্পষ্ট মিল পাওয়া যায়:

“তিনি তাদের বোঝা নামিয়ে দেন এবং শৃঙ্খল (বাঁধন) খুলে দেন।” সূরা আ’আরাফ ৭:১৫৭

By Ekramul hoq

I am A.K.M Ekramul hoq MA.LLB. Rtd Bank Manager & PO of Agrani Bank Ltd. I am interested writing and reading. Lives in Bangladesh, District Jamalpur.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

``` }