মানুষ কেন জন্মগতভাবে অন্ধ, আতুর, পঙ্গু হচ্ছে ; কেন অপরিণত বয়সে মৃত্যু হচ্ছে, বজ্রাঘাতে, সর্পাঘাতে, জলোচ্ছ্বাসে, ভূমিকম্পে, টাইফুনে মৃত্যু হচ্ছে নিষ্পাপ মাসুম শিশুটির। নিশ্চয় এর প্রত্যেকটির পিছনে একটি কারণ এবং রহস্য লুকায়িত রয়েছে । তা না হলে বলতে হয় আল্লাহ পক্ষপাতিত্ব করছেন । কাউকে অন্ধ, খোঁড়া বানাচ্ছেন, আবার কাউকে ভালো বানাচ্ছেন, কিন্তু আল্লাহতো নির্দোষ- নিরপেক্ষ, কারন আল্লাহর আরেক নাম আদেল বা ন্যায়বিচারক ।
আল্লার ঘরে মুর্তি পুজো হত, সেটা আল্লার ঘর? আল্লাাহ কোরআন হেফাযত করতে পারেন আর তাঁর ঘর রক্ষা করতে পারেন নাই মুর্তি পুজার হাত থেকে এমন প্রশ্ন উদয় হয় না তাহলে? আল্লাহ কি দুর্বল? নাউযুবিল্লাহ। যা হবার তা আল্লাহর ইশারায় হয়েছে — এ কথা বিশ্বাস করা মানে আল্লাহ মুর্তি পুজাও চেয়েছিল ? বরং আল্লাহ বলেনঃ যা কিছু মঙ্গল তা (আল্লাহ ) হতে আর যা কিছু মন্দ তা তোমা হতে ( সুরা নেসাঃ ৭৯) । অথচ আমরা বলে থাকি সবই তো আল্লাহর হুকুমে হয়েছে । আল্লাহর উপর দোষ চাপিয়ে দেই । আমার যা কিছু মন্দ তা যদি আমার কৃতকর্মের ফলই হয়ে থাকে তাহলে আমার কর্মফলে আমিই গ্রেফতার, আল্লাহ নিরপেক্ষ । বস্ত জগতের সাথে নফস ( চিত্তবৃত্তির সামগ্রিক অভিব্যক্তি ) -এর ঘনিষ্ঠ মাখামাখির ফলে আমাদের কলব অসংখ্য তাগুত কর্তৃক পরিবেষ্টিত হয়ে আছে । চিত্তের আয়নায় জং ধরে গেছে। আমিত্বের পর্দা কঠিন হয়ে গেছে, আল্লাহর রহস্য উপলব্ধি করার জ্ঞান বা ক্ষমতা নেই ।
অথচ একটু জ্ঞান দিয়ে অনুধাবন করার চেষ্টা করলে সব কিছু ধরা পড়বে । আল্লাহ মানুষকে সাময়িক ইচ্ছা শক্তি দান করেছেন ( Limited Free Will And Choice ) যা সৃষ্টিতে ( জ্বীন ব্যাতীত) অন্য কোনো জীব বা প্রাণি জগতে দেওয়া হয়নি ।
এর যথাযোগ্য সদ্ব্যবহার জান্নাতের দিকে উত্তরন বা প্রমোশন,আর এর অপব্যবহার জাহান্নামের দিকে পশ্চাৎপসরন বা ডিমোশন । ইচ্ছাশক্তি প্রয়োগের বেলায় আল্লাহ নিরপেক্ষ । সুরা মোমিনের ৩৩ নং আয়াতে আল্লাহপাক বলেছেন- ” যে সময়ে তোমরা ফিরিয়া যাইবে পিছনে, আল্লাহর তরফ হইতে থাকিবে না তোমাদের জন্য কোনো সংরক্ষক এবং আল্লাহ যাহাকে ভ্রান্তিতে ফেলেন তাহার জন্য কোনো হাদী নাই ।” আল্লাহ কাহাকেও ভ্রান্তির মধ্যে ফেলতে চান না ।
