Categories
Blog

কোরান ও বিজ্ঞান

 

এমন কিছু গভীর বিষয় আছে কোরান শুধু ইংগীত দেয় তার বিস্তারিত জানায় না।

দীর্ঘ দিনের অভিজ্ঞতা,পর্যবেক্ষন, চিন্তা গবেষনা দিয়ে সেসব  উদঘাটন করে নিতে হয় মানুষকে।  এজন্যই কোরান চিন্তাশীলদের জন্য গবেষনার  খোরাক দাবী করেছে হয়ত।

সলাতের ওয়াক্ত রাকাত, কবর আজাব হবে কি হবে না এসব মুল প্রতিপাদ্য বিষয় আমি মনে করি না। আমার দৃষ্টি সীমা মহাবিশ্বের একটি ক্ষুদ্র গ্রহে মাত্র। মহাবিশ্বে রয়েছে আরো কোটি কোটি গ্হ নক্ষত্র,মিল্ক ওয়ে, গ্যালাক্সি, ব্লাকহোল, ইউনিভার্স যা আমার কল্পনা ও দৃষ্টির বহির্ভুত। 

পৃথিবী ও মহাবিশ্বের বর্তমান ব্যবস্থা চিরস্থায়ী নয়; কুরআন জানায়, এক পর্যায়ে পৃথিবী ও আকাশমণ্ডলী পরিবর্তিত হবে (১৪:৪৮), আকাশ গুটিয়ে নেওয়া হবে (২১:১০৪), পৃথিবী প্রচণ্ডভাবে প্রকম্পিত হবে (৯৯:১), আকাশ বিদীর্ণ হবে ও নক্ষত্রসমূহ ছড়িয়ে পড়বে (৮২:১–২)।

১) পৃথিবী ও আকাশের বর্তমান ব্যবস্থা চিরস্থায়ী নয়সূরা ইবরাহীম ১৪:৪৮ “যেদিন এই পৃথিবী পরিবর্তিত হয়ে অন্য পৃথিবীতে পরিণত হবে এবং আকাশমণ্ডলীও (পরিবর্তিত হবে); আর তারা একক, পরাক্রমশালী আল্লাহর সামনে উপস্থিত হবে।”

২) আকাশ ও পৃথিবীর বর্তমান ব্যবস্থা পরিবর্তনশীলসূরা আল-আম্বিয়া ২১:১০৪ “সেদিন আমি আকাশকে গুটিয়ে নেব, যেমন লিখিত পত্রের জন্য পত্রের পৃষ্ঠা গুটিয়ে নেওয়া হয়। যেভাবে আমি প্রথম সৃষ্টি শুরু করেছিলাম, সেভাবেই তা পুনরায় সৃষ্টি করব। এটি আমার প্রতিশ্রুতি; তা পালন করা আমার দায়িত্ব। নিশ্চয়ই আমি তা করব।”

৩) পৃথিবী প্রচণ্ডভাবে কাঁপবে।আয-যিলযাল ৯৯:১–২ “যখন পৃথিবী তার প্রচণ্ড কম্পনে প্রকম্পিত হবে এবং পৃথিবী তার ভারসমূহ বের করে দেবে।”

৪)আকাশ বিদীর্ণ হবে। সূরা আল-ইনফিতার ৮২:১–২ “যখন আকাশ বিদীর্ণ হবে এবং যখন নক্ষত্রসমূহ ছড়িয়ে পড়বে।”

৫)  সূর্য ও নক্ষত্রের ব্যবস্থার পরিবর্তন। সূরা আত-তাকভীর ৮১:১–২ “যখন সূর্যকে গুটিয়ে নেওয়া হবে এবং যখন নক্ষত্রসমূহ নিষ্প্রভ হয়ে যাবে।”

আমি বর্তমান নিয়ে মোটেও ভাবি না। আমি আমার অতীত ও ভবিষ্যত নিয়ে ভাবতে চাই।

তাই এসব প্রশ্নের সন্মুখিন হয়ে পড়ি, ক্লান্তি অবসাদ আমাকে ঘিড়ে ধরে। 

✅✅✅✅✅

প্রশান্ত মহাসাগরের তলদেশে কি একটি টেকটোনিক প্লেট ধীরে ধীরে ছিঁড়ে যাচ্ছে?

পৃথিবীকে আমরা বাইরে থেকে একটি স্থির ও কঠিন গ্রহ হিসেবে দেখি। কিন্তু ভূ-পৃষ্ঠের নিচে পৃথিবী কখনোই সম্পূর্ণ স্থির নয়। বিশাল টেকটোনিক প্লেটগুলো ধীরগতিতে চলাচল করছে, সংঘর্ষ করছে, একটির নিচে অন্যটি প্রবেশ করছে, আবার কোথাও কোথাও ভেঙে ও বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে।

২০২৫ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর Science Advances-এ প্রকাশিত Brandon Shuck ও তাঁর গবেষকরা আরও দেখতে পেয়েছেন যে, গভীরে subducting slab-এর মধ্যেও দীর্ঘ ফাটল বা slab tears রয়েছে।

এই tears এবং transform fault-এর পারস্পরিক ক্রিয়া Explorer অংশটিকে ধীরে ধীরে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পথে নিয়ে যাচ্ছে।

এটি কোনো কাপড় ছিঁড়ে যাওয়ার মতো আকস্মিক ঘটনা নয়। বরং কয়েক মিলিয়ন বছর ধরে চলা deformation, faulting, shearing, slab tearing এবং plate decoupling-এর একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া।

Explorer microplate-এর অভ্যন্তরে ও সক্রিয় faulting ও ভূমিকম্প ঘটে।

Subduction কী?

Subduction হলো এমন একটি ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়া যেখানে একটি টেকটোনিক প্লেট অন্য একটি প্লেটের নিচে প্রবেশ করে পৃথিবীর গভীরে নেমে যায়।

এগুলো মানুষের কাছে অত্যন্ত ধীর গতি মনে হলেও কোটি বছরের ভূতাত্ত্বিক সময়ে এই সামান্য গতি বিশাল ভূ-পরিবর্তন ঘটাতে পারে।

_____ এখানেই একটি গভীর দার্শনিক ও কুরআনিক প্রশ্ন সামনে আসে।

কুরআন কি পৃথিবীর চূড়ান্ত পরিবর্তনের কথা বলে?

কুরআন কিয়ামত বা পৃথিবীর চূড়ান্ত বিপর্যয়ের যে চিত্র দেয়, তা অত্যন্ত ব্যাপক ও মহাজাগতিক।

যেমনঃ “যখন সূর্যকে গুটিয়ে নেওয়া হবে, যখন নক্ষত্রসমূহ ঝরে পড়বে…” সূরা আত-তাকভীর ৮১:১–২

আবার বলা হয়েছে: “যখন আকাশ বিদীর্ণ হবে, যখন নক্ষত্রসমূহ ছড়িয়ে পড়বে…” আল-ইনফিতার ৮২:১–২

আর পৃথিবী সম্পর্কে: “যখন পৃথিবী তার প্রচণ্ড কম্পনে প্রকম্পিত হবে এবং পৃথিবী তার বোঝাসমূহ বের করে দেবে।” সূরা আয-যিলযাল ৯৯:১–২

আরও বলা হয়েছে: “যেদিন পৃথিবী পরিবর্তিত হয়ে অন্য পৃথিবীতে পরিণত হবে এবং আকাশ সমূহও…” সূরা ইবরাহীম ১৪:৪৮ এবং: “সেদিন আমি আকাশকে গুটিয়ে নেব, যেমন লিখিত পত্রের পাতা গুটিয়ে নেওয়া হয়।” সূরা আল-আম্বিয়া ২১:১০৪

এগুলো পৃথিবী ও মহাবিশ্বের চূড়ান্ত রূপান্তরের একটি ব্যাপক চিত্র তুলে ধরে।

⛔⛔⛔

টেকটোনিক প্লেটের ফাটল কি ৯৯:১-এর “ভূমিকম্প”?

সূরা আয-যিলযাল ৯৯:১-এর “إِذَا زُلْزِلَتِ الْأَرْضُ زِلْزَالَهَا”

কিয়ামতের প্রসঙ্গে পৃথিবীর এক অভূতপূর্ব কম্পনের কথা বলে। বর্তমান Explorer microplate-এর deformation তার সঙ্গে সরাসরি একই ঘটনা—এমন দাবি করার মতো কোনো প্রমাণ নেই।

বরং বলা যায়: টেকটোনিক গবেষণা আমাদের দেখায় যে পৃথিবী একটি পরিবর্তনশীল গ্রহ; আর কুরআন জানায় যে এক চূড়ান্ত পর্যায়ে পৃথিবী ও মহাবিশ্বের বর্তমান ব্যবস্থা পরিবর্তিত হবে।

দুটি বক্তব্যের মধ্যে একটি চিন্তার সাদৃশ্য থাকতে পারে, কিন্তু সেখান থেকে বৈজ্ঞানিকভাবে “এটাই কিয়ামতের পূর্বলক্ষণ” সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।

তাহলে এই আবিষ্কারের আসল শিক্ষা কী? এই গবেষণার সবচেয়ে গভীর শিক্ষা হয়তো “পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে”—এটি নয়। বরং— পৃথিবী বাইরে থেকে স্থির মনে হলেও তার গভীরে অবিরাম পরিবর্তন চলছে।

পৃথিবী স্থির নয়; পরিবর্তনই তার স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য। আর কুরআন আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়—এই বর্তমান পৃথিবী ও মহাবিশ্বও চিরস্থায়ী নয়।

এই দুই সত্যকে পাশাপাশি রেখে চিন্তা করা যায়; কিন্তু একটিকে অন্যটির সরাসরি বৈজ্ঞানিক প্রমাণ হিসেবে দাবি করা উচিত নয়।

By Ekramul hoq

I am A.K.M Ekramul hoq MA.LLB. Rtd Bank Manager & PO of Agrani Bank Ltd. I am interested writing and reading. Lives in Bangladesh, District Jamalpur.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

``` }