Categories
Blog

কিয়ামত কখন হবে

 

কিয়ামত কখন হবে?

আনাস ইবন মালিক (রা.) বলেন, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাঃ কে জিজ্ঞেস করল, “কিয়ামত কখন হবে?” তাঁর কাছে আজদ শানুআ গোত্রের এক বালক ছিল। তিনি বললেন, “যদি এ বালক দীর্ঘজীবী হয়, তবে বার্ধক্যে পৌঁছানোর আগেই তোমাদের কিয়ামত এসে যাবে।” (হাদীস)

হাদীসটি কোরানের সাথে সাংঘর্ষিক নয়।  কারন প্রতিটি মানুষের মৃত্যুই তার কিয়ামত। বালকটির দিকে ইংগীত করে যাদের বলেছিলেন বালকটি পুর্ন বয়স্ক হতে হতে তারা অবশ্যই মৃত্যু বরন করবে। তাই তাদের কিয়ামত এসে যাবে। 

এবার কোরানের আয়াতের সমর্থন দেখবঃ

“প্রত্যেক প্রাণী মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে। আর কিয়ামতের দিনই তোমাদেরকে তোমাদের প্রতিদান পূর্ণরূপে দেওয়া হবে।” (৩:১৮৫)

প্রতিদান পুর্নভাবে দিবেন মানে জান্নাত অথবা জাহান্নামে দাখিল করবেন।  আর সেটি হবে কিয়ামতের দিন।

এখানে কিয়ামতের দিন প্রতিদান বুঝিয়ে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তাহলে কেউ যদি কখনো প্রতিশ্রুতি বুঝে পায় তখন বলা যাবে নিশ্চয় তার কিয়ামত হয়েছে।

এবার সূরা নাহল ৩২ নং আয়াত কি বার্তা জানায়? 

ফিরিশ্‌তাগণ যাহাদের মৃত্যু ঘটায় পবিত্র থাকা অবস্থায়। ফিরিশ্‌তাগণ বলিবে, ‘তোমাদের প্রতি শান্তি! তোমরা যাহা করিতে তাহার ফলে জান্নাতে প্রবেশ কর।’(১৬:৩২)

অপরদিকে একই সুরা ২৯ নং আয়াত বার্তা জানায় অপরাধীদের মৃত্যুর সময় বলবেঃ

সুতরাং তোমরা দ্বারগুলি দিয়া জাহান্নামে প্রবেশ কর, সেখানে তোমরা স্থায়ী হইবে। দেখ, অহংকারীদের আবাসস্থল কত নিকৃষ্ট! (১৬:২৯)

এখানে মৃত্যুর পরবর্তি বিচার দিবসের কথা বলে না আয়াত। বরং বলেঃ

ক) মুমিনদের ক্ষেত্রে “যাদের প্রাণ ফেরেশতারা পবিত্র অবস্থায় গ্রহণ করে, তারা বলে: ‘তোমাদের প্রতি শান্তি! তোমরা যা করতে তার প্রতিদানস্বরূপ জান্নাতে প্রবেশ কর।’ (১৬:৩২)

(খ) কাফিরদের ক্ষেত্রে আর যদি তুমি দেখতে, যখন ফেরেশতারা কাফিরদের প্রাণ হরণ করে; তারা তাদের মুখমণ্ডল ও পিঠে আঘাত করে এবং বলে, ‘জ্বলন্ত আগুনের শাস্তি আস্বাদন কর।(৮:৫০)

এখন প্রশ্ন জাগতে পারে তাহলে কি মহা প্লয় হবে না বিচার দিবস হবে না? 

অবশ্যই মহাপ্রলয় হবে এবং হাসর হবে। এটি বুঝতে হলে দৃষ্টি আনতে হয় নাফস আর রুহের প্রতি।

নাফসের মৃত্যু হয় রুহের নয়। নাফসের মৃত্যুর সাথে সাথে রুহ কে নিয়ে যাওয়া হয় ইল্লিন অথবা সিজ্জিলিনে।

নাফস উপভোগ করবে জান্নাত বা জাহান্নামের স্বাদ, যতদিন না মহাপ্রলয় ও বিচার দিবস উপস্থিত না হয়।

সৎকর্মশীলের নফস প্রশান্ত থাকেঃ হে প্রশান্ত আত্মা (নফস)! তোমার প্রতিপালকের কাছে ফিরে এসো, তুমি তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট এবং তিনিও তোমার প্রতি সন্তুষ্ট। অতঃপর আমার বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হও এবং আমার জান্নাতে প্রবেশ কর।” (৮৯:২৭–৩০)

৭) সৎকর্মশীলদের জন্য ইল্লিয়্যীনঃ

সূরা আল-মুতাফ্ফিফীন (৮৩:১৮–২১)

কখনো নয়! নিশ্চয়ই সৎকর্মশীলদের আমলনামা (কিতাব) ইল্লিয়্যীনে রয়েছে। তুমি কি জান, ইল্লিয়্যীন কী? এটি একটি লিপিবদ্ধ কিতাব। যার সাক্ষী থাকে নৈকট্যপ্রাপ্ত (ফেরেশতাগণ)।

৮) ইল্লিয়্যীন একটি সংরক্ষিত উচ্চ মর্যাদার স্থান:  একই আয়াত: “নিশ্চয়ই সৎকর্মশীলদের আমলনামা ইল্লিয়্যীনে। তুমি কী জান ইল্লিয়্যীন কী? এটি একটি লিপিবদ্ধ কিতাব, যার সাক্ষী নৈকট্যপ্রাপ্তরা।” (৮৩:১৮–২১ )

দ্রষ্টব্য: কুরআনে ইল্লিয়্যীনকে “রূহের অবস্থানস্থল” বলা হয়নি; বরং “লিপিবদ্ধ কিতাব”-এর স্থান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

১১) অতঃপর মহাপ্রলয় (সার্বিক কিয়ামত) সূরা আয-যুমার (৩৯:৬৮)

“আর শিঙ্গায় ফুঁক দেওয়া হবে। তখন আসমানসমূহে যারা আছে এবং পৃথিবীতে যারা আছে তারা সবাই অচেতন হয়ে পড়বে, আল্লাহ যাদের ইচ্ছা করবেন তারা ব্যতীত। তারপর আবার শিঙ্গায় ফুঁক দেওয়া হবে। তখন তারা দাঁড়িয়ে তাকিয়ে থাকবে।”

১২) বিকট শব্দে শিঙ্গায় ফুঁক দেওয়া হবে সূরা আল-হাক্কাহ (৬৯:১৩–১৬)

“অতঃপর যখন শিঙ্গায় একবার ফুঁক দেওয়া হবে, এবং পৃথিবী ও পাহাড়সমূহ উঠিয়ে এক আঘাতে চূর্ণবিচূর্ণ করে দেওয়া হবে, সেদিনই সেই মহাসংঘটন সংঘটিত হবে।

আর আকাশ বিদীর্ণ হয়ে যাবে; সেদিন তা হবে দুর্বল।”

১৯) আল্লাহ আরশে সমাসীন সূরা আল-আরাফ (৭:৫৪)

“নিশ্চয়ই তোমাদের প্রতিপালক আল্লাহ, যিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীকে ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর তিনি আরশে সমাসীন হয়েছেন। তিনি রাত দ্বারা দিনকে আচ্ছাদিত করেন; তা দ্রুত তাকে অনুসরণ করে। আর সূর্য, চন্দ্র ও নক্ষত্রসমূহ তাঁরই আদেশাধীন। জেনে রাখ, সৃষ্টি ও আদেশ তাঁরই। কতই না বরকতময় আল্লাহ, বিশ্বজগতের প্রতিপালক।”

২১) জাহান্নামীরা অনন্তকাল জাহান্নামে থাকবেসূরা আন-নিসা (৪:১৬৯) “তারা সেখানে চিরকাল অবস্থান করবে। আর এটি আল্লাহর জন্য খুবই সহজ।” (৩৩:৬৪–৬৫)

২২) যতদিন আসমান ও জমিন থাকবে সূরা হূদ (১১:১০৭–১০৮) জাহান্নাম সম্পর্কে

“তারা সেখানে থাকবে, যতদিন আসমানসমূহ ও পৃথিবী থাকবে, তবে তোমার রব যা ইচ্ছা করেন তা ভিন্ন। নিশ্চয়ই তোমার রব যা ইচ্ছা করেন তা-ই করেন।”

জান্নাত সম্পর্কে “আর যারা সৌভাগ্যবান হয়েছে, তারা জান্নাতে থাকবে; সেখানে তারা থাকবে, যতদিন আসমানসমূহ ও পৃথিবী থাকবে, তবে তোমার রব যা ইচ্ছা করেন তা ভিন্ন—এ এক অবিরাম দান।

⛔⛔ নোটঃ

১) যার যার মৃত্যু তার তার কিয়ামত। ১৬:৩২

২) মৃত্যুর সময় ফেরস্তা দুভাবে জান কবজ করে বা নাফসকে বের করে নেয়। (১৬:৩২ ও ৮:৫০)

৩) সৎকর্মশীলের নাফস প্রসান্ত ভাবে

৪) অসৎকর্মশীলদের নাফস মুখে ও পাছায় আঘাত করতে করতে।

৫) সৎকর্মশীল মানুষকে বলে যাও জান্নাতের দ্বার খুলা যেদিক দিয়ে ইচ্ছে প্রবেশ কর।

৬) অসৎকর্মশীলদের বলেন প্রবেশ কর জাহান্নামে এবং তার স্বাদ আশ্বাদন কর।

৭) অতঃপর সৎকর্মশীলদের রুহ নিয়ে যান ঈল্লীনে।

৮) ইল্লিন এক উর্ধজগতে সংরক্ষিত পবিত্র স্থান যেখানে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত পর্যন্ত অবস্থান করতে হবে।

৯) অনুরুপ অসৎকর্মশীলদের রুহ অবস্থান করবে এক ন্যাক্কার জনক স্থানে যাহা নিন্মদেশে অবস্থিত সিজ্জিলিন নামে পরিচিত।

১০) সেখানে অবস্থান করবে একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত।

১১) এর পর মহাপ্রলয় সার্বিক কিয়ামত রবের আদেশে হবে।

১২) বিকট এক শব্দ সিংগায় ফুৎকার হবে।

১৩) সকল রুহগুলিকে অবমুক্ত করা হবে।

১৪) যার যার দেহের সাথে সংযোজিত করা হবে

১৫) তারা উদ্ভ্রান্ত অবস্থায় ছুটাছুটি করবে।

১৬) কতক ডানপার্শে দল  শান্ত ভাবে উপস্থিত হবে তাদের মুখে কোন ভীতির ছাপ থাকবে না।

১৭) কতক বামপার্শের দল ভীত সন্ত্রস্থ হয়ে পরবে তারা বলবে হায় এটাই কি সেই দিন যা আমরা অস্বীকার করতাম।

১৮) মৃত্যুকে জবাই করে নিশ্চিহ্ন করে দেয়া হবে। রুহকে অনন্ত জীবন দান করা হবে।

১৯) অতঃপর আল্লাহ আরশে সমাসীন হবে এবং নতুন পরিকল্পনায় মনোনিবেশ করবেন।

২০) জান্নাতীরা অনন্তকাল জান্নাতে তার বসবাস করবে।

২১) জাহান্নামীরা অনন্তকাল জাহান্নামে বসবাস করবে

২২) যতদিন আসমান ও জমিন বিদ্যমান থাকবে ততদিন জান্নাত ও জাহান্নাম বিদ্যমান থাকবে।

১) دَخَلُوا — দাখালূ = তারা প্রবেশ করল। ২) تَدْخُلُونَ — তাদখুলূন = তোমরা প্রবেশ কর / করবে। ৩) يَدْخُلُونَ — ইয়াদখুলূন = তারা প্রবেশ করে / করবে। ৪) أَدْخِلْنِي — আদখিলনী = আমাকে প্রবেশ করান। ৫) مُدْخَل — মুদখাল = প্রবেশস্থল, প্রবেশের স্থান। (১৭:৮০) ,🚮🚮🚮🚮🚮🚫

কিয়ামত কখন হবে? কুরআন ও হাদীসের আলোকে একটি গবেষণামূলক পর্যালোচনা

মানুষ যুগে যুগে একটি প্রশ্ন করে এসেছে—”কিয়ামত কখন হবে?” কুরআন স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, মহাকিয়ামতের নির্দিষ্ট সময় একমাত্র আল্লাহই জানেন। তবে হাদীস ও কুরআনের বিভিন্ন আয়াত একত্রে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ব্যক্তিগত কিয়ামত (মৃত্যু) এবং মহাকিয়ামত (সমগ্র বিশ্বজগতের ধ্বংস ও পুনরুত্থান)—এই দুই স্তরকে পৃথকভাবে বোঝা যায়। ১. হাদীসের আলোকে আনাস ইবন মালিক (রা.) বর্ণনা করেন, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞেস করল, “কিয়ামত কখন হবে?” রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নিকটে আজদ শানুআ গোত্রের এক বালক ছিল। তিনি বললেন— “যদি এ বালক দীর্ঘজীবী হয়, তবে বার্ধক্যে পৌঁছানোর আগেই তোমাদের কিয়ামত এসে যাবে।” এই হাদীসকে কুরআনের আলোকে বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায়, রাসূলুল্লাহ (সা.) উপস্থিত ব্যক্তিদের মৃত্যুর দিকেই ইঙ্গিত করেছিলেন। কারণ, বালকটি বৃদ্ধ হওয়ার আগেই উপস্থিত সবাই মৃত্যুবরণ করবে। অর্থাৎ, তাদের প্রত্যেকের জন্য কিয়ামত উপস্থিত হবে। ২. কুরআনের সমর্থন আল্লাহ বলেন— “প্রত্যেক প্রাণ মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে। আর কিয়ামতের দিনই তোমাদেরকে তোমাদের প্রতিদান পূর্ণরূপে দেওয়া হবে।  সূরা আলে ইমরান (৩:১৮৫) এখানে “পূর্ণ প্রতিদান” বলতে জান্নাত অথবা জাহান্নামে চূড়ান্ত পরিণতি বোঝানো হয়েছে। অর্থাৎ, কিয়ামতের দিন প্রতিদান বাস্তবায়িত হবে। ৩. মৃত্যুর মুহূর্তেই কী ঘটে? কুরআনে মৃত্যুর সময় দুই ধরনের দৃশ্য বর্ণিত হয়েছে। (ক) মুমিনদের ক্ষেত্রে “যাদের প্রাণ ফেরেশতারা পবিত্র অবস্থায় গ্রহণ করে, তারা বলে: তোমাদের প্রতি শান্তি। তোমরা যা করতে তার প্রতিদানস্বরূপ জান্নাতে প্রবেশ কর।”(১৬:৩২)

(খ) অপরাধীদের ক্ষেত্রে “যখন ফেরেশতারা কাফিরদের প্রাণ হরণ করে, তারা তাদের মুখমণ্ডল ও পিঠে আঘাত করতে থাকে এবং বলে, জ্বলন্ত আগুনের শাস্তি আস্বাদন কর।”(৮:৫০)

এছাড়াও বলা হয়েছে— “তোমরা জাহান্নামের দরজাগুলো দিয়ে প্রবেশ কর; সেখানে স্থায়ী হবে।”সূরা আন-নাহল (১৬:২৯)

এই আয়াতগুলোতে মৃত্যুর পর ফেরেশতাদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক সুসংবাদ বা দুঃসংবাদের উল্লেখ রয়েছে।

৪. নফস ও রূহ এই গবেষণার আলোচনায় নফস ও রূহের মধ্যে পার্থক্য গুরুত্বপূর্ণ। নফস মৃত্যুর অভিজ্ঞতা লাভ করে। রূহের মৃত্যু হয় না। মৃত্যুর পর নফস প্রতিদানের স্বাদ অনুভব করে। চূড়ান্ত বিচার পর্যন্ত রূহ সংরক্ষিত অবস্থায় থাকে—এমন একটি ব্যাখ্যা কুরআনের কিছু আয়াত থেকে আলোচনায় আনা যায়। ৫. প্রশান্ত নফস আল্লাহ বলেনঃ “হে প্রশান্ত আত্মা! তোমার প্রতিপালকের কাছে ফিরে এসো, তুমি তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট এবং তিনিও তোমার প্রতি সন্তুষ্ট। অতঃপর আমার বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হও এবং আমার জান্নাতে প্রবেশ কর।”(৮৯:২৭–৩০)

৬. ইল্লিয়্যীন ও সিজ্জীন সৎকর্মশীলদের সম্পর্কে বলা হয়েছেঃ “নিশ্চয়ই সৎকর্মশীলদের কিতাব ইল্লিয়্যীনে রয়েছে…” সূরা আল-মুতাফ্ফিফীন (৮৩:১৮–২১)

আর পাপীদের সম্পর্কে সিজ্জীনের উল্লেখ রয়েছে (৮৩:৭–৯)।

উল্লেখযোগ্য যে, কুরআনে ইল্লিয়্যীন ও সিজ্জীনকে সরাসরি “রূহের অবস্থানস্থল” বলা হয়নি; বরং আমলনামার সংরক্ষিত অবস্থানের কথা বলা হয়েছে। তবে গবেষণামূলক আলোচনায় এগুলোর সঙ্গে রূহের অবস্থান সম্পর্কিত একটি ব্যাখ্যা উপস্থাপন করা যেতে পারে।

৭. অতঃপর মহাকিয়ামত আল্লাহ বলেনঃ “শিঙ্গায় ফুঁক দেওয়া হবে। তখন আসমান ও পৃথিবীর সকলেই অচেতন হয়ে পড়বে… তারপর আবার শিঙ্গায় ফুঁক দেওয়া হবে। তখন তারা দাঁড়িয়ে তাকিয়ে থাকবে।” সূরা আয-যুমার (৩৯:৬৮) আরও বলেনঃ “যখন শিঙ্গায় একবার ফুঁক দেওয়া হবে… পৃথিবী ও পাহাড় চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যাবে।” (৬৯:১৩–১৬)

এটি সমগ্র বিশ্বজগতের মহাপ্রলয়। গবেষণার প্রস্তাবিত ধারাবাহিকতা ১. প্রত্যেক মানুষের মৃত্যুই তার ব্যক্তিগত কিয়ামতের সূচনা (১৬:৩২—এই গবেষণার ব্যাখ্যা অনুযায়ী)। ২. মৃত্যুর সময় ফেরেশতারা নফস গ্রহণ করেন। ৩. সৎকর্মশীলদের নফস প্রশান্ত অবস্থায় বিদায় নেয় (৮৯:২৭–৩০)। ৪. অপরাধীদের নফস কঠোরভাবে গ্রহণ করা হয় (৮:৫০)। ৫. মুমিনদের জান্নাতের সুসংবাদ দেওয়া হয় (১৬:৩২)। ৬. অপরাধীদের জাহান্নামের শাস্তির সংবাদ দেওয়া হয় (১৬:২৯, ৮:৫০)। ৭. সৎকর্মশীলদের জন্য ইল্লিয়্যীনের উল্লেখ রয়েছে (৮৩:১৮–২১)। ৮. অপরাধীদের জন্য সিজ্জীনের উল্লেখ রয়েছে (৮৩:৭–৯)। ৯. চূড়ান্ত বিচারের পূর্ব পর্যন্ত নির্ধারিত অবস্থা অব্যাহত থাকে। ১০. অতঃপর আল্লাহর আদেশে মহাপ্রলয় সংঘটিত হয় (৩৯:৬৮; ৬৯:১৩–১৬)। ১১. শিঙ্গায় ফুঁক দেওয়া হয়। ১২. পুনরুত্থান সংঘটিত হয়। ১৩. সকল মানুষ পুনরায় উপস্থিত হয়। ১৪. প্রত্যেকে তার কর্ম অনুযায়ী সমবেত হয়। ১৫. ডান দিকের লোকেরা নিরাপদ থাকবে। ১৬. বাম দিকের লোকেরা আতঙ্কিত হবে। ১৭. সবাই চূড়ান্ত বিচারের সম্মুখীন হবে। ১৮. জান্নাতীরা জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং জাহান্নামীরা জাহান্নামে প্রবেশ করবে। ১৯. আল্লাহ আরশের অধিপতি; সমস্ত সৃষ্টি ও চূড়ান্ত ফয়সালা তাঁরই (৭:৫৪)। ২০. জান্নাতীরা চিরস্থায়ী সুখে থাকবে (১১:১০৮)। ২১. জাহান্নামীরা তাদের নির্ধারিত পরিণতিতে থাকবে (৪:১৬৯; ৩৩:৬৪–৬৫)। ২২. আল্লাহ বলেন, জান্নাত ও জাহান্নামের অবস্থান “যতদিন আসমানসমূহ ও পৃথিবী থাকবে”—তবে আল্লাহ যা ইচ্ছা করেন তা ব্যতীত (১১:১০৭–১০৮)।

By Ekramul hoq

I am A.K.M Ekramul hoq MA.LLB. Rtd Bank Manager & PO of Agrani Bank Ltd. I am interested writing and reading. Lives in Bangladesh, District Jamalpur.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

``` }