শোকের জুম্মাকে যারা মোবারক বানালো !
১০ অক্টোবর ৬৮০ খৃষ্টাব্দে ইরাকে হোসেইনের তাবুতে জুম্মার আযান হয়েছিল পাশাপাশি ১০ অক্টোবর ৬৮০ খৃষ্টাব্দে এজিদের তাবুতেও জুম্মার আযান হয়েছিল।
সে সময় পাক্কা মুসলমানের দুইটি জামাত দুই তাবুর দেকে জুম্মার জন্য সমবেত হয়েছিল।
class=”wp-more-tag mce-wp-more” data-wp-more=”more” data-wp-more-text=”” data-mce-placeholder=”1″>“আপনি কোন তাবুর জুম্মা মোবারেকর দল?
✅ সে সময় হোসেনের তাবুতে জুম্মা আদায় করেছিলেন মাত্র ৭২ জন পুরুষ। পক্ষান্তরে এজিদের আযানে সমবেত হয়েছিল ১২,০০০ জন পুরুষ জুম্মার সালাতে সমবেত হয়েছিল। একটু ভাবুন…. আপনি কোন তাবুর জুমার মুছুল্লী আজ।
জুম্মা মোবারক বলা ছেলেটি তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলে। অথচ সে কখনো কোরানের আলোকে খতিয়ে দেখে নি জুম্মা কি?
জুম‘আর প্রকৃত উপলব্ধি কোরআন ও হাদীসের আলোকেঃ
১. আল্লাহর আহবান ও নির্দেশঃ আল্লাহ বলেনঃ
“যখন জুম‘আর দিনে সালাতের জন্য আহ্বান করা হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণে ছুটে যাও এবং ক্রয়-বিক্রয় ত্যাগ কর।এটাই তোমাদের জন্য শ্রেয়, যদি তোমরা বুঝ।”(৬২ঃ৯)
এই আয়াত আমাদের নির্দেশ দেয়—জুম্মার দিনে ইমামের আহ্বানে সাড়া দেওয়া এবং সকল দৈনন্দিন কাজে থেকে বিরত থাকা অপরিহার্য। এটি আল্লাহর স্মরণ ও ইবাদতের সৌন্দর্য।
২. জুম‘আর ইতিহাসঃ
রাসূল সাঃ এর যুগে জুম‘আ ছিল প্রয়োজন ভিত্তিক। কখনো আবহাওয়ার কারণে জুম‘আ বাতিলও হয়েছে। মু‘আবিয়ার শাসনামলে নতুন রীতি চালু হয়—খুৎবায় রাজার প্রশংসা, তাকে “আল্লাহর ছায়া” আখ্যা দেওয়া। আজও আমরা সেই কালচারের ছায়াতলে আছি।
৩. জুম‘আর উদ্দেশ্যঃ
ইমামের আহ্বানে সাড়া দেওয়া, সব কাজ ছেড়ে আল্লাহর স্মরণে ধাবিত হওয়া। খুৎবা হলো রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব ও কল্যাণ পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যম। এ কারণেই নারীদের জন্য জুম‘আ ফরজ নয়।
৪. আজকের বাস্তবতাঃ
আজকের প্রচলিত জুম‘আ অনেক ক্ষেত্রে আচার হয়ে দাঁড়িয়েছে। আল্লাহ বলেন— “তাদের সালাত কেবল কা‘বার নিকটে শিস ও করতালি।” ( ৮:৩৫)
৫. সালাতের প্রকৃত অর্থঃ
সালাত মানে নামাজ নয়। এটি হলো আল্লাহর বিধান প্রতিষ্ঠার অনুশীলন। জুম‘আ অর্থ একত্রিত হওয়া—সত্য ও কল্যাণের জন্য।
৬. কোরআনের সতর্কবার্তাঃ
আল্লাহ স্পষ্ট করেছেন—যখন মানুষ লালসায় বশবর্তী হয়ে সালাতকে বিকৃত করে, তখন তা অসার আচার হয়ে যায়। ( ১৯:৫৯)
আয়াতে অসার বাক্য ও কর্মকে সালাতের সাথে সংমিশ্রন করতে নিষেধ করা হয়েছে। সালাত কে যখন নামাজে রুপান্তর করা হয় তখন অপ্রয়োজনীয় বাক্য ও কর্ম সালাতে অনুপ্রবেশ করে উক্ত আয়াতের খেলাপ ঘটে।
৭. রাসুল সাঃ এর অভিযোগঃ
রাসূল সাঃ-এর অভিযোগ করে কিয়ামতের দিন বলবেন “হে আমার প্রতিপালক! আমার সম্প্রদায় তো এই কুরআনকে পরিত্যাজ্য মনে করেছে।” ( ২৫ঃ৩০ )
৮. রাসুল সাঃ এর অভিযোগের প্রেক্ষিতে আল্লাহ জানানঃ “অচিরেই উহারা এই কোরআন সম্বন্ধে জিজ্ঞাসিত হবে।” ( ৪৩:৪৪)
৯. হাদীসের আলোকেঃ সূরা মুমিনের (১_৩) উক্ত আয়াতের প্রেক্ষিতে হাদীসের আলোকে শিক্ষাঃ রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেছেন—
“কোনো ব্যক্তির ইসলামের সৌন্দর্যের অংশ হলো, তার অপ্রয়োজনীয় বাক্য বা আমল ত্যাগ করা।” (তিরমিযী: ২৩১৮)
৯. শেষ কথাঃ
এই আলোচনা আমার ব্যক্তিগত উপলব্ধি। কাউকে মানতে বাধ্য করছি না। ভালো লাগলে গ্রহণ করুন, খারাপ লাগলে ফেলে দিন। দ্বীমত পোষন করলে রেফারেন্স সহ মন্তব্য করবেন।
তবে অনুরোধ রইল—কোরআনকে অন্তত একবার মাতৃ ভাষায় পড়ুন। তখনই সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য বুঝবেন। রাসুল সাঃ যেন আপনার বিরুদ্ধে অভিযোগ না কারনে এ বলে যে, “হে আমার প্রতিপালক! আমার সম্প্রদায় তো এই কুরআনকে পরিত্যাজ্য মনে করেছে।” ( ২৫ঃ৩০ )

One reply on “জুম্মা মোবারক”
Thank you