ইসলাম ও ঈমান। কুরআন কী বলে?
সূরা আল-হুজুরাত ৪৯:১৪ আরবরা বলল, “আমরা ঈমান এনেছি।” বলুন, “তোমরা ঈমান আননি; বরং বলো—‘আমরা আত্মসমর্পণ করেছি (أَسْلَمْنَا -ইসলাম গ্রহণ করেছি)’। কারণ এখনও ঈমান তোমাদের অন্তরে প্রবেশ করেনি।……..”
কুরআন এখানে স্পষ্ট করে দিয়েছে: ইসলাম ও ঈমান এক নয়, আত্মসমর্পণ আগে হতে পারে, কিন্তু ঈমান হলো হৃদয়ের ভেতরের রূপান্তর। তাহলে ইসলাম কী , আর ঈমানই বা কী?
ইসলাম (আত্মসমর্পণ) হল আল্লাহকে একমাত্র ইলাহ বা বিধানদাতা ও পালন কর্তা হিসাবে বাহ্যিক গ্রহণ। এদেরকে বলা হয় মুসলিম। এরা আল্লাহর বিধান জানে কিন্তু দৃঢ়ভাবে পালন করে না। যেমন সচরাচর বা মাঝে মধ্যে মিথ্যা কথা বলে , ওজনে মাপে কম দেয় বা ফাকি দেয় , ঘুষ খায় , দুর্নীতি করে , অশান্তি সৃষ্টি করে , মিস্কিনকে খাবার দেয় না ইত্যাদি।
আর ঈমান হল অন্তরের দৃঢ় বিশ্বাস। এদের পক্ষে মিথ্যা বলা , অন্যায় করা অসম্ভব। কারন এরা আল্লাহর আজাবের ভয় করে। যদি ভুলে বা বাধ্য হয়ে কোন মিথ্যা বলে বা অন্যায় করে , তবে পরক্ষনে এরা তওবা করে এবং জীবনে আর এমন না করার প্রতিজ্ঞা করে। এরা সাধারনত দয়ালু হয়। এদের হৃদয়ের রূপান্তর ঘটে।
কুরআন শেখায়— সবাই মুসলিম হতে পারে, কিন্তু সবাই মুমিন নয়। নাম বা পরিচয় দিয়ে নয়, হৃদয়ের অবস্থান দিয়েই ঈমান নির্ধারিত হয়।
সূরা আল-আনফাল ৮:২ “মুমিন তো তারাই—যাদের হৃদয় আল্লাহর নাম শুনলে কেঁপে ওঠে।”
বার্তা পরিষ্কার: ইসলাম মুখে, ঈমান হৃদয়ে।
