সত্য অনুসন্ধানের প্রেরণা এবং আত্মসমালোচনাঃ
যেদিন থেকে সালাত আর লেবাসকে ইসলামের মান্দন্ড বানিয়েছে সেদিন থেকে ইসলাম যৌনতা, আর হুর প্রাপ্তীর বিনোদনের প্লাটফর্মে রুপ নিয়েছে। অথচ ইসলাম ছিল ন্যায় প্রর্তিষ্ঠার প্রতিযোগিতার টিকে থাকার লড়াইয়ের এক অনন্য জীবন ব্যবস্থা।
এখন ইসলাম হয়ে গেছে জান্নাত আর হুর প্রাপ্তীর সূচক। আজগুবি গল্প বলে ভয়ভীতি প্রদর্শন আর জান্নাত প্রাপ্তীর শর্টকাট রাস্তা। ধর্মের সাইন বোর্ডে জীবিকার কর্ম সংস্থান।
যাই কর নামাজ পড়, সর্বক্ষন মাথায় টুপি রাখ।
সালাতের উদেশ্য, লক্ষ্যকে বিকৃত করে নিল। অথচ সালাত শুধু অঙ্গচালনা নয়; বরং এটি অন্তরের বিশুদ্ধতা ও ন্যায়নিষ্ঠ।
কোরআনে আল্লাহ বলেনঃ তাদের পর এমন এক অপদার্থ জাতি এল, যারা সালাত নষ্ট করল এবং লালসা-বাসনার অনুসরণে লিপ্ত হলো; অতঃপর তারা শীঘ্রই বিপথগামী পরিণতি লাভ করবে। (সূরা মারইয়াম ১৯:৫৯)
এই আয়াতে আল্লাহ ইঙ্গিত করছেন —একদা এমন এক সম্প্রদায় ছিল যারা সত্য ও ইবাদতে দৃঢ় ছিল;কিন্তু তাদের পরবর্তী প্রজন্ম সালাতকে অবহেলা করে ফেলল, ধীরে ধীরে দুনিয়ার মোহ, লালসা ও কামনায় নিমজ্জিত হলো। ফলে তাদের অন্তর থেকে আল্লাহর ভয় ও ন্যায়বোধ লোপ পেল,আর ইসলাম কেবল আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ হয়ে গেল।
ফলে ষড়যন্ত্রকারীদের ফাঁদে আটকে ইসলাম তার প্রকৃত উদ্দেশ্য হারাতে শুরু করল।
যে ইসলাম একসময় ছিল ন্যায় প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম, সত্যের পথে অটল থাকার জিহাদ,সে ইসলাম আজ পরিণত হয়েছে যৌনতার প্রলোভন, হুর-প্রাপ্তির স্বপ্ন আর জান্নাতের শর্টকাট রাস্তা-তে।
আজ ইসলাম হয়ে গেছে এক ধর্মীয়বিনোদনের প্ল্যাটফর্ম,যেখানে ভয় দেখিয়ে,গল্প শুনিয়ে, এবং “জান্নাতের সহজ টিকিট” বিক্রি করে মানুষকে অন্ধ বিশ্বাসের জালে আবদ্ধ করা হচ্ছে।
ধর্ম এখন অনেকের জন্য জীবন জীবিকা ও পেশার কর্মসংস্থান। আর মসজিদের মঞ্চ হয়ে গেছে বাণিজ্যের স্থান।
ইসলামের এই বিকৃতির প্রতি আল্লাহ সুস্পষ্ট ভাবে সতর্ক করেছেন— (২:২৬৭) হারাম উপার্জনে গঠিত রক্ত-মাংসের কোনো ইবাদত আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য নয়।
ধর্ম ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আল্লাহর বাণীঃ যারা দ্বীনকে জীবিকার পেশা বানিয়েছে, তাদের সম্পর্কে কুরআনে বলা হয়েছে — “আর তুমি তাদের অনুসরণ করো না, যারা তাদের ধর্মকে জীবিকার উপায় বানিয়েছে এবং দুনিয়ার জীবনেই মত্ত হয়ে আছে।” ( 6:70)
অন্যত্র আল্লাহ নির্দেশ দেন —”তোমরা তাদের অনুসরণ কর, যারা দ্বীন প্রচার করে, অথচ কোনো বিনিময় গ্রহণ করে না, এবং তারা সৎপথে চলেছে।” (সূরা ইয়াসীন 36:21)
ইসলাম কখনও শুধুমাত্র সালাতের বাহ্যিক রূপ বা লেবাসের প্রদর্শন চায়নি। আল্লাহ বলেন:
“ধ্বংস তাদের জন্য, যারা নামাজ পড়ে, অথচ তারা নামাজে উদাসীন; যারা লোক দেখানোর জন্য তা করে, অথচ সামান্য সাহায্যও করে না।”(মাউন 107:4–7)
অতএব, আল্লাহর দৃষ্টিতে সালাত তখনই মূল্যবান,যখন তা মানুষকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে ও সত্যের পথে অটল রাখতে শেখায়।
“নিশ্চয়ই সালাত অশ্লীলতা ও অন্যায় কাজ থেকে বিরত রাখে।” (সূরা 29:45)
তাই প্রচলিত সালাত আল্লাহর মনোনিত সালাত নয় এবং মসজিদগুলির লক্ষ্য উদ্দেশ্য আল্লাহর মনোনীত নির্দেশনায় নয়। বরং কর্মসংস্থানের পথ বানিয়েছে। ইমামের বেতন, মুয়াজ্জিনের বেতন, খাদেমের,খতিবের বেতন দিতে হয়। প্রকৃত ইসলামের যুগে এমন কি ছিল? আযান দিয়ে, নামাজ পড়িয়ে বেতন নিতেন?
উপসংহারঃ
আজ যদি আমরা সত্যিকার ইসলাম পুনরুদ্ধার করতে চাই, তবে সালাত ও লেবাসের বাহ্যিক প্রদর্শনের বাইরে যেতে হবে — ন্যায়, সত্য, নীতি, এবং মানবিকতার চেতনায় ইসলামকে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
ইসলাম মানে শুধু রুকু-সিজদা নয়;ইসলাম মানে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ,সত্যের পথে স্থির থাকা,এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সততা ও ন্যায়ের সঙ্গে জীবনযাপন।আচার অনুষ্ঠানের প্রয়োজন আছে তবে সেটি মুখ্য নয় গৌন।
