Categories
Blog

ইসকন ভার্সাস তৌহিদী জনতা

ইসকন ভার্সাস তৌহিদী জনতাঃ

মূর্খের দেশে ধর্মের আবেগ ছিটিয়ে দাও অজ্ঞ মানুষের হৃদয়ে — তুমি রাতারাতি ধর্মীয় নেতা হয়ে যাবে! এইভাবেই যুগে যুগে জন্ম নেয় তথাকথিত ধর্মীয় গুরুরা।

তাদের কথার মোহে অন্ধ জনতা,তাদের ছোঁয়ায় প্রজ্বলিত হয় দাঙ্গা, মতবাদ আর বিভেদের আগুনে।

যে মানুষগুলো চিন্তা করে না, প্রশ্ন করে না, তাদের মনই হয়ে ওঠে ধর্মের বাজারে সবচেয়ে চাহিদা সম্পন্ন পণ্য।

মানুষের সরল বিশ্বাসকে পুঁজি করে, চতুরেরা গড়ে তুলেছে নানা মতাদর্শ – কেউ ধর্মগুরু, কেউ পাদ্রী, কেউ পুরোহিত, কেউ আবার পীর-মোল্লা।

ধর্ম যেন এক বিশাল বাজার —যেখানে বিক্রি হয় স্বর্গের টিকিট, আর কেনা হয় মানুষের বুদ্ধি, বিবেক ও স্বাধীনতা।

এটি কোনো একক ধর্মের দোষ নয়; এই রোগ মানব জাতির চিরন্তন দুর্বলতা।সব ধর্মেই আছে সেই একই ছায়া – মূর্খতার অন্ধকারে মোড়ানো পবিত্রতার মুখোশ।

কুরআনের সতর্কবাণীঃ আল্লাহ নিজেই এই মূর্খতাকে অভিশাপ বলেছেনঃ

“অবিশ্বাসীদের দৃষ্টান্ত সেই ব্যক্তির মতো,যে এমন কিছুর দিকে ডাক দেয়, যা কিছুই শুনতে পায় না —শুধু চিৎকার ও আহ্বান। তারা বধির, মূক ও অন্ধ; তারা কিছুই বুঝে না।” (সূরা আল-বাকারা ২:১৭১)

এই আয়াতে অজ্ঞতার চিত্র আঁকা হয়েছে অন্ধত্বের মতো—যেখানে সত্য চোখের সামনে, তবুও তারা দেখতে চায় না; সত্যের ধ্বনি কানে বাজে, তবুও শুনতে চায় না।

আরেক আয়াতে বলা হয়েছেঃ “তুমি কি দেখনি সেই ব্যক্তিকে,যে নিজের খেয়ালকেই তার উপাস্য বানিয়েছে, আর আল্লাহ জেনে-শুনে তাকে পথভ্রষ্ট করেছেন?(সূরা জাসিয়া ৪৫:২৩)

এই আয়াত তাদের জন্য, যারা জ্ঞানের পরেও অজ্ঞতার পথে হাঁটে —যাদের হৃদয় বন্ধ, মস্তিষ্কে তালা, আর আত্মায় অভিশাপ।

ধর্মগুরুদের মুখোশঃ এমন চতুর ধর্মীয় রাহাবর, পাদ্রী, পুরোহিত, মোল্লা ও আলেমদের বিষয়ে কুরআন সতর্ক করে বলেছে —“হে ঈমানদারগণ! পণ্ডিত ও ধর্মীয় গুরুরা অনেকেই অন্যায়ভাবে মানুষের ধনসম্পদ ভোগ করে,এবং আল্লাহর পথ থেকে মানুষকে নিবৃত রাখে।”(সূরা তাওবা ৯:৩৪)

দুটি_ধর্মের_আয়নাঃ সনাতনের ইসকন আর ইসলামের তথাকথিত তৌহিদী জনতা —দুটোই যেন একই সূত্রে গাঁথা এক মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। একজন শ্লোকের আবেশে, আরেকজন আয়াতের ছোঁয়ায় মানুষের সরলতাকে বাঁধে ধর্মীয় শৃঙ্খলে।

মসজিদে, মাদরাসায়, আশ্রমে —শিশুরা শেখে শুধু মুখস্থ করা শব্দ, কিন্তু শেখে না মানবতা, সহমর্মিতা, বা প্রশ্ন করার সাহস। যেখানে কেউ জান্নাতের লোভ দেখিয়ে নির্দোষ শিশুর উপর লাঞ্ছনা চালায়,সেখানে কেউ “ভক্তি”র নামে মানুষের মস্তিষ্কে বেঁধে দেয় অন্ধ আনুগত্যের বেড়ি।

পরকালের ভয় আর স্বর্গের লোভ —এই দুই অস্ত্রই তাদের হাতের তলোয়ার, যা দিয়ে তারা কেটে নেয় চিন্তার শিকড়।

শেষকথাঃ অজ্ঞতার অন্ধকারে ধর্ম হয়ে যায় ব্যবসা,আর বিশ্বাস হয়ে যায় বেচাকেনার বস্তু।আল্লাহ যেমন বলেছেন —যারা জানার পরেও মূর্খ থাকে, তাদের উপরই নেমে আসে অভিশাপের অন্ধকার।

মানুষের প্রকৃত মুক্তি লুকিয়ে আছে জ্ঞানে, প্রশ্নে, ও সত্য অনুসন্ধানে —যেখানে ধর্ম নয়, মানবতাই হয়ে ওঠে বিশ্বাসের শ্রেষ্ঠ রূপ।

By Ekramul hoq

I am A.K.M Ekramul hoq MA.LLB. Rtd Bank Manager & PO of Agrani Bank Ltd. I am interested writing and reading. Lives in Bangladesh, District Jamalpur.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

``` }