আজকের ইরান
১️) কিসরা কারা ছিলেন? কিসরা = পারস্যের সম্রাটদের উপাধি সময়কাল:
আনুমানিক ২২৪ খ্রি. – ৬৫১ খ্রি. রাজধানী: তিসফুন (Ctesiphon)
২️) রাসূল (সা.)-এর যুগের কিসরা রাসূলুল্লাহ সাঃ–এর সময় পারস্যের সম্রাট ছিলেন— কিসরা খসরু দ্বিতীয় (Khosrow II / خسرو پرويز) রাজত্বকাল: ৫৯০–৬২৮ খ্রি. তিনি ছিলেন পারস্যের সর্বশেষ শক্তিশালী সম্রাট।
৩️) কিসরা ও রাসূল (সা.)-এর ঐতিহাসিক ঘটনাঃ রাসূলুল্লাহ সাঃ বিশ্বনেতাদের কাছে ইসলামের দাওয়াতপত্র পাঠান। পারস্যের কিসরার কাছে পাঠানো চিঠি— কিসরা চিঠিটি পড়ে ছিঁড়ে ফেলেন এর প্রতিক্রিয়ায় রাসূল সাঃ বলেনঃ “সে যেমন আমার চিঠি ছিঁড়েছে, আল্লাহ তেমনি তার রাজত্ব ছিঁড়ে ফেলবেন।” ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়— এর কয়েক বছরের মধ্যেই: কিসরা নিজ পুত্রের হাতে নিহত হন পারস্য সাম্রাজ্য ভেঙে পড়ে অবশেষে ৬৫১ খ্রি.-তে মুসলিমদের হাতে সম্পূর্ণ পতন ঘটে।
৪️) কুরআনে পারস্য–রোম যুদ্ধ (সুরা রূম) কিসরার সময়েই ঘটে পারস্য–রোম যুদ্ধ। সূরা রূম ৩০:২–৪ الرُّومُ غُلِبَتْ فِي أَدْنَى الْأَرْضِ وَهُم مِّن بَعْدِ غَلَبِهِمْ سَيَغْلِبُونَ অর্থ: রোম পরাজিত হয়েছে, নিকটবর্তী ভূখণ্ডে। কিন্তু তারা পরাজয়ের পর অচিরেই বিজয়ী হবে। এই আয়াত নাযিল হয় তখন, যখন: পারস্য (কিসরা) রোমকে সম্পূর্ণভাবে পরাজিত করেছিল। আরবরা ভাবত রোম আর উঠতে পারবে না কিন্তু কয়েক বছরের মধ্যেই রোম বিজয়ী হয়—যা কুরআনের ভবিষ্যদ্বাণী সত্য প্রমাণ করে।
৫️) কিসরার রাজত্বের বৈশিষ্ট্য রাজতান্ত্রিক, স্বৈরশাসন।
রাষ্ট্রধর্ম: অগ্নিপূজা (Zoroastrianism) বাদশাহ নিজেকে “ঈশ্বরের প্রতিনিধি” মনে করত শ্রেণিভিত্তিক সমাজ—নিচু শ্রেণির কোনো অধিকার ছিল না।
৬️) কিসরার পতন থেকে শিক্ষা অহংকার ও সত্য প্রত্যাখ্যান → পতনের মূল কারণ বাহ্যিক শক্তি রাজত্ব টিকিয়ে রাখতে পারে না আল্লাহর সিদ্ধান্তের সামনে কোনো সাম্রাজ্য স্থায়ী নয়
“তোমরা রাজত্ব যাকে ইচ্ছা দাও, আর যাকে ইচ্ছা কেড়ে নাও” (সূরা আলে ইমরান ৩:২৬) সংক্ষিপ্ত উপসংহার কিসরার রাজত্ব ছিল— বাহ্যিকভাবে বিশাল কিন্তু নৈতিকভাবে ভঙ্গুর সত্যের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করায় ইতিহাসের পাতায় বিলীন।
