ইবাদত মানে কী? — সূরা ইউসুফ ১২:৪০-এর আলোকে
“তোমরা আল্লাহকে ছেড়ে নিছক কতগুলো নামের ইবাদত কর, সেগুলো তোমরা ও তোমাদের বাপ-দাদারা বানিয়ে নিয়েছ। আল্লাহ এদের কোনো প্রমাণ অবতীর্ণ করেননি। বিধান দেওয়ার ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহরই। তিনি আদেশ দিয়েছেন—তাঁকে ছাড়া আর কারও ইবাদত করবে না। এটাই সরল পথ; কিন্তু অধিকাংশ মানুষ তা জানে না।” (ইউসুফ ১২:৪০)
আমরা সাধারণত ইবাদত বলতে কী বুঝি? নামাজ, রোজা, হজ, যাকাত—এই আচার গুলোকেই আমরা ইবাদত বুঝি।
কিন্তু এই আয়াত আমাদের ধারণাকে নাড়িয়ে দেয়।
এখানে নবী ইউসুফ স্পষ্ট করে বলছেন— ইবাদতের কেন্দ্রবিন্দু হলো “বিধান” (حُكْم)। কার কথা চূড়ান্ত হবে, কার আদেশ মানা হবে—সেটাই আসল প্রশ্ন।
আমরা যদি নামাজ পড়ি, কিন্তু জীবনের সিদ্ধান্তে আল্লাহর বিধান না মানি , যদি রোজা রাখি কিন্তু হালাল-হারাম নির্ধারণে মানুষ বা সমাজকে মানদণ্ড বানাই , যদি আল্লাহর কিতাবের বদলে বাপ-দাদার বানানো “নামের ধর্ম” অনুসরণ করি , তাহলে এই আয়াত অনুযায়ী এ সকলই ভ্রান্ত ইবাদত।
কুরআনের ভাষায়- ইবাদত হল আল্লাহকেই একমাত্র আইনদাতা ও কর্তৃত্বশীল হিসেবে মানা ও সেই অনুযায়ী জীবন অতিবাহিত করা।
নামাজ, রোজা—এসব ইবাদতের অংশ নয়, কারন কিভাবে নামাজ পড়তে হবে বা রোজা ও হজ্ব করতে হবে বা কতটুকু যাকাত দিতে হবে তার কোন বিধান আল্লাহ দেন নি। ইবাদতের আসল রূপ প্রকাশ পায় তখনই, যখন ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে— “হুকুম একমাত্র আল্লাহর”—এই সত্য মেনে নেওয়া হয়।
আল্লাহ বলেন, “এটাই সরল পথ” কিন্তু দুঃখজনকভাবে— “অধিকাংশ মানুষ তা জানে না।”
আমরা কি আসলেই জানি? নাকি শুধু অভ্যাসকে ইবাদত ভেবে নিশ্চিন্ত আছি?
