সরদার বংশের ইতিহাস ও স্মৃতিচারণ

আমি এ,কে,এম একরামুল হক রুবেল। জন্ম ৯ই মার্চ, ১৯৬০। আমি একাধারে ইতিহাস প্রেমী, স্মৃতিচারণকারী এবং আমার পূর্ব পুরুষদের রেখে যাওয়া একটি গৌরবময় ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক।
আমার বংশের শিকড় গেঁথে আছে আরব দেশের ইয়েমেনে। সেই বংশের প্রবাহকে ধরে রাখতে আমি আমার পূর্বপুরুষদের লিপিবদ্ধ করছি ঐতিহাসিক ধারায়:
ভাসান সরদার (১৭৬২–১৮৪৮)
রুপা সরদার (১৭৮৩–১৮৫৫)
কেবরাতুল্লাহ সরদার (১৮২৮–১৯০৮)
হামিদুর রহমান (১৮৫৫–১৯৩৮)
সাইদুর রহমান (১৮৮৮–১৯৬৩)
মজিবুর রহমান (১৯১৮–১৯৯৩)
এ,কে,এম একরামুল হক (১৯৬০–বর্তমান)
পারিবারিক ট্রী চার্টঃ
└── স্ত্রী: ফারাহ ইয়ামেনী
└── রুপা সর্দার
└── স্ত্রী: আম্বর নেসা
└── কেবরাতুল্যা সর্দার
└── স্ত্রী: আতর নেসা ও চন্রাবলি
└── হামিদুর রহমান বড় মিয়া
└── স্ত্রী: কুলসুম অধিকারী
└── সৈয়দ সাইদুর রহমান
└── স্ত্রী: ছাবিরন নেসা
└── সৈয়দ মজিবুর রহমান
└── স্ত্রী: এফতেদা বেগম রুবী
└── পুত্র: এ,কে,এম একরামুল হক রুবেল
সূচনা: ভাসান সরদারের আগমনঃ
১৭৮২ সনে ইয়েমেন থেকে ২৫ বছর বয়সী এক ধর্ম প্রাণ যুবক ভাসান সরদার তাঁর স্ত্রী ও একমাত্র পুত্র রুপা সরদার-কে সঙ্গে নিয়ে তৎকালীন ভারতবর্ষের পশ্চিম বাংলার বীরভূম অঞ্চলে আগমন করেন।
এরপর তিনি আরও তিন পুত্র ও এক কন্যার জনক হন: সোনা সরদার, ইদু সরদার, ভিকু সরদার ও এক নাম অজানা কন্যা।
সোনা সরদার: সারুলিয়া ও দুরমুট মিয়াবাড়ির প্রতিষ্ঠাতা।
ইদু সরদার: বাঘাডোবা মিয়াবাড়ি গড়েন।
ভিকু সরদার: কাজাইকাটা মিয়া বাড়ী।
কন্যাটি থেকে গিয়েছিলেন ভারতের মুর্শিদাবাদে।
বংশধারার প্রেক্ষাপট ও ঐতিহাসিক পটভূমি ভাসান সরদার একাধারে ধর্মীয় প্রচারক ও বণিক ছিলেন। তিনি ইয়েমেন থেকে নিয়ে এসেছিলেন একটি রহস্যময় সোনার বাক্স, যার ওজন ছিল প্রায় সোয়া দুই কেজি এবং এতে ছিল চারটি পৃথক কুঠুরি, ধারণা করা হয় অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই এ ধন তিনি পাথেয় হিসেবে পেয়েছিলেন। পরবর্তীতে তাঁর নাতি কেবরাতুল্লাহ সরদার এই সম্পদ ব্যবহার করে তালুক ও জোত ক্রয় করেন, যা সরদার বংশের জমিদারি প্রতিষ্ঠার সূচনা করে।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে সরদার পদবি “সরদার” বা “সর্দার” ছিল এক সময়কার এক গুরুত্বপূর্ণ উপাধি। এটি একসময় উসমানীয় সাম্রাজ্যে সামরিক পদবী এবং ইউরোপের কিছু অঞ্চলে অভিজাত পদ হিসেবে ব্যবহৃত হতো। ভারতীয় উপমহাদেশে মুঘল ও ব্রিটিশ আমলে “সরদার”রা নেতৃত্ব দিত রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে। নবাবী আমলে বাংলার প্রভাবশালী বংশগুলোর মধ্যে সরদার বংশ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
ঔপনিবেশিক শাসনে বংশের সংগ্রামঃ
১৭৫৭ সালের পলাশীর যুদ্ধের পর যখন ব্রিটিশরা ভারত শাসনের কর্তৃত্ব নেয়, তখন মুসলমান জমিদারগণ প্রায় নির্বাসিতের মতো জীবন যাপন করেন। সরদার বংশও এই নিপীড়নের শিকার হয়, তবুও তারা ধর্ম, ব্যবসা ও জনসেবার মাধ্যমে নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষা করে।
ফারাহ ইয়েমেনীঃ ভাসান সরদারের সহধর্মিণী যিনি নিজ মাতৃভূমি ছেড়ে আসার পর কখনো ফিরে যেতে পারেননি, তিনি হয়ে ওঠেন এই ইতিহাসের এক নীরব সাক্ষী।
স্মৃতিময় সময় ও মৌখিক ইতিহাসঃ
বংশীয় ইতিহাসের পাশাপাশি আমার নিজস্ব অভিজ্ঞতা ও পারিবারিক স্মৃতিগুলোও এই ইতিহাসকে করেছে আরও জীবন্ত।
১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রাক্কালে আমি আশ্রয় নিই শ্যামপুর রশিদ মিয়ার বাড়িতে। সেখানে কাটানো সময় আজও মনে পড়ে— রশিদ দাদা, ডোর ফুফু, খুকি ফুফু, রিক্তা ফুফু, মুক্তা ফুফু, মন্টু চাচা, খঞ্জু দাদা, মোশারফ দাদা, বিষু দাদা, বাচ্চু দাদা, ফটু দাদা, শাহজাহান চাচা, পানু চাচা, মনি চাচা, নীলু ফুফু, মাখনচাচা, লিখনচাচা—এইসব প্রিয় জনদের সাথে কেটেছে অবিস্মরণীয় সময়। লিখন চাচা ও মন্টু চাচার পুত্র, খুকি ফুফু ও ডোর ফুফুর কন্যাদের দেখার সৌভাগ্য হয়েছিল।তাদের প্রেম, ভালোবাসা ও আবেগের যে ধারা, তা ছিল সম্পূর্ণ একান্ত ও স্বতঃস্ফূর্ত — আজো সেই স্মৃতিগুলো হৃদয়ে মধুর কাঁপন তোলে।
তথ্যসূত্র ও সংরক্ষণপ্রাপ্ত দলিলঃ
এই ইতিহাস তৈরিতে আমি যে সব উৎস ব্যবহার করেছি তা হলো:
উইকিপিডিয়া
সাইদুর রহমানের ১৯৪৬ সালের ডায়েরি
মজিবুর রহমানের ১৯৫৮ সালের ডায়েরি
ফজিলতুন্নেছার ১৯৬৭ সালের মৌখিক বর্ণনা
আজিজুর রহমান কালা খোকার ১৯৭৬ সালের গল্পধারা
রাজিয়া মজিদের লেখা “জোনাকীর আলো জ্বলে”
আমার নিজ অভিজ্ঞতা (১৯৭১ সালে শ্যামপুরে)
রেণু দাদীর মেয়ে কাজল ফুফুর পুত্র তৌসিফের সূত্রে
২০১৭ সালে জীবিত ৭০+ বয়সী পরিবারের সদস্যদের সাক্ষাৎকার।
লেখকের বক্তব্য ও অনুরোধঃ
এই বংশ ইতিহাস আমি যথাসম্ভব সতর্কতা ও নির্ভুলতা বজায় রেখে লিপিবদ্ধ করেছি। তারপরও যদি কোথাও কোনো অসঙ্গতি বা সংশোধনযোগ্য তথ্য থাকে, দয়া করে আমাকে অবহিত করার জন্য অনুরোধ রইল। সত্য ইতিহাস সংরক্ষণই আমার উদ্দেশ্য।
লেখক: এ,কে,এম একরামুল হক রুবেল 📞 01710961936 📧 ekramulhoq1154@gmail.com 🌐 www.ekramulhoq.com 🔗 Facebook: rubelmia1960 🔗 Twitter: @Ekramulhoq6
⛑️ সরদার বংশ ইতিহাস — দ্বিতীয় অধ্যায়
(রুপা সর্দার থেকে কেবরাতুল্লাহ ও তাঁর উত্তরসূরি পর্যন্ত)
রুপা সর্দার, ভাসান সর্দারের জ্যেষ্ঠ পুত্র, বাবার জমিদারীর দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন এবং ইংরেজদের ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন। তিনি পূর্বপুরুষদের সীমিত পরগনার গণ্ডি পেরিয়ে ভারতবর্ষীয় সংস্কৃতির সাথে নিজেকে খাপ খাইয়ে নেন। হিন্দু জমিদারদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়ে একের পর এক জমি, জোত, তালুক দখল করে একপ্রকার অটোমান সাম্রাজ্যের আদলে জমিদারী বিস্তার ঘটান।
ভাই সোনা সর্দার গান-বাজনা ও রঙমহলের মোহে হিন্দু জমিদারদের সাহচর্যে ডুবে থাকেন। আর ইদু সর্দার ছিলেন বৈরাগ্যবৃত্তি ও উদাসীনতায় নিমগ্ন। কনিষ্ঠ ভাই ভিকু, বড় ভাই রুপার ছায়াসঙ্গী হয়ে সব কর্মকাণ্ডে তাঁকে অনুসরণ করতেন।
রুপা সর্দার ছিলেন ইংরেজ শাসকদের নিকট আস্থাভাজন — তাঁর বিচক্ষণতা ও বীরত্ব তাঁদের মুগ্ধ করে। তিনি তিন পুত্র ও এক কন্যার জনক হন: হামিদুর, আকবর, আহম্মদ এবং কন্যা রুপমা। রুপমার বিয়ে নবাব পরিবারের উত্তরসূরির সঙ্গে হওয়ায় মুর্শিদাবাদে সরদার বংশের প্রভাব আরও বৃদ্ধি পায়।
এদিকে দ্বিগুণ কর ও খাজনা আদায়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি মুর্শিদাবাদের জমিদার অবনি রায়ের জমিদারী অধিগ্রহণ করেন। বড় পুত্র কেবরাতুল্লাহর বিয়ে দেন মেদিনীপুরের জমিদার কন্যা আতর নেসার সঙ্গে। এর মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গে জমিদারী বিস্তারের স্বপ্ন দেখেন তিনি।
🛂 কেবরাতুল্লাহ সর্দার — প্রেম, সংগ্রাম ও উত্তরাধিকার।
১৮৪৬ সাল। ইংরেজদের জমিদারী প্রথা তখন তুঙ্গে। মেদিনীপুর রঙের আবিরে সেজে উঠেছে। বিয়ের পর কেবরাতুল্লাহ দম্পতি এক পুত্রের জন্ম দেন। তদারকির ফাঁকে তিনি প্রায়শঃই পূর্ব বাংলায় আসতেন। এখানেই এক হিন্দু প্রজার অপরূপ সুন্দরী কন্যা চন্দ্রাবলীর সঙ্গে তার সখ্যতা গড়ে ওঠে — যা পরিণয়ে গোপন বিয়েতে রূপ নেয়।
এই সম্পর্ক পারিবারিক অশান্তির জন্ম দেয়। চন্দ্রাবলী, পরবর্তীতে ‘পয়র নেসা’ নামে পরিচিত, এক কিশোরী বয়সে স্বপ্নে বিভোর হয়ে জমিদার পরিবারে প্রবেশ করলেও পরবর্তীতে উপলব্ধি করেন —”যে সাঁঝের তারা হয়ে এসেছিলাম, বন্দী হয়ে হারিয়ে ফেলেছি নিজের আলো।”
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পূর্ববাংলায় আগমনের সময় কেবরাতুল্লাহ সর্দারের সাহচর্য ছিল। জীবনের ভুলের জন্য তিনি চিরদিন অনুতপ্ত ছিলেন।
১৮৫৫ সালে রুপা সর্দারের মৃত্যুর পর কেবরাতুল্লাহ জমিদারীর দায়িত্ব নেন। তাঁর একরোখা স্বভাব জমিদারী ক্ষয়িষ্ণু করে তোলে। ১৮৫৭ সালে ইংরেজ শাসনের পতনের পরে তিনি পূর্ব বাংলায় স্থায়ীভাবে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। স্ত্রী আতর নেসা ও পয়র নেসার গর্ভে তাঁর সন্তানেরা জন্মগ্রহণ করেন:
আতর নেসার গর্ভে: ২ পুত্র, ১ কন্যা
পয়র নেসার গর্ভে: পুত্র আকবর হোসেন – এক সুপরিচিত সুফি ও পরহেজগার ব্যক্তি।
আখ্যান অনুযায়ী, আকবর হোসেন মৃত্যুর পূর্বদিন নিজেই গোসল শেষ করে ঘরে ফিরে যান এবং খাজানচিকে বলেছিলেন— “আর ডাকিও না।”
পরে কেবরাতুল্লাহ পূর্ব বাংলার শ্যামপুরে, ব্রহ্মপুত্র নদীর তীরে বসতি স্থাপন করেন।
🛑 জমিদারীর অবসান ও উত্তরাধিকার বিস্তারঃ
১৯৪৭ সালের ভারত-পাকিস্তান ভাগের আগেই জমিদারী কেবল ঐতিহাসিক স্মৃতি হয়ে ওঠে।
হামিদুর রহমান, আকবর মিয়া, আহম্মদ মিয়া এ তিন ভাইয়ের সময় পর্যন্ত জমিদারী জাঁকজমক বজায় ছিল।
এরপরের প্রজন্ম— সাইদুর, হানিফ, মোশারফ, রশিদ মিয়া — এর সময় জমিদারী প্রথার অবসান ঘটে এবং অনেক জমি ব্রহ্মপুত্রে বিলীন হয়ে যায়।
⛑️ সংক্ষিপ্ত বংশ লতিকা (উল্লেখযোগ্য উত্তরসূরিগণ)
🛂 রুপা সর্দার (১৮১৮–) পুত্র ৩ জন:
১) কেবরাতুল্লাহ (১৮৩০–১৯০৬),
২) ইরাতুল্লাহ (১৮৩২–১৮৯৮),
৩) এনায়াতুল্লাহ (১৮৩৮–১৯১৬)
কন্যা ২ জন (নাম অজানা)
🚮 কেবরাতুল্লাহ সর্দার এর পুত্র:
১) হামিদুর রহমান বড় মিয়া (১৮৭০–১৯৪৮),
২) আকবর মিয়া, ও
৩) আহম্মদ মিয়া।
কন্যা: (নাম জানা যায় নি। আবু মিয়ার স্ত্রী, কুলকান্দী মুন্সীবাড়ি)
🚮 ইরাতুল্লাহ সর্দার এর পুত্র নেই। ৩ কন্যা। কন্যা:
১) আতর নেসা, ২) আজিজুন্নেসা, ও ৩) কামরুননেসা।
🚮 এনায়াতুল্লাহ সর্দার এর ১ পুত্র ১ কন্যা।
পুত্র: হেমায়েতুল্লাহ মিয়া কন্যা: (নাম অজানা)
🛑 হামিদুর রহমান (বড় মিয়া) এর ২ পুত্র।
১) সাইদুর রহমান (১৮৯০–১৯৬২)
২) হানিফ মিয়া (১৮৭২–১৯৩৬)
কন্যা: ছালেমন, রশির মা
🛂 সাইদুর রহমান মিয়া এর ৪ পুত্র ৪ কন্যা।
১) মজিবুর রহমান নুদু (১৯১৮–১৯৯৩)
২) হাফিজুর রহমান দুদু
৩) হাবিবুর রহমান মজনু
৪) মোখলেছুর রহমান তাঁরা
কন্যা: ১) ফজিলাতুন্নেসা (গেন্দী)
২) শামছুন্নাহার (চম্পা)
৩) জীবননেসা (জোসনা)
৪) কামরুননেসা (আঙুর)
🛂 মজিবুর রহমান মিয়ার ২ পুত্র ৬ কন্যা।
১) এ,কে,এম একরামুল হক, জন্ম ১৯৬০)
২) এ,কে,এম এনামুল হক জন্ম ১৯৬৪
১) আফরোজা রহমান হেলেন জন্ম ১৯৫২ – ২০২১
২) মাহবুবা রহমান বেলুন ১৯৫৪
৩) মাহমুদা রহমান হাসি ১৯৫৬
৪) মাকছুদা রহমান খুশি ১৯৫৮
৫) মাহফুজা রহমান লিপি ১৯৫৯
৬) মুনছুরা রহমান ডলি ১৯৬৩
🚻 ১. বংশানুক্রম চার্ট।
(উল্লেখযোগ্য সদস্যদের ভিত্তিতে সাজানো)
│ ├── সোনা সর্দার
├── রুপা সর্দার (জমিদারী বিস্তারকারী, কেন্দ্রীয় চরিত্র)
│ ├── কেবরাতুল্লাহ সর্দার (1830–1906)
│ ├── হামিদুর রহমান (1870–1948)
│ ├── সাইদুর রহমান (1890–1962)
│ ├── মজিবুর রহমান নুদু (1918–1993)
│ └── এ,কে,এম একরামুল হক (1960– )
│ ├── হাফিজুর রহমান দুদু
│ ├── হাবিবুর রহমান মজনু
│ └── মোখলেছুর রহমান তাঁরা
│ ├── আকবর মিয়া
│ └── আহম্মদ মিয়া
│ └── রুপমা (বিয়ে: নবাব বংশ, মুর্শিদাবাদ)
├── ইদু সর্দার
├── ভিকু সর্দার (সহযাত্রী)
└── কন্যা (নাম অজানা)
অন্যান্য শাখা: – ইরাতুল্লাহ সর্দার → কন্যা ৩ জন:আতর নেসা, আজিজুন্নেসা, কামরুননেসা – এনায়াতুল্লাহ সর্দার → পুত্র: হেমায়েতুল্লাহ মিয়া
২. স্মরণযোগ্য উক্তি ও অনুভবঃ
“যে সাঁঝের তারা হয়ে এসেছিলাম, বন্দী হয়ে হারিয়ে ফেলেছি নিজের আলো।”
— চন্দ্রাবলীর (পয়রনেসা) না বলা অভিমানে জর্জরিত অন্তরনাদ।
“আর ডাকিও না…”— আকবর হোসেনের মৃত্যুর আগের দিন তাঁর খাজানচিকে শেষ নির্দেশ
“পূর্ব বাংলার ঘ্রাণে আমার হৃদয় আকৃষ্ট, পশ্চিমের প্রাসাদেও সে শান্তি নেই।”
— কেবরাতুল্লাহ সর্দারের ভেতরকার দ্বন্দ্ব ও টানাপড়েন
“বংশের স্রোত বইবেই, কেউ থাকবে ডাঙায়, কেউ হারিয়ে যাবে ঢেউয়ে।”
🛂 রুপা সর্দার
অভিজাত বংশের উত্তরাধিকারী হয়ে জমিদারী ও প্রভাব দুই-ই বিস্তার করেন। সংস্কৃতির দিক দিয়ে ইংরেজ ও হিন্দু জমিদারদের প্রভাব মেনে নিয়ে দক্ষতার সঙ্গে নিজেকে খাপ খাইয়ে নেন। মুর্শিদাবাদ পর্যন্ত বংশের শাখা বিস্তার করেন।
🛂 কেবরাতুল্লাহ সর্দার
সংগ্রামী, রোমান্টিক, সাহসী—তবে আবেগ প্রবণ।একদিকে দায়িত্ববান জমিদার, অন্যদিকে ভালোবাসায় আত্মবিস্মৃত। একাধিক বিবাহ এবং পূর্ববাংলায় স্থানান্তরের মধ্য দিয়ে তাঁর জীবন নানা বাঁকে মোড় নেয়। মৃত্যুর পূর্বে পরিবারকে একসূত্রে গেঁথে রাখার চেষ্টা করেন।
🚮 চন্দ্রাবলী (পয়র নেসা)
একজন হিন্দু প্রজার কন্যা, যিনি রোমাঞ্চ ও ভালোবাসার হাতছানিতে জমিদার পরিবারে প্রবেশ করলেও সমাজ ও বংশের দৃষ্টিতে কখনোই আপন হতে পারেননি। জীবনের শেষ পর্যন্ত আত্মসম্মান ও বিচ্ছিন্নতার যন্ত্রণা বয়ে বেড়িয়েছেন।
🚮 আকবর হোসেন
পরহেজগার, সুফিবাদী চেতনার ধারক। জোত-জমিদারী নয়, আত্মশুদ্ধিকেই জীবনের একমাত্র মূলধন মনে করতেন। তাঁর জীবন এক নিঃশব্দ, কিন্তু দৃঢ় আত্মত্যাগের প্রতিচ্ছবি।
🛂 সাইদুর রহমান মিয়া
একটি রূপান্তরের প্রজন্মের প্রতিনিধি। জমিদারী প্রথার অবসানের সাক্ষী হয়ে থেকেছেন। বিনয়ী, শিক্ষিত, এবং ধর্মীয়ভাবে সংবেদী।
🔷 সরদার বংশের ইতিহাস (পর্ব – ৩)
কেবরাতুল্লাহ সর্দার ও তাঁর বংশধারা
কেবরাতুল্লাহ সর্দার, একজন ঐতিহ্যবাহী বংশের উত্তরসূরি, যিনি জন্মেছিলেন আনুমানিক ১৮৫০ খ্রিস্টাব্দে। তিনি ছিলেন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চেয়ে ১০ বছর বড়, আর তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র হামিদুর রহমান ছিলেন কবি কাজী নজরুল ইসলামের প্রায় ২-৩ বছরের বড়।
🟩 বংশ শেকড় : রুপা সরদার ও ভাসান সরদারের সন্তানগণ
আনুমানিক ১৮২৮ সালে, কেবরাতুল্লাহর পিতা রুপা সরদার ভারতের বীরভূম থেকে পূর্ব বাংলায় বসতি স্থাপন করেন। সেখানে তাঁর চার সন্তান জন্ম নেন— ১. কেবরাতুল্লাহ সর্দার ২. ইরাদুল্লাহ সর্দার ৩. এনায়েতুল্লাহ সর্দার ৪. এক কন্যা, যার নাম জানা যায়নি। তাঁর বিয়ে হয়েছিল নদীয়ার এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে, যারা পরে নবাব বংশে বিয়ের সূত্রে যুক্ত হন।
আরেক কন্যা (সম্ভবত ভিন্ন গোষ্ঠীভুক্ত), বাবা রুপার সঙ্গে শ্যামপুরে এসে, ইসলামপুরের কুলকান্দী মুন্সীবাড়ীতে আবু মিয়া নামে এক ব্যক্তিকে বিয়ে করেন।
রুপা সরদারের ভাই ভিকু সরদার বিয়ে করেন মুর্শিদাবাদে এবং সেখানেই স্থায়ী হন।
রুপা সরদারের অন্য সন্তানদের মধ্যে:
বড় ছেলে সোনা সরদার পূর্ব বাংলার সারুলিয়া মিয়াবাড়িতে বসতি স্থাপন করেন। তিনি বীরভূম অবস্থানকালে তিন ছেলে এক মেয়ে রেখে মারা যান।
ছেলেরা (মোহাম্মদ মিয়া ও ইরাদ মিয়া) পরবর্তীতে কেবরাতুল্লাহ সর্দারের সঙ্গেই পূর্ব পাকিস্তানে চলে আসেন।
মেয়েটির বিয়ে হয় মুর্শিদাবাদে।
🛑 কেবরাতুল্লাহ সর্দারের পরিবার
দুই স্ত্রীর ছিলেন — ১. প্রথম স্ত্রী: আতর নেসা, পূর্ব নদীয়ার বাসিন্দা। ২. দ্বিতীয় স্ত্রী: পয়র নেসা, পূর্ব নাম চন্দ্রাবলী। তিনি ছিলেন হিন্দু ধর্মাবলম্বী, মেদেনীপুরের এক অনন্য সুন্দরী নারী। ধর্মীয় সংকীর্ণতার কারণে এই বিয়ে দীর্ঘদিন গোপন ছিল। বিবাহের পর তাঁকে তাঁর পরিবারে ফিরতে দেওয়া হয়নি।
প্রথম স্ত্রী আতর নেসার গর্ভে: দুই পুত্র: ১) হামিদুর রহমান ওরফে বড় মিয়া ২) আহম্মদ আলী মিয়া
এক কন্যা: নাম অজ্ঞাত, বিয়ে হয় কুলকান্দী মুন্সীবাড়িতে আবু মিয়ার সঙ্গে
দ্বিতীয় স্ত্রীর গর্ভে: এক পুত্র: আকবর মিয়া। কোন কন্যা ছিল না
এই হিসাবে কেবরাতুল্লাহ সর্দারের মোট সন্তান ছিলেন: ➡️ তিন পুত্র: হামিদ, আহম্মদ, আকবর ➡️ এক কন্যা: নাম অজ্ঞাত (আবুর মা)
🟩 কেবরাতুল্লাহ সর্দারের ভাইদের পরিবার
🛂 এনায়েতুল্লাহ সর্দার:এর এক পুত্র: হেমায়েতুল্লাহ মিয়া এবং এক কন্যা: নাম অজ্ঞাত।
🚮 ইরাদুল্লাহ সর্দার:। পুত্র ছিল না তিন কন্যা ছিল; উচ্চশিক্ষিতা, ধর্মনিষ্ঠা ও জোত-জমির মোহহীন নারী সকলে।
🛑 বসতি স্থাপন: মেলান্দহ, কাজাইকাটা
আনুমানিক ১৮৭০ সনে, কেবরাতুল্লাহ সরদার তাঁর দুই ভাইকে (ইরাদুল্লাহ ও এনায়েতুল্লাহ) সঙ্গে নিয়ে ভারতের বীরভূম থেকে মোমেনশাহী জেলার জামালপুর মহকুমার মেলান্দহ থানাধীন কাজাইকাটা গ্রামে ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে বসতি গড়েন। সেই সময় ভিকু সরদার ও তাঁর বোন ভারতেই থেকে যান।
তিনি তাঁর পিতৃপ্রাপ্ত সোনার বাক্সের দশ আনা অংশ নিয়ে পূর্ব পাকিস্তানে আসেন। দুই আনা ভাগ বোনকে দিলেও তাঁর সম্ভ্রান্ত ভগ্নিপতি তা ফিরিয়ে দেন।
🛑 জমিদারি ও খাজনা ব্যবস্থা
১৮৭২ সনে, কেবরাতুল্লাহ সর্দার মোমেনশাহীর কালীপুর ছোট তরফ (পশ্চিম হিস্যা) এর জমিদার ঋতেন্দ্র কান্ত লাহিড়ী চৌধুরী বিএ এবং ধীরেন্দ্র কান্ত লাহিড়ী চৌধুরী এর নিকট হতে ১০ আনা হিস্যায় ৪টি তালুক, ৮টি জোত, ২টি গোদারা ও ২টি জলমহল পত্তন নেন।
বার্ষিক খাজনা ছিল প্রায় ৩৮৯ টাকা। প্রধান জোত ছিল গোয়ালীনিরচর, বাঘলদী, গোবিন্দী ও পাতিলাদহ পরগনায়। প্রতি জোতে জমির পরিমাণ ছিল গড়ে ৫০০ একর।
🛑 মৃত্যু ও উত্তরাধিকার
১৯৩৮ সনে, বার্ধক্যজনিত কারণে ৮৮ বছর বয়সে কেবরাতুল্লাহ সর্দার মৃত্যুবরণ করেন। রেখে যান তিন পুত্র, এক কন্যা।
🟩 বড় পুত্র: হামিদুর রহমান ওরফে বড় মিয়া জন্ম: ১৮৭০। মৃত্যু: ১৯৪৮ (জীবনকাল ৭৮ বছর) মৃত্যুকালে ওয়ারিশ: পুত্র:
১) সাইদুর রহমান মিয়া ২) হানিফ মিয়া
কন্যা: ১) রশির মা, বিয়ে: ইরাদ মিয়া (ইসলামপুর, পালপাড়া) ২) সালেমন, বিয়ে: আবুল ফজল (ইসলামপুর, কুলকান্দী) ৩) নাম অজ্ঞাত ৪) নাম অজ্ঞাত
🟩 পারিবারিক পরিচিতি: ভাতিজারা
কেবরাতুল্লাহ সর্দারের ভাতিজাগণ:
১) আফজল ২) তালেব ও ৩) সাদেক
📌 সংক্ষিপ্ত অনুধাবন
এই অংশে যে দৃশ্যপট স্পষ্ট হয় তা হলো— সরদার বংশের সুদূর ইয়েমেন হতে ভারত, এবং সেখান থেকে পূর্ব বাংলায় অভিবাসন একটি বর্ণাঢ্য ঐতিহাসিক ধারা বহন করে।
রক্তের স্নেহ, পারিবারিক মূল্যবোধ, ধর্মীয় ও সামাজিক সংঘাত, এবং জমিদারি সংস্কৃতির এক অপূর্ব চিত্র ফুটে ওঠে।
পরবর্তী পর্বে: হামিদুর রহমানের সন্তানদের উত্তরসূরি, জমিদারী ব্যবস্থার রূপান্তর, ও আজকের প্রজন্মে সরদার বংশের অস্তিত্ব।
🛂 সাইদুর রহমান মিয়া (১৮৯০–১৯৬২): বিনয়ী ও বিদ্বান উত্তরাধিকার
সাইদুর রহমান মিয়া ছিলেন অত্যন্ত বিনয়ী, নম্র ও পরহেজগার। গুরু ট্রেনিং ও ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত ছিলেন। তাঁর যাতায়াত ছিল নানাবাড়ি রামনগরে। সে সুবাদে পরিচয় হয় কাচাসড়ার আকন্দ বাড়ির পঞ্চায়েত প্রধান আজগর মাস্টারের সঙ্গে। আজগর মাস্টার তাঁর বড় মেয়ে ছাবিরনের সঙ্গে সাইদুর রহমানের বিয়ের প্রস্তাব পাঠান।
যদিও হামিদুর রহমান এই বিয়েতে অনিচ্ছুক ছিলেন, মা কুলসুম ছিলেন প্রবলভাবে আগ্রহী। অবশেষে মাতৃইচ্ছার কারণে এই বিয়ে সম্পন্ন হয়। কিন্তু এই বিয়ে পরবর্তী সময়ে পারিবারিক অশান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কুলসুম বিবি পরবর্তীতে এ সিদ্ধান্তের জন্য অনুতপ্ত ছিলেন।
এই বিবাহের ফলে মিয়া বংশে আকন্দ পরিবারের প্রবেশ ঘটে, যা পরবর্তীতে কিছু পারিবারিক বৈরিতা ও সম্পত্তিগত দ্বন্দ্বের জন্ম দেয়।
🔸 সমাপ্তি ও প্রভাব
হামিদুর রহমান মিয়ার দানশীলতা, পরহিতব্রত মনোভাব এবং সামাজিক দায়িত্ববোধ তাঁকে কেবল একজন জমিদার নয়, বরং একজন আদর্শ ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছিল। তাঁর কর্ম ও নীতিবোধ পরবর্তী প্রজন্মের চিন্তাচেতনায় গভীর ছাপ ফেলে।
হামিদুর রহমান মিয়া। (১৮৭০ – ১৯৪৮)
তিনি ছিলেন পরহেজগার, সরল প্রকৃতির, অত্যন্ত আবেগপ্রবণ ও দয়ালু ব্যক্তি। তাঁর ছিল বিশাল জোত, তালুক, জলমহল, গোদারা ঘাট, কাচারী, ডঙ্কা ও বহু প্রজা। ছোট ভাই আকবর মিয়া ছয় আনা ও তিনি (বোনদের অংশসহ) দশ আনার হিস্যার অধিকারী হলেও খাজনা আদায়ে তিনি কখনোই কঠোর ছিলেন না। বরং নিজের তালুক বিক্রি করে কালীপুর এষ্টেটের ধার্য করের ভর্তুকি দিতেন।
তিনি প্রতিবছর পালপাড়া ও ঝালো পাড়ার প্রজাদের খাজনা মওকুফ করে দিতেন। জনকল্যাণে তিনি জলমহল ও গোদারা ঘাট ইজারা না দিতে বলতেন। ফলে ছোট ভাই আকবর মিয়া বাধ্য হয়ে গোদারা ঘাট আলাদা করে ইজারা নিতে শুরু করেন।
“যে আঁখিতে এত হাসি লুকানো কুলে কুলে, তার কেন আঁখি ভার? যে মনের আছে এত মাধুরী, সে কেন চলেছে বয়ে এত ব্যথা-ভার?”
বিয়ে ও বংশ প্রতিযোগিতার কাহিনীঃ
হামিদুর রহমান মিয়া বিয়ে করেন জামালপুর জেলার রামনগর সরকার বাড়িতে। বিয়ের যাত্রা শুরু হয় হাতিতে চড়ে এবং কনেকে আনা হয় নিজ বেহারায় পালকিতে। এই বিয়ের পেছনে ছিল এক চমকপ্রদ ঘটনা।
সে সময় সরকার বংশ ও আকন্দ বংশের মধ্যে চলছিল বংশ মর্যাদা ও সামাজিক প্রতিপত্তি নিয়ে প্রতিযোগিতা। মেয়েদের উচ্চ বংশে বিয়ে দেওয়ার জন্য বাবা-মায়েরা জোত-তালুক পর্যন্ত বিক্রি করতেন। এমনি এক ঘটনার প্রেক্ষিতে কুলসুম নামের এক সুন্দরী কন্যার পিতা, ১২ তালুকের মালিক, তাঁর মেয়েকে মিয়া বংশে বিয়ে দিতে চাইলেন। পাত্র হিসেবে পছন্দ করা হয় হামিদুর রহমান মিয়াকে।
পাত্রপক্ষ থেকে একটি কঠিন শর্ত আসে—বিয়ে নিজ বেহারায় পাঠাতে হবে। এজন্য ৪টি ডোম পরিবারকে আজীবন ভরণপোষণ দিতে হয়। সরকার বাড়ি প্রস্তাবে রাজি হয়ে বিয়ের আয়োজন করে। পালকিতে কুলসুম বিয়ে করে আসেন, সঙ্গে তাঁর প্রিয় লাল গাভীও পাঠানো হয়।
হামিদুর রহমানের পিতা কেবরাতুল্লাহ সর্দার এই ঘটনাকে অপমানজনক মনে করেন, ফলে দুই পরিবারে দূরত্ব সৃষ্টি হয়। তবে কুলসুমের প্রথম পুত্র সন্তানের জন্ম উপলক্ষে বড় ভাই আয়োজিত অনুষ্ঠানে সেই মনোমালিন্যের অবসান ঘটে। প্রথম পুত্রের নাম রাখা হয় সাইদুর রহমান মিয়া।
পরিবারের বিচ্ছিন্নতাঃ
পরবর্তী সময়ে ব্রহ্মপুত্র নদীর ভাঙনে জোত, তালুক একে একে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। খাজনা দিতে না পারায় অবশিষ্ট জমি পূর্ব পাকিস্তান সরকারের খাস খতিয়ানে চলে যায়। ভাই হেমায়েতুল্লাহ মিয়া, আকবর মিয়া এবং তাঁদের সন্তানরা ছড়িয়ে পড়েন জামালপুর, শেরপুর ও ঢাকায়।
সাইদুর রহমান জামালপুরের কাচাসড়ায়, হানিফ মিয়া মাহমুদপুরে, আকবর মিয়ার ছেলে রশীদ মিয়া ঢাকায় চলে যান। কেবরাতুল্লাহ সর্দারের কনিষ্ঠ পুত্র আহম্মদ মিয়ার ছেলে লতিফ মিয়া কুচবিহারে বিয়ে করে সেখানেই নিঃসন্তান অবস্থায় মারা যান।
“আজ কে কোথায়, কী অবস্থায় আছে— জীবনের পড়ন্ত বেলায় জানতে বড় সাধ জাগে। বাগিচা বাড়িতে গিয়ে মনে পড়ে রবীন্দ্রনাথের গান— ‘পরবে না মোর পায়ের চিহ্ন এই বাটে, গাইবো না…'”
হামিদুর রহমান মিয়ার দ্বিতীয় পুত্র হানিফ মিয়া
সাহসী ও সুঠাম দেহের অধিকারী ছিলেন তিনি। মায়ের মতই (কুলসুম) অত্যন্ত সুদর্শন। তাঁর বিয়ে হয় মাহমুদপুর মিয়া বাড়ির মনির উদ্দীন সরকারের কন্যা রহিমন নেসার সঙ্গে। তাঁদের ঘরে জন্ম নেয় এক ছেলে চান মিয়া ও এক মেয়ে ননী।
দুর্ভাগ্যবশত, হানিফ মিয়া অকালমৃত্যু বরণ করেন।কুলকান্দীতে বোনের বাড়িতে রান্নাঘরের চুলায় পড়ে গিয়ে তাঁর মৃত্যু ঘটে।
হানিফ মিয়ার বংশধরঃ
ছেলে: চান মিয়া (মাহমুদপুর মিয়া বাড়ি)। মেয়ে: ননী। বিয়ে হয় ভাটারা মহিষাবাদুরিয়া ময়েজ উকিলের সঙ্গে।
চান মিয়ার সন্তান সমূহ: ৪ ছেলে ১ মেয়ে।
১) মনোয়ার হোসন
২) দেলোয়ার ( 01312989920)
৩) সরোয়ার হোসেন
৪) আনোয়ার হোসেন (মৃত)
মেয়ে: রিমী।
ননীর সন্তান সমূহ: ২ ছেলে ১ মেয়ে।
১) আব্দুর রউফ – ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব (অব.)
২) শামছুল হক (আবু) — লন্ডনে দীর্ঘ জীবন কাটিয়ে বর্তমানে ঢাকায়
মেয়েঃ ফিরোজা — স্বামী ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন।
সাইদুর রহমান মিয়ার (১৮৯০–১৯৬২) বংশধর
৪ ছেলে ৪ মেয়ে। ছেলেরা হলেন –
১) মজিবুর রহমান (নুদু মিয়া) (মৃত)
২) হাফিজুর রহমান (দুদু মিয়া) (মৃত)
৩) হাবিবুর রহমান (মজনু মিয়া) (মৃত)
৪) মোখলেছুর রহমান (তারা মিয়া) (মৃত)
সাইদুর রহমানের কন্যাগণ:
১) ফজিলতুন্নেসা (গেন্দী) — মৃত
২) জেবুন্নেসা(জোসনা)-বর্তমানে আমেরিকায়
৩) শামছুন্নাহার (চম্পা) — মৃত
৪) নুরুন্নাহার (আঙ্গুর) — ঢাকা দক্ষিণ খান।
মজিবুর রহমান (জন্ম ১৯১৮ – মৃত্যু ১৯৯৩)।
২ ছেলে ৬ মেয়ে। ছেলেরা হলেন
১) এ.কে.এম. একরামুল হক (রুবেল) — ম্যানেজার, অগ্রণী ব্যাংক।
২) এ.কে.এম. ইনামুল হক (জুয়েল) — এক্সিকিউটিভ অফিসার, জনতা ব্যাংক।
মজিবুর রহমানের কন্যা:
১) আফরোজা রহমান (হেলেন) — মৃত
২) মাহবুবা রহমান (বেলুন) — প্রভাষক, চুয়েট
৩) মাহমুদা ইয়াসমিন (হাসি)
৪) মাকসুদা রহমান (খুশি)
৫) মাহফুজা রহমান (লিপি)
৬) মুনছুরা রহমান (ডলি)
⛔হাফিজুর রহমান (দুদু মিয়া)।২ পুত্র ৩ কন্যা
১) রফিকুর রহমান (হারুন)
২) শফিকুর রহমান (তরুন)
কন্যা: ১) শাহিদা বেগম (নিলু)
২) সাজেদা বেগম (জিলু)
৩) শাহিনা বেগম (পিলু)
⛔ হাবিবুর রহমান (মজনু মিয়া)।৮ কন্যা।
১) মনোয়ারা খাতুন (মনি)
২) সাজেদা বেগম (রানী)
৩) ফরিদা বেগম — মৃত
৪) হাসনা হেনা
৫) নার্গিস আক্তার (লাকি)
৬) শাম্মী আক্তার (চায়না)
৭) তানজিনা আক্তার (সোমা)
৮) হালিমা আক্তার (রিমা)মো
মোখলেছুর রহমান (তারা )।১ পুত্র ২ কন্যা।
তাবিবুর রহমান লিটন মিয়া। কন্যা: ঝরনা বেগম ও তাহমিনা আক্তার (পান্না)
পরিবারের ভাঙ্গন ও ছড়িয়ে পড়া:
ভয়াবহ নদীভাঙনে জোত, তালুক হারিয়ে যায় এবং ব্রহ্মপুত্র নদের গর্ভে বিলীন হয়। খাজনা দিতে না পারায় জমি চলে যায় পূর্ব পাকিস্তান সরকারের খাস খতিয়ানে। এরপর পরিবার ছড়িয়ে পড়ে – কেউ জামালপুর, কেউ শেরপুর, কেউ ঢাকা। কেউ রয়ে যায় মেলান্দহের আশপাশে।
🛂 সাইদুর রহমান মিয়া (১৮৯০–১৯৬২): বিনয়ী ও বিদ্বান উত্তরাধিকার
সাইদুর রহমান মিয়া ছিলেন অত্যন্ত বিনয়ী, নম্র ও পরহেজগার। গুরু ট্রেনিং ও ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত ছিলেন। তাঁর যাতায়াত ছিল নানাবাড়ি রামনগরে। সে সুবাদে পরিচয় হয় কাচাসড়ার আকন্দ বাড়ির পঞ্চায়েত প্রধান আজগর মাস্টারের সঙ্গে। আজগর মাস্টার তাঁর বড় মেয়ে ছাবিরনের সঙ্গে সাইদুর রহমানের বিয়ের প্রস্তাব পাঠান।
যদিও হামিদুর রহমান এই বিয়েতে অনিচ্ছুক ছিলেন, মা কুলসুম ছিলেন প্রবলভাবে আগ্রহী। অবশেষে মাতৃইচ্ছার কারণে এই বিয়ে সম্পন্ন হয়। কিন্তু এই বিয়ে পরবর্তী সময়ে পারিবারিক অশান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কুলসুম বিবি পরবর্তীতে এ সিদ্ধান্তের জন্য অনুতপ্ত ছিলেন।
এই বিবাহের ফলে মিয়া বংশে আকন্দ পরিবারের প্রবেশ ঘটে, যা পরবর্তীতে কিছু পারিবারিক বৈরিতা ও সম্পত্তিগত দ্বন্দ্বের জন্ম দেয়।
🔸 সমাপ্তি ও প্রভাব
হামিদুর রহমান মিয়ার দানশীলতা, পরহিতব্রত মনোভাব এবং সামাজিক দায়িত্ববোধ তাঁকে কেবল একজন জমিদার নয়, বরং একজন আদর্শ ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছিল। তাঁর কর্ম ও নীতিবোধ পরবর্তী প্রজন্মের চিন্তাচেতনায় গভীর ছাপ ফেলে।
হামিদুর রহমান মিয়া (জন্ম: ১৮৭০ — ১৯৪৮)
তিনি ছিলেন পরহেজগার, সরল প্রকৃতির, অত্যন্ত আবেগপ্রবণ ও দয়ালু ব্যক্তি। তাঁর ছিল বিশাল জোত, তালুক, জলমহল, গোদারা ঘাট, কাচারী, ডঙ্কা ও বহু প্রজা। ছোট ভাই আকবর মিয়া ছয় আনা ও তিনি (বোনদের অংশসহ) দশ আনার হিস্যার অধিকারী হলেও খাজনা আদায়ে তিনি কখনোই কঠোর ছিলেন না। বরং নিজের তালুক বিক্রি করে কালীপুর এষ্টেটের ধার্য করের ভর্তুকি দিতেন।
তিনি প্রতিবছর পালপাড়া ও ঝালো পাড়ার প্রজাদের খাজনা মওকুফ করে দিতেন। জনকল্যাণে তিনি জলমহল ও গোদারা ঘাট ইজারা না দিতে বলতেন। ফলে ছোট ভাই আকবর মিয়া বাধ্য হয়ে গোদারা ঘাট আলাদা করে ইজারা নিতে শুরু করেন।
“যে আঁখিতে এত হাসি লুকানো কুলে কুলে, তার কেন আঁখি ভার? যে মনের আছে এত মাধুরী, সে কেন চলেছে বয়ে এত ব্যথা-ভার?”
বিয়ে ও বংশ প্রতিযোগিতার কাহিনীঃ
হামিদুর রহমান মিয়া বিয়ে করেন জামালপুর জেলার রামনগর সরকার বাড়িতে। বিয়ের যাত্রা শুরু হয় হাতিতে চড়ে এবং কনেকে আনা হয় নিজ বেহারায় পালকিতে। এই বিয়ের পেছনে ছিল এক চমকপ্রদ ঘটনা।
সে সময় সরকার বংশ ও আকন্দ বংশের মধ্যে চলছিল বংশ মর্যাদা ও সামাজিক প্রতিপত্তি নিয়ে প্রতিযোগিতা। মেয়েদের উচ্চ বংশে বিয়ে দেওয়ার জন্য বাবা-মায়েরা জোত-তালুক পর্যন্ত বিক্রি করতেন। এমনি এক ঘটনার প্রেক্ষিতে কুলসুম নামের এক সুন্দরী কন্যার পিতা, ১২ তালুকের মালিক, তাঁর মেয়েকে মিয়া বংশে বিয়ে দিতে চাইলেন। পাত্র হিসেবে পছন্দ করা হয় হামিদুর রহমান মিয়াকে।
পাত্রপক্ষ থেকে একটি কঠিন শর্ত আসে—বিয়ে নিজ বেহারায় পাঠাতে হবে। এজন্য ৪টি ডোম পরিবারকে আজীবন ভরণপোষণ দিতে হয়। সরকার বাড়ি প্রস্তাবে রাজি হয়ে বিয়ের আয়োজন করে। পালকিতে কুলসুম বিয়ে করে আসেন, সঙ্গে তাঁর প্রিয় লাল গাভীও পাঠানো হয়।
হামিদুর রহমানের পিতা কেবরাতুল্লাহ সর্দার এই ঘটনাকে অপমানজনক মনে করেন, ফলে দুই পরিবারে দূরত্ব সৃষ্টি হয়। তবে কুলসুমের প্রথম পুত্র সন্তানের জন্ম উপলক্ষে বড় ভাই আয়োজিত অনুষ্ঠানে সেই মনোমালিন্যের অবসান ঘটে। প্রথম পুত্রের নাম রাখা হয় সাইদুর রহমান মিয়া।
পরিবারের বিচ্ছিন্নতাঃ
পরবর্তী সময়ে ব্রহ্মপুত্র নদীর ভাঙনে জোত, তালুক একে একে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। খাজনা দিতে না পারায় অবশিষ্ট জমি পূর্ব পাকিস্তান সরকারের খাস খতিয়ানে চলে যায়। ভাই হেমায়েতুল্লাহ মিয়া, আকবর মিয়া এবং তাঁদের সন্তানরা ছড়িয়ে পড়েন জামালপুর, শেরপুর ও ঢাকায়।
সাইদুর রহমান জামালপুরের কাচাসড়ায়, হানিফ মিয়া মাহমুদপুরে, আকবর মিয়ার ছেলে রশীদ মিয়া ঢাকায় চলে যান। কেবরাতুল্লাহ সর্দারের কনিষ্ঠ পুত্র আহম্মদ মিয়ার ছেলে লতিফ মিয়া কুচবিহারে বিয়ে করে সেখানেই নিঃসন্তান অবস্থায় মারা যান।
“আজ কে কোথায়, কী অবস্থায় আছে— জীবনের পড়ন্ত বেলায় জানতে বড় সাধ জাগে। বাগিচা বাড়িতে গিয়ে মনে পড়ে রবীন্দ্রনাথের গান— ‘পরবে না মোর পায়ের চিহ্ন এই বাটে, গাইবো না…'”
হামিদুর রহমান মিয়ার দ্বিতীয় পুত্র হনিফ মিয়া
সাহসী ও সুঠাম দেহের অধিকারী ছিলেন তিনি। মায়ের মতই (কুলসুম) অত্যন্ত সুদর্শন। তাঁর বিয়ে হয় মাহমুদপুর মিয়া বাড়ির মনির উদ্দীন সরকারের কন্যা রহিমন নেসার সঙ্গে। তাঁদের ঘরে জন্ম নেয় এক ছেলে চান মিয়া ও এক মেয়ে ননী।
দুর্ভাগ্যবশত, হানিফ মিয়া অকালমৃত্যু বরণ করেন।কুলকান্দীতে বোনের বাড়িতে রান্নাঘরের চুলায় পড়ে গিয়ে তাঁর মৃত্যু ঘটে।
পরিবারের ভাঙ্গন ও ছড়িয়ে পড়া:
ভয়াবহ নদীভাঙনে জোত, তালুক হারিয়ে যায় এবং ব্রহ্মপুত্র নদের গর্ভে বিলীন হয়। খাজনা দিতে না পারায় জমি চলে যায় পূর্ব পাকিস্তান সরকারের খাস খতিয়ানে। এরপর পরিবার ছড়িয়ে পড়ে – কেউ জামালপুর, কেউ শেরপুর, কেউ ঢাকা। কেউ রয়ে যায় মেলান্দহের আশপাশে।
হেমায়েতুল্লাহ মিয়ার বংশধরগণঃ
৪ ছেলে, ২ মেয়ে। স্ত্রী: রহিমন নেসা।
ছেলে: ১. গোলাম সরোয়ার (বৈমাত্রিক)
২. মোশারফ মিয়া।
মোশারফ মিয়ার ৪ ছেলে: সাজু (মৃত), পানু, রাজ্জাক (মৃত), মনি
২ মেয়ে: মুক্তা (রিয়াজ), মুক্তা (রউফ)
৩. খালেক মিয়া ২ ছেলে: আব্দুর রহমান (২ ছেলে: ইয়াসিন, ১ মেয়ে: মৌসুমী), আব্দুস সালাম (বিদেশে, ২ মেয়ে)
৩ মেয়ে: আনোয়ারা (মৃত), মনোয়ারা, রোকেয়া এনায়েতুর রহমান (বাচ্চু মিয়া)
২ স্ত্রী থেকে: ৮ ছেলে, ৫ মেয়ে ছেলেরা: বাদশা (মৃত), ঠান্ডা (মৃত, ছেলে: সৌকত), নান্নু (মৃত, ৩ মেয়ে), রাজা (মৃত, ৩ ছেলে ১ মেয়ে), বাবুল (মৃত), মসকুট (মৃত), মোনছব (জীবিত), রফিক (মৃত, ছেলে: পাপন
মেয়ে: ১. নয়ার মা – স্বামী: মাহবুব পন্ডিত (চিকাজানী) ২. জাহেরা – স্বামী: মৌলভী আবুল ফজল (কুলকান্দী মিয়া বাড়ি)
হামিদুর রহমানের বোনঃ
নাম অজানা, “মোকাদ্দেসের মা” নামে পরিচিত। স্বামী: আবু মিয়া (কুলকান্দী মুন্সীবাড়ী) ছেলে: মোকাদ্দেস মোকাদ্দেসের দুই ছেলে: মনু (মৃত), খাজা মিয়া (সাবেক চেয়ারম্যান)
মনুর ছেলে: শাহীন (বর্তমান চেয়ারম্যান, কুলকান্দী)
হামিদুর রহমানের চাচাতো/ফুফাতো ভাইগণঃ ১. আফজল হোসেন মিয়া ২. তালেব হোসেন মিয়া ৩. সাদেক হোসেন মিয়া (সদর মিয়া)
কেবরাতুল্লাহ সরদারের ভাই: ইরাদুল্লাহ সরদার কোন ছেলে নেই, তিন কন্যা: ১. আতরনেছা ২. আজিজুন্নেসা ৩. কামরুন্নেসা
আতর নেছার পুত্রঃ তথ্য অনুলিখিত হয়নি
সাইদুর রহমান মিয়ার চাচাতো বোনঃ
ইরাদ মিয়ার ৩ মেয়ে (ইসলামপুর, পালপাড়া): ১. কামরুন্নেসা ২. আক্তারুন্নেসা ৩. টুনি
তথ্য দানকারী: কামরুন্নেসার মেয়ে রেণু রেণুর মেয়ে: কাজল। কাজলের ছেলে: তৌসিফ।
✅ [শেষাংশে কিছু কবিতার পঙক্তি ও গানের সুর সংযোজন পুরো কাহিনীকে এক বিষাদময় স্মৃতিতে রাঙিয়েছে]
⛔ সাইদুর রহমান মিয়ার চাচাতো বোনদের বংশধারা ও পারিবারিক স্মৃতিচারণ
(ইসলামপুর, পালপাড়া নিবাসী ইরাদ আলী মিয়ার পরিবার)
ইরাদ আলী মিয়ার তিন কন্যা:
১. কামরুন্নেসা স্বামী: প্রফেসর আব্দুস সবুর সিদ্দিকী। তাদের সন্তান: ৪ ছেলে, ৫ মেয়ে। ছেলেরা: ১) আব্দুর রউফ সিদ্দিকী। চির কুমার। বাসস্থান: পূর্ব খাবাসপুর, ফরিদপুর।
২) আব্দুর রব সিদ্দিকী। সাবেক ডিপুটি সেক্রেটারি। তার ১ ছেলে, ৫ মেয়ে।
৩] আজিজুর রহমান সিদ্দিকী (কালা খোকা)। জনতা ব্যাংকের রিজিওনাল ম্যানেজার। আত্মীয় পরায়ণ, মিতব্যয়ী, দায়িত্ববান। স্ত্রী ছিলেন আধুনিক ও শিক্ষিত।
সন্তান: ছেলে: পান্থ, বিত্ত। মেয়ে: তন্নী, বহ্নি, পিউ।
ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণ: তিনি কখনো পান, চা, কফি খাননি। সুশ্রী, সুঠাম শরীর, মুক্তার মতো দাঁত। তাঁর ব্যবহারে ছিল অদ্ভুত মায়া।
“১৯৭৮ সালের বিসিএস ভাইভা দিতে গিয়ে তাঁর আপ্রাণ চেষ্টার কথা আজও ভুলিনি। হাতিরপুলের বাসায় ৯ দিন থাকা, পান্থ চাচুর সাথে কারাতে, তন্নী ফুফুর খাতায় লেখা কবিতা—স্মৃতি আজও চোখে ভাসে।”
“জলরঙে আঁকা ছবি জলে মিশে যায়, মুছে না সে রঙ যে রঙ মেখেছ তোমার পাখায়…
৪) মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী (দেলু) সন্তান: ছেলে: দীপু, দোহা, তোহা। মেয়ে: দীবা, জেবা, জেনী।
৫) মেয়েরা: লতিফা খাতুন। স্বামী: সৈয়দুর রহমান, সরদারপাড়া, জামালপুর। সন্তান:
ছেলে: ১) ড. আতাউর রহমান হেলাল (ঢাবি রাষ্ট্রবিজ্ঞান প্রফেসর) ২) আমিনুর রহমান ফিরোজ (জিএম, অপসোনিন) ৩) কামাল ৪) মেয়ে: রাশেদা, রুবী, ছবি, ডেইজি।
৫) রাজিয়া মজিদ বেগম। স্বামী: অ্যাডভোকেট ও সাবেক এমএলএ শাহ আহম্মদ মো. মজিদ। সন্তান: ১ মেয়ে: লিপি (স্থায়ী বাসিন্দা: লস এঞ্জেলস, আমেরিকা)
উল্লেখযোগ্য কাজ: “জোনাকীর আলো জ্বলে” নামক একটি স্মৃতিকথামূলক বই লেখেন, যা বর্তমানে বিলুপ্ত।
৬) সালেহা খাতুন রেণু। স্বামী: ডা. খন্দকার আব্দুল করিম (হাফেজ)। সন্তান: মেয়ে:বাচ্চুমনি (আনিছুর রহমান চৌধুরী)
কাজল (আবুল কালাম আজাদ)। ছেলে: তৌসিফ শেলী (সেলিমা বদরুজ্জামান, বর্তমানে আমেরিকায়)
বেবী (নাফিসা করিম, আমেরিকায়)। সেলিমা বেগম আঙ্গুর। স্বামী: মৃত মজিবর রহমান (আগারগাঁও, ঢাকা)
সন্তান: ছেলে: রূপন (ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার)
মেয়ে: রীমা (স্বামী কর্নেল), রুহী (স্বামী ম্যাজিস্ট্রেট), রাহী (আমেরিকায়)
৭) মনিরা বেগম মনু। স্বামী: প্রকৌশলী ও নাট্যকার বাসস্থান: ঢাকা
২. আক্তারুন্নেসা। স্বামী: মৌলভী (…নাম অনুলিখিত)
৩. টুনি স্বামী: মৌলভী মোনিম। মাহমুদপুর মিয়া বাড়ির উত্তরাধিকার
সাইদুর রহমান মিয়ার ভাই হানিফ মিয়া, নদীভাঙনে সব হারিয়ে শ্বশুর মনির সরকারের বাড়ি মাহমুদপুরে বসতি স্থাপন করেন। তারই সূত্রে গড়ে ওঠে “মাহমুদপুর মিয়া বাড়ি”।
⛑️ জমি-জমার দলিল সংরক্ষণ
“Land Property” নামক পেইজে জমি-জমার সকল দলিল পিডিএফ আকারে সংরক্ষিত। নিরাপত্তার স্বার্থে পাসওয়ার্ড প্রয়োগ করা হয়েছে।
🛑 উপসংহার
এই সংকলনটি সাইদুর রহমান মিয়ার ডায়েরি এবং আজিজুর রহমান (কালা খোকা) এর মৌখিক বর্ণনার ভিত্তিতে লিপিবদ্ধ। আরও তথ্য থাকলে সংযোগে সহযোগিতার অনুরোধ রইল।
শেষে… ✅ “আবার ভালোবাসার সাধ জাগে — নুপুর কাজী”
স্মৃতির ভারে যখন হৃদয় ব্যথায় ভারাক্রান্ত হয়, তখন এই পংক্তিমালা গেয়ে উঠে হৃদয়—
✅ “কেউ বলে ফাল্গুন, কেউ বলে পলাশের মাস আমি বলি আমার সর্বনাশ…”
📞 যোগাযোগ
01710961936 – একরামুল হক রুবেল (সাইদুর রহমানের পৌত্র)
ফেমেলী ট্রী চার্টঃ
├── সৈয়দ সাইদুর রহমান (উপরের মূল শাখা)
│
├── সৈয়দ হানিফ মিয়া
│ ├── পুত্র: চান মিয়া → পুত্র: মনোয়ার হোসেন, দেলোয়ার হোসেন, সরোয়ার হোসেন, আনোয়ার হোসেন
│ │ কন্যা: রিমী
│ └── কন্যা: ননী (স্বামী: ময়েজ উকিল) → পুত্র: আব্দুর রউফ ডিপটি, শামসুল হক আবু; কন্যা: ফিরুজা বেগম
│
└── অন্যান্য শাখা
├── সৈয়দ হাফিজুর রহমান → পুত্র: সৈয়দ রফিকুর রহমান, সৈয়দ শফিকুর রহমান; কন্যা: সৈয়দা শাহিদা আক্তার নীলু, সৈয়দা যিলু রহমান, সৈয়দা সাথী রহমান
├── সৈয়দ হাবিবুর রহমান → কন্যা: মনোয়ারা বেগম মনি, রানী, ফরিদা, লাকি, চায়না, হাসনা, সোমা, রহিমা, রিমা
├── সৈয়দ মোখলেছুর রহমান → পুত্র: সৈয়দ তাবিবুর রহমান লিটন; কন্যা: ঝরনা, তাহমিনা রহমান পান্না
├── সৈয়দা ফজিলতন নেসা → পুত্র: তাজুল ইসলাম, আমিনুল ইসলাম; কন্যা: দুলারী, শেফালী
├── সৈয়দা জেবুন নেসা জোছনা (স্বামী: ফয়েজ চৌধুরী) → পুত্র: আবিদুর রেজা চৌধুরী রিজভী, আবিদুর মুরছা লিন রিপন, আবদুস সালেহীন শাহিন;
│ কন্যা: আফরোজা বেগম রত্না (শাহানা), নাসরিন সুলতানা, তাহমিনা সুলতানা
└── সৈয়দা নুরুন্নাহার আঙুর → পুত্র: গালিব, সোয়েব, জাহিদ; কন্যা: পারভীন, শিরিন********ভাসান সর্দার
└── স্ত্রী: ফারাহ ইয়ামেনী
└── রুপা সর্দার
└── স্ত্রী: আম্বর নেসা
└── কেবরাতুল্যা সর্দার
└── স্ত্রী: আতর নেসা ও চন্রাবলি
└── হামিদুর রহমান বড় মিয়া
└── স্ত্রী: কুলসুম অধিকারী
├── সৈয়দ সাইদুর রহমান
│ └── স্ত্রী: ছাবিরন নেসা
│ ├── পুত্র:
│ │ 1) সৈয়দ মজিবুর রহমান
│ │ └── স্ত্রী: এফতেদা বেগম রুবী
│ │ ├── পুত্র:
│ │ │ 1) এ,কে,এম একরামুল হক রুবেল
│ │ │ └── কন্যা: সৈয়দা ইশরাত জাহান, সৈয়দা ইফতেখার জাহান লুবনা, সৈয়দা ইশনিয়াত জাহান লিপসী
│ │ │
│ │ │ 2) এ,কে,এম এনামুল হক জুয়েল
│ │ └── কন্যা:
│ │ – সৈয়দা আফরোজা রহমান হেলেন
│ │ – সৈয়দা মাহবুব রহমান বেলুন
│ │ – সৈয়দা মাহমুদা রহমান হাসি
│ │ – সৈয়দা মাকসুদা রহমান খুশি
│ │ – সৈয়দা মাহফুজা রহমান লিপি
│ │ – সৈয়দা মুনছুরা রহমান ডলি
│ │
│ 2) সৈয়দ হাফিজুর রহমান
│ 3) সৈয়দ হাবিবুর রহমান
│ 4) সৈয়দ মোখলেছুর রহমান
│
└── সৈয়দ হানিফ মিয়াভাসান সর্দার
└── স্ত্রী: ফারাহ ইয়ামেনী
└── রুপা সর্দার
└── স্ত্রী: আম্বর নেসা
└── কেবরাতুল্যা সর্দার
└── স্ত্রী: আতর নেসা ও চন্রাবলি
└── হামিদুর রহমান বড় মিয়া
└── স্ত্রী: কুলসুম অধিকারী
├── সৈয়দ সাইদুর রহমান
│ └── স্ত্রী: ছাবিরন নেসা
│ ├── ২য় পুত্র: সৈয়দ হাফিজুর রহমান
│ │ └── স্ত্রী: ঝামেলা বেগম
│ │ ├── পুত্র: সৈয়দ রফিকুর রহমান
│ │ ├── পুত্র: সৈয়দ শফিকুর রহমান
│ │ ├── কন্যা: সৈয়দা শাহিদা আক্তার নীলু
│ │ ├── কন্যা: সৈয়দা যিলু রহমান
│ │ └── কন্যা: সৈয়দা সাথী রহমান
│ │
│ ├── ৩য় পুত্র: সৈয়দ হাবিবুর রহমান
│ │ └── পুত্র নেই
│ │ └── কন্যা: মনোয়ারা বেগম মনি, রানী, ফরিদা, লাকি, চায়না, হাসনা, সোমা, রহিমা, রিমা
│ │
│ ├── ৪র্থ পুত্র: সৈয়দ মোখলেছুর রহমান
│ │ ├── পুত্র: সৈয়দ তাবিবুর রহমান লিটন
│ │ └── কন্যা: ঝরনা, তাহমিনা রহমান পান্না
│ │
│ ├── কন্যা ১: সৈয়দা ফজিলতন নেসা
│ │ ├── পুত্র: তাজুল ইসলাম, আমিনুল ইসলাম
│ │ └── কন্যা: দুলারী, শেফালী
│ │
│ ├── কন্যা ২: সৈয়দা জেবুন নেসা জোছনা (স্বামী: ফয়েজ চৌধুরী)
│ │ ├── পুত্র: আবিদুর রেজা চৌধুরী রিজভী, আবিদুর মুরছা লিন রিপন, আবদুস সালেহীন শাহিন
│ │ └── কন্যা: আফরোজা বেগম রত্না (শাহানা), নাসরিন সুলতানা, তাহমিনা সুলতানা
│ │
│ └── কন্যা ৪: সৈয়দা নুরুন্নাহার আঙুর
│ ├── পুত্র: গালিব, সোয়েব, জাহিদ
│ └── কন্যা: পারভীন, শিরিন
│
└── সৈয়দ হানিফ মিয়া
├── পুত্র: চান মিয়া
│ ├── পুত্র: মনোয়ার হোসেন, দেলোয়ার হোসেন, সরোয়ার হোসেন, আনোয়ার হোসেন
│ └── কন্যা: রিমী
└── কন্যা: ননী (স্বামী: ময়েজ উকিল)
├── পুত্র: আব্দুর রউফ ডিপটি, শামসুল হক আবু
└── কন্যা: ফিরুজা বেগমভাসান সর্দার
└── স্ত্রী: ফারাহ ইয়ামেনী
└── রুপা সর্দার
└── স্ত্রী: আম্বর নেসা
└── কেবরাতুল্যা সর্দার
└── স্ত্রী: আতর নেসা ও চন্রাবলি
└── হামিদুর রহমান বড় মিয়া
├── স্ত্রী: কুলসুম অধিকারী
├── পুত্র: সৈয়দ সাইদুর রহমান
│ └── স্ত্রী: ছাবিরন নেসা
│ ├── সৈয়দ হাফিজুর রহমান (স্ত্রী: ঝামেলা বেগম)
│ │ ├── পুত্র: সৈয়দ রফিকুর রহমান, সৈয়দ শফিকুর রহমান
│ │ └── কন্যা: সৈয়দা শাহিদা আক্তার নীলু, সৈয়দা যিলু রহমান, সৈয়দা সাথী রহমান
│ ├── সৈয়দ হাবিবুর রহমান (পুত্র নেই)
│ │ └── কন্যা: মনোয়ারা, রানী, ফরিদা, লাকি, চায়না, হাসনা, সোমা, রহিমা, রিমা
│ ├── সৈয়দ মোখলেছুর রহমান
│ │ ├── পুত্র: সৈয়দ তাবিবুর রহমান লিটন
│ │ └── কন্যা: ঝরনা, তাহমিনা রহমান পান্না
│ ├── সৈয়দা ফজিলতন নেসা
│ │ ├── পুত্র: তাজুল ইসলাম, আমিনুল ইসলাম
│ │ └── কন্যা: দুলারী, শেফালী
│ ├── সৈয়দা জেবুন নেসা জোছনা (স্বামী: ফয়েজ চৌধুরী)
│ │ ├── পুত্র: আবিদুর রেজা চৌধুরী রিজভী, আবিদুর মুরছা লিন রিপন, আবদুস সালেহীন শাহিন
│ │ └── কন্যা: আফরোজা বেগম রত্না (শাহানা), নাসরিন সুলতানা, তাহমিনা সুলতানা
│ └── সৈয়দা নুরুন্নাহার আঙুর
│ ├── পুত্র: গালিব, সোয়েব, জাহিদ
│ └── কন্যা: পারভীন, শিরিন
└── পুত্র: সৈয়দ হানিফ মিয়া
├── পুত্র: চান মিয়া
│ ├── পুত্র: মনোয়ার হোসেন, দেলোয়ার হোসেন, সরোয়ার হোসেন, আনোয়ার হোসেন
│ └── কন্যা: রিমী
└── কন্যা: ননী (স্বামী: ময়েজ উকিল)
├── পুত্র: আব্দুর রউফ ডিপটি, শামসুল হক আবু
└── কন্যা: ফিরুজা বেগম
