Categories
Blog

পুর্ববর্তির সালাত

 

মু’মিনদেরকে বল, তাহারা যেন তাহাদের দৃষ্টিকে সংযত করে এবং তাহাদের লজ্জা স্থানের হিফাযত করে;(২৪:৩০)

এ আয়াতে যেনার পুর্ব শর্ত দৃষ্টিকে সংযত করা। এই দৃষ্টি কি চোখের দৃষ্টি?  না কখনোই না।  দৃষ্টি একটি উপমা।

এই দৃষ্টিটা চর্ম চক্ষু নয়। দৃষ্টিটা হচ্ছে অন্তর। অন্তর যেখানে নেই সেখানে আমাদের দৃষ্টি থাকে না। আমরা দেখে থাকি আমাদের অন্তর দিয়ে। আল্লাহ এ জন্যই বলেছেনঃ কান দিয়েছি শোনার জন্য, চোখ দিয়েছি দেখার জন্য এবং অন্তর দিয়েছি অনুধাবন করার জন্য।

বস্তুত চোখ তো দেখে না, দেখে অন্তর। অন্তরের হেফাজত করা হচ্ছে আসল হেফাজত। এ বিষয়ে আল্লাহ বলেন, যাদের অন্তরে ব্যধি আছে তারা এর দ্বারা প্রলুব্ধ হবে। তাই অন্তরের ব্যধিকে দূর করতে হবে। আমাদের ব্যধি যুক্ত অন্তর গুলির মস্তিষ্কে সারাক্ষন যৌনতা ঘুরপাক খায়। ফলে যেনা সম্পর্কে কথা বললেই চলে আসে নারী-পুরুষের যৌনতা।

আপনার শরীরে যে অনুভুতি আছে, যে জাগরন আছে সেই জাগরনটা ঘটায় কে?  জাগরনটা ঘটায় অন্তর। সেই অন্তরেকে হেফাজত করুন।

সে যাই হোক পুর্ববর্তিতের সালাত কেমন ছিল? তারা পবিত্রতা কি ভাবে অর্জন করত?

নতুন আয়াত নাযিল হলেই সকলকে আহ্বান করে একত্রিত হয়ে তা পড়ে শুনানো এবং পরিস্কার পরিচ্ছন্ন হয়ে  মনোযোগ সহ কোরান শুনার অনুষ্ঠানে সবাই দন্ডায় মান হতেন।  আর এটাই ছিল তাদের সালাত। অর্থাৎ রবের নির্দেশ পরিপালনের জন্য নিবীর মনোসংযোগ।

পুর্ব্ববর্তি নবী রাসুলদের সময়ও সালাত এমনি ছিল। কোরান বা কিতাব পাঠের অনুষ্ঠান এবং বাস্তব জীবনে সে মর্ম অনুযায়ী প্রয়োগ।

যে জন্য সুরা নেসায় বর্ণিত হয়েছেঃ হে ঈমান আনায়নকারীগণ! মোহ গ্রস্ত অবস্থায় তোমরা সালাতের নিকটবর্তী হইও না, যতক্ষণ না তোমরা যাহা বল তাহা বুঝিতে পার, [4:43]

আর নবী রাসুলদের এই সালাতকে পেশায় রুপান্তর করে লালসা পরবস হয়ে অপদার্থ পরবর্তি দল পরিবর্তন করে নিয়েছে। সুরা মরিয়মে তাই বর্নিত হয়েছে:

উহাদের পরে আসিল অপদার্থ পরবর্তীরা, তাহারা সালাত নষ্ট করিল ও লালসা – পরবশ হইল। [ 19:59]

শুধু কি তাই ” রাসুলের দরবারে অনেক ঈমান আনায়ন কারী ছিল, তারা শপথ নিয়েও ভিতরে ভিতরে পুর্বের অবস্থায় ফিরে যাওয়ার সংকল্প পোষন করত। তারা হিজরত করলে  সুন্দর নারী পাবে। এসব অন্তরের লালসা নিয়ে ঈমান আনার শপথ নিয়েছিল। তারা দরবার থেকে পৃথক হলেই পরস্পর কানাঘুষা করত এবং টিপ্পনী কাটতো। এমন কপটদের মুনাফেক বলা হয়।  আল্লাহ তাদের সংকল্পের কথা রাসুল কে জানিয়ে দিয়েছেন।

উহারা আল্লাহ্‌র শপথ করে যে, উহারা কিছু বলে নাই ; কিন্তু উহারা তো কুফরীর কথা বলিয়াছে এবং ইসলাম গ্রহণের পর উহারা কাফির হইয়াছে ; উহারা যাহা সংকল্প করিয়াছিল তাহা পায় নাই। [৯:৭৪)

ইবলিশ কাফের হয়েছিল কি নামাজ না পড়ার জন্য? কোন ইবাদত না করার জন্য?

অহংকার বশত রবের একটি মাত্র আদেশ অমান্য করার জন্য। আপনি আমি কি রবের সেই আদেশ (কোরান)  মান্য করি।

By Ekramul hoq

I am A.K.M Ekramul hoq MA.LLB. Rtd Bank Manager & PO of Agrani Bank Ltd. I am interested writing and reading. Lives in Bangladesh, District Jamalpur.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

``` }