Categories
Blog

আরবী গ্রামার ইশেম

প্রাথমিক আরবী গ্রামার পর্ব_০৩ ইসেম (الاسم) সংজ্ঞা: ইসেম হল এমন একটি শব্দ যা কোনো ব্যক্তি, বস্তু, প্রাণী, গুণ, অবস্থা, সংখ্যা, সময় ইত্যাদির নাম বুঝায়। ইসেম আরবী ভাষার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। প্রতিটি বাক্যের মৌলিক গঠনেই ইসেমের ভূমিকা থাকে। ইসেমকে বুঝলে বাক্য গঠন, ই‘রাব (إعراب), ও তাফসীর সহজ হয়। ২. ইসেম-এর চিহ্ন বা আলামত (علامات الاسم): ১. التنوين (তানভীন) শব্দের শেষে ‘-ً, -ٍ, -ٌ’ যেমন: كِتَابٌ (কিতাবুন – একটি বই) ২. ال التعريف (আল) – নির্দিষ্ট করার জন্য “ال” যেমন: الْمَدْرَسَةُ (আল-মাদরাসাতু – নির্দিষ্ট স্কুল। ৩. حروف الجرّ (হরফে জার) এর পর আসে। পূর্বে جار এর পর বসে। যেমন: فِي البَيْتِ (ফিল বাইতি – ঘরে) ৪. مُضاف إِلَيْهِ (মুছাফ ইলাইহি) হতে পারে যেমন: كِتَابُ اللهِ (কিতাবু-ল্লাহি – আল্লাহর কিতাব) এতটুক হলেই প্রাথমিকদের জন্য যথেষ্ট। বিস্তারিত অতিরিক্ত জানার আগ্রহ হলে নীচের আলোচনা টুকুও জেনে নিতে পারেন। এগুলি সবই আপনার জানা আছে। এখানে শুধু মনে করিয়ে দেওয়ার জন্য। দেখেই ঘাবরিয়ে যাবেন না। পড়ে দেখুন জটিল কিছুই না। ***************************************;** ৩. ইসেম-এর শ্রেণিবিভাগ (أنواع الاسم) (ক) ধরন অনুযায়ী: ৯ প্রকার। ১. اسم علم (ইসমু আলাম) – নিজস্ব নাম। যেমনঃ محمدٌ (মুহাম্মাদুন – মুহাম্মদ), مكة (মাক্কাহ – মক্কা) ২. اسم جنس (ইসমু জিনস) – প্রজাতির নাম যেমনঃ رَجُلٌ (রজুলুন – একজন মানুষ), شَجَرَةٌ (শাজারাতুন – গাছ) ৩. اسم إشارة (ইসমু ইশারা) _ নির্দেশমূলক নাম যেমনঃঃ هَذَا (হাযা – এটি), تِلْكَ (তিলকা – ঐ) ৪. اسم موصول (ইসমু মাওসূল) – সংযোজক নাম যেমনঃ الَّذِي (আল্লাযী – যে ব্যক্তি), الَّتِي (আল্লাতী – যে নারী) ৫. اسم استفهام (ইসমু ইস্তিফহাম) – প্রশ্নসূচক যেমনঃ مَنْ؟ (মান – কে?), مَا؟ (মা – কী?) ৬. اسم شرط (ইসমু শার্ত) – শর্তসূচক যেমনঃ مَنْ (মান – যে), مَا (যা) ৭. اسم زمان (ইসমু জামান) – সময়ের নাম যেমনঃ صَبَاحٌ (সাবাহুন – সকাল), لَيْلٌ (লাইলুন – রাত) ৮. اسم مكان (ইসমু মাকান) – স্থানের নাম যেমনঃ مَسْجِدٌ (মাসজিদুন – মসজিদ), مَدْرَسَةٌ (মাদরাসাতুন – স্কুল) ৯. اسم آلة (ইসমু আলাহ)৷ – যন্ত্র বা বস্তু যেমনঃ قَلَمٌ (কলামুন – কলম), مِفْتَاحٌ (মিফতাহুন – চাবি) (খ) লিঙ্গ অনুযায়ী (الجنس) ২:প্রকার। যেহেতু লিঙ্গ ২ প্রকার। ১. مذكر (মুযাক্কার) – পুংলিঙ্গ যেমনঃ رجُلٌ (রজুলুন – পুরুষ) ২. مؤنث (মুওয়ান্নাস)৷ _স্ত্রীলিঙ্গ যযেমনঃ إِمْرَأَةٌ (ইমরাআতুন – নারী), شَجَرَةٌ (শাজারাতুন – গাছ) লিঙ্গ চেনার নিয়ম: সাধারণত ‘ة’ (তা মারবূতা) দিয়ে শেষ হলে তা মুওয়ান্নাস হয়। (গ) বচন অনুযায়ী (العدد) ৩ প্রকার। যেহেতু বচন ৩টি। ১. مفرد (মুফরাদ) – একবচন যেমনঃ كِتَابٌ (কিতাবুন – একটি বই) ২. مثنى (মুছন্না) – দ্বিবচন যেমনঃ كِتَابَانِ (কিতাবানি – দুই বই) ৩. جمع (জমআ) – বহুবচন যেমনঃ كُتُبٌ (কুতুবুন – বইসমূহ) (ঘ) নির্দিষ্টতা অনুযায়ী: ২ প্রকার। ১. معرفة (মা‘রিফা) – নির্দিষ্ট নাম যেমনঃ الرَّجُلُ (আল-রজুলু – সেই পুরুষ) ২. نكرة (নাকিরা) – অনির্দিষ্ট নাম যেমনঃ رَجُلٌ (রজুলুন – একজন মানুষ) (ঙ) সংযোজিত ও একক: ২ প্রকার। ১. مفرد (মুফরাদ) – একক শব্দ (শুধু একটি শব্দ) যেমনঃ كِتَابٌ (কিতাবুন – বই) ২. مركب (মুরাক্কাব) – যৌগিক (একাধিক শব্দ যুক্ত) যেমনঃ كِتَابُ اللهِ (কিতাবুল্লাহ – আল্লাহর কিতাব) ৪. ইসেম-এর অবস্থান (الإعراب): ইসেম সাধারণত তিনটি গ্রামাটিক্যাল অবস্থা বা Case-এ থাকে: ১. رفع (রাফ্‘উন) – কার্য বা কর্তা উদাঃ اللَّهُ (আল্লাহু – আল্লাহ [কর্তা]) ২. نصب (নাস্ব্‌বুন) – কর্ম বা অবজেক্ট فتحة (ـَ) উদাঃ أَحَبَّ اللَّهَ (আহাব্বাল্লাহ – আল্লাহ ভালোবাসলেন…) ৩. جرّ (জাররুন) – মালিকানা, preposition ইত্যাদি كسرة (ـِ) যেমনঃ كِتَابِ اللَّهِ (কিতাবিল্লাহি – আল্লাহর কিতাব) ৫. অনুশীলনী উদাহরণ: আরবী শব্দ – উচ্চারণ – অর্থ – প্রকার ১) قَمَرٌ (কামারুন) = চাঁদ – ইসেম জিনস, মুফরাদ, মুযাক্কার ২)بَيْتَانِ (বাইতানি) – দুইটি ঘর (ইসেম জিনস, মুছন্না, মুযাক্কার) ৩) مَدْرَسَةٌ (মাদরাসাতুন) = একটি স্কুল (ইসেম জিনস, মুফরাদ, মুওয়ান্নাস) ৪) هَذِهِ (হাযিহি) = এই (স্ত্রীলিঙ্গ) (ইসেম ইশারা) ৫):الَّذِينَ (আল্লাযীনা) = যাঁরা (ইসেম মাওসূল, বহুবচন) ** সংক্ষেপে ইসেম চেনার কৌশল: ১. কোনো শব্দ ال দিয়ে শুরু → সম্ভবত ইসেম ২. শব্দের শেষে ٌ / ٍ / ً → তানভীন থাকলে ইসেম ৩. حروف الجر (من, في, إلى) পরে আসলে → ইসেম ৪. فعل (ক্রিয়া) নয় এবং حرْف (অব্যয়) নয় → ইসেম হতে পারে। *************** ইসেম চেনার প্রধান ৭টি চিহ্ন (علامات الاسم) ১) التنوين (তানভীন) – শব্দের শেষে ً , ٍ , ٌ থাকলে যেমন: كِتَابٌ (কিতাবুন) = একটি বই ২) أل التعريف (আল-তা‘রীফ) — ال দিয়ে শুরু হলে নির্দিষ্ট ইসেম। যেমন: الْقَلَمُ (আল-কলামু) = সেই কলম ৩) الجرّ (حرف الجرّ এর পর (হরফে জার) مِنْ, فِي, إِلَى ইত্যাদির পর ইসেম যেমন: فِي المَسْجِدِ (ফি আল-মাসজিদি) = মসজিদের ভিতর ৪) الإسناد إليه – তার প্রতি সংবাদ দেয়া যায় যেমন: زَيْدٌ عَاقِلٌ (যায়েদুন ‘আকিলুন) = যায়েদ বুদ্ধিমান ৫) الإضافة সংযুক্ত করে মালিকানা প্রকাশ যেমন: كِتَابُ اللهِ (কিতাবু-ল্লাহি) = আল্লাহর কিতাব ৬) النداء ডাকের জন্য ব্যবহার (يا…) যেমন: يَا رَجُلُ (ইয়া রজুলু) = হে ব্যক্তি! ৭) القبول للصفة বিশেষণ গ্রহণ করে। যেমন: رَجُلٌ صَالِحٌ (রজুলুন সালিহুন) = সৎ লোক সংক্ষেপে মনে রাখার টিপস: “تنوين + ال + بعد حرف جر + إضافة + نداء + صفة” এই ছয়টি চিহ্ন মনে রাখলে অধিকাংশ ইসেম সহজে ধরা যাবে।

By Ekramul hoq

I am A.K.M Ekramul hoq MA.LLB. Rtd Bank Manager & PO of Agrani Bank Ltd. I am interested writing and reading. Lives in Bangladesh, District Jamalpur.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

``` }