Categories
Blog

রাসুলের সুপারিশ করবেন না

 

বিচার দিবসে রাসুল সাঃ ভুমিকা  কি হবে কোরান সে বিষয়ে  স্পষ্ট বার্তা জানায়।

“আমি তাদেরকে তা-ই বলেছি যা আপনি আমাকে আদেশ করেছিলেন—‘আল্লাহর ইবাদত করো, যিনি আমার রব এবং তোমাদের রব।’ আর যতদিন আমি তাদের মধ্যে ছিলাম, ততদিন আমি তাদের ওপর সাক্ষী ছিলাম। অতঃপর যখন আপনি আমাকে গ্রহণ করলেন, তখন আপনি নিজেই তাদের ওপর পর্যবেক্ষক ছিলেন। আর আপনি সবকিছুর ওপর সাক্ষী।” (৫:১১৭)

এখানে দুটি বিষয় একেবারে স্পষ্ট: যতদিন আমি তাদের মধ্যে ছিলাম আমি তাদের ওপর সাক্ষী ছিলাম। যখন আপনি আমাকে গ্রহণ করলেন তখন → كُنتَ أَنتَ الرَّقِيبَ عَلَيْهِمْ আপনিই তাদের ওপর পর্যবেক্ষক হলেন।

সেদিন রাসুল সাঃ সুপারিশ তো দূরে ঘাক বরং অভিযোগ করবেন রবের নিকট এই বলে যে, ” হে আমার রব! আমার সম্প্রদায় এই কুরআনকে পরিত্যক্ত করে নিয়েছিল।” (২৫:৩০)

এখানে রাসূল নিজের সম্প্রদায়ের পরবর্তী আচরণ সম্পর্কে অভিযোগ করছেন—তারা কুরআনকে مَهْجُورًا (মাহজূরান) অর্থাৎ পরিত্যক্ত/বর্জিত করে নিয়েছিল।

অতঃপর  সম্প্রদায়কে কঠোর হুশিয়ার করার জন্য বলেন হে রাসুল আপনি বলুনঃ

” আমি রাসূলদের মধ্যে নতুন কেউ নই; এবং আমি জানি না আমার সঙ্গে কী করা হবে এবং তোমাদের সঙ্গেই বা কী করা হবে। আমি তো কেবল আমার প্রতি যা ওহি করা হয় তারই অনুসরণ করি; আর আমি তো কেবল একজন সুস্পষ্ট সতর্ককারী।” (৪৬:৯)

এখানে খুব গুরুত্বপূর্ণ শব্দ: وَمَا أَدْرِي — “আমি জানি না” مَا يُفْعَلُ بِي وَلَا بِكُمْ — “আমার সঙ্গে কী করা হবে এবং তোমাদের সঙ্গে কী করা হবে।”

আপনার বাক্যটিকে যদি কুরআনের বক্তব্যের সঙ্গে মিলিয়ে লিখি, তাহলে সবচেয়ে নির্ভুল রূপ হবে: “কুরআন এমন কোনো বক্তব্য দেয় না যে মুহাম্মদ ﷺ স্পষ্টভাবে বলবেন—‘আমি বিদায় নেওয়ার পর তারা কী করেছে, তা আমি জানি না।’ তবে কুরআন তাঁকে বলতে বলেছে: ‘আমি জানি না আমার সঙ্গে কী করা হবে এবং তোমাদের সঙ্গে কী করা হবে’ (৪৬:৯)। আর ঈসা (আ.)-এর ক্ষেত্রে বলা হয়েছে: ‘যতদিন আমি তাদের মধ্যে ছিলাম, আমি তাদের ওপর সাক্ষী ছিলাম; যখন আপনি আমাকে গ্রহণ করলেন, তখন আপনিই তাদের ওপর পর্যবেক্ষক ছিলেন’ (৫:১১৭)। মুহাম্মদ সাঃ-তাঁর সম্প্রদায়ের প্রতি অভিযোগ পেশ করে বরং বলবেন : ‘আমার সম্প্রদায় এই কুরআনকে পরিত্যক্ত করে নিয়েছিল’ (২৫:৩০)।”

বরং রাসূলকে কিয়ামতে সাক্ষী করা হবে —-

“তখন কী হবে, যখন আমি প্রত্যেক উম্মত থেকে একজন সাক্ষী আনব এবং তোমাকেও এদের ওপর সাক্ষী হিসেবে আনব?” (৪:৪১) এখানে  “আমি তোমাকে সাক্ষী হিসেবে আনব।” অর্থাৎ কুরআন তাঁকে কিয়ামতের দিনে সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত করার কথা বলছে।

আরও স্পষ্ট ভাবে বলপনঃ “আর সেদিন, যখন আমি প্রত্যেক উম্মতের মধ্য থেকে তাদের ওপর একজন সাক্ষী দাঁড় করাব এবং তোমাকেও এদের ওপর সাক্ষী হিসেবে আনব…” (১৬:৮৯)

শুধু তাই নয় প্রত্যেক রাসুলকে প্রশ্ন করা হবে এই বলে যে, 

“যেদিন আল্লাহ রাসূলদের একত্র করবেন, অতঃপর বলবেন, ‘তোমাদের কী জবাব দেওয়া হয়েছিল?’ তারা বলবে, ‘আমাদের কোনো জ্ঞান নেই; নিশ্চয়ই আপনিই অদৃশ্য সমূহের সর্বজ্ঞ।” (৫:১০৯)

এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ: مَاذَا أُجِبْتُمْ
“তোমাদের কী জবাব দেওয়া হয়েছিল?”

অর্থাৎ রাসূলদের তাঁদের সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে প্রশ্ন করা হবে।
উত্তরে বলবেন: لَا عِلْمَ لَنَا “আমাদের কোনো জ্ঞান নেই।”
“নিশ্চয়ই আপনিই অদৃশ্য সমূহের সর্বজ্ঞ।”

By Ekramul hoq

I am A.K.M Ekramul hoq MA.LLB. Rtd Bank Manager & PO of Agrani Bank Ltd. I am interested writing and reading. Lives in Bangladesh, District Jamalpur.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

``` }