Categories
Innovator My text

তোমরাই শ্রেষ্ট জাতিঃ

  1. তোমরাই শ্রেষ্ঠ উম্মত, মানবজাতির মধ্য হতে নির্বাচন করা   হইয়াছে এ জন্য, তোমরা সৎকাজের নির্দেশ দান করবে এবং অসৎ কাজে নিষেধ করবে। (৩:১১০)

كُنْتُمْ خَيْرَ اُمَّةٍ اُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَاْمُرُوْنَ  بِالْمَعْرُوْفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ

(কুনতুম খাইরা উম্মাতিন উখরিজাত লি-ন্নাসি তা’মারুনা বিল মারুফ ওয়া তানহাও না-আনিল মুনকার)

১)  কুনতুম (كُنْتُمْ) ব্যক্তিবাচক সর্বনাম।  মুল শব্দ কুন (كون), ক্রিয়া।  যার বাংলা= হওয়া।  সুতরাং كُنْتُمْ অর্থ তোমরা হও।

২) খায়রান (خَيْرَ) বিষেশ্য।  মুল শব্দ খায়ের خَيْرَ যার অর্থ = ঊত্তম।

৩) উম্মাতিন (اُمَّةٍ) বিষেশ্য। মুল শব্দ উম্মা। যার অর্থ জাতি।

৪) উখরিজাত (اُخْرِجَتْ) ক্রিয়া বাচক। মুল শব্দ   (خْرِجَ) খারিজ। যার অর্থ পৃথক করা। সুতরাং উখরিজাত اُخْرِجَتْ অর্থ তোমাদের পৃথক করা হয়েছে।

৫) লি-ন্নাসি (لِلنَّاسِ) বিশেষ্য। মুল শব্দ নাস (نَّاسِ)  যার অর্থ মানুষ। সুতরাং লি-ন্নাস لِلنَّاسِ অর্থ মানুষের জন্য।

৬) তা’মারুনা (تَاْمُرُوْنَ) ক্রিয়া। মুল শব্দ আমর (تَاْمُرُ) অর্থ নির্দেশ দেয়া। সুতরাং تَاْمُرُوْنَ অর্থ তোমরা নির্দেশ দাও।

৭) বিল মারুফ (بِالْمَعْرُوْفِ) বিযেশ্য, মুল শব্দ আরাফ (عْرُوْفِ) যার অর্থ ভাল কাজ।  সুতরাংبِالْمَعْرُوْفِ অর্থ ভাল কাজের জন্য।
৮) ওয়া তানহাও (وَتَنْهَوْنَ) ওয়া অব্যয় এবং তানহাও ক্রিয়া। মুল শব্দ নেহি।  যার অর্থ নিষেধ করা। সুতরাং  ওয়া তানহাও وَتَنْهَوْنَ অর্থ হবে এবং তোমরা নিষেধ কর।

৯) আন ( عَنِ) অব্যয়। যার অর্থ হতে।

১০) মুনকার (الْمُنْكَرِ) বিশেষ্য।  মুল শব্দ নাকর    نْكَرِ যার অর্থ  নিষেধ করা।

যে শব্দগুলি এ আয়াতে পেলাম তার প্রায় সব পরিচিত আমাদের। শুধু খেয়াল করি না বলে অজানা মনে হয়।
১) খায়ের – ভাল / উত্তম
২) উম্মাহ – জাতি
৩) খারিজ – পৃথক করা / বাহির করা
৪) নাস –মানুষ
৫) আমর – আদেশ বা নির্দেশ করা।
৬) আরাফ – ভাল বা সৎকাজ
৭) নেহি -নিঢেধ করা
৮) নাকর –মন্দ বা খারাপ কাজ।

উপসংহারঃ মানুষকে আল্লাহ মানুষের মধ্যে হতে ছেকে নির্বাচন করেছেন এ জন্য যে তারা কল্যানের নির্দেশ দিবে মানুষকে এবং মন্দ কাজ করতে বাধা দিবে। এটাই উদ্দেশ্য আল্লাহর। এখানে উপদেশ বা অনুরোধের কথা বলেন নাই।  আদেশ ও নিষেধের শব্দ ব্যবহার করেছেন এ জন্য যে যদি আদেশ বা নিষেধ না মানে তবে বল প্রয়োগ করতে হবে।
নচেৎ উপদেশ বা অনুরোধ শব্দ ব্যবহার করতেন।

Categories
My text

পুনর্জন্মঃ

নিশ্চয় তোমরা ধাপে ধাপে আরোহণ করবে।
لَتَرْكَبُنَّ طَبَقًا عَنْ طَبَقٍؕ
( লাতারকাবুন্না তাবাকান আন তাবাক।)  সূরা ইনশিকাক আয়াত ১৯

শব্দার্থ: لَتَرْكَبُنَّ = তোমরা অবশ্যই আরোহণ করবে, طَبَقًا = ধাপ, عَنْ = থেকে, طَبَقٍ = ধাপে।

লাতাকরাবুন لَتَرْكَبُنَّ এর মুল শব্দ رْكَبُ রাকাব। রাকাব মানে আরোহন করা। এটি ক্রিয়াপদ। আর لَتَرْكَبُنَّ মানে নিশ্চয় তোমরা আরোহন করবে।

মানব জীবন চক্রের রহস্য এ আয়াতে ইংগীত করে।”মোরা আর জনমে হংস মিথুল ছিলাম”

নতুন শব্দ শিখলামঃ

১) رْكَبُ রাকাব = আরোহন করা।

২) طَبَقٍؕ তাবাক = ধাপ বা সিড়ি বা স্তর।

Categories
My text

অনুসরন কর তাদেরঃ

আরবী অনুবাদ গ্রামার পর্ব-০৮

‘অনুসরণ কর তাহাদের, যাহারা তোমাদের নিকট কোন প্রতিদান চায় না এবং যাহারা সৎপথপ্রাপ্ত। (৩৬:২১)

اتَّبِعُوْا    مَنْ    لَّا    يَسْـــَٔلُكُمْ    اَجْرًا  وَّهُمْ     مُّهْتَدُوْنَ

(ইত্তাবিউ মান লা  ইয়াসআলুকুম  আজরাওঁ  ওয়া হুম  মুহতাদুন।)

শব্দার্থ:   اتَّبِعُوا =   তোমরা  অনুসরণ করো,     مَنْ =   (তার) যে,     لَا =  না,     يَسْأَلُكُمْ =    তোমাদের  কাছে চায়, أَجْرًا= কোনো বিনিময়,     وَهُمْ =  এবং তারা ,     مُهْتَدُونَ =  সৎ পথপ্রাপ্ত ,

ইত্তাবিউ ( اتَّبِعُوْا)  একটি ফাল বা ক্রিয়া পদ। এর  মুল শব্দ   تَّبِعُ  (তাবেউ) যার অর্থ অনুসরন করা।

মান (مَنْ) সর্বনাম,অর্থ = তার বা যে।

লা (لَّا) অব্যয় পদ, অর্থ = না।

ইয়াসআলুকুম (يَسْـــَٔلُكُمْ) মুল শব্দ    سْـــَٔلُ   সোয়াল = চাওয়া, আসআলুকুম = তোমাদের কাছে চায়

ইায়সআলু বর্তমান/ ভবিষ্যত কাল বুঝাতে। কুম অর্থ তোমাদের। ইয়াছআলুকুম = তোমাদের নিকট চায়।

আঁজরান  (اَجْرًا) মুল শব্দ  اَجْرً আজর = বিনিময়,  আজরান = কোন বিনিময়।

ওয়া হুম (وَّهُمْ) সমন্ধ বাচক সর্বনাম। ওয়া = এবং,  ওয়া হুম = এবং তারা।

মুহতাদুন  (مُّهْتَدُوْنَ) ইশম বা বিশেষ্য। এর  মুল শব্দ هْتَدُ হাদী = পথ,  সুতরাং মুহতাদুন অর্থ সৎপথ প্রাপ্ত।

বালাগাতঃ অনুসরন কর তাদের যারা কোন বিনিময় চায় না তোমাদের নিকট এবং তারা সৎপথ প্রাপ্ত।

উপসংহারঃ আল্লাহ উক্ত আয়াতে হেদায়াত বা সৎপথপ্রাপ্ত মানুষের পরিচয় জানালেন এবং তাদের অনুসরন করতে আদেশ দিলেন। আর হেদায়েত প্রাপ্ত কে তাও জানিয়ে দিলেন — ” যারা ধর্ম পালনে সহ্যোগিতা করে বা  প্রচার কাজ  করে বিনিময়ে কোন অর্থ বা কোন প্রকার প্রতিদান নেয় না।

এবার ভাবুন মসজিদের ইমাম বা ওয়াজ কারীগন কি সৎপথ প্রাপ্ত?  তাদের অনুসরনের কথা কি আল্লাহ বলেছেন?  তারা নিজেরাই আল্লাহর এ আয়াত না মেনে গোমরাহীতে আছে, তাকে ইত্তেবা করলে আপনিও তদ্রুপ হলেন। প্রচলিত মোল্লা মুন্সি পীর ইমাম বিনিময় ছাড়া কোন ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন  করে না, এমন কি মসজিদের ইমামগণ।

অত্র আয়াত থেকে যে শব্দ গুলি জানলাম
১) তাবেউ = অনুসরন করা (ক্রিয়া পদ)
২) সোয়াল = চাওয়া।
৩) আজর = বিনিময়
৪) হাদী = হেদায়েত প্রাপ্ত বা সৎপথপ্রাপ্ত।

লক্ষ্য করে দেখুন প্রতিটা শব্দ তিন অক্ষরে গঠিত। আরবীতে অধিকাংশ মুল শব্দই তিন অক্ষরে হয় এবং এদের প্রায় গুলি আমরা বলে থাকি কিন্তু অনুধাবন করি না। যেমন হেদায়েত, সোয়াল, নিয়ামত, ইনসাব,কিতাব, কালাম…..

Categories
My text

কোরআন রাসুলের বানীঃ

 আরবী গ্রামার পর্ব-০৭

নিজে গ্রামার বুঝে ছোট্ট একটি আয়াতের অনুবাদ করি। (সূরা নং ৬৯ আয়াত নং ৪০)

اِنَّهٗ لَقَوْلُ رَسُوْلٍ كَرِیْمٍۚۙ
( ইন্নাহু লা ক্বাউলু রাসুলিন কারিম)

অনুবাদ: অবশ্য অবশ্যই ইহা (কুরআন) একজন সম্মানিত রসূলের বাণী।

শব্দার্থ: إِنَّهُ = নিশ্চয়তা, لَقَوْلُ = নিশ্চয় বানী, رَسُولٍ = একজন রসূল (এর) , كَرِيمٍ = সম্মানিত,

অনুবাদ করতে প্রথমে আদল বা মুল শব্দ নির্নয় করতে হবে। তাহলে অনুবাদ করতে সহজ হবে। পড়ে গ্রামারের দিকে নজর। একটা বিষয় জেনে রাখা দরকার আরবীতে অধিকাংশ মুল শব্দ তিন অক্ষরের হয়।

উক্ত আয়াতে/ বাক্যে চারটি শব্দ ১) ইন্নাহ ২) ক্বাউলু ৩) রাসুলিন ও ৪) কারিম।
এর আদল বা মুলশব্দ প্রথমে নির্নয় করবো।

শুরুতে ইন্নাহ إِنَّهُ শব্দটি ব্যক্তিবাচক সর্বনাম। তাই এর মুল শব্দের প্রয়োজন নেই। আমরা إِنَّ ইন্না অব্যয় পদ জানি। যার অর্থ নিশ্চয়। إِنَّهُ এর অর্থ দ্বারায় হরফে নসব /ব্যক্তিবাচক সর্বনাম إِنَّهُۥ (ইন্নাহু) নিশ্চয় ইহা।

**************
এবার আসি আয়াতের ২য় শব্দ ( লাক্বাউলু) لَقَوْلُ নিশ্চয় বানী বা কথা।

ক্বাউল অর্থ- বানী। লাম অব্যয় – নিশ্চয়। ( আর এই لا (লা) অর্থ না) সুতরাং লা ক্বাউলু – নিশ্চয় বানী।

মুল শব্দ/ (আদল): قول কাউল ( বানী, কথা)
লাক্বাউল – لَقَوْلُ অর্থ নিশ্চয় বানী।

গ্রামারের কথা ভাবলে অতীত কাল হলে হত قَالَ ( কালা)

ভবিষ্যত কাল/বর্তমান হলে হত : يَقُوْلُ (ইয়াকুলু)

আদেশ মুলক হলে হত : قُلْ (কুল)

ইশমে ফাল / কর্তা হলে হত : قَائِل

ইশমে মাফউল /কর্ম হলে হত : مَقُوْل

মাসদার / ক্রিয়া বাচক বিষেশ্য হলে হত : قَوْل

**************
এবার আসি ৩য় শব্দ (রাসুলিন) رَسُوْلٍ – রাসুলের মুল শব্দ বা আদল : رسل (রাসুল) (রাসুলিন) رَسُوْلٍ অর্থ দ্বারায় রাসুলের।

গ্রামার যদি দেখি তবেঃ
অতীতকাল হলে হত : أَرْسَلَ (আরসাল)

ভবিষ্যত /বর্তমান কাল হলে হত : يُرْسِلُ ( উরসিলু)

আদেশ মুলক হলে হত أَرْسِلْ (আরসেলু)

ইশমে ফায়েল /কর্তা হলে হত : مُرْسِل ( মুরসিল)

ইসমে মাফাউল / কর্ম হলে হত : مُرْسَل ( মুরসাল)

মাসদার/ক্রিয়াবাচক বিষেশ্য হলে হত : إِرْسَال (ইরসাল)

******************
এবার আসি আয়াতে বর্নিত ৪র্থ শব্দ كَرِیْمٍۚۙ। এখানেআদল বা মুল : كرم (কারিম) সন্মানিত।

গ্রামারের দিক থেকে ভাবলে, যামানা ফায়াল মাঝি /অতীত কাল হলে হত : كَرَّمَ (কাররামা)

যামানা ফায়াল মাযরু / ভবিষ্যতকাল হলে হত : يُكَرِّمُ (ইউকাররামু)

সিফাতে আমর/ আদেশ মুলক হলে হত : كَرِّمْ (কাররামু)

ইশমে ফাল/কর্তা বাচ্য হলে হত : مُكَرِّم ( মুকাররাম)

ইশমে মাফাউল/ কর্ম হলে হত مُكَرَّم মুকাররাম

মাসদার /ক্রিয়া বাচক বিশেয্য হলে হত : تَكْرِيْم ( তাকরিম)

উপসংহারঃ আয়াতের সরল অনুবাদ নিজে বুঝে করে দেখা যায় যে রাসুলের বানীই কোরআন। সুতরাং রাসুল কোরআন ছাড়া আর কোন বানী কখনো কোথাও বলেন নাই বা লিপিবদ্ধ করারও সুযোগ নেই। তাই রাসুল কতৃক প্রচারীত বানী সংরক্ষনের দায়িত্ব স্বয়ং আল্লাহ নিয়েছেন। তাতে কোন বিষয়ে সাংঘর্ষিক বক্তব্য খুজে পাওয়া যাবে না।
তাই মানব রচিত/সংকলিত কোন বানীকে রাসুলের বাণী বিবেচনা করা হলে ভুল ও ভ্রষ্টতা হবে। লাফিল খুছরে।

Categories
Entertainment

সুফি কবি নজরুল ইসলাম

কবি অনেক আগেই জন্মচক্র রহস্য অনুধাবন করতে পেরেছিলেন বলেই এ গানটি রচনা করেছিলেন।

Categories
Innovator My text

জন্মচক্র রহস্যঃ

প্রথম মৃত্যুর পর এবং আমাদেরকে শাস্তি দেওয়া হইবে না!’( ৩৭:৫৯) ইহা তো মহাসাফল্য। (৩৭:৬০) এইরূপ সাফল্যের জন্য সাধকদের উচিত সাধনা করা,( ৩৭:৬১)

মানুষ জন্মগত ভাবে কেন অন্ধ, আতুর, পুঙ্গু হয়? কেন অপরিণত বয়সে মৃত্যু হচ্ছে, ভালো মেয়েটির শ্লীলতাহানী হচ্ছে, কেন নিরপরাধ মানুষ জেল খাটছে,?

আল্লাহ বলেনঃ পৃথিবীতে অথবা ব্যক্তিগতভাবে তোমাদের উপর যে বিপর্যয় আসে আমি উহা সংঘটিত করিবার পূর্বেই উহা লিপিবদ্ধ থাকে ;।( 57:22)

এর প্রত্যেকটির পিছনে একটি কারণ এবং জন্মচক্রের রহস্য লুকায়িত রয়েছে । তা না হলে বলতে হয় আল্লাহ পক্ষপাতিত্ব করছেন । কাউকে অন্ধ, খোঁড়া বানাচ্ছেন, আবার কাউকে ভালো বানাচ্ছেন, কিন্তু আল্লাহ তো নির্দোষ- নিরপেক্ষ । আল্লাহ পাক ঘোষণা করেছেনঃ
” যা কিছু মঙ্গল তা (আল্লাহ ) হতে আর যা কিছু মন্দ তা তোমা হতে ( সুরা নেসা ;-৭৯) ।

অথচ আমরা বলে থাকি সবই তো আল্লাহর হুকুমে হয়েছে । আল্লাহর উপর দোষ চাপিয়ে দেই । আমার যা কিছু মন্দ তা যদি আমার কৃতকর্মের ফলই হয়ে থাকে তাহলে আমার কর্মফলে আমিই গ্রেফতার, আল্লাহ নিরপেক্ষ ।

এর যথাযোগ্য সদ্ব্যবহার জান্নাতের দিকে উত্তরন বা প্রমোশন,আর এর অপব্যবহার জাহান্নামের দিকে পশ্চাৎপসরন বা ডিমোশন । তাই তো রব বলেনঃ তোমাদের অবশ্যি স্তরে স্তরে এক অবস্থা থেকে আর এক অবস্থার দিকে এগিয়ে যেতে হবে। ৮৪:১৯
তবে যারা মুত্তাকী তারা একবারই মৃত্যু বরন করবেন এবং রবের দিদার প্রাপ্ত হয়ে চিরকাল জান্নাতে অবস্থান করবেন। এটি আল্লাহর ঘোষণা। সুরা দোখান, আয়াত ৫৬

” প্রথম মৃত্যুর পর তাহারা সেখানে আর মৃত্যু আস্বাদন করিবে না। আর তাহাদেরকে জাহান্নামের শাস্তি হইতে রক্ষা করিবেন” -(৪৪:৫৬)
আর যারা অস্বীকার কারী অবাধ্য তার দুইবার কিংবা বারবার মৃত্যুর স্বাদ গ্রহন করবে যতক্ষন না জান্নাতে যাওয়ার মত পরিশুদ্ধ না হবে। এ বিষয়ে সূরা ইনশিকাকে আল্লাহ বলেনঃ নিশ্চয় তোমরা ধাপে ধাপে আরোহণ করিবে। (৮৪:১৯)

অন্যত্র আরো পরিস্কার ভাবে আল্লাহ বলেনঃ
আর এইরূপ সাফল্যের জন্য সাধকদের উচিত সাধনা করা,( ৩৭:৬১)

এ আয়াতেই জন্ম চক্রের রহস্য লুকায়িত। কারন হলো ইচ্ছাশক্তি প্রয়োগের বেলায় আল্লাহ নিরপেক্ষ । সুরা মোমিনের ৩৩ নং আয়াতে আল্লাহপাক বলেছেনঃ
” যে সময়ে তোমরা ফিরিয়া যাইবে পিছনে, আল্লাহর তরফ হইতে থাকিবে না তোমাদের জন্য কোনো সংরক্ষক এবং আল্লাহ যাহাকে ভ্রান্তিতে ফেলেন তাহার জন্য কোনো হাদী নাই ।”
আল্লাহ কাহাকেও ভ্রান্তির মধ্যে ফেলতে চান না ।
কারণ আল্লাহ সূরা হুদে বলে দিয়েছেনঃ “যে ব্যক্তি নিজের ভাগ্য নিজে পরিবর্তন করেনা আল্লাহ তার ভাগ্য পরিবর্তন করেনা । (১১ঃ৫৩)

তাঁরই সৃজিত প্রাকৃতিক নিয়ম যে মানুষ মহামানবের হেদায়েতের বিরোধীতা করলে মৃত্যুর পরে পেছনের দিকে অর্থাৎ পশুকুলে জন্ম নেয় । তখন তাদের জন্য কোনো হাদী থাকে না । একেই আল্লাহর বিভ্রান্তি বলা হয়েছে ।

মোহাম্মদ গোষ্ঠীর সাথে মিলিত না হওয়া পর্যন্ত (মুসলমান মুত্তাকী অবস্থায় উত্তীর্ণ না হওয়া পর্যন্ত ) মানুষের মুক্তি হবে না এবং জন্মচক্রের ফেরে রুপান্তরিত হয়ে বারবার এই দুনিয়া নামক জাহান্নামে আসতে হবে ।

এই দুনিয়াটাই যে জাহান্নাম এটা মোমিন অর্থাৎ সত্যদ্রষ্টা ব্যতীত কারো পক্ষে উপলব্ধি করা অসম্ভব। আল্লাহপাক কোরানে ঘোষণা করেছেন-
” তোমাদের যদি দিব্যচক্ষু থাকত তাহলে জান্নাত এবং জাহান্নাম দেখতে পেতে ” (সুরা তাকাচ্ছুর ) ।
কোরানের ঘোষণা অনুযায়ী মানুষকে জাহান্নামে দেওয়া হবে বলা হয়নি । মানুষ জাহান্নামে আছে বলা হয়েছে । একটু লক্ষ্য করে দেখুন তো জীবজগৎ ও প্রানিজগতে কয়টা জীব বা প্রানী অন্ধ, আতুর, খোঁড়া ও অঙ্গহীন হয়ে জন্মাচ্ছে ? সুরা বাকারার ২৮ নং আয়াতের দিকে, আমরা একটু লক্ষ্য করিলে কিছু চিন্তায় ফেলিয়া দিবে,আল্লাহ বলেনঃ
তোমরা কিরূপে আল্লাহ্কে অস্বীকার কর ? অথচ তোমরা ছিলে প্রাণহীন, তিনি তোমাদেরকে জীবন্ত করেছেন, আবার তোমাদের মৃত্যু ঘটাবেন ও পুনরায় জীবন্ত করবেন, পরিণামে তাঁর দিকেই তোমাদেরকে ফিরিয়ে আনা হবে। (আল বাকারা – ২৮)

যদি আমরা কোরান মাজিদের বিভিন্ন ধরনের আয়াত দ্বারা আল্লাহপাক মানুষকে বুঝাতে চেয়েছেন যে ” জন্ম মৃত্যুর চক্রে আবব্ধ হইয়া থাকিলে জান্নাতের সন্ধান পাইবে না।
আল্লাহ বলেনঃ  আমি তোমাদের জন্য মৃত্যু নির্ধারিত করেছি এবং আমি অক্ষম নই— তোমাদের স্থলে তোমাদের সদৃশ আনয়ন করতে এবং তোমাদেরকে এমন এক আকৃতিতে সৃষ্টি করতে যা তোমরা জান না আর অবশ্যই তোমরা অবগত হয়েছ (প্রথম সৃষ্টি) সম্পর্কে??, তবে তোমরা উপদেশ গ্ৰহণ করা না কেন? (৫৬ঃ৬০-৬২)

প্রথম মৃত্যুর পর এবং আমাদেরকে শাস্তি দেওয়া হইবে না!ইহা তো মহাসাফল্য। আর এইরূপ সাফল্যের জন্য সাধকদের উচিত সাধনা করা,( ৩৭:৫৯-৬১)

আরেক ধাপ এগিয়ে গিয়ে আল্লাহ বলেনঃ “হে মানুষ! তুমি তোমার প্রতিপালকের নিকট পৌঁছা পর্যন্ত কঠোর সাধনা করিতে থাক,পরে তুমি তাঁহার সাক্ষাৎ লাভ করিবে। ( ৮৪ঃ ৬)

পৃথিবীতে অথবা ব্যক্তিগতভাবে তোমাদের উপর যে বিপর্যয় আসে আমি উহা সংঘটিত করিবার পূর্বেই উহা লিপিবদ্ধ থাকে ; আল্লাহ্‌র পক্ষে ইহা খুবই সহজ।(৫৭ঃ২২)

তোমরা কিরূপে আল্লাহ্‌কে অস্বীকার কর ? অথচ তোমরা ছিলে প্রাণহীন, তিনি তোমাদেরকে জীবন্ত করিয়াছেন, আবার তোমাদের মৃত্যু ঘটাইবেন ও পুনরায় জীবন্ত করিবেন, পরিণামে তাঁহার দিকেই তোমাদেরকে ফিরাইয়া আনা হইবে। (2:28)

উহারা বলিবে, ‘হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি আমাদেরকে প্রাণহীন অবস্থায় দুইবার রাখিয়াছ এবং দুইবার আমাদেরকে প্রাণ দিয়াছ। আমরা আমাদের অপরাধ স্বীকার করিতেছি; এখন নিষ্ক্রমণের কোন পথ মিলিবে কি?’ (৪০:১১)

সরাসরি একবার মৃত্যুতে যেন আল্লাহর দিদার পাওয়া যায় সে জন্য আল্লাহ প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেনঃ “হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা আল্লাহ্‌কে যথার্থভাবে ভয় কর এবং তোমরা মুসলমান না হইয়া কোন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করিও না। (৩ঃ১০২)

আমার এ বিশ্লেষনে আপনি একমত থাকুন সে দাবী আমি করবো না, এবং আমি চুড়ান্ত বুঝেছি সে কথাও দাবী করব না। কিন্তু দ্বীমত হলে আপনি রেফারেন্স সহ তা তুলে ধরুন। আমাকে সত্য উম্মোচনে সহায়তা করুন। নচেৎ সত্যকে অস্বীকার বা মিথ্যেকে মেনে নেয়ার অপরাধে দায়ী থাকবেন আপনিও।
******************************

নিশ্চয় তোমরা ধাপে ধাপে আরোহণ করিবে। (৮৪:১৯)
لَتَرْكَبُنَّ طَبَقًا عَنْ طَبَقٍؕ
লাতারকাবুন্না  তাবাক্কান  আন  তাবাক।
অনুবাদঃ নিশ্চয় তোমরা ধাপে ধাপে আরোহণ করবে।

তারকীকঃ    لَتَرْكَبُنَّ =   তোমরা  অবশ্যই আরোহণ করবে,     طَبَقًا =  স্তর,   عَنْ =  থেকে,     طَبَقٍ =  স্তরে,

বালাগাত (শব্দ বিন্যাস)ঃ তোমাদের অবশ্যি স্তরে স্তরে এক অবস্থা থেকে আর এক অবস্থার দিকে এগিয়ে যেতে হবে।

সূফি কবি নজরুল ইসলাম অনেক আগেই জন্মচক্র রহস্য অনুধাবন করতে পেরেছিলেন বলেই এ গানটি রচনা করেছিলেন।

Categories
Innovator My text

জেনে শুনে বিষ করেছি পানঃ

 আমি জেনে শুনে বিষ করেছি পানঃ

আল্লাহ কি উপাস্য নাকি হুকুম দাতা (ইলাহ)?

আল্লাহ কুরআন এ বলেন আল্লাহ ইলাহ হুকুম দাতা। মানুষ আল্লাহকে বানাইল উপাস্য। ইসলাম এ কোন উপাসনা নাই। আছে কর্ম পদ্ধতি।

আল্লাহ সালাত দিল যেন মানুষ নিয়ম করে সালাতে কুরআন পাঠ করে, আল্লাহর হুকুমের ব্যাপারে যেন বেখেয়াল হয়ে না পড়ে। মানুষ বানিয়ে নিল না বুজে পড়া, উঠা, বসার রিচুয়াল উপাসনা। প্রত্যহ পাঁচ বেলা সালাত আদায় করে। কিন্তু একটিও কুরআনের শিক্ষা গ্রহন করে না। তাই নামাজ অশ্লিল ও খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখেও না।

আল্লাহ হজ্ব কে করল মুসলিম দের সম্মেলন স্থল। এখানেও মানুষ শুধু রিচুয়াল রেখে, মৌলিক বিষয় সম্মেলনে কে বাদ দিল। হজ্বের রিচুয়াল পালন হয়। কিন্তু কোন সম্মেলন হয় না।শুধু রিচুয়াল ই যদি হজ্ব হত তাহলে বিদায় হজ্ব এ রাসুলুল্লাহ মুসলিম দের উদ্দেশ্য বক্তৃতা দিল কেন? যা পরিচিত বিদায় হজ্বের ভাষন নামে? আজ মুসলমানদের কোন নেতাও নাই, কোন সম্মেলন ও নাই।

রোযা দেয়া হল, আত্মসংযমের মাধ্যমে নিজেকে পরিশুদ্ধ করার পদ্ধতি হিসেবে। এটাকে বানিয়ে নিল না খেয়ে থাকার রিচুয়াল। দুনিয়ার সব অপকর্ম সব করে রোযা থেকেও।

সবকাজে মুসলমানরা আজ ইসলামের মৌলিক শিক্ষা বাদ দিয়ে কিছু রিচুয়ালের মধ্যে ইসলাম কে বন্দি করল। যার সাথে অন্য ধর্মের উপাসনার মাঝে মৌলিক কোন পার্থক্য রইল না।

মুসলমানরা ইসলামের কর্মপদ্ধতি কে উপাসনা বানিয়ে আল্লাহর সাথে প্রতারণা করল। আল্লাহ ও মুসলমানদের নামিয়ে দিল অধপতনের নিম্ন সীমায়।

উপাস্য আর ইলাহ বা হুকুম দাতার এক নয়। বিষ আর মধু সমতুল্য।

অন্য সকল ধর্মে রয়েছে বিভিন্ন উপাস্য। একমাত্র ইসলাম অন্য সকল ধর্ম থেকে ব্যতিক্রম এ জন্যই যে ইসলামে উপাসনা নেই। আছে বিধান মেনে জীবন চলার নির্দেশ। আর এই বিধান দাতা একমাত্র আল্লাহ।।

Categories
Innovator My text

গোড়ায় গলদঃ

কালেমা তাইয়্যাবা কোন বাক্যটি ?
” লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ। “

কোরানে বা হাদীসে এভাবে কোন কালেমার অস্তিত্ত পাওয়া যায় না। যদিও সহী বুখারী শরীফে আছে, তা আবার আরবীতে “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ ওয়া আন্না মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ। “

কিন্তু বাংলা অনুবাদ করতে গিয়ে অব্যয় পদ “ওয়া আন্না” এর অনুবাদ না করে, ” লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ’ লিখা হয়েছে। ওয়া আন্না মানে এবং। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ একটি বাক্য এবং মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ একটি বাক্য।

একটি তাওহীদ ও আরেকটি রেসালত বিষয়ক। এ দুটি বাক্য একত্রে একটি বাক্য আকারে প্রকাশ করতে হলে অবশ্যই মাঝখানে একটি অব্যয় পদ ব্যবহার করতে হবে, নচেৎ অর্থ বিগরিয়ে যাবে এবং শিরক হতে পারে।

এবার গ্রামারের দিক থেকে তারকিব ও বালাগাত অনুযায়ী একটি উদাহরন দিয়ে যদি বুঝানো যায় বিষয়টি ক্লিয়ার হবে। যেমনঃ
১) আমি ও মামুন আজ ঢাকা যাব।
২) আমি মামুন আজ ঢাকা যাব।

১ম বাক্যে দুইজন মানুষকে বুঝায়, ২য় বাক্যে একজন মাত্র ব্যক্তিকে বুঝায়।
আরবী গ্রামার অনুযায়ী ১ম বাক্যে আমি মুকতাদা এবং মামুন খবর — দুইজনকে বুঝায়।
২য় বাক্যে “ও ” হরফ বা অব্যয় পদ না থাকায় — মুকতাদা এবং খবর এক হয়ে একজনকেই বুঝায়। অর্থাৎ যেই মামুন সেই আমি।
একটি অব্যয় পদের অনুপস্থিতির জন্য পুরা বাক্যের বালাগাত ভিন্ন হয়ে যায়।

তাই বাক্যে এই অব্যয় পদের অনুপস্থিতির জন্য অনেকে মাজার ভক্ত পীর দাবী করে থাকেনঃ
” রাসুল খোদা নেহি লেকিন খোদাছে জুদা নেহি।”

আপনার কালেমা তাইয়্যাবাতেই যদি গলদ থাকে তবে আপনি কেমন মুসলিম। দুঃখের বিষয় স্বয়ং সৌদি পতাকাতেও এই একই ভাবে কালেমা লিখা। প্রশ্ন আসে ইসলামের চারন ভুমি যেখান থেকে ইসলামের যাত্রা তারাও কি এ ভুল বুঝে না। উত্তরে বলবো না তারা তো বুঝেই না বরং বাংলাদেশ থেকে ইমাম নিয়ে কাবার মতুয়াল্লী করায়।

আমার বিশ্লেষনে আপনাকে একমত হতে বলবো না। আপনি আপনার বিশ্বাসে অটল থাকুন, তাতেও বাধা দিব না। শুধু বলবো এত গুরুত্তপুর্ণ একটি বাক্য لا الح الللة محمرر رسلللة যা দিয়ে আপনার ধর্মে প্রবেশ, সেটি কোরানে অথবা সহী, জাল, জঈফ কোন হাদীসে আছে কি না জানাবেন। আমিও চিন্তা মুক্ত হব।

 

Categories
Innovator My text

আল্লাহ উপাস্য নয় ইলাহঃ

   হায়! হায় !!!

আল্লাহ কি উপাস্য নাকি হুকুম দাতা (ইলাহ)?

আল্লাহ কুরআন এ বলেন আল্লাহ ইলাহ হুকুম দাতা। মানুষ আল্লাহকে বানাইল উপাস্য।ইসলাম এ কোন উপাসনা নাই। আছে কর্মপদ্ধতি।

আল্লাহ সালাত দিল যেন মানুষ নিয়ম করে সালাতে কুরআন পাঠ করে, আল্লাহর হুকুমের ব্যাপারে যেন বেখেয়াল হয়ে না পড়ে। মানুষ বানিয়ে নিল না বুজে পড়া, উঠা, বসার রিচুয়াল উপাসনা। প্রত্যহ পাঁচ বেলা সালাত আদায় করে। কিন্তু একটিও কুরআনের শিক্ষা গ্রহন করে না। তাই নামাজ অশ্লিল ও খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখেও না।

আল্লাহ হজ্ব কে করল মুসলিম দের সম্মেলন স্থল। এখানেও মানুষ শুধু রিচুয়াল রেখে, মৌলিক বিষয় সম্মেলনে কে বাদ দিল। হজ্বের রিচুয়াল পালন হয়। কিন্তু কোন সম্মেলন হয় না।শুধু রিচুয়াল ই যদি হজ্ব হত তাহলে বিদায় হজ্ব এ রাসুলুল্লাহ মুসলিম দের উদ্দেশ্য বক্তৃতা দিল কেন? যা পরিচিত বিদায় হজ্বের ভাষন নামে? আজ মুসলমানদের কোন নেতাও নাই, কোন সম্মেলন ও নাই।

রোযা দেয়া হল, আত্মসংযমের মাধ্যমে নিজেকে পরিশুদ্ধ করার পদ্ধতি হিসেবে। এটাকে বানিয়ে নিল না খেয়ে থাকার রিচুয়াল।
দুনিয়ার সব অপকর্ম সব করে রোযা থেকেও।

সব কাজে মুসলমানরা আজ ইসলামের মৌলিক শিক্ষা বাদ দিয়ে কিছু রিচুয়ালের মধ্যে ইসলাম কে বন্দি করল। যার সাথে অন্য ধর্মের উপাসনার মাঝে মৌলিক কোন পার্থক্য থাকে না।

মুসলমানরা ইসলামের কর্মপদ্ধতি কে উপাসনা বানিয়ে আল্লাহর সাথে প্রতারণা করল। আল্লাহ ও মুসলমানদের নামিয়ে দিল অধপতনের নিম্ন সীমায়।

উপাস্য আর ইলাহ বা হুকুম দাতার পার্থক্য কি?

ইসলাম অন্য ধর্ম থেকে ব্যতিক্রম এ জন্যই যে ইসলামে উপাসনা নেই। আছে বিধান মেনে জীবন চলার নির্দেশ। আর এই বিধান দাতা একমাত্র আল্লাহ।

Categories
My text

অনুবাদ বিভ্রাটঃ

কোরাআনের কিছু অনুবাদ বিভ্রাট কোরআনের মুল লক্ষ্য উদ্দেশ্য থেকে মানুষকে বিমুখ করে রেখেছে। যা সংশোধন একান্ত প্রয়োজন।

১) সালাত ( প্রচলিত অনুবাদ নামাজ)  (প্রকৃত বাংলা রবের আদেশের অনুশীলন)।

২] সিয়াম ( প্রচলিত অনুবাদ রোজা) ( প্রকৃত বাংলা অনুবাদ সকল বিষয়ে রবের নির্দেশে সংযম)

৩] হজ্জ (প্রচলিত অনুবাদ হজ্জ)  ( প্রকৃত বাংলা অনুবাদ মুসলিম মহা সম্মেলন)

৪] যাকাত ( প্রচলিত অনুবাদ যাকাত)  ( প্রকৃত বাংলা ভোগকৃত সকল অনুদানের পরিশুদ্ধ করন)

৫] রিবা (প্রচলিত অনুবাদ সুদ)  ( প্রকৃত বাংলা অনুবাদ নৈরাজ্য সৃষ্টি করে অনাচার)

৬]  ইবাদত ( প্রচলিত অনুবাদ ইবাদত)  (প্রকৃত বাংলা স্রষ্ষ্টার নির্দেশনা পরিপালন)

৭] ] ঈমান (প্রচলিত অনুবাদ বিশ্বাস)  ( প্রকৃত বাংলা আল্লাহর মনেনীত বিষয়ের উপর বিশ্বাস)

৮] একিন (প্রচলিত অনুবাদ একিন) ( ঈমানের পরিপুর্ণতা)

৯] রুহ (প্রচলিত অনুবাদ আল্লাহর আদেশ) ( প্রকৃত বাংলা অনুবাদ আল্লার উপস্থিতি বা অস্তিত্ব)

১০] নাফস ( প্রচলিত অনুবাদ নাফস)  ( প্রকৃত বাংলা অনুবাদ ভাল মন্দের মিশ্রিত প্রবৃত্তি)

১১] দ্বীন (প্রচলিত অনুবাদ ধর্ম)  ( প্রকৃত বাংলা অনুবাদ মনোনীত জীবন ব্যবস্থা)

১২]  ইসলাম (প্রচলিত অনুবাদ শান্তি) (প্রকৃত বাংলা অনুবাদ আত্মসমর্পন)

১৩] মুসলমান (প্রচলিত অনুবাদ ইসলামে দাখিল) ( প্রকৃত বাংলা ঈমান অনুযায়ী বাস্তব জীবন গঠনকারী)

১৪]  মুমিন ( প্রচলিত অনুবাদ মুমিন) ( প্রকৃত বাংলা অনুবাদ ঈমান অনুযায়ী জীবন প্রতিষ্ঠিত কারী)

১৫] রুহল কদ্দূস ( প্রচলিত অনুবাদ জিব্রাইল)  ( প্রকৃত বাংলা আল্লাহর স্বীয় ঊপস্থিতি।)

১৬] মালাইকা ( প্রচলিত অনুবাদ ফেরেস্তা) ( প্রকৃত বাংলা অনুবাদ রবের আজ্ঞাবাহী সত্তা)

১৭] রুকু ( প্রচলিত অনুবাদ রুকু বা ঝুঁকে পড়া) ( প্রকত বাংলা অনুবাদ প্রভুর আদেশের প্রতি  অবনত হওয়া)

১৮] সিজদাহ ( প্রচলিত অনুবাদ সিজদা বা মাটিতে মাথা নত) (প্রকৃত বাংলা অনুবাদ প্রভুর আদেশ পালনে লুটিয়ে পড়া)

১৯] উম্মি (প্রচলিত অনুবাদ মুর্খ বা অজ্ঞ) ( প্রকৃত বাংলা অনুবাদ অজ্ঞাত)

২০] লৌহে মাহফুজ (প্রচলিত অনুবাদ শিলা খন্ড)  (প্রকৃত বাংলা অনুবাদ পুর্ব নির্ধারিত সকল প্রোগ্রাম  সংরক্ষনাগার।)

২১] কিয়ামত (প্রচলিত অনুবাদ মহাপ্রলয়) ( প্রকৃত বাংলা অনুবাদ যেকোন বিষয়ে চূরান্ত সময়)

২৩] নিয়ামত (প্রচলিত অনুবাদ নিয়ামত বা কল্যান)  ( প্রকৃত বাংলা অনুবাদ প্রভুর বিনিময় বিহীন অনুদান)

২৪] বাঈয়া (প্রচলিত অনুবাদ ব্যবসা)  ( অনুশাসন মেনে জীবিকা)

২৫] সুন্নত (প্রচলিত অনুবাদব নবীর আদর্শ)  (প্রকৃত বাংলা অনুবাদ প্রভুর দেখানো রিতী অনুসরন করা)

২৬] হাদীস ( প্রচলিত অনুবাদ বানী বা কথা)  ( প্রকৃত বাংলা অনুবাদ আল্লাহর বাক্য)

২৭] আয়াত (প্রচলিত অনুবাদ কোরানের বাক্য) (প্রকৃত অনুবাদ আল্লাহর যে কোন নিদর্শন)

২৮] নাযিল (প্রচলিত অনুবাদ অবতীর্ন)  (প্রকৃত বাংলা অনুবাদ  প্রেরণ)

২৯) ছাকুরা ( প্রচলিত অনুবাদ নেশা)  ( প্রকৃত বাংলা অনুবাদ মোহ)  নেশা মাদকতাকে বুঝায়, যা সাময়িক মস্তিস্ক বিকৃত হয়, পক্ষান্তরে মোহ টাকা পয়সা,সংসার, সন্তান, ব্যবসা ইত্যাদীতে হয়ে অন্য মনস্ক হয়ে পড়ে। সালাতে বসে সব হিসাব মিলায়, কয় রাকাত পড়ছে সেটাও মনে থাকে না অন্যমনস্কতার জন্য। অথচ প্রচলিত অনুবাদে মর্ম দাড়ায় নেশা করা যায়েজ তবে নামাজের সময় নেশা করা যাবে না। (৪:৪৩ মতে)

অনুরপ হে ঈমানদার গন তোমরা চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ খেয়ো না। প্রচলিত এ অনুবাদ থেকে মর্ম দ্বারায় সুদ খাওয়া যায়েজ তবে চক্রবৃদদ্ধী আকারে নয়।  ইসলামী ব্যাংক।

২৯] তাকওয়া (প্রচলিত অনুবাদ খোদা ভীতি)  ( প্রকৃত বাংলা অনুবাদ আল্লাহর নির্দেশ পালনে কঠোর)  আল্লাকে ভয় করা নয়।  সৎ কর্মচারী মালিককে ভয় পায়না বরং শ্রদ্ধা করে। ভয় পাওয়া আর শ্রদ্ধা করা এক নয়। অসৎ কর্মচারী ভয় পাবে, তার অসততার দুর্বলতায়।
এমন আরো ১১ টি আরবী শব্দ রয়েছে যার বাংলা অনুবাদ এখনো করতে পারি নাই। কারন সেগুলির অনুরুপ আয়াত দ্বীতিয় নেই বলে। তবু চেষ্টা অব্যহত রেখেছি। এ অনুবাদ গুলি কোন অভিধান বা বাংলা একাডেমি থেকে গ্রহন করা হয় নি। সম্পুর্ণ নিজস্ব চিন্তা গবেষনায় কোরানের বিভিন্ন আয়াতের অনুবাদ থেকে গৃহীত নির্যাস হতে অনুবাদগুলি উপস্থাপন করা হলো। এর চেয়ে ভাল আরো কিছু হয়ত পরবর্তি প্রজন্ম আবিস্কার করবে। তাই এ অনুবাদ আমি কাউকে মানতে দৃঢ় প্রত্যয় করবো না।

তবে এতটুকু নিশ্চয়তা দিচ্ছি কোরআনে বর্ণিত এই আরবী শব্দ গুলির পিছনে এই বাংলা অনুবাদ গুলি বসিয়ে একবার পুরো কোরানটা পড়লে সে সত্যিকারই কোরানের মর্ম বুঝতে সক্ষম হবে এবং কোরানের প্রেমে পড়ে হাবুডুবু খাবে।

যারা কোরান বিমুখী এবং কোরানকে মানে কিন্তু অনুবাদ পড়তে রাজি নয়, ফলে প্রচলিত ইবাদতেই তৃপ্ত তাদের এমন অবস্থার প্রধান কারন এই ৪১ টি শব্দের ভুল বা বিদেশী অনুবাদ।

কোরানের মাত্র এই ৪১টি শব্দের সঠিক বাংলা অনুবাদ বসিয়ে কোরান নিজ ভাষায় পড়লে সে প্রচলিত এবাদতের অধিকাংশই পন্ডু সার মনে করবে। তাই আল্লাহ বলেনঃ উহারাই তাহারা, ‘পার্থিব জীবনে যাহাদের প্রচেষ্টা পণ্ড হয়, যদিও তাহারা মনে করে যে, তাহারা সৎকর্মই করিতেছে,(১৮:১০৪)

তাই সব না হলেও অন্তত দু-চারটি অনুরুপ আয়াতের আরবী শব্দ গুলির  অনুবাদে এই বাংলা অনুবাদ বসিয়ে যাচাই করে দেখার অনুরোধ।

অনুরুপ আরবী শব্দের ৪১ টি আয়াত আমি পরিবেশন করবো কোরআন থেকে। আপনি অনুবাদগুলি বসিয়ে দেখেন আল্লাহ কত সহজ ও প্রান্জল ভাবে আমাদের নির্দেশ উপদেশ দিয়েছেন আর আমরা অনুবাদ বিভ্রাটে কি বুঝে বসে আছি।

যেমন: হে ঈমানদারগন! তোমরা নেশা গ্রস্থ অবস্থায় নামাজের ধারে কাছে যেওনা, যতক্ষন না বুঝতে পার তোমরা কি বলছো।( ৪:৪৩)
উক্ত আয়াতে সালাতের বাংলা বসিয়ে দেখুন মর্ম কি দাড়ায়?

হে বিশ্বাসীগন !  তোমরা মোহ গ্রস্থ অবস্থায় রবের নির্দেশ অনুশীলনে  ব্রতী হইও না, যতক্ষন না বুঝতে পার তোমরা কি বলছো? (৪:৪৩)
এবার নিজেই ভাবুন কোন অনুবাদটি শ্রেয় মনে হয় বিবেকের কাছে। কারন আরবী আমাদের ভাষা নয়।  তাই এভাষাকে নিজ মাতৃভাষায় রুপান্তর না করে কিভাবে রবের নির্দেশনা আমাদের প্রতি উপদেশ সমুহ আমরা বুঝবো? আর কোরআনকে আরবী ভাষায় কেন  নাযিল করেছেন তার কারনও আল্লাহ বলে দিয়েছেন।
আমি যদি ‘আজমী ভাষায় কুরআন অবতীর্ণ করিতাম তবে উহারা অবশ্যই বলিত, ‘ইহার আয়াতগুলি বিশদভাবে বিবৃত হয় নাই কেন ?’ কী আশ্চর্য যে, ইহার ভাষা ‘আজমী, অথচ রাসূল আরবীয়! (৪১:৪৪)

বড় দূঃখ হয় আলেম সমাজের প্রতি। কেন তারা সত্য সঠিক প্রকাশে মনোনিবেশ করে না।

তাই মনে হয় আল্লাহ বলেছেনঃ আলেমগণ ও পণ্ডিতগণ কেন  পাপ কথা বলিতে ও অবৈধ ভক্ষণে নিষেধ করে না ? ইহারা যাহা করে নিশ্চয় তাহা নিকৃষ্ট (৫:৬৩)। আরো একধাপ এগিয়ে আল্লাহ বলেনঃ তবে কি উহারা কুরআন সম্বন্ধে গভীর  চিন্তা করে না? না উহাদের অন্তর তালাবদ্ধ? (৪৭:২৪)

এই লিখার উপর কোন আলেম কোন বাক্যে বা অনুবাদে দ্বীমত পোষন করলে মন্তব্যে জানানোর অনুরোধ রইল, আমি সংশোধন করে নেব।

********** সালাত,সিয়াম,হজ্জ,যাকাত,ইবাদত,একিন,রুহ, রিবা,নাফস,উম্মি,লৌহেমাহফুজ,নিয়ামত,সুন্নাত,হাদীস ইত্যাদী আরবী শব্দ গুলির সঠিক বাংলা অনুবাদ না থাকায় পারস্য অনুবাদের উপর ভর করে চলতে হয়। ফলে বাংলা ভাষাভাষির মানুষ কোরানে এ শব্দগুলি সমন্বিত আয়াত গুলির সঠিক মর্ম উপলব্ধিতে ব্যার্থ হয়ে গতানুগতিক অনুবাদ পড়ে আল্লাহর নির্দেশনা সঠিক ভাবে বুঝতে সক্ষম না হয়ে বিতর্কে লিপ্ত হয় এবং সঠিক উপলব্ধি থেকে দূরে সরে যায়। আমাদের আলেমগনও এ নিয়ে কোন চিন্তা গবেষনা কখনো করার প্রয়োজন বোধ করেন নাই। তারাও আরবী তেলোয়াতে নেকির হিস্যা নিয়ে আমজনতার নিকট প্রিয় ভাজন হয়ে আছেন। ধর্মকে জীবিকা হিসেব বেছে নিয়েছেন তারা। অথচ আরবী উর্দু ফারসী ইংরেজী ভাষার এমন কোন শব্দ নেই যার প্রতিস্থাপিত  বাংলা শব্দ নেই।

প্রথমতঃ বিষেশ করে কোরানের আরবী শব্দগুলির সঠিক বাংলা অনুবাদ করতে হলে সেই আরবী শব্দটি কোরানের কত যায়গায় আছে তা আগে সংগ্রহ করতে হয়। অতপর ঐ শব্দটির বাংলা অনুবাদ কি কি ব্যবহার করা হয়েছে তা অনুসন্ধান করতে হয়।

দ্বীতিয়তঃ আরবী শব্দটির বিপরীত আরবী কি  কোরানের কোন কোন আয়াতে আছে তা নির্বাচন করতে হয়। সেখান থেকে একটি শব্দের সঠিক অনুবাদ ধরতে পারলে বিপরীত শব্দটির বাংলা অনুবাদ সঠিক কি হবে তা নিরুপন করা সহজ হয়। যেমন লাইল এর বিপরীত নাহার শব্দটি কোরানের ১১টি আয়াতে আছ। এখন লাইল এর অর্থ জানা থাকলে নাহার দিবস সহজে সিদ্ধান্ত নেয়া যায়। এই দূইটি নচ্চ প্রয়োগ করে ফারসী অনুবাদ বাদ দিয়ে বাংলা শাব্দিক অনুবাদ সৃজন করা সম্ভব এবং তখন কোরানের সঠিক মর্ম বাংলাভাষার মানুষের উপলব্ধি করা সম্ভব।

যেমন রুহ একটি আরবী শব্দ, যার বাংলা অনুবাদ রহুই জানি, একটু বেশী হলে রুহ মানে আত্মা  বা প্রাণ বুঝি। আরকটু এগিয়ে বুঝলে রুহ এর অনুবাদ ” আল্লাহর আদেশ ” ধরে থাকি। ব্যাস এর বেশী কিছু না। এর বেশী কিছু জানতে চাইলে আলেমগন একটি আয়াত তুলে ধরে খামুস হতে বলেনঃ
“তোমাকে উহারা রূহ্ সম্পর্কে প্রশ্ন করে। বল, ‘রূহ্ আমার প্রতিপালকের আদেশ ঘটিত এবং তোমাদেরকে জ্ঞান দেওয়া হইয়াছে সামান্যই।’ আয়াত : ৮৫

রুহুর বিপরীত কোন শব্দ কোরানে প্রয়োগ করা হয় নি। তাই দ্বীতিয় পদ্ধতিতে এর বাংলা অনুবাদ করা সম্ভব নয়। প্রথম পদ্ধতি এপ্লাই করেই রুহের বাংলা অনুবাদ বের করে আনতে হবে।
তাই প্রথমে রুহ সংক্রান্ত সকল আয়াত গুলি কালেকশন করি।কোরানে রুহ নিয়ে মোট ৯টি আয়াত আছে। যেমনঃ
১) রুহ * ফিরিশ্‌তা এবং রূহ্ আল্লাহ্‌র দিকে ঊর্ধ্বগামী হয় এমন এক দিনে, যাহার পরিমাণ পার্থিব পঞ্চাশ হাযার বৎসর।(৭০ঃ৪)

২) রুহ* অতঃপর উহাদের হইতে সে পর্দা করিল। অতঃপর আমি তাহার নিকট আমার রূহ্কে পাঠাইলাম, সে তাহার নিকট পূর্ণ মানবাকৃতিতে আত্মপ্রকাশ করিল।(১৯:১৭)

৩) রুহ * তিনি তাঁহার বান্দাদের মধ্যে যাহার প্রতি ইচ্ছা স্বীয় রুহ ওহী সহ ফেরেস্তাহ প্রেরণ করেন এই বলিয়া যে, তোমরা সতর্ক কর, নিশ্চয়ই আমি ব্যতীত কোন ইলাহ্ নাই; সুতরাং আমাকে ভয় কর।( ১৬: ২)

৪) রুহ * তোমাকে উহারা রূহ্ সম্পর্কে প্রশ্ন করে। বল, ‘রূহ্ আমার প্রতিপালকের আদেশ ঘটিত এবং তোমাদেরকে জ্ঞান দেওয়া হইয়াছে সামান্যই।’ সূরা নম্বর:  আয়াত নম্বর: ৮৫

৫) রুহ* জিব্‌রাঈল ইহা লইয়া অবতরণ করিয়াছে (২৬:১৯৩)

৬) রুহ * তিনি সমুচ্চ মর্যাদার অধিকারী, ‘আরশের অধিপতি, তিনি তাঁহার বান্দাদের মধ্যে যাহার প্রতি ইচ্ছা ওহী প্রেরণ করেন স্বীয় রুহ , যাহাতে সে সতর্ক করিতে পারে কিয়ামত দিবস সম্পর্কে। (৪০: ১৫)

৭);রুহ * ফিরিশ্‌তা এবং রূহ্ আল্লাহ্‌র দিকে ঊর্ধ্বগামী হয় এমন এক দিনে, যাহার পরিমাণ পার্থিব পঞ্চাশ হাযার বৎসর।(৭০: ৪)

৮) রুহ* সেই দিন রূহ্ ও ফিরিশ্‌তাগণ সারিবদ্ধভাবে দাঁড়াইবে ; দয়াময় যাহাকে অনুমতি দিবেন সে ব্যতীত অন্যেরা কথা বলিবে না এবং সে যথার্থ বলিবে।(৭৮:৩৮)

৯) রুহ * সেই রাত্রিতে ফিরিশতাগণ ও রূহ্ অবতীর্ণ হয় প্রত্যেক কাজে তাহাদের প্রতিপালকের  অনুমতিক্রমে।(৯৭:৪)

এবার দেখুন ১ নং আয়াতে রুহুর অনুবাদ “রুহ” লিখেছে
২) নং এ “আমার রুহ ” লিখেছে অনুবাদে
৩) নং এ রুহর অনুবাদে স্বীয় রুহ লিখেছে
৪) নং এ রুহ এর অনুবাদ রুহ ই করেছে
৫) নং এ রুহ এর অনুবাদ ” জিব্রাঈল ” লিখেছে অনুবাদ
৬) নং এ রুহের অনুবাদ “স্বীয় রুহ ” অনুবাদ করেছে
৭) নং আয়াতে রুহ এর অনুবাদ রুহ করেছে
৮) নং আয়াতে রুহ এর অনুবাদ রুহ লিখা হয়েছে
৯) নং আয়াতে একটু  ব্তিক্রম রুহ এর অনুবাদ আল্লাহর অনুমতি ক্রমে রুহ লিখেছে
*** সব কটি আয়াত পর্যালোচনা করে রুহ এর বাংলা অনুবাদ ” আল্লাহর অস্তিত্ব ” বুঝায়।
এবার আপনি রুহ শব্দের বাংলা অনুবাদ “আল্লাহর অস্তিত্ব”  বসিয়ে অনুবাদ করে দেখুন, প্রতিটি আয়াতের মর্ম আপনার নিকট কত সহজ ও বোধগম্য হয়ে হৃদয়ে উপলব্ধি আসে।
এভাবে সালাত, হজ্জ, সিয়াম, যাকাত, রিবা, ইবাদত, একিন,নিয়ামত, আয়াত,উম্মি,দ্বীন, সিজদাহ, রুকু  ইত্যাদি আরবী শব্দগুলির বাংলা অনুবাদ সৃষ্টি করে বসিয়ে দেখুন আল্লাহ কত প্রাঞ্জল ভাষায় আমাদের কি বুঝাতে চেয়েছেন আর আমরা কি বুঝে বসে আছি, শুধু সঠিক অনুবাদের অভাবে।

Verified by MonsterInsights