Categories
Innovator My text

গোড়ায় গলদঃ

কালেমা তাইয়্যাবা কোন বাক্যটি ?
” লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ। “

কোরানে বা হাদীসে এভাবে কোন কালেমার অস্তিত্ত পাওয়া যায় না। যদিও সহী বুখারী শরীফে আছে, তা আবার আরবীতে “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ ওয়া আন্না মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ। “

কিন্তু বাংলা অনুবাদ করতে গিয়ে অব্যয় পদ “ওয়া আন্না” এর অনুবাদ না করে, ” লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ’ লিখা হয়েছে। ওয়া আন্না মানে এবং। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ একটি বাক্য এবং মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ একটি বাক্য।

একটি তাওহীদ ও আরেকটি রেসালত বিষয়ক। এ দুটি বাক্য একত্রে একটি বাক্য আকারে প্রকাশ করতে হলে অবশ্যই মাঝখানে একটি অব্যয় পদ ব্যবহার করতে হবে, নচেৎ অর্থ বিগরিয়ে যাবে এবং শিরক হতে পারে।

এবার গ্রামারের দিক থেকে তারকিব ও বালাগাত অনুযায়ী একটি উদাহরন দিয়ে যদি বুঝানো যায় বিষয়টি ক্লিয়ার হবে। যেমনঃ
১) আমি ও মামুন আজ ঢাকা যাব।
২) আমি মামুন আজ ঢাকা যাব।

১ম বাক্যে দুইজন মানুষকে বুঝায়, ২য় বাক্যে একজন মাত্র ব্যক্তিকে বুঝায়।
আরবী গ্রামার অনুযায়ী ১ম বাক্যে আমি মুকতাদা এবং মামুন খবর — দুইজনকে বুঝায়।
২য় বাক্যে “ও ” হরফ বা অব্যয় পদ না থাকায় — মুকতাদা এবং খবর এক হয়ে একজনকেই বুঝায়। অর্থাৎ যেই মামুন সেই আমি।
একটি অব্যয় পদের অনুপস্থিতির জন্য পুরা বাক্যের বালাগাত ভিন্ন হয়ে যায়।

তাই বাক্যে এই অব্যয় পদের অনুপস্থিতির জন্য অনেকে মাজার ভক্ত পীর দাবী করে থাকেনঃ
” রাসুল খোদা নেহি লেকিন খোদাছে জুদা নেহি।”

আপনার কালেমা তাইয়্যাবাতেই যদি গলদ থাকে তবে আপনি কেমন মুসলিম। দুঃখের বিষয় স্বয়ং সৌদি পতাকাতেও এই একই ভাবে কালেমা লিখা। প্রশ্ন আসে ইসলামের চারন ভুমি যেখান থেকে ইসলামের যাত্রা তারাও কি এ ভুল বুঝে না। উত্তরে বলবো না তারা তো বুঝেই না বরং বাংলাদেশ থেকে ইমাম নিয়ে কাবার মতুয়াল্লী করায়।

আমার বিশ্লেষনে আপনাকে একমত হতে বলবো না। আপনি আপনার বিশ্বাসে অটল থাকুন, তাতেও বাধা দিব না। শুধু বলবো এত গুরুত্তপুর্ণ একটি বাক্য لا الح الللة محمرر رسلللة যা দিয়ে আপনার ধর্মে প্রবেশ, সেটি কোরানে অথবা সহী, জাল, জঈফ কোন হাদীসে আছে কি না জানাবেন। আমিও চিন্তা মুক্ত হব।

 

Categories
Innovator My text

আল্লাহ উপাস্য নয় ইলাহঃ

   হায়! হায় !!!

আল্লাহ কি উপাস্য নাকি হুকুম দাতা (ইলাহ)?

আল্লাহ কুরআন এ বলেন আল্লাহ ইলাহ হুকুম দাতা। মানুষ আল্লাহকে বানাইল উপাস্য।ইসলাম এ কোন উপাসনা নাই। আছে কর্মপদ্ধতি।

আল্লাহ সালাত দিল যেন মানুষ নিয়ম করে সালাতে কুরআন পাঠ করে, আল্লাহর হুকুমের ব্যাপারে যেন বেখেয়াল হয়ে না পড়ে। মানুষ বানিয়ে নিল না বুজে পড়া, উঠা, বসার রিচুয়াল উপাসনা। প্রত্যহ পাঁচ বেলা সালাত আদায় করে। কিন্তু একটিও কুরআনের শিক্ষা গ্রহন করে না। তাই নামাজ অশ্লিল ও খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখেও না।

আল্লাহ হজ্ব কে করল মুসলিম দের সম্মেলন স্থল। এখানেও মানুষ শুধু রিচুয়াল রেখে, মৌলিক বিষয় সম্মেলনে কে বাদ দিল। হজ্বের রিচুয়াল পালন হয়। কিন্তু কোন সম্মেলন হয় না।শুধু রিচুয়াল ই যদি হজ্ব হত তাহলে বিদায় হজ্ব এ রাসুলুল্লাহ মুসলিম দের উদ্দেশ্য বক্তৃতা দিল কেন? যা পরিচিত বিদায় হজ্বের ভাষন নামে? আজ মুসলমানদের কোন নেতাও নাই, কোন সম্মেলন ও নাই।

রোযা দেয়া হল, আত্মসংযমের মাধ্যমে নিজেকে পরিশুদ্ধ করার পদ্ধতি হিসেবে। এটাকে বানিয়ে নিল না খেয়ে থাকার রিচুয়াল।
দুনিয়ার সব অপকর্ম সব করে রোযা থেকেও।

সব কাজে মুসলমানরা আজ ইসলামের মৌলিক শিক্ষা বাদ দিয়ে কিছু রিচুয়ালের মধ্যে ইসলাম কে বন্দি করল। যার সাথে অন্য ধর্মের উপাসনার মাঝে মৌলিক কোন পার্থক্য থাকে না।

মুসলমানরা ইসলামের কর্মপদ্ধতি কে উপাসনা বানিয়ে আল্লাহর সাথে প্রতারণা করল। আল্লাহ ও মুসলমানদের নামিয়ে দিল অধপতনের নিম্ন সীমায়।

উপাস্য আর ইলাহ বা হুকুম দাতার পার্থক্য কি?

ইসলাম অন্য ধর্ম থেকে ব্যতিক্রম এ জন্যই যে ইসলামে উপাসনা নেই। আছে বিধান মেনে জীবন চলার নির্দেশ। আর এই বিধান দাতা একমাত্র আল্লাহ।

Categories
My text

অনুবাদ বিভ্রাটঃ

কোরাআনের কিছু অনুবাদ বিভ্রাট কোরআনের মুল লক্ষ্য উদ্দেশ্য থেকে মানুষকে বিমুখ করে রেখেছে। যা সংশোধন একান্ত প্রয়োজন।

১) সালাত ( প্রচলিত অনুবাদ নামাজ)  (প্রকৃত বাংলা রবের আদেশের অনুশীলন)।

২] সিয়াম ( প্রচলিত অনুবাদ রোজা) ( প্রকৃত বাংলা অনুবাদ সকল বিষয়ে রবের নির্দেশে সংযম)

৩] হজ্জ (প্রচলিত অনুবাদ হজ্জ)  ( প্রকৃত বাংলা অনুবাদ মুসলিম মহা সম্মেলন)

৪] যাকাত ( প্রচলিত অনুবাদ যাকাত)  ( প্রকৃত বাংলা ভোগকৃত সকল অনুদানের পরিশুদ্ধ করন)

৫] রিবা (প্রচলিত অনুবাদ সুদ)  ( প্রকৃত বাংলা অনুবাদ নৈরাজ্য সৃষ্টি করে অনাচার)

৬]  ইবাদত ( প্রচলিত অনুবাদ ইবাদত)  (প্রকৃত বাংলা স্রষ্ষ্টার নির্দেশনা পরিপালন)

৭] ] ঈমান (প্রচলিত অনুবাদ বিশ্বাস)  ( প্রকৃত বাংলা আল্লাহর মনেনীত বিষয়ের উপর বিশ্বাস)

৮] একিন (প্রচলিত অনুবাদ একিন) ( ঈমানের পরিপুর্ণতা)

৯] রুহ (প্রচলিত অনুবাদ আল্লাহর আদেশ) ( প্রকৃত বাংলা অনুবাদ আল্লার উপস্থিতি বা অস্তিত্ব)

১০] নাফস ( প্রচলিত অনুবাদ নাফস)  ( প্রকৃত বাংলা অনুবাদ ভাল মন্দের মিশ্রিত প্রবৃত্তি)

১১] দ্বীন (প্রচলিত অনুবাদ ধর্ম)  ( প্রকৃত বাংলা অনুবাদ মনোনীত জীবন ব্যবস্থা)

১২]  ইসলাম (প্রচলিত অনুবাদ শান্তি) (প্রকৃত বাংলা অনুবাদ আত্মসমর্পন)

১৩] মুসলমান (প্রচলিত অনুবাদ ইসলামে দাখিল) ( প্রকৃত বাংলা ঈমান অনুযায়ী বাস্তব জীবন গঠনকারী)

১৪]  মুমিন ( প্রচলিত অনুবাদ মুমিন) ( প্রকৃত বাংলা অনুবাদ ঈমান অনুযায়ী জীবন প্রতিষ্ঠিত কারী)

১৫] রুহল কদ্দূস ( প্রচলিত অনুবাদ জিব্রাইল)  ( প্রকৃত বাংলা আল্লাহর স্বীয় ঊপস্থিতি।)

১৬] মালাইকা ( প্রচলিত অনুবাদ ফেরেস্তা) ( প্রকৃত বাংলা অনুবাদ রবের আজ্ঞাবাহী সত্তা)

১৭] রুকু ( প্রচলিত অনুবাদ রুকু বা ঝুঁকে পড়া) ( প্রকত বাংলা অনুবাদ প্রভুর আদেশের প্রতি  অবনত হওয়া)

১৮] সিজদাহ ( প্রচলিত অনুবাদ সিজদা বা মাটিতে মাথা নত) (প্রকৃত বাংলা অনুবাদ প্রভুর আদেশ পালনে লুটিয়ে পড়া)

১৯] উম্মি (প্রচলিত অনুবাদ মুর্খ বা অজ্ঞ) ( প্রকৃত বাংলা অনুবাদ অজ্ঞাত)

২০] লৌহে মাহফুজ (প্রচলিত অনুবাদ শিলা খন্ড)  (প্রকৃত বাংলা অনুবাদ পুর্ব নির্ধারিত সকল প্রোগ্রাম  সংরক্ষনাগার।)

২১] কিয়ামত (প্রচলিত অনুবাদ মহাপ্রলয়) ( প্রকৃত বাংলা অনুবাদ যেকোন বিষয়ে চূরান্ত সময়)

২৩] নিয়ামত (প্রচলিত অনুবাদ নিয়ামত বা কল্যান)  ( প্রকৃত বাংলা অনুবাদ প্রভুর বিনিময় বিহীন অনুদান)

২৪] বাঈয়া (প্রচলিত অনুবাদ ব্যবসা)  ( অনুশাসন মেনে জীবিকা)

২৫] সুন্নত (প্রচলিত অনুবাদব নবীর আদর্শ)  (প্রকৃত বাংলা অনুবাদ প্রভুর দেখানো রিতী অনুসরন করা)

২৬] হাদীস ( প্রচলিত অনুবাদ বানী বা কথা)  ( প্রকৃত বাংলা অনুবাদ আল্লাহর বাক্য)

২৭] আয়াত (প্রচলিত অনুবাদ কোরানের বাক্য) (প্রকৃত অনুবাদ আল্লাহর যে কোন নিদর্শন)

২৮] নাযিল (প্রচলিত অনুবাদ অবতীর্ন)  (প্রকৃত বাংলা অনুবাদ  প্রেরণ)

২৯) ছাকুরা ( প্রচলিত অনুবাদ নেশা)  ( প্রকৃত বাংলা অনুবাদ মোহ)  নেশা মাদকতাকে বুঝায়, যা সাময়িক মস্তিস্ক বিকৃত হয়, পক্ষান্তরে মোহ টাকা পয়সা,সংসার, সন্তান, ব্যবসা ইত্যাদীতে হয়ে অন্য মনস্ক হয়ে পড়ে। সালাতে বসে সব হিসাব মিলায়, কয় রাকাত পড়ছে সেটাও মনে থাকে না অন্যমনস্কতার জন্য। অথচ প্রচলিত অনুবাদে মর্ম দাড়ায় নেশা করা যায়েজ তবে নামাজের সময় নেশা করা যাবে না। (৪:৪৩ মতে)

অনুরপ হে ঈমানদার গন তোমরা চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ খেয়ো না। প্রচলিত এ অনুবাদ থেকে মর্ম দ্বারায় সুদ খাওয়া যায়েজ তবে চক্রবৃদদ্ধী আকারে নয়।  ইসলামী ব্যাংক।

২৯] তাকওয়া (প্রচলিত অনুবাদ খোদা ভীতি)  ( প্রকৃত বাংলা অনুবাদ আল্লাহর নির্দেশ পালনে কঠোর)  আল্লাকে ভয় করা নয়।  সৎ কর্মচারী মালিককে ভয় পায়না বরং শ্রদ্ধা করে। ভয় পাওয়া আর শ্রদ্ধা করা এক নয়। অসৎ কর্মচারী ভয় পাবে, তার অসততার দুর্বলতায়।
এমন আরো ১১ টি আরবী শব্দ রয়েছে যার বাংলা অনুবাদ এখনো করতে পারি নাই। কারন সেগুলির অনুরুপ আয়াত দ্বীতিয় নেই বলে। তবু চেষ্টা অব্যহত রেখেছি। এ অনুবাদ গুলি কোন অভিধান বা বাংলা একাডেমি থেকে গ্রহন করা হয় নি। সম্পুর্ণ নিজস্ব চিন্তা গবেষনায় কোরানের বিভিন্ন আয়াতের অনুবাদ থেকে গৃহীত নির্যাস হতে অনুবাদগুলি উপস্থাপন করা হলো। এর চেয়ে ভাল আরো কিছু হয়ত পরবর্তি প্রজন্ম আবিস্কার করবে। তাই এ অনুবাদ আমি কাউকে মানতে দৃঢ় প্রত্যয় করবো না।

তবে এতটুকু নিশ্চয়তা দিচ্ছি কোরআনে বর্ণিত এই আরবী শব্দ গুলির পিছনে এই বাংলা অনুবাদ গুলি বসিয়ে একবার পুরো কোরানটা পড়লে সে সত্যিকারই কোরানের মর্ম বুঝতে সক্ষম হবে এবং কোরানের প্রেমে পড়ে হাবুডুবু খাবে।

যারা কোরান বিমুখী এবং কোরানকে মানে কিন্তু অনুবাদ পড়তে রাজি নয়, ফলে প্রচলিত ইবাদতেই তৃপ্ত তাদের এমন অবস্থার প্রধান কারন এই ৪১ টি শব্দের ভুল বা বিদেশী অনুবাদ।

কোরানের মাত্র এই ৪১টি শব্দের সঠিক বাংলা অনুবাদ বসিয়ে কোরান নিজ ভাষায় পড়লে সে প্রচলিত এবাদতের অধিকাংশই পন্ডু সার মনে করবে। তাই আল্লাহ বলেনঃ উহারাই তাহারা, ‘পার্থিব জীবনে যাহাদের প্রচেষ্টা পণ্ড হয়, যদিও তাহারা মনে করে যে, তাহারা সৎকর্মই করিতেছে,(১৮:১০৪)

তাই সব না হলেও অন্তত দু-চারটি অনুরুপ আয়াতের আরবী শব্দ গুলির  অনুবাদে এই বাংলা অনুবাদ বসিয়ে যাচাই করে দেখার অনুরোধ।

অনুরুপ আরবী শব্দের ৪১ টি আয়াত আমি পরিবেশন করবো কোরআন থেকে। আপনি অনুবাদগুলি বসিয়ে দেখেন আল্লাহ কত সহজ ও প্রান্জল ভাবে আমাদের নির্দেশ উপদেশ দিয়েছেন আর আমরা অনুবাদ বিভ্রাটে কি বুঝে বসে আছি।

যেমন: হে ঈমানদারগন! তোমরা নেশা গ্রস্থ অবস্থায় নামাজের ধারে কাছে যেওনা, যতক্ষন না বুঝতে পার তোমরা কি বলছো।( ৪:৪৩)
উক্ত আয়াতে সালাতের বাংলা বসিয়ে দেখুন মর্ম কি দাড়ায়?

হে বিশ্বাসীগন !  তোমরা মোহ গ্রস্থ অবস্থায় রবের নির্দেশ অনুশীলনে  ব্রতী হইও না, যতক্ষন না বুঝতে পার তোমরা কি বলছো? (৪:৪৩)
এবার নিজেই ভাবুন কোন অনুবাদটি শ্রেয় মনে হয় বিবেকের কাছে। কারন আরবী আমাদের ভাষা নয়।  তাই এভাষাকে নিজ মাতৃভাষায় রুপান্তর না করে কিভাবে রবের নির্দেশনা আমাদের প্রতি উপদেশ সমুহ আমরা বুঝবো? আর কোরআনকে আরবী ভাষায় কেন  নাযিল করেছেন তার কারনও আল্লাহ বলে দিয়েছেন।
আমি যদি ‘আজমী ভাষায় কুরআন অবতীর্ণ করিতাম তবে উহারা অবশ্যই বলিত, ‘ইহার আয়াতগুলি বিশদভাবে বিবৃত হয় নাই কেন ?’ কী আশ্চর্য যে, ইহার ভাষা ‘আজমী, অথচ রাসূল আরবীয়! (৪১:৪৪)

বড় দূঃখ হয় আলেম সমাজের প্রতি। কেন তারা সত্য সঠিক প্রকাশে মনোনিবেশ করে না।

তাই মনে হয় আল্লাহ বলেছেনঃ আলেমগণ ও পণ্ডিতগণ কেন  পাপ কথা বলিতে ও অবৈধ ভক্ষণে নিষেধ করে না ? ইহারা যাহা করে নিশ্চয় তাহা নিকৃষ্ট (৫:৬৩)। আরো একধাপ এগিয়ে আল্লাহ বলেনঃ তবে কি উহারা কুরআন সম্বন্ধে গভীর  চিন্তা করে না? না উহাদের অন্তর তালাবদ্ধ? (৪৭:২৪)

এই লিখার উপর কোন আলেম কোন বাক্যে বা অনুবাদে দ্বীমত পোষন করলে মন্তব্যে জানানোর অনুরোধ রইল, আমি সংশোধন করে নেব।

********** সালাত,সিয়াম,হজ্জ,যাকাত,ইবাদত,একিন,রুহ, রিবা,নাফস,উম্মি,লৌহেমাহফুজ,নিয়ামত,সুন্নাত,হাদীস ইত্যাদী আরবী শব্দ গুলির সঠিক বাংলা অনুবাদ না থাকায় পারস্য অনুবাদের উপর ভর করে চলতে হয়। ফলে বাংলা ভাষাভাষির মানুষ কোরানে এ শব্দগুলি সমন্বিত আয়াত গুলির সঠিক মর্ম উপলব্ধিতে ব্যার্থ হয়ে গতানুগতিক অনুবাদ পড়ে আল্লাহর নির্দেশনা সঠিক ভাবে বুঝতে সক্ষম না হয়ে বিতর্কে লিপ্ত হয় এবং সঠিক উপলব্ধি থেকে দূরে সরে যায়। আমাদের আলেমগনও এ নিয়ে কোন চিন্তা গবেষনা কখনো করার প্রয়োজন বোধ করেন নাই। তারাও আরবী তেলোয়াতে নেকির হিস্যা নিয়ে আমজনতার নিকট প্রিয় ভাজন হয়ে আছেন। ধর্মকে জীবিকা হিসেব বেছে নিয়েছেন তারা। অথচ আরবী উর্দু ফারসী ইংরেজী ভাষার এমন কোন শব্দ নেই যার প্রতিস্থাপিত  বাংলা শব্দ নেই।

প্রথমতঃ বিষেশ করে কোরানের আরবী শব্দগুলির সঠিক বাংলা অনুবাদ করতে হলে সেই আরবী শব্দটি কোরানের কত যায়গায় আছে তা আগে সংগ্রহ করতে হয়। অতপর ঐ শব্দটির বাংলা অনুবাদ কি কি ব্যবহার করা হয়েছে তা অনুসন্ধান করতে হয়।

দ্বীতিয়তঃ আরবী শব্দটির বিপরীত আরবী কি  কোরানের কোন কোন আয়াতে আছে তা নির্বাচন করতে হয়। সেখান থেকে একটি শব্দের সঠিক অনুবাদ ধরতে পারলে বিপরীত শব্দটির বাংলা অনুবাদ সঠিক কি হবে তা নিরুপন করা সহজ হয়। যেমন লাইল এর বিপরীত নাহার শব্দটি কোরানের ১১টি আয়াতে আছ। এখন লাইল এর অর্থ জানা থাকলে নাহার দিবস সহজে সিদ্ধান্ত নেয়া যায়। এই দূইটি নচ্চ প্রয়োগ করে ফারসী অনুবাদ বাদ দিয়ে বাংলা শাব্দিক অনুবাদ সৃজন করা সম্ভব এবং তখন কোরানের সঠিক মর্ম বাংলাভাষার মানুষের উপলব্ধি করা সম্ভব।

যেমন রুহ একটি আরবী শব্দ, যার বাংলা অনুবাদ রহুই জানি, একটু বেশী হলে রুহ মানে আত্মা  বা প্রাণ বুঝি। আরকটু এগিয়ে বুঝলে রুহ এর অনুবাদ ” আল্লাহর আদেশ ” ধরে থাকি। ব্যাস এর বেশী কিছু না। এর বেশী কিছু জানতে চাইলে আলেমগন একটি আয়াত তুলে ধরে খামুস হতে বলেনঃ
“তোমাকে উহারা রূহ্ সম্পর্কে প্রশ্ন করে। বল, ‘রূহ্ আমার প্রতিপালকের আদেশ ঘটিত এবং তোমাদেরকে জ্ঞান দেওয়া হইয়াছে সামান্যই।’ আয়াত : ৮৫

রুহুর বিপরীত কোন শব্দ কোরানে প্রয়োগ করা হয় নি। তাই দ্বীতিয় পদ্ধতিতে এর বাংলা অনুবাদ করা সম্ভব নয়। প্রথম পদ্ধতি এপ্লাই করেই রুহের বাংলা অনুবাদ বের করে আনতে হবে।
তাই প্রথমে রুহ সংক্রান্ত সকল আয়াত গুলি কালেকশন করি।কোরানে রুহ নিয়ে মোট ৯টি আয়াত আছে। যেমনঃ
১) রুহ * ফিরিশ্‌তা এবং রূহ্ আল্লাহ্‌র দিকে ঊর্ধ্বগামী হয় এমন এক দিনে, যাহার পরিমাণ পার্থিব পঞ্চাশ হাযার বৎসর।(৭০ঃ৪)

২) রুহ* অতঃপর উহাদের হইতে সে পর্দা করিল। অতঃপর আমি তাহার নিকট আমার রূহ্কে পাঠাইলাম, সে তাহার নিকট পূর্ণ মানবাকৃতিতে আত্মপ্রকাশ করিল।(১৯:১৭)

৩) রুহ * তিনি তাঁহার বান্দাদের মধ্যে যাহার প্রতি ইচ্ছা স্বীয় রুহ ওহী সহ ফেরেস্তাহ প্রেরণ করেন এই বলিয়া যে, তোমরা সতর্ক কর, নিশ্চয়ই আমি ব্যতীত কোন ইলাহ্ নাই; সুতরাং আমাকে ভয় কর।( ১৬: ২)

৪) রুহ * তোমাকে উহারা রূহ্ সম্পর্কে প্রশ্ন করে। বল, ‘রূহ্ আমার প্রতিপালকের আদেশ ঘটিত এবং তোমাদেরকে জ্ঞান দেওয়া হইয়াছে সামান্যই।’ সূরা নম্বর:  আয়াত নম্বর: ৮৫

৫) রুহ* জিব্‌রাঈল ইহা লইয়া অবতরণ করিয়াছে (২৬:১৯৩)

৬) রুহ * তিনি সমুচ্চ মর্যাদার অধিকারী, ‘আরশের অধিপতি, তিনি তাঁহার বান্দাদের মধ্যে যাহার প্রতি ইচ্ছা ওহী প্রেরণ করেন স্বীয় রুহ , যাহাতে সে সতর্ক করিতে পারে কিয়ামত দিবস সম্পর্কে। (৪০: ১৫)

৭);রুহ * ফিরিশ্‌তা এবং রূহ্ আল্লাহ্‌র দিকে ঊর্ধ্বগামী হয় এমন এক দিনে, যাহার পরিমাণ পার্থিব পঞ্চাশ হাযার বৎসর।(৭০: ৪)

৮) রুহ* সেই দিন রূহ্ ও ফিরিশ্‌তাগণ সারিবদ্ধভাবে দাঁড়াইবে ; দয়াময় যাহাকে অনুমতি দিবেন সে ব্যতীত অন্যেরা কথা বলিবে না এবং সে যথার্থ বলিবে।(৭৮:৩৮)

৯) রুহ * সেই রাত্রিতে ফিরিশতাগণ ও রূহ্ অবতীর্ণ হয় প্রত্যেক কাজে তাহাদের প্রতিপালকের  অনুমতিক্রমে।(৯৭:৪)

এবার দেখুন ১ নং আয়াতে রুহুর অনুবাদ “রুহ” লিখেছে
২) নং এ “আমার রুহ ” লিখেছে অনুবাদে
৩) নং এ রুহর অনুবাদে স্বীয় রুহ লিখেছে
৪) নং এ রুহ এর অনুবাদ রুহ ই করেছে
৫) নং এ রুহ এর অনুবাদ ” জিব্রাঈল ” লিখেছে অনুবাদ
৬) নং এ রুহের অনুবাদ “স্বীয় রুহ ” অনুবাদ করেছে
৭) নং আয়াতে রুহ এর অনুবাদ রুহ করেছে
৮) নং আয়াতে রুহ এর অনুবাদ রুহ লিখা হয়েছে
৯) নং আয়াতে একটু  ব্তিক্রম রুহ এর অনুবাদ আল্লাহর অনুমতি ক্রমে রুহ লিখেছে
*** সব কটি আয়াত পর্যালোচনা করে রুহ এর বাংলা অনুবাদ ” আল্লাহর অস্তিত্ব ” বুঝায়।
এবার আপনি রুহ শব্দের বাংলা অনুবাদ “আল্লাহর অস্তিত্ব”  বসিয়ে অনুবাদ করে দেখুন, প্রতিটি আয়াতের মর্ম আপনার নিকট কত সহজ ও বোধগম্য হয়ে হৃদয়ে উপলব্ধি আসে।
এভাবে সালাত, হজ্জ, সিয়াম, যাকাত, রিবা, ইবাদত, একিন,নিয়ামত, আয়াত,উম্মি,দ্বীন, সিজদাহ, রুকু  ইত্যাদি আরবী শব্দগুলির বাংলা অনুবাদ সৃষ্টি করে বসিয়ে দেখুন আল্লাহ কত প্রাঞ্জল ভাষায় আমাদের কি বুঝাতে চেয়েছেন আর আমরা কি বুঝে বসে আছি, শুধু সঠিক অনুবাদের অভাবে।

Categories
Innovator My text

জন্ম-মৃত্যু চক্রের রহস্যঃ

জন্মমৃত্যু চক্রের রহস্য আল- কোরআনে কি বলে?

প্রথম মৃত্যুর পর এবং আমাদেরকে শাস্তিও দেওয়া হইবে না!’( ৩৭:৫৯) ইহা তো মহাসাফল্য। (৩৭:৬০) এইরূপ সাফল্যের জন্য সাধকদের উচিত সাধনা করা,( ৩৭:৬১)

মানুষ কেন অন্ধ, আতুর, পঙ্গু, বড়লোক, মুটে, নাস্তিক, হচ্ছে ; কেন অপরিণত বয়সে মৃত্যু হচ্ছে, ভালো মেয়েটির শ্লীলতাহানী হচ্ছে, কেন নিরপরাধ মানুষ জেল খাটছে, কেউ বিরাট অট্রালিকায় বাস করে নিঃসন্তান, আবার কেউ গাছের নিচে ফুটপাতে বাস করেও অসংখ্য সন্তানের জনক।

আল্লাহ বলেনঃ পৃথিবীতে অথবা ব্যক্তিগতভাবে তোমাদের উপর যে বিপর্যয় আসে আমি উহা সংঘটিত করিবার পূর্বেই উহা লিপিবদ্ধ থাকে ; আল্লাহ্‌র পক্ষে ইহা খুবই সহজ।( 57:22)

এর প্রত্যেকটির পিছনে একটি কারণ এবং জন্মচক্রের রহস্য লুকায়িত রয়েছে । তা না হলে বলতে হয় আল্লাহ পক্ষপাতিত্ব করছেন । কাউকে অন্ধ, খোঁড়া বানাচ্ছেন, আবার কাউকে ভালো বানাচ্ছেন, কিন্তু আল্লাহ তো নির্দোষ- নিরপেক্ষ । আল্লাহ পাক ঘোষণা করেছেন যা কিছু মঙ্গল তা (আল্লাহ ) হতে আর যা কিছু মন্দ তা তোমা হতে ( সুরা নেসা ;-৭৯) । অথচ আমরা বলে থাকি সবই তো আল্লাহর হুকুমে হয়েছে । আল্লাহর উপর দোষ চাপিয়ে দেই । আমার যা কিছু মন্দ তা যদি আমার কৃতকর্মের ফলই হয়ে থাকে তাহলে আমার কর্মফলে আমিই গ্রেফতার, আল্লাহ নিরপেক্ষ ।

এর যথাযোগ্য সদ্ব্যবহার জান্নাতের দিকে উত্তরন বা প্রমোশন,আর এর অপব্যবহার জাহান্নামের দিকে পশ্চাৎপসরন বা ডিমোশন ।

নিশ্চয় তোমরা ধাপে ধাপে আরোহণ করিবে। (৮৪:১৯)

তবে যারা মুত্তাকী তারা একবারই মৃত্যু বরন করবেন এবং রবের দিদার প্রাপ্ত হয়ে চিরকাল জান্নাতে অবস্থান করবেন। এটি আল্লাহর ঘোষণা। সুরা দোখান, আয়াত ৫৬

” প্রথম মৃত্যুর পর তাহারা সেখানে আর মৃত্যু আস্বাদন করিবে না। আর তাহাদেরকে জাহান্নামের শাস্তি হইতে রক্ষা করিবেন(৪৪:৫৬)

আর যারা অস্বীকার কারী অবাধ্য তার দুইবার কিংবা বারবার মৃত্যুর স্বাদ গ্রহন করবে যতক্ষন না জান্নাতে যাওয়ার মত পরিশুদ্ধ না হবে। সূরা ইনশিকাকে আল্লাহ বলেনঃ নিশ্চয় তোমরা ধাপে ধাপে আরোহণ করিবে। (৮৪:১৯)

এ আয়াতেই জন্ম চক্রের রহস্য লুকায়িত। কারন হলো ইচ্ছাশক্তি প্রয়োগের বেলায় আল্লাহ নিরপেক্ষ । সুরা মোমিনের ৩৩ নং আয়াতে আল্লাহপাক বলেছেন- ” যে সময়ে তোমরা ফিরিয়া যাইবে পিছনে, আল্লাহর তরফ হইতে থাকিবে না তোমাদের জন্য কোনো সংরক্ষক এবং আল্লাহ যাহাকে ভ্রান্তিতে ফেলেন তাহার জন্য কোনো হাদী নাই ।” আল্লাহ কাহাকেও ভ্রান্তির মধ্যে ফেলতে চান না ।
কারণ আল্লাহ সূরা হুদে বলে দিয়েছেনঃ “যে ব্যক্তি নিজের ভাগ্য নিজে পরিবর্তন করেনা আল্লাহ তার ভাগ্য পরিবর্তন করেনা । (১১ঃ৫৩)

তাঁরই সৃজিত প্রাকৃতিক নিয়ম যে মানুষ মহামানবের হেদায়েতের বিরোধীতা করলে মৃত্যুর পরে পেছনের দিকে অর্থাৎ পশুকুলে জন্ম নেয় । তখন তাদের জন্য কোনো হাদী থাকে না । একেই আল্লাহর বিভ্রান্তি বলা হয়েছে ।মোহাম্মদ গোষ্ঠীর সাথে মিলিত না হওয়া পর্যন্ত (মুসলমান মুত্তাকী অবস্থায় উত্তীর্ণ না হওয়া পর্যন্ত ) মানুষের মুক্তি হবে না এবং জন্মচক্রের ফেরে রুপান্তরিত হয়ে বারবার এই দুনিয়া নামক জাহান্নামে আসতে হবে ।

এই দুনিয়াটাই যে জাহান্নাম এটা মোমিন অর্থাৎ সত্যদ্রষ্টা ব্যতীত কারো পক্ষে উপলব্ধি করা অসম্ভব । আল্লাহপাক কোরানে ঘোষণা করেছেন- ” তোমাদের যদি দিব্যচক্ষু থাকত তাহলে জান্নাত এবং জাহান্নাম দেখতে পেতে ” (সুরা তাকাচ্ছুর ) । কোরানের ঘোষণা অনুযায়ী মানুষকে জাহান্নামে দেওয়া হবে বলা হয়নি । মানুষ জাহান্নামে আছে বলা হয়েছে । একটু লক্ষ্য করে দেখুন তো জীবজগৎ ও প্রানী জগতে কয়টা জীব বা প্রানী অন্ধ, আতুর, খোঁড়া ও অঙ্গহীন হয়ে জন্মাচ্ছে ? সুরা বাকারার ২৮ নং আয়াতের দিকে, আমরা একটু লক্ষ্য করিলে কিছু চিন্তায় ফেলিয়া দিবে,আল্লাহ বলেনঃ তোমরা কিরূপে আল্লাহ্কে অস্বীকার কর ? অথচ তোমরা ছিলে প্রাণহীন, তিনি তোমাদেরকে জীবন্ত করেছেন, আবার তোমাদের মৃত্যু ঘটাবেন ও পুনরায় জীবন্ত করবেন, পরিণামে তাঁর দিকেই তোমাদেরকে ফিরিয়ে আনা হবে। (বাকারা – ২৮)

যদি আমরা কোরান মাজিদের বিভিন্ন ধরনের আয়াত দ্বারা আল্লাহপাক মানুষকে বুঝাতে চেয়েছেন যে ” জন্ম মৃত্যুর চক্রে আবব্ধ হইয়া থাকিলে জান্নাতের সন্ধান পাইবে না।

আল্লাহ বলেনঃ  আমি তোমাদের জন্য মৃত্যু নির্ধারিত করেছি এবং আমি অক্ষম নই— তোমাদের স্থলে তোমাদের সদৃশ আনয়ন করতে এবং তোমাদেরকে এমন এক আকৃতিতে সৃষ্টি করতে যা তোমরা জান না আর অবশ্যই তোমরা অবগত হয়েছ (প্রথম সৃষ্টি) সম্পর্কে?, তবে তোমরা উপদেশ গ্ৰহণ করা না কেন? (৫৬ঃ৬০-৬২)

প্রথম মৃত্যুর পর এবং আমাদেরকে শাস্তি দেওয়া হইবে না! ইহা তো মহাসাফল্য। আর এইরূপ সাফল্যের জন্য সাধকদের উচিত সাধনা করা,( ৩৭:৫৯-৬১)

আরেক ধাপ এগিয়ে গিয়ে আল্লাহ বলেনঃ “হে মানুষ! তুমি তোমার প্রতিপালকের নিকট পৌঁছা পর্যন্ত কঠোর সাধনা করিতে থাক,পরে তুমি তাঁহার সাক্ষাৎ লাভ করিবে। ( ৮৪ঃ ৬)

পৃথিবীতে অথবা ব্যক্তিগতভাবে তোমাদের উপর যে বিপর্যয় আসে আমি উহা সংঘটিত করিবার পূর্বেই উহা লিপিবদ্ধ থাকে ; আল্লাহ্‌র পক্ষে ইহা খুবই সহজ।(৫৭ঃ২২)

উহারা বলিবে, ‘হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি আমাদেরকে প্রাণহীন অবস্থায় দুইবার রাখিয়াছ এবং দুইবার আমাদেরকে প্রাণ দিয়াছ। আমরা আমাদের অপরাধ স্বীকার করিতেছি; এখন নিষ্ক্রমণের কোন পথ মিলিবে কি?’ (৪০:১১)

সরাসরি একবার মৃত্যুতে যেন আল্লাহর দিদার পাওয়া যায় সে জন্য আল্লাহ প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেনঃ “হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা আল্লাহ্‌কে যথার্থভাবে ভয় কর এবং তোমরা মুসলমান না হইয়া কোন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করিও না। (৩ঃ১০২)

***************************

কর্মফল থেকে কারো রেহাই নেই । প্রতিটি কর্মফল অনুযায়ী মানুষের তকদির রচিত হচ্ছে। 

জীব ও প্রাণি জগতের কথা বাদই দিলাম । মানুষ কেন অন্ধ, আতুর, পঙ্গু, বড়লোক, মুটে, নাস্তিক, ঠেলাওয়ালা হচ্ছে ; কেন অপরিণত বয়সে মৃত্যু হচ্ছে, ভালো মেয়েটির শ্লীলতাহানী হচ্ছে, কেন নিরপরাধ মানুষ জেল খাটছে, কেন ভদ্র ঘরের মেয়ে ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিপাকে পড়ে বেশ্যা বৃত্তিতে প্রবৃত্ত হচ্ছে, মাসুম বাচ্চাকে গাড়ি চাপা দিয়ে চলে যাচ্ছে, বজ্রাঘাতে, সর্পাঘাতে, জলোচ্ছ্বাসে, ভূমিকম্পে, টাইফুনে মৃত্যু হচ্ছে নিষ্পাপ মাসুম শিশুটির। কেউ বিরাট অট্রালিকায় বাস করে নিঃসন্তান, আবার কেউ গাছের নিচে ফুটপাতে বাস করেও অসংখ্য সন্তানের জনক, কেউ কোরমা- পোলাওসহ বারো পদ দিয়ে খাচ্ছে, কেউ ডাস্টবিন থেকে উচ্ছিষ্ট তুলে কুকুরের সাথে ভাগাভাগি করে খাচ্ছে । এর প্রত্যেকটির পিছনে একটি কারণ এবং জন্মচক্রের রহস্য লুকায়িত রয়েছে । তা না হলে বলতে হয় আল্লাহ পক্ষপাতিত্ব করছেন । কাউকে অন্ধ, খোঁড়া বানাচ্ছেন, আবার কাউকে ভালো বানাচ্ছেন, কিন্তু আল্লাহতো নির্দোষ- নিরপেক্ষ, কারন আল্লাহর আরেক নাম আদেল বা ন্যায়বিচারক । আল্লাহ পাক ঘোষণা করেছেন যা কিছু মঙ্গল তা (আল্লাহ ) হতে আর যা কিছু মন্দ তা তোমা হতে (সুরা নেসাঃ৭৯) ।

অথচ আমরা বলে থাকি সবই তো আল্লাহর হুকুমে হয়েছে । আল্লাহর উপর দোষ চাপিয়ে দেই । আমার যা কিছু মন্দ তা যদি আমার কৃতকর্মের ফলই হয়ে থাকে তাহলে আমার কর্মফলে আমিই গ্রেফতার, আল্লাহ নিরপেক্ষ । বস্ত জগতের সাথে নফস (চিত্তবৃত্তির সামগ্রিক অভিব্যক্তি)-এর ঘনিষ্ঠ মাখামাখির ফলে আমাদের কলব অসংখ্য তাগুত কর্তৃক পরিবেষ্টিত হয়ে আছে । চিত্তের  আয়নায় জং ধরে গেছে। আমিত্বের পরদা কঠিন হয়ে গেছে, আল্লাহর রহস্য উপলব্ধি করার জ্ঞান বা ক্ষমতা নেই । অথচ একটু জ্ঞান দিয়ে অনুধাবন করার চেষ্টা করলে সব কিছু ধরা পড়বে । আল্লাহ মানুষকে সাময়িক ইচ্ছা শক্তি দান করেছেন    (Limited Free Will And Choice ) যা সৃষ্টিতে (জ্বীন ব্যাতীত) অন্য কোনো জীব বা প্রাণি জগতে দেওয়া হয়নি ।

এর যথাযোগ্য সদ্ব্যবহার জান্নাতের দিকে উত্তরন বা প্রমোশন,আর এর অপব্যবহার জাহান্নামের দিকে পশ্চাৎপসরন বা ডিমোশন ।

নিশ্চয় তোমরা ধাপে ধাপে আরোহণ করিবে। (৮৪:১৯) لَتَرْكَبُنَّ طَبَقًا عَنْ طَبَقٍؕ
লাতারকাবুন্না তাবাক্কান আন তাবাক।
অনুবাদঃ নিশ্চয় তোমরা ধাপে ধাপে আরোহণ করবে।

তারকীকঃ لَتَرْكَبُنَّ = তোমরা অবশ্যই আরোহণ করবে, طَبَقًا = স্তর, عَنْ = থেকে, طَبَقٍ = স্তরে,

অনুবাদঃ তোমাদের অবশ্যি স্তরে স্তরে এক অবস্থা থেকে আর এক অবস্থার দিকে এগিয়ে যেতে হবে।

ইচ্ছাশক্তি প্রয়োগের বেলায় আল্লাহ নিরপেক্ষ । সুরা মোমিনের ৩৩ নং আয়াতে আল্লাহপাক বলেছেন- ” যে সময়ে তোমরা ফিরিয়া যাইবে পিছনে, আল্লাহর তরফ হইতে থাকিবে না তোমাদের জন্য কোনো সংরক্ষক এবং আল্লাহ যাহাকে ভ্রান্তিতে ফেলেন তাহার জন্য কোনো হাদী নাই ।” আল্লাহ কাহাকেও ভ্রান্তির মধ্যে ফেলতে চান না ।

এবার আসা যাক সূরা তাকাছুর “তোমাদের যদি দিব্যচক্ষু থাকত তাহলে জান্নাত এবং জাহান্নাম দেখতে পেতে। এ আয়াত কি বুঝায়?

তাঁরই সৃজিত প্রাকৃতিক নিয়ম যে মানুষ মহামানবের হেদায়েতের বিরোধীতা করলে মৃত্যুর পরে পেছনের দিকে অর্থাৎ পশুকুলে জন্ম নেয় । তখন তাদের জন্য কোনো হাদী থাকে না । একেই আল্লাহর বিভ্রান্তি বলা হয়েছে । মোহাম্মদ গোষ্ঠীর সাথে মিলিত না হওয়া পর্যন্ত মানুষের মুক্তি হবে না এবং জন্মচক্রের ফেরে রুপান্তরিত হয়ে বারবার এই দুনিয়া নামক জাহান্নামে আসতে হবে । এই দুনিয়াটাই যে জাহান্নাম এটা

যদি আমরা কোরান মাজিদের বিভিন্ন ধরনের আয়াত দ্বারা আল্লাহপাক মানুষকে বুঝাতে চেয়েছেন যে ” জন্ম মৃত্যুর চক্রে আবব্ধ হইয়া থাকিলে জান্নাতের সন্ধান পাইবে না।

আমার এ বিশ্লেষনে আপনি একমত থাকুন সে দাবী আমি করবো না, কিন্তু দ্বীমত হলে আপনি রেফারেন্স সহ তা তুলে ধরুন। নচেৎ সত্যকে অস্বীকার বা মিথ্যেকে মেনে নেয়ার অপরাধে দায়ী থাকবেন রবের নিকট।

Categories
My text

মোল্লার পশু কোরবানীঃ

_________ মোল্লার ফতুয়ায় কোরবানীঃ

হজ্জের অনুষ্ঠান ছাড়া পশু কোরবানী প্রথা ধর্মব্যবসায়ীদের সৃষ্টি একটি প্রথা মাত্র, আল্লাহর পক্ষ থেকে নয়।

গরুটির বয়স ২ বছর প্লাস। দাত পড়েনি বলে মোল্লার ফতোয়া কোরবানী চলবে না। ৯১ হাজারে বিক্রী করে দিল। হাট হতে ৯৩ হাজারে দুই দাত পড়েছে এমন একটি গরু কিনে আনা হল। মোল্লা বলেছেন কান কাটা বা লেজ কাটা এমন খোদ থাকলে কোরবানী হবে না। তাই খুব ভাল করে যাচাই বাছাই করে একটি নিখুত গরু কিনা হলো।

গরুটি খাসি করা বলে খুব দ্রুত বেরে উঠেছে এবং সুঠামো দেহে গড়ে উঠেছে। আমি বললাম অঙ্গ কর্তন করা আল্লাহর বিধানে নেই।

তাই খাসি করা গরুটি কোরবানীর জন্য ত্রুটি যুক্ত রয়ে গেল। “তাহারা পশুর কর্ণচ্ছেদ করিবেই, এবং তাহাদেরকে নিশ্চয়ই নির্দেশ দিব আর তাহারা আল্লাহ্‌র সৃষ্টি বিকৃত করিবেই।(৪:১১৯)

মোল্লা নির্ভর কোরবানী দাতা এবার বিপাকে।

মোল্লা বলিল ফতুয়ায়ে শামিলের রেফারেন্সে পশুদের খাসি করা জায়েজ। আমি রেফারেন্স দিয়েছিলাম কোরান থেকে পশুর অঙ্গ হানি নিষিদ্ধ। হেরে গেল কোরান মোল্লার ফতুয়ায়ে শামিলের নিকট।

উপস্থিত সবাই সমস্বরে বলে উঠলো হুজুর যা বলেছে তাহাই সঠিক। আপনি মাদ্রাসায় পড়েছেন কি? কয়টি হাদীস আরবীতে পড়তে পারবেন? আমরা বাপ দাদা পুর্ব পুরুষদের নিকট এভাবেই এ নিয়মেই কোরবানী করতে দেখে এসেছি।

আমি কোরানের এ আয়াত তুলে ধরলাম এ প্রেক্ষিতে।

” যখন তাহাদেরকে বলা হয়, ‘আল্লাহ্ যাহা অবতীর্ণ করিয়াছেন তাহার দিকে ও রাসূলের দিকে আস’, তাহারা বলে, ‘আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদেরকে যাহাতে পাইয়াছি তাহাই আমাদের জন্য যথেষ্ট।’ যদিও তাহাদের পূর্ব পুরুষগণ কিছুই জানিত না এবং সৎপথ প্রাপ্তও ছিল না, তবুও কি ? (৫ঃ১০৪)

প্রতি উত্তর এলো এ আয়াত তখনকার সময়ের কাফেরদের জন্য নাযিল। আমরা কি কাফের? মোল্লা মুচকী হাসি দিয়ে জনতার পক্ষে সমর্থন জানালো।

এবার আমি আরেকটি আয়াত তুলে ধরলাম।

উহাদেরকে যখন বলা হয়, ‘আল্লাহ্ যাহা অবতীর্ণ করিয়াছেন তাহা অনুসরণ কর।’ উহারা বলে, ‘বরং আমরা আমাদের পিতৃ পুরুষদেরকে যাহাতে পাইয়াছি তাহারই অনুসরণ করিব।’ শয়তান যদি উহাদেরকে জ্বলন্ত অগ্নির শাস্তির দিকে আহবান করে, তবুও কি? (৩১ঃ২১)

প্রতি উত্তর এল সারা দুনিয়ার মানুষ যেভাবে কোরবানী দিয়ে আসছে যুগ যুগ ধরে আপনি একা তার বিপক্ষে আপনার নতুন মত পেশ করছেন কেন? আমি এবারও আরেকটি আয়াত পেশ করলাম এ বিষয়ে।

যদি তুমি দুনিয়ার অধিকাংশ লোকের কথামত চল তবে তাহারা তোমাকে আল্লাহ্‌র পথ হইতে বিচ্যুত করিবে। তাহারা তো শুধু অনুমানের অনুসরণ করে ; আর তাহারা শুধু অনুমান ভিত্তিক কথা বলে।” (৬ঃ১১৬)

এবার যুক্তি তুলে ধরলো সব আলেম গন কি তা হলে ভুলের মধ্যে আছে আপনি মনে করেন, আর আপনি একা সঠিক বুঝতেছেন? সবার মতামতকে আপনি প্রাধান্যই দিচ্ছেন না। যদি ভুলও হয় কোন সিদ্ধান্ত সংখ্যাগরিষ্ঠ আলেম সমাজ যদি তা সঠিক মনে করে আল্লাহও তা কবুল করেন। মোল্লা এবার দাড়িতে পাচ আঙ্গুল প্রবেস করিয়ে চিরুনী আচড়া করতে করতে হেসে বললেন মাশআল্লাহ!! আমি এর উত্তরে কোরানের এ আয়াতগুলি পেশ করলাম।

তোমার প্রতিপালক হইতে তোমার প্রতি যাহা অবতীর্ণ হইয়াছে তাহা যে ব্যক্তি সত্য বলিয়া জানে আর যে অন্ধ তাহারা কি সমান? উপদেশ গ্রহণ করে শুধু বিবেক শক্তি সম্পন্নগণই,(১৩ঃ১৯)

উহাদের অধিকাংশ অনুমানেরই অনুসরণ করে, সত্যের পরিবর্তে অনুমান কোন কাজে আসে না উহারা যাহা করে নিশ্চয়ই আল্লাহ্ সে বিষয়ে সবিশেষ অবহিত।(১০ঃ৩৬)

মানুষের মধ্যে কেহ কেহ অজ্ঞতা বশতঃ আল্লাহ্‌র পথ হইতে বিচ্যুত করিবার জন্য অসার হাদীস গ্রহন করিয়া নেয় এবং আল্লাহ্-প্রদর্শিত পথ লইয়া ঠাট্টা-বিদ্রূপ করে। উহাদেরই জন্য রহিয়াছে অবমাননাকর শাস্তি।( 31:6)

তোমরা সত্যকে মিথ্যার সঙ্গে মিশ্রিত করিও না এবং জানিয়া-শুনিয়া সত্য গোপন করিও না।(২ঃ৪২)

মোল্লাজী এবার নিজেই মুখ খুলে বলে উঠলেন, এ আয়াত জাহেলী যুগের জনতার উদ্দেশ্য নাযিল। আপনি আয়াত নাযিলের শানেনুযুল জানেন। আমাকে কুপোকাত করার জন্য। আমি সহজে ক্ষান্ত হবার নই। এবার পেশ করলামঃ
অনুসরণ কর তাদের বিনিময় কামনা করে না সুরা ইয়াছিন আয়াত নং –২১। পেশাদার ইমাম আগুনখোর অপবিত্র জাহান্নামি ২ঃ১৭৪।

এবার মোল্লাজী তার শেষ হাতিয়ার হাদীসের কারামতি পেশ করে বললেন: কোরান আপনি সরাসরি নবীকে ছাড়া কি বুঝবেন? নবী কোরানের সব মর্ম বুঝিয়ে গেছেন তার হাদীসের মাধ্যমে। আপনি কয়টি হাদীস পড়েছেন?

আমি একটি মাত্র হাদীস ভালভাবে পড়েছি। তা হলোঃ

জাবির বিন আবদুল্লাহ্‌ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট উপস্থিত থাকা অবস্থায় তিনি একটি সরল রেখা টানলেন এবং তাঁর ডান দিকে দু’টি সরল রেখা টানলেন এবং বাম দিকেও দু’টি সরল রেখা টানলেন। অতঃপর তিনি মধ্যবর্তী রেখার উপর তাঁর হাত রেখে বলেনঃ এটা আল্লাহ্‌র রাস্তা। অতঃপর তিনি এ আয়াত তিলওয়াত করেন (অনুবাদ) : ‘’এবং এ পথই আমার সরল পথ। অতএব তোমরা এ পথেরই অনুসরণ করো এবং বিভিন্ন পথ অনুসরণ করো না, অন্যথায় তা তোমাদেরকে তাঁর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলবে। (৬:১৫৪) তিরমিজি হাদীস নং ১১

মোল্লা এবার ক্ষেপে বললেন জনতাকে লক্ষ্য করে নতুন ফেতনা সৃষ্টি হবে এটাও হাদীসে আছে। আপনি সেই ফেতনা আমি আশংকা করছি। উপস্থিত সব মোল্লারকে সমর্থন জানালো। আমার বুঝতে আর বাকি রইল না। এখানে আর অবস্থান করলে তায়েফের মাটি হয়ে যাবে।

আলোচনার সারমর্ম উপলব্ধি করতে আমার বাকি রইল না আর। হাদীসের একটি সুবিধা অনুকুলে হলে মেনে নেয়া, আর অনুকুলে না হলে অস্বীকার করলেও কাফের হয় না। কিন্তু কোরানের একটি আয়াত অস্বীকার করলে সরাসরি কাফের কোন সন্দেহ নাই।

দীর্ঘ দিনের পালিত অভ্যাস, বাপদাদার যে ভাবে এবাদত করতে দেখে আসতেছে, অধিকাংশ লোকে যে ভাবে ধর্ম কার্যাদি সম্পাদন করতে দেখে আসতেছে তা থেকে সড়ে এসে যত সত্য কথাই উপস্থাপন করা হোক না কেন, মানুষ তা গ্রহন করতে রাজি না, যদিও কোরআন থেকে সুস্পষ্ট দৃষ্টান্ত দেয়া হয়।

আর এমন হবে তা আল্লাহ জানেন বলেই আল্লাহ বলেনঃ ” যদি তুমি দুনিয়ার অধিকাংশ লোকের কথামত চল তবে তাহারা তোমাকে আল্লাহ্‌র পথ হইতে বিচ্যুত করিবে। তাহারা তো শুধু অনুমানের অনুসরণ করে ; আর তাহারা শুধু অনুমান ভিত্তিক কথা বলে।” (৬ঃ১১৬)

সুস্পষ্ট প্রমাণিক ঐশী কিতাব থাকার পরেও যারা তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং দলে দলে বিভক্ত হয়ে গেছে, তারাই আহলে কিতাবদের মধ্যে কাফির।

Categories
My text

কোরবানী ২০২৪

দীর্ঘ দিনের পালিত অভ্যাস, বাপদাদার যে ভাবে এবাদত করতে দেখে আসতেছে, অধিকাংশ লোকে যে ভাবে ধর্ম কার্যাদি সম্পাদন করতে দেখে আসতেছে তা থেকে সড়ে এসে যত সত্য কথাই উপস্থাপন করা হোক না কেন, মানুষ তা গ্রহন করতে রাজি না, যদিও কোরআন থেকে সুস্পষ্ট দৃষ্টান্ত দেয়া হয়।

আর এমন হবে তা আল্লাহ জানেন বলেই আল্লাহ বলেনঃ ” যদি তুমি দুনিয়ার অধিকাংশ লোকের কথামত চল তবে তাহারা তোমাকে আল্লাহ্‌র পথ হইতে বিচ্যুত করিবে। তাহারা তো শুধু অনুমানের অনুসরণ করে ; আর তাহারা শুধু অনুমান ভিত্তিক কথা বলে।” (৬ঃ১১৬)

হাদীসের একটি সুবিধা অনুকুলে হলে মেনে নেয়া, আর অনুকুলে না হলে অস্বীকার করলেও কাফের হয় না। কিন্তু কোরানের একটি আয়াত অস্বীকার করলে সরাসরি কাফের কোন সন্দেহ নাই।

সুস্পষ্ট প্রমাণিক ঐশী কিতাব থাকার পরেও যারা তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং দলে দলে বিভক্ত হয়ে গেছে, তারাই আহলে কিতাবদের মধ্যে কাফির।

পূর্ববর্তী ও পরবর্তী আহলে কিতাবদের মধ্যে যারা কাফির এবং মুশরিকরা– জাহান্নামের আগুনে স্থায়ীভাবে অবস্থান করবে। আর তারাই সৃষ্টির মধ্যে নিকৃষ্ট।সূরা আল-বাইয়িনাহ ১-৬

তিরমিজি হাদীস নং ১১
জাবির বিন আবদুল্লাহ্‌ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট উপস্থিত থাকা অবস্থায় তিনি একটি সরল রেখা টানলেন এবং তাঁর ডান দিকে দু’টি সরল রেখা টানলেন এবং বাম দিকেও দু’টি সরল রেখা টানলেন। অতঃপর তিনি মধ্যবর্তী রেখার উপর তাঁর হাত রেখে বলেনঃ এটা আল্লাহ্‌র রাস্তা। অতঃপর তিনি এ আয়াত তিলওয়াত করেন (অনুবাদ) : ‘’এবং এ পথই আমার সরল পথ। অতএব তোমরা এ পথেরই অনুসরণ করো এবং বিভিন্ন পথ অনুসরণ করো না, অন্যথায় তা তোমাদেরকে তাঁর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলবে। (৬:১৫৪)

অনুসরণ কর তাদের বিনিময় কামনা করে না সুরা ইয়াছিন আয়াত নং –২১। পেশাদার ইমাম আগুনখোর অপবিত্র জাহান্নামি ২ঃ১৭৪।

তোমার প্রতিপালক হইতে তোমার প্রতি যাহা অবতীর্ণ হইয়াছে তাহা যে ব্যক্তি সত্য বলিয়া জানে আর যে অন্ধ তাহারা কি সমান? উপদেশ গ্রহণ করে শুধু বিবেক শক্তি সম্পন্নগণই,(১৩ঃ১৯)
২) উহাদের অধিকাংশ অনুমানেরই অনুসরণ করে, সত্যের পরিবর্তে অনুমান কোন কাজে আসে না উহারা যাহা করে নিশ্চয়ই আল্লাহ্ সে বিষয়ে সবিশেষ অবহিত।(১০ঃ৩৬)
৩) অনুসরণ কর তাহাদের, যাহারা তোমাদের নিকট কোন প্রতিদান চায় না এবং যাহারা সৎপথপ্রাপ্ত।অনুসরণ কর তাহাদের, যাহারা তোমাদের নিকট কোন প্রতিদান চায় না এবং যাহারা সৎপথ প্রাপ্ত।(৩৬ঃ২১)

৪) যদি তুমি দুনিয়ার অধিকাংশ লোকের কথামত চল তবে তাহারা তোমাকে আল্লাহ্‌র পথ হইতে বিচ্যুত করিবে। তাহারা তো শুধু অনুমানের অনুসরণ করে ; আর তাহারা শুধু অনুমান ভিত্তিক কথা বলে।(৬ঃ১১৬)

৫) মানুষের মধ্যে কেহ কেহ অজ্ঞতা বশতঃ আল্লাহ্‌র পথ হইতে বিচ্যুত করিবার জন্য অসার হাদীস গ্রহন করিয়া নেয় এবং আল্লাহ্-প্রদর্শিত পথ লইয়া ঠাট্টা-বিদ্রূপ করে। উহাদেরই জন্য রহিয়াছে অবমাননাকর শাস্তি।( 31:6)
৬) তোমরা সত্যকে মিথ্যার সঙ্গে মিশ্রিত করিও না এবং জানিয়া-শুনিয়া সত্য গোপন করিও না।(২ঃ৪২)

যখন তাহাদেরকে বলা হয়, ‘আল্লাহ্ যাহা অবতীর্ণ করিয়াছেন তাহার দিকে ও রাসূলের দিকে আস’, তাহারা বলে, ‘আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদেরকে যাহাতে পাইয়াছি তাহাই আমাদের জন্য যথেষ্ট।’ যদিও তাহাদের পূর্ব পুরুষগণ কিছুই জানিত না এবং সৎপথ প্রাপ্তও ছিল না, তবুও কি ? (৫ঃ১০৪)

** উহাদেরকে যখন বলা হয়, ‘আল্লাহ্ যাহা অবতীর্ণ করিয়াছেন তাহা অনুসরণ কর।’ উহারা বলে, ‘বরং আমরা আমাদের পিতৃ পুরুষদেরকে যাহাতে পাইয়াছি তাহারই অনুসরণ করিব।’ শয়তান যদি উহাদেরকে জ্বলন্ত অগ্নির শাস্তির দিকে আহবান করে, তবুও কি? (৩১ঃ২১)

এর পর তারা যুক্তি তুলে অধিকাংশ মানুষের অনুসরন করা নিয়ে। আল্লাহ তখন জানিয়ে দেনঃ
*যদি তুমি দুনিয়ার অধিকাংশ লোকের কথামত চল তবে তাহারা তোমাকে আল্লাহ্‌র পথ হইতে বিচ্যুত করিবে। তাহারা তো শুধু অনুমানের অনুসরণ করে ; আর তাহারা শুধু অনুমান ভিত্তিক কথা বলে।(৬ঃ১১৬)

তাই আমি এ গানটি গাই

Categories
My text

এপিঠ – ওপিঠ

 একদল নির্বোধ মানুষ আর একজন ঠকবাজ মানুষ কাছাকাছি হলেই একটি নতুন ধর্ম সৃষ্টি করা যায়।  ধর্মের সূচনা এ ভাবেই। তাই পৃথিবীতে সারে চার হাজার ধর্ম কিন্তু দ্বীন একটি।

সনাতন ধর্মে কুমারী কুন্ত মন্ত্র সাধন করলে সূর্য দেবতা তার সামনে উপস্থিত হতে বাধ্য হন এবং দেবতার অদৃশ্য আশির্বাদে কুমারী কুন্ত গর্ভবতি হয়ে পঞ্চপান্ডবের জন্ম দেন।

মুসলিম ধর্মে কুমারী মারিয়াম আ: আল্লাহর কুদরতে গর্ভপতি হন এবং ঈসা আ: এর জন্ম দেন।

বেদ মানুষকে চার ভাগে ভাগ করেছে ব্রাহ্মন, ক্ষত্রীয়, বৈশ্য, শুদ্র। অথচ সেই বেদ পড়ার অধিকার নাই শুদ্রের।
শাস্ত্র মতে শূদ্র অস্পৃশ্য জাতি। সেই অস্পৃশ্য জাতীকে একমাত্র ব্রাহ্মন মন্ত্র পড়ে স্বর্গে পাঠাতে পারে ।

বুখারীতন্ত্র মানুষকে চার মাযহাবে ভাগ করেছে। মোল্লা দোয়া করে দিলে জান্নাতে যাবে।

ব্রাহ্মন্যবাদ আর মোল্লাতন্ত্র মুদ্রার এপিট ওপিট। তারা যেন স্রষ্টার পক্ষ হতে মানুষকে স্বর্গে পাঠানোর নিয়োগ প্রাপ্ত ডিলার।

শূদ্র –ব্রহ্মার পদ যুগল হতে সৃষ্টি, শূদ্রের গলায় এ জন্য কালো সুতো পড়িয়ে দেওয়া হয় যাতে সমাজ সহজে চিনতে পারে এরা নীচু জাতি।

অনুরুপ বিবি হাওয়া আদমের বাম পাঁজর হতে সৃষ্টি। তাই স্বামীর পায়ের নীচে তার স্বর্গ দাবী।

কখনও কখনও মানুষ সত্য শুনতে চায় না কারণ তারা তাদের বিভ্রান্তিগুলি ধ্বংস করতে চায় না।”

মানুষ নিজেই নিজের স্বর্গ বা নরকের সৃষ্টিকর্তা, আর তার নিজের ভুল ছাড়া অন্য কোন শয়তান নেই”।

কালের বিবর্তনে মহাকাব্য রুপান্তর হয়ে গেল মহাভারতে। বুখারীও আজ অনুরুপ ঠাই করে নিয়েছে অস্তি মজ্জায়। মুল গ্রন্থে যাই থাকুক __

Categories
My text

হাদীস মানার বাধ্যবাধকতা

হাদীস মানার বাধ্যবাধকতা ও তার সীমারেখাঃ

বেশিরভাগ মানুষ হাদিস বলতে বুঝেন নবীজির (সঃ) বাণী। একারণেই হাদিস মানাকে নবীজির অনুসরণের সমার্থক মনে করেন। হাদিস মানে না মানে নবী মানে না, কত বড় কথা !! হাদিস শব্দের অর্থ কথা বা বর্ণনা। কোরআন হচ্ছে আল্লাহর হাদিস মানে আল্লাহর বাণী। নবীজির কথা মানে নবীজির (সঃ) হাদিস, সাহাবীদের হাদিস মানে সাহাবীদের কথা,আবু জেহেলের হাদিস মানে আবু জেহেলের বাণী, শয়তানের হাদিস মানে শয়তানের কথা। লাহওয়াল হাদিস মানে ফালতু কথা। আমি নবীজির হাদিস মানি (মেনে নিয়েছি অর্থে) কিন্তু আবু জেহেলের হাদিস বা লাহওয়াল হাদিস মানি না।

হাদিসের একাডেমিক পরিভাষা হচ্ছে ‘খবর’। খবর মানে ‘নিউজ’। হাদিস বর্ণনাকারী সাহাবীকে ইংরেজিতে বলে রিপোর্টার, হাদিস সংকলক ইমাম অনেকটা সম্পাদকের মত যিনি খবরের সত্যতা যাচাই বাছাই করে প্রকাশ করেন। কিন্তু সবকিছুর পরও খবর সত্য,মিথ্যা, উদ্দেশ্য প্রনোদিত যেকোন কিছুই হতে পারে| হাদিস বর্ণনাকারী সাহাবী বা সংকলনকারী ইমামদের নাম বা অনুমোদন কোরআনে নাই। বরং কোরআনে আল্লাহ বলেছেন “মদীনাবাসীদের মধ্যে অনেক মুনাফিক আছে, তুমি তাদেরকে চিন না,
আমি তাদেরকে চিনি”। নবীজির (সঃ) এর সাহাবীদের মধ্যে কে বা কাহারা মুনাফিক ছিলো তা নবীজীও জানতেন না।

হাদিস আমাদের দরকার। হাদিস,ইতিহাস, সীরাত সাহিত্য কোরআনের কনটেক্সট বুঝা সহজ করে তুলে।

কিন্তু লোকমুখে শোনা, কোরআন বিরোধী ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত হাদিস ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মত ইসলাম ধর্মের ঘাড়ে চেপে বসেছে। মুসলমানদের আশেকে রাসূলের নামে আশেকে আবু জেহেল বানানো হচ্ছে। নবীজির নামে প্রচলিত হাদিসের বেশিরভাগই নবীজির কথা নয়। নবীজির নামে বানোয়াট কথা। আমি ঢালাও সব হাদীসের কথা বলছি না। কোনটি বানোয়াট কোনটি নবীজীর তা কোরান জানলে সহজেই বুঝা যায়। তাই নিজ মাতৃভাষায় কোরানের মর্ম বুঝে পড়া একান্ত প্রয়োজন।

Categories
My text

ধর্মের রুপঃ

ধর্মের দুইটি রুপ রয়েছে। এক ঐশীতন্ত্র দুই মোল্লাতন্ত্র। ঐশী তন্ত্রের মুল লক্ষ্য হলো ঐশী ইচ্ছা, অর্থাৎ ধর্মের এই ধরণে মানুষ চালিত হয় স্রষ্টার ইচ্ছার কাছে নিজের ইচ্ছা আত্মসমর্পণ করার মধ্য দিয়ে।

অন্যদিকে, মোল্লাতন্ত্রের মুল লক্ষ্য হলো কতিপয় মোল্লা পুরোহিত পাদ্রীর ইচ্ছা। এখানে মোল্লারা যে কোন ধর্মের অনুসারীদের ইচ্ছা, স্বপ্ন, কল্পনা, আশা, ভয়, হতাশা, যৌনতা এমন কি মানবীয় প্রায় সকল অনুভূতি গুলোকে একটা নির্দিষ্ট ছকে এঁকে দেয়। এই ছকটা আঁকে মূলত তাদের স্বার্থ রক্ষার তাগিদে। স্বার্থের উপর নির্ভর করে ধর্মের কিতাব গুলোকে তারা নিজেদের মতো ব্যাখ্যা করে। আর এই ব্যাখ্যাকে পাক কিতাব বলে সাধারণ ধর্মাবলম্বীদের উপর চাপিয়ে দেয়। সেটা কি হিন্দু,কি মুসলিম,কি খৃষ্টান কি বৌদ্ধ সব ধর্মের বেলায় একই নীতি অনুসরন করা হয়।

স্বৈরতন্ত্রের সাথে মোল্লাতন্ত্রের মুল জায়গা থেকে সাদৃশ্য আছে বিধায় তারা নিজেদের মধ্যে ধর্ম এবং রাজনীতির মৈত্রী স্থাপন করে মানুষের ইহকাল এবং পরকাল নিয়ন্ত্রণ করে।

রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বৈরতন্ত্র বাই নেচার মোল্লা তন্ত্রের সাথে আঁতাত করে থাকে। একই সাথে মোল্লাতন্ত্র তার ব্যবসা এবং কর্তৃত্ব টিকিয়ে রাখার স্বার্থে বাই নেচার রাষ্ট্র ক্ষমতায় সবসময় স্বৈরতন্ত্রের সহযোগী হয়ে থাকে। মোয়াবিয়া শাশন আমল তার অনন্য দৃষ্টান্ত।

Categories
My text

নাস্তিক টাইটেল অর্জনঃ

নাস্তিক হওয়ার তিন উপায় আছেঃ

১। আপনি যে ধর্মের মানুষ সে ধর্মের কুসংস্কার নিয়ে কথা বলবেন।
২। ধর্মীয় মিথ এবং ধর্ম ব্যবসা, উগ্রবাদীতার বিরোধিতা করে সত্য কথা বলবেন।
৩। ধর্মীয় মনস্তাত্ত্বিক এবং তাত্ত্বিক বিষয়ে ভালো ধারণা নিয়ে লেখালেখি করবেন।

এই তিনটি কাজ করলে জনসাধারণ, অন্ধবিশ্বাসী,  উগ্রবাদী, যুক্তি বুদ্ধিহীন নির্বোধ লোক গুলো আপনাকে নাস্তিক বানিয়ে দিবে। কিন্তু রবের কাছে আপনি থাকবেন আস্তিক হয়ে জ্ঞানীর মর্যাদা নিয়ে।

Verified by MonsterInsights