Categories
Innovator My text

সালাত ব্যর্থঃ

সালাত কেন ব্যার্থঃ 

فَلَا صَدَّقَ وَلَا صَلّٰىۙ (ফালা সাদ্দাকা ওয়া লা সাল্লু)

সে সত্য বলে নাই এবং সালাত আদায় করে নাই।

وَلٰكِنْ كَذَّبَ وَتَوَلّ (ওয়া লাকিন কাজ্জাবা ওয়াতাওয়াল্লু)

বরং সে মিথ্য বলিয়াছিল এবং মুখ ফিরাইয়া লইয়াছিল।

فَوَيْلٌ لِّلْمُصَلِّيْنَۙ ( ফাওয়াই লুল্লে মুছাল্লিন)

সুতরাং দুর্ভোগ সেই সালাত আদায়কারীদের,

যাহারা তাহাদের সালাত সম্বন্ধে উদাসীন,১০৭:৫

তবে তারা নয় —

যাহারা তাহাদের সালাতে সদা প্রতিষ্ঠিত
الَّذِيْنَ هُمْ عَلٰى صَلَاتِهِمْ دَآٮِٕمُوْنَۙ (আল্লাযিনা হুম আলা সালাতিহিম দাইয়েমুন)

যাহারা তাহাদের সালাতে সদা প্রতিষ্ঠিত,৭০:২৩

ফয়সালা দিবসে যখন জিজ্ঞাসিত হবে,

উহারা বলিবে, ‘আমরা সালাত আদায়কারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম না,(৭৪ঃ৪৩)

তাই উপদেশ তাদের জন্য,

তোমার পরিবারবর্গকে সালাতের আদেশ দাও ও উহাতে অবিচলিত থাক, আমি তোমার নিকট কোন জীবন উপকরণ চাই না; আমিই তোমাকে জীবনোপকরণ দেই এবং শুভ পরিণাম তো মুত্তাকীদের জন্য।(২০ঃ১৩২)

সালাতকে আল্লাহর মনোনীত পদ্ধতির বাহিরে যাহারা বিভিন্ন মনগড়া অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পালন করতো তাদের লক্ষ্য করে বলেন:

“কাবাগৃহের নিকট শুধু শিস ও করতালি দেওয়াই তাহাদের সালাত, সুতরাং কুফরীর জন্য তোমরা শাস্তি ভোগ কর।”(৮ঃ৩৫)

উহাদের পরে আসিল অপদার্থ পরবর্তীরা, তাহারা সালাত নষ্ট করিল ও লালসা-পরবশ হইল। সুতরাং উহারা অচিরেই কুকর্মের শাস্তি প্রত্যক্ষ করিবে, ( মারিয়ম ১৯,আয়াত ৫৯)

পক্ষান্তরে আল্লাহর সালাত বিষয়ে আল্লাহর নির্দেশনাঃ

হে মু’মিনগণ! নেশাগ্রস্ত অবস্থায় তোমরা সালাতের নিকটবর্তী হইও না, যতক্ষণ না তোমরা যাহা বল তাহা বুঝিতে পার,(৪ঃ ৪৩)

তুমি কি দেখ না যে, আকাশ-মণ্ডলী ও পৃথিবীতে যাহারা আছে তাহারা এবং উড্ডীয় মান বিহঙ্গকুল আল্লাহ্র পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে? প্রত্যেকেই জানে তাহার ইবাদতের ও পবিত্রতা ঘোষণার পদ্ধতি এবং উহারা যাহা করে সে বিষয়ে আল্লাহ্ সম্যক অবগত। (২৪:৪১)

বিশুদ্ধ চিত্তে তাঁহার অভিমুখী হইয়া তাহাকে ভয় কর, সালাত কায়েম কর এবং অন্তর্ভুক্ত হইও না মুশরিকদের,(৩০:৩১)

Categories
Innovator My text

সালাতঃ

সে বিশ্বাস করে নাই এবং সালাত আদায় করে নাই। (৭৫:৩১)

বরং সে সত্য প্রত্যাখ্যান করিয়াছিল ও মুখ ফিরাইয়া লইয়াছিল। (৭৫:৩২)

সুতরাং দুর্ভোগ সেই সালাত আদায়কারীদের,

فَلَا صَدَّقَ وَلَا صَلّٰىۙ

( ফালা সাদদাকা ওয়া লা সাল্লু)

وَلٰكِنْ كَذَّبَ وَتَوَلّٰىۙ

(ওয়া লাকিন কাজ্জাবা ওয়া তাওয়াল্লা)

فَوَيْلٌ لِّلْمُصَلِّيْنَۙ (ফাওয়াই লুল্লে মুছাল্লিন)

ফালা সাদদাকা = সুতরাং সে সত্য বলে নাই।
ওয়া লা সাল্লু = এবং সালাত আদায় করে নাই।

ওয়া লাকিন কাজ্জাবা = বরং সে মিথ্যে বলেছে।
ওয়া তাওয়াল্লা = এবং মুখ ফিরেয়ে নিয়েছে।

এবার আসা যাক কায়েমী এবং দায়েমী সালাত

কায়েম শব্দটি অভিধানিক বাংলা অর্থ হচ্ছে- প্রতিষ্ঠিত, খাড়া, এবং অবিরত। এবং দায়েম শব্দটি অভিধানিক বাংলা অর্থ হচ্ছে- স্থায়ী, অবিরাম, স্থিতিশীল, সর্বদা। এই দুইটি শব্দের একই অর্থ বহন করে।

এখানে আমাদের আলেম সাহেবগন মাদ্রসার শিশুদের ছোট বেলা থেকে শিক্ষা দিয়ে আসছেন ৫ ওয়াক্ত নামায জামাতের সহিত পড়াই হলো কায়েম করা। নিজে পড়া এবং সবাইকে নিয়ে জামাতে পরার নামই কায়েম i
:আল্লাহ পবিত্র কোরআনের একাধিক বারই বলেছেন যার যার বোঝা তাকেই বহন করতে হবে। তবে জামাতে নামায আদায় করলেই কায়েম হবে কি করে?

সালাতের উদ্দেশ্য এবং বাস্তব জীবনে এর প্রতিফলন সম্বন্ধে আমাদের সমাজে মোটেই ধারণা নেই। আমাদের সালাত হলো উঠ বস করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। সালাতকে যেদিন আদায়কারীর বাস্তবে রূপ দিতে পারবে সেদিন সালাত ও যাকাত প্রতিষ্ঠিত হবে।

আল্লাহ পবিত্র কোরআনে সূরা মরিয়াম এর ১৯:৩১ নং আয়াতে সালাত কায়েম করতে বলেছেন জন্ম হইতে মৃত্যুর আগ মুহুর্ত পর্যন্ত অবিরতভাবে, নিরর্বিছিন্ন, বিরতিহীন ভাবে।

যাহারা তাহাদের সালাতে সদা প্রতিষ্ঠিত,(৭০:২৩)
الَّذِيْنَ هُمْ عَلٰى صَلَاتِهِمْ دَآٮِٕمُوْنَۙ

অত:পর যার এ বিষয়ে দ্বীমত পোষন করে, তাদের জন্য

তুমি কি দেখিয়াছ তাহাকে, যে দীনকে অস্বীকার করে ? (১০৭:১)
اَرَءَيْتَ الَّذِىْ يُكَذِّبُ بِالدِّيْنِؕ

সুতরাং দুর্ভোগ সেই সালাত আদায়কারীদের,
فَوَيْلٌ لِّلْمُصَلِّيْنَۙ

যাহারা তাহাদের সালাত সম্বন্ধে উদাসীন,
الَّذِيْنَ هُمْ عَنْ صَلَاتِهِمْ سَاهُوْنَۙ

ফয়সালা দিবসে যখন জিজ্ঞাসিত হবে,উহারা বলিবে, ‘আমরা মুসল্লিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম না,
قَالُوْا لَمْ نَكُ مِنَ الْمُصَلِّيْنَۙ (৭৪:৪৩)

তাই উপদেশ তাদের জন্য, “তোমার পরিবারবর্গকে সালাতের আদেশ দাও ও উহাতে অবিচলিত থাক, আমি তোমার নিকট কোন জীবনোপকরণ চাই না; আমিই তোমাকে জীবনোপকরণ দেই এবং শুভ পরিণাম তো মুত্তাকীদের জন্য। (২০:১৩২)

সালাতকে আল্লাহর মনোনীত পদ্ধতির বাহিরে যাহারা বিভিন্ন মনগড়া অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পালন করতো তাদের লক্ষ্য করে বলেন:

“কাবাগৃহের নিকট শুধু শিস ও করতালি দেওয়াই তাহাদের সালাত, সুতরাং কুফরীর জন্য তোমরা শাস্তি ভোগ কর।” (৮:৩৫)

উহাদের পরে আসিল অপদার্থ পরবর্তীরা, তাহারা সালাত নষ্ট করিল ও লালসা-পরবশ হইল। সুতরাং উহারা অচিরেই কুকর্মের শাস্তি প্রত্যক্ষ করিবে, (১৯:৫৯)

পক্ষান্তরে আল্লাহর সালাত বিষয়ে আল্লাহর নির্দেশনাঃ

হে মু’মিনগণ! নেশাগ্রস্ত অবস্থায় তোমরা সালাতের নিকটবর্তী হইও না, যতক্ষণ না তোমরা যাহা বল তাহা বুঝিতে পার, (৪:৪৩)

তুমি কি দেখ না যে, আকাশ-মণ্ডলী ও পৃথিবীতে যাহারা আছে তাহারা এবং উড্ডীয়মান বিহঙ্গকুল আল্লাহ্র পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে? প্রত্যেকেই জানে তাহার ইবাদতের ও পবিত্রতা ঘোষণার পদ্ধতি এবং উহারা যাহা করে সে বিষয়ে আল্লাহ্ সম্যক অবগত।(২৪:৪১)

বিশুদ্ধ চিত্তে তাঁহার অভিমুখী হইয়া তাহাকে ভয় কর, সালাত কায়েম কর এবং অন্তর্ভুক্ত হইও না মুশরিকদের,(৩০:৩১)

Categories
Innovator My text

সালাত নষ্ট করিলঃ

উহাদের পরে আসিল অপদার্থ পরবর্তীরা, তাহারা সালাত নষ্ট করিল ও লালসা – পরবশ হইল। ১৯:৫৯

১) প্রথম প্রশ্ন এ আয়াতটি কি অতীতের জন্য শুধু ? না কি অতীত – বর্তমান এবং ভবিষ্যত সকল সময়ের জন্য প্রযোজ্য?

২) সালাত আল্লাহর মনোনীত ভাবেই চলছিল। সে সময় কালটি কখন?

৩) তাদের পরে কাহারা স্থলাভিষিক্ত হয়েছিল? তারা কোন নবীর উম্মত ছিল?

৪) কি ধরনের লালসা বা কুপ্রবৃত্তির অনুসরন করে সালাত কে বিকৃত করলো?

৫) সে বিকৃত বা নষ্ট করা সালাত পরবর্তিতে কোন নবীর সময় ঠিক করা হয়েছিল?

৬) সেই নষ্ট করা সালাত কি এখনো চলমান? না সংস্কার হয়েছে?

فَخَلَفَ مِنْۢ بَعْدِهِمْ خَلْفٌ اَضَاعُوا الصَّلٰوةَ وَاتَّبَعُوا الشَّهَوٰتِ‌
( ফাখালাফা মিম বাআ’দিহিম খালফুন আ’দাউস সালাতা ওততাবাউ – শ – শাহাওয়াতি।)

বাক্যে মুল শব্দ ৭ টি। তা হলঃ
১) খালাফা (خَلَفَ) = স্থলাভিশিক্ত হওয়া,
২) বাআ’দ ( بَعْدِ) = পরে।
৩) দা’ওউ ( ضَعُو) নষ্ট করা।
৪) সাললু (صَّلٰو) নামাজ/সালাত/ রবের অনুশীলন
৫) তাবাউ (بَعُو) = অনুসরন করা (ইত্তেবা থেকে)
৬) শাহাউ ( ال ) (شَّهَوٰ) কুপ্রবৃত্তি

১) ফাখালাফা (فَخَلَفَ) = অতপর স্থলাভিষিক্ত হল।
মুল শব্দ খালাফ (خَلَفَ) = স্থলাভিশিক্ত হওয়া, فَ ফা অব্যয় পদ অর্থ অত:পর। সুতরাং فَخَلَفَ ফাখালাফা অর্থ অত:পর স্থলাভিসিক্ত হল।

২) মিম ( مِنْۢ) অব্যয় পদ = থেকে।

৩) বাআ’দিহিম ( بَعْدِهِمْ) = তাদের পরবর্তি।
মুল শব্দ বাআ’দ ( بَعْدِ) = পরে। হুম (هِمْ) সর্বনাম = তাদের।

৪) খালফুন ( خَلْفٌ) পরবর্তিরা। মুল শব্দ খালফা خَلْفٌ, = বুহুবচন তাহারা।

৫) আ’দাউ ( اَضَاعُوا ) = তারা নষ্ট করলো
মুল শব্দ ( ضَعُو) নষ্ট করা।

৬) সালাতা ( الصَّلٰوةَ) নামাজকে/সালাতকে
মুল শব্দ সাললু (صَّلٰو) নামাজ/সালাত/ রবের অনুশীলন।

৭) ওয়াততাবাউ ( وَاتَّبَعُوا) এবং অনুসরন করলো / পরবশ হলো। মুল শব্দ (بَعُو) তাবাউ = অনুসরন করা (ইত্তেবা থেকে)

৮) শাহাওয়াতি ( الشَّهَوٰتِ‌ ) লালসার / কুপ্রবৃত্তির মুল শব্দ শাহাউ ( ال ) (شَّهَوٰ) কুপ্রবৃত্তি

শব্দার্থ: فَخَلَفَ = অতঃপর স্থলাভিষিক্ত হলো , مِنْ = থেকে, بَعْدِهِمْ = পর তাদের , خَلْفٌ = পরবর্তীরা, أَضَاعُوا = তারা নষ্ট করলো, الصَّلَاةَ = সালাত, وَاتَّبَعُوا = ও অনুসরণ করলো, الشَّهَوَاتِ = কুপ্রবৃত্তির, فَسَوْفَ = সুতরাং শীঘ্রই , يَلْقَوْنَ = তারা দেখবে, غَيًّا = কুকর্মের (শাস্তি) , فَسَوْفَ = সুতরাং শীঘ্রই يَلْقَوْنَ = তারা দেখব غَيًّا = কুকর্মের (শাস্তি)

فَخَلَفَ مِنْۢ بَعْدِهِمْ خَلْفٌ اَضَاعُوا الصَّلٰوةَ وَاتَّبَعُوا الشَّهَوٰتِ‌ فَسَوْفَ يَلْقَوْنَ غَيًّا ۙ

অনুবাদ: তারপর এদের পর এমন নালায়েক লোকেরা এদের স্থলাভিষিক্ত হলো যারা নামায নষ্ট করলো এবং প্রবৃত্তির কামনার দাসত্ব করলো। তাই শীঘ্রই তারা গোমরাহীর পরিণামের মুখোমুখি হবে। (১৯:৫৯)

Categories
Innovator My text

আরবী প্রাথমিক গ্রামার-০১

___সাধারনের জন্য আরবী গ্রামার পর্ব-০৮

সমগ্র কোরাআনে যত শব্দ আছে তা তিনটি শ্রেনীতে বিভক্ত।
১) ইশেম (বিষেশ্য)
২) ফা’আল (ক্রিয়া) এবং
৩) হরফ ( অব্যয়)
হরফ এবং ফাল বাদ দিলে বাকি সব ইসিম।

যে শব্দ গুলি দ্বারা কোন কিছুর নাম বুঝায় তাকে এসেম বলে। যে শব্দ গুলি দ্বারা কোন কাজ বুঝায় তাকে ফাল বলে। যে শব্দগুলির কোন অবস্থায় কোন পরিবর্তন নাই তাকে হরফ বলে। হরফের সংখ্যা খুব সামান্য। এগুলি মুখস্থ রাখতে হবে।

১) ইসিমঃ যে শব্দ দ্বারা কোন কিছুর নামকে বুঝায় তাকে ইশেম বলে। অন্যভাবে বললে হরফ এবং ফাল বাদ দিয়ে আরবী যত শব্দ আসবে সব ইসেম।

এখন কথা হল ইংরেজী শিক্ষিত একজন মানুষ অর্থ না জেনেও শুধু আরবী শব্দ দেখে কি ভাবে ইসেম কোন শব্দটি তা সনাক্ত করতে পারবে তার সহজ উপায় বা আলামতঃ

ক) কোন শব্দের শুরুতে আলিফ লাম থাকা।
খ) কোন শব্দের শেষে তানভিন থাকলে। অর্থাৎ দুই যবর ,দুইপেশ, বা দুই যের থাকলে সেটি ইসেম বুঝতে হবে।
গ) কোন শব্দের শেষে গোল তা থাকলে

২) অনুরুপ ভাবে অর্থ না জেনেও কিভাবে বাক্যে কোন শব্দটি ফাল তা সহজে সনাক্ত করতে পারবে তার উপায়ঃ
তার আগে একটু জানা থাকা দরকার ফেল চার প্রকার। যথাঃ ফেলে মাদি,ফেলে মুদারে,ফেলে আমল, ফেলে নাহি।
আরবীতে অধিকাংশ ফাল তিন অক্ষরের হয়। ফাল চার অক্ষরের বেশী হয় না।
ক) শব্দের শুরুতে যজম (যের,যবর,পেশ) প্রদানকারী অক্ষর হবে।

৩) অনুরপ ভাবে অর্থ না জেনেও হরফ চেনার উপায়ঃ
ক) হরফ গুলো শব্দের শুরুতে ব্যবহার হয়। যেমনঃ নিন্মে বহুল ব্যবহৃত কিছু হরফ উল্লেখ করা হল। অবশ্য হরফ গুলি মুখস্থ রাখতে হবে।

(বা) – ب সবসময় যের যোগে ব্যবহার হবে। বিসমিল্লাহ
( তা ) – ت যবর দিয়ে। যেমন তাবারাকাছমুকা
(কাফ) – ك যবর দিয়ে। কানাবদু
(লাম) -ل যের দিয়ে। লিল্লাহে মা ফীসসামাওয়াতে
(ওয়া )- و ওয়া রাহ্মাতুল্লিল আলামিনল।
(মুনজা )- منز
(মুজা) – مذ
(খলা)- خلا
(রুবা) رب
( হাশা) حسا
( মিন) من
( আ’দা) عدا
( ফী) في
(আ’ন) عن
( আ’লা) عاي
(হাত্তা) حتي
( ইলা) الي
(ইন্না) ان
(আন্না) ان
(কানা) كان
(লাইতা) ليت
(লাকিন্না) لقن
(লায়াল্লা) لعل
( ওয়াও) و
(আও) او
(আম) ام
(ফা) ف
(ছুম্মা) ثم
(আম) ام
(লাকিন) لكن
( আম্মা) اما
(ইম্মা) اما
(আন) ان
(লান) لن
(কানা) كن
(আন্না) انن
(আন ) ان
(লাম) لم
(লাম্মা) لما
(লা) لا
(মা) ما

উপসংহারঃ সূরা এখলাস থেকে কয়টি ইসিম, কয়টি ফেল এবং কয়টি হরফ আছে তা নিজে নিজে নির্নয় করি। অর্থ জানার প্রয়োজন নেই। যেহেতু আমরা ইংরেজী শিক্ষিত, আরবী জ্ঞান নেই বললেই চলে।

بِسمِ اللَّهِ الرَّحمٰنِ الرَّحيمِ
বে ইসেম আল্লাহ হু আর রহ্মান আর রাহিম

قُل —— — هُوَ ——– اللَّهُ —— أَحَدٌ
ক্বুল – হু – ওয়া – আল্লা – হু – আহাদ

اللَّهُ- ————— الصَّمَد
আল্লা – হু – সামাদ

لَم —— يَلِد —- وَلَم —— يولَد
লাম – ইয়ালিদ – ওয়া – লাম — ইউলাদ

وَلَم —- يَكُلَهُ ——– كُفُوًا —- أَحَدٌ
ওয়া – লাম — ইয়া কুল্লা – হু – কুফুয়ান –আহাদ

 

Categories
Innovator My text

তোমরাই শ্রেষ্ট জাতিঃ

  1. তোমরাই শ্রেষ্ঠ উম্মত, মানবজাতির মধ্য হতে নির্বাচন করা   হইয়াছে এ জন্য, তোমরা সৎকাজের নির্দেশ দান করবে এবং অসৎ কাজে নিষেধ করবে। (৩:১১০)

كُنْتُمْ خَيْرَ اُمَّةٍ اُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَاْمُرُوْنَ  بِالْمَعْرُوْفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ

(কুনতুম খাইরা উম্মাতিন উখরিজাত লি-ন্নাসি তা’মারুনা বিল মারুফ ওয়া তানহাও না-আনিল মুনকার)

১)  কুনতুম (كُنْتُمْ) ব্যক্তিবাচক সর্বনাম।  মুল শব্দ কুন (كون), ক্রিয়া।  যার বাংলা= হওয়া।  সুতরাং كُنْتُمْ অর্থ তোমরা হও।

২) খায়রান (خَيْرَ) বিষেশ্য।  মুল শব্দ খায়ের خَيْرَ যার অর্থ = ঊত্তম।

৩) উম্মাতিন (اُمَّةٍ) বিষেশ্য। মুল শব্দ উম্মা। যার অর্থ জাতি।

৪) উখরিজাত (اُخْرِجَتْ) ক্রিয়া বাচক। মুল শব্দ   (خْرِجَ) খারিজ। যার অর্থ পৃথক করা। সুতরাং উখরিজাত اُخْرِجَتْ অর্থ তোমাদের পৃথক করা হয়েছে।

৫) লি-ন্নাসি (لِلنَّاسِ) বিশেষ্য। মুল শব্দ নাস (نَّاسِ)  যার অর্থ মানুষ। সুতরাং লি-ন্নাস لِلنَّاسِ অর্থ মানুষের জন্য।

৬) তা’মারুনা (تَاْمُرُوْنَ) ক্রিয়া। মুল শব্দ আমর (تَاْمُرُ) অর্থ নির্দেশ দেয়া। সুতরাং تَاْمُرُوْنَ অর্থ তোমরা নির্দেশ দাও।

৭) বিল মারুফ (بِالْمَعْرُوْفِ) বিযেশ্য, মুল শব্দ আরাফ (عْرُوْفِ) যার অর্থ ভাল কাজ।  সুতরাংبِالْمَعْرُوْفِ অর্থ ভাল কাজের জন্য।
৮) ওয়া তানহাও (وَتَنْهَوْنَ) ওয়া অব্যয় এবং তানহাও ক্রিয়া। মুল শব্দ নেহি।  যার অর্থ নিষেধ করা। সুতরাং  ওয়া তানহাও وَتَنْهَوْنَ অর্থ হবে এবং তোমরা নিষেধ কর।

৯) আন ( عَنِ) অব্যয়। যার অর্থ হতে।

১০) মুনকার (الْمُنْكَرِ) বিশেষ্য।  মুল শব্দ নাকর    نْكَرِ যার অর্থ  নিষেধ করা।

যে শব্দগুলি এ আয়াতে পেলাম তার প্রায় সব পরিচিত আমাদের। শুধু খেয়াল করি না বলে অজানা মনে হয়।
১) খায়ের – ভাল / উত্তম
২) উম্মাহ – জাতি
৩) খারিজ – পৃথক করা / বাহির করা
৪) নাস –মানুষ
৫) আমর – আদেশ বা নির্দেশ করা।
৬) আরাফ – ভাল বা সৎকাজ
৭) নেহি -নিঢেধ করা
৮) নাকর –মন্দ বা খারাপ কাজ।

উপসংহারঃ মানুষকে আল্লাহ মানুষের মধ্যে হতে ছেকে নির্বাচন করেছেন এ জন্য যে তারা কল্যানের নির্দেশ দিবে মানুষকে এবং মন্দ কাজ করতে বাধা দিবে। এটাই উদ্দেশ্য আল্লাহর। এখানে উপদেশ বা অনুরোধের কথা বলেন নাই।  আদেশ ও নিষেধের শব্দ ব্যবহার করেছেন এ জন্য যে যদি আদেশ বা নিষেধ না মানে তবে বল প্রয়োগ করতে হবে।
নচেৎ উপদেশ বা অনুরোধ শব্দ ব্যবহার করতেন।

Categories
My text

পুনর্জন্মঃ

নিশ্চয় তোমরা ধাপে ধাপে আরোহণ করবে।
لَتَرْكَبُنَّ طَبَقًا عَنْ طَبَقٍؕ
( লাতারকাবুন্না তাবাকান আন তাবাক।)  সূরা ইনশিকাক আয়াত ১৯

শব্দার্থ: لَتَرْكَبُنَّ = তোমরা অবশ্যই আরোহণ করবে, طَبَقًا = ধাপ, عَنْ = থেকে, طَبَقٍ = ধাপে।

লাতাকরাবুন لَتَرْكَبُنَّ এর মুল শব্দ رْكَبُ রাকাব। রাকাব মানে আরোহন করা। এটি ক্রিয়াপদ। আর لَتَرْكَبُنَّ মানে নিশ্চয় তোমরা আরোহন করবে।

মানব জীবন চক্রের রহস্য এ আয়াতে ইংগীত করে।”মোরা আর জনমে হংস মিথুল ছিলাম”

নতুন শব্দ শিখলামঃ

১) رْكَبُ রাকাব = আরোহন করা।

২) طَبَقٍؕ তাবাক = ধাপ বা সিড়ি বা স্তর।

Categories
My text

অনুসরন কর তাদেরঃ

আরবী অনুবাদ গ্রামার পর্ব-০৮

‘অনুসরণ কর তাহাদের, যাহারা তোমাদের নিকট কোন প্রতিদান চায় না এবং যাহারা সৎপথপ্রাপ্ত। (৩৬:২১)

اتَّبِعُوْا    مَنْ    لَّا    يَسْـــَٔلُكُمْ    اَجْرًا  وَّهُمْ     مُّهْتَدُوْنَ

(ইত্তাবিউ মান লা  ইয়াসআলুকুম  আজরাওঁ  ওয়া হুম  মুহতাদুন।)

শব্দার্থ:   اتَّبِعُوا =   তোমরা  অনুসরণ করো,     مَنْ =   (তার) যে,     لَا =  না,     يَسْأَلُكُمْ =    তোমাদের  কাছে চায়, أَجْرًا= কোনো বিনিময়,     وَهُمْ =  এবং তারা ,     مُهْتَدُونَ =  সৎ পথপ্রাপ্ত ,

ইত্তাবিউ ( اتَّبِعُوْا)  একটি ফাল বা ক্রিয়া পদ। এর  মুল শব্দ   تَّبِعُ  (তাবেউ) যার অর্থ অনুসরন করা।

মান (مَنْ) সর্বনাম,অর্থ = তার বা যে।

লা (لَّا) অব্যয় পদ, অর্থ = না।

ইয়াসআলুকুম (يَسْـــَٔلُكُمْ) মুল শব্দ    سْـــَٔلُ   সোয়াল = চাওয়া, আসআলুকুম = তোমাদের কাছে চায়

ইায়সআলু বর্তমান/ ভবিষ্যত কাল বুঝাতে। কুম অর্থ তোমাদের। ইয়াছআলুকুম = তোমাদের নিকট চায়।

আঁজরান  (اَجْرًا) মুল শব্দ  اَجْرً আজর = বিনিময়,  আজরান = কোন বিনিময়।

ওয়া হুম (وَّهُمْ) সমন্ধ বাচক সর্বনাম। ওয়া = এবং,  ওয়া হুম = এবং তারা।

মুহতাদুন  (مُّهْتَدُوْنَ) ইশম বা বিশেষ্য। এর  মুল শব্দ هْتَدُ হাদী = পথ,  সুতরাং মুহতাদুন অর্থ সৎপথ প্রাপ্ত।

বালাগাতঃ অনুসরন কর তাদের যারা কোন বিনিময় চায় না তোমাদের নিকট এবং তারা সৎপথ প্রাপ্ত।

উপসংহারঃ আল্লাহ উক্ত আয়াতে হেদায়াত বা সৎপথপ্রাপ্ত মানুষের পরিচয় জানালেন এবং তাদের অনুসরন করতে আদেশ দিলেন। আর হেদায়েত প্রাপ্ত কে তাও জানিয়ে দিলেন — ” যারা ধর্ম পালনে সহ্যোগিতা করে বা  প্রচার কাজ  করে বিনিময়ে কোন অর্থ বা কোন প্রকার প্রতিদান নেয় না।

এবার ভাবুন মসজিদের ইমাম বা ওয়াজ কারীগন কি সৎপথ প্রাপ্ত?  তাদের অনুসরনের কথা কি আল্লাহ বলেছেন?  তারা নিজেরাই আল্লাহর এ আয়াত না মেনে গোমরাহীতে আছে, তাকে ইত্তেবা করলে আপনিও তদ্রুপ হলেন। প্রচলিত মোল্লা মুন্সি পীর ইমাম বিনিময় ছাড়া কোন ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন  করে না, এমন কি মসজিদের ইমামগণ।

অত্র আয়াত থেকে যে শব্দ গুলি জানলাম
১) তাবেউ = অনুসরন করা (ক্রিয়া পদ)
২) সোয়াল = চাওয়া।
৩) আজর = বিনিময়
৪) হাদী = হেদায়েত প্রাপ্ত বা সৎপথপ্রাপ্ত।

লক্ষ্য করে দেখুন প্রতিটা শব্দ তিন অক্ষরে গঠিত। আরবীতে অধিকাংশ মুল শব্দই তিন অক্ষরে হয় এবং এদের প্রায় গুলি আমরা বলে থাকি কিন্তু অনুধাবন করি না। যেমন হেদায়েত, সোয়াল, নিয়ামত, ইনসাব,কিতাব, কালাম…..

Categories
My text

কোরআন রাসুলের বানীঃ

 আরবী গ্রামার পর্ব-০৭

নিজে গ্রামার বুঝে ছোট্ট একটি আয়াতের অনুবাদ করি। (সূরা নং ৬৯ আয়াত নং ৪০)

اِنَّهٗ لَقَوْلُ رَسُوْلٍ كَرِیْمٍۚۙ
( ইন্নাহু লা ক্বাউলু রাসুলিন কারিম)

অনুবাদ: অবশ্য অবশ্যই ইহা (কুরআন) একজন সম্মানিত রসূলের বাণী।

শব্দার্থ: إِنَّهُ = নিশ্চয়তা, لَقَوْلُ = নিশ্চয় বানী, رَسُولٍ = একজন রসূল (এর) , كَرِيمٍ = সম্মানিত,

অনুবাদ করতে প্রথমে আদল বা মুল শব্দ নির্নয় করতে হবে। তাহলে অনুবাদ করতে সহজ হবে। পড়ে গ্রামারের দিকে নজর। একটা বিষয় জেনে রাখা দরকার আরবীতে অধিকাংশ মুল শব্দ তিন অক্ষরের হয়।

উক্ত আয়াতে/ বাক্যে চারটি শব্দ ১) ইন্নাহ ২) ক্বাউলু ৩) রাসুলিন ও ৪) কারিম।
এর আদল বা মুলশব্দ প্রথমে নির্নয় করবো।

শুরুতে ইন্নাহ إِنَّهُ শব্দটি ব্যক্তিবাচক সর্বনাম। তাই এর মুল শব্দের প্রয়োজন নেই। আমরা إِنَّ ইন্না অব্যয় পদ জানি। যার অর্থ নিশ্চয়। إِنَّهُ এর অর্থ দ্বারায় হরফে নসব /ব্যক্তিবাচক সর্বনাম إِنَّهُۥ (ইন্নাহু) নিশ্চয় ইহা।

**************
এবার আসি আয়াতের ২য় শব্দ ( লাক্বাউলু) لَقَوْلُ নিশ্চয় বানী বা কথা।

ক্বাউল অর্থ- বানী। লাম অব্যয় – নিশ্চয়। ( আর এই لا (লা) অর্থ না) সুতরাং লা ক্বাউলু – নিশ্চয় বানী।

মুল শব্দ/ (আদল): قول কাউল ( বানী, কথা)
লাক্বাউল – لَقَوْلُ অর্থ নিশ্চয় বানী।

গ্রামারের কথা ভাবলে অতীত কাল হলে হত قَالَ ( কালা)

ভবিষ্যত কাল/বর্তমান হলে হত : يَقُوْلُ (ইয়াকুলু)

আদেশ মুলক হলে হত : قُلْ (কুল)

ইশমে ফাল / কর্তা হলে হত : قَائِل

ইশমে মাফউল /কর্ম হলে হত : مَقُوْل

মাসদার / ক্রিয়া বাচক বিষেশ্য হলে হত : قَوْل

**************
এবার আসি ৩য় শব্দ (রাসুলিন) رَسُوْلٍ – রাসুলের মুল শব্দ বা আদল : رسل (রাসুল) (রাসুলিন) رَسُوْلٍ অর্থ দ্বারায় রাসুলের।

গ্রামার যদি দেখি তবেঃ
অতীতকাল হলে হত : أَرْسَلَ (আরসাল)

ভবিষ্যত /বর্তমান কাল হলে হত : يُرْسِلُ ( উরসিলু)

আদেশ মুলক হলে হত أَرْسِلْ (আরসেলু)

ইশমে ফায়েল /কর্তা হলে হত : مُرْسِل ( মুরসিল)

ইসমে মাফাউল / কর্ম হলে হত : مُرْسَل ( মুরসাল)

মাসদার/ক্রিয়াবাচক বিষেশ্য হলে হত : إِرْسَال (ইরসাল)

******************
এবার আসি আয়াতে বর্নিত ৪র্থ শব্দ كَرِیْمٍۚۙ। এখানেআদল বা মুল : كرم (কারিম) সন্মানিত।

গ্রামারের দিক থেকে ভাবলে, যামানা ফায়াল মাঝি /অতীত কাল হলে হত : كَرَّمَ (কাররামা)

যামানা ফায়াল মাযরু / ভবিষ্যতকাল হলে হত : يُكَرِّمُ (ইউকাররামু)

সিফাতে আমর/ আদেশ মুলক হলে হত : كَرِّمْ (কাররামু)

ইশমে ফাল/কর্তা বাচ্য হলে হত : مُكَرِّم ( মুকাররাম)

ইশমে মাফাউল/ কর্ম হলে হত مُكَرَّم মুকাররাম

মাসদার /ক্রিয়া বাচক বিশেয্য হলে হত : تَكْرِيْم ( তাকরিম)

উপসংহারঃ আয়াতের সরল অনুবাদ নিজে বুঝে করে দেখা যায় যে রাসুলের বানীই কোরআন। সুতরাং রাসুল কোরআন ছাড়া আর কোন বানী কখনো কোথাও বলেন নাই বা লিপিবদ্ধ করারও সুযোগ নেই। তাই রাসুল কতৃক প্রচারীত বানী সংরক্ষনের দায়িত্ব স্বয়ং আল্লাহ নিয়েছেন। তাতে কোন বিষয়ে সাংঘর্ষিক বক্তব্য খুজে পাওয়া যাবে না।
তাই মানব রচিত/সংকলিত কোন বানীকে রাসুলের বাণী বিবেচনা করা হলে ভুল ও ভ্রষ্টতা হবে। লাফিল খুছরে।

Categories
Innovator My text

জন্মচক্র রহস্যঃ

প্রথম মৃত্যুর পর এবং আমাদেরকে শাস্তি দেওয়া হইবে না!’( ৩৭:৫৯) ইহা তো মহাসাফল্য। (৩৭:৬০) এইরূপ সাফল্যের জন্য সাধকদের উচিত সাধনা করা,( ৩৭:৬১)

মানুষ জন্মগত ভাবে কেন অন্ধ, আতুর, পুঙ্গু হয়? কেন অপরিণত বয়সে মৃত্যু হচ্ছে, ভালো মেয়েটির শ্লীলতাহানী হচ্ছে, কেন নিরপরাধ মানুষ জেল খাটছে,?

আল্লাহ বলেনঃ পৃথিবীতে অথবা ব্যক্তিগতভাবে তোমাদের উপর যে বিপর্যয় আসে আমি উহা সংঘটিত করিবার পূর্বেই উহা লিপিবদ্ধ থাকে ;।( 57:22)

এর প্রত্যেকটির পিছনে একটি কারণ এবং জন্মচক্রের রহস্য লুকায়িত রয়েছে । তা না হলে বলতে হয় আল্লাহ পক্ষপাতিত্ব করছেন । কাউকে অন্ধ, খোঁড়া বানাচ্ছেন, আবার কাউকে ভালো বানাচ্ছেন, কিন্তু আল্লাহ তো নির্দোষ- নিরপেক্ষ । আল্লাহ পাক ঘোষণা করেছেনঃ
” যা কিছু মঙ্গল তা (আল্লাহ ) হতে আর যা কিছু মন্দ তা তোমা হতে ( সুরা নেসা ;-৭৯) ।

অথচ আমরা বলে থাকি সবই তো আল্লাহর হুকুমে হয়েছে । আল্লাহর উপর দোষ চাপিয়ে দেই । আমার যা কিছু মন্দ তা যদি আমার কৃতকর্মের ফলই হয়ে থাকে তাহলে আমার কর্মফলে আমিই গ্রেফতার, আল্লাহ নিরপেক্ষ ।

এর যথাযোগ্য সদ্ব্যবহার জান্নাতের দিকে উত্তরন বা প্রমোশন,আর এর অপব্যবহার জাহান্নামের দিকে পশ্চাৎপসরন বা ডিমোশন । তাই তো রব বলেনঃ তোমাদের অবশ্যি স্তরে স্তরে এক অবস্থা থেকে আর এক অবস্থার দিকে এগিয়ে যেতে হবে। ৮৪:১৯
তবে যারা মুত্তাকী তারা একবারই মৃত্যু বরন করবেন এবং রবের দিদার প্রাপ্ত হয়ে চিরকাল জান্নাতে অবস্থান করবেন। এটি আল্লাহর ঘোষণা। সুরা দোখান, আয়াত ৫৬

” প্রথম মৃত্যুর পর তাহারা সেখানে আর মৃত্যু আস্বাদন করিবে না। আর তাহাদেরকে জাহান্নামের শাস্তি হইতে রক্ষা করিবেন” -(৪৪:৫৬)
আর যারা অস্বীকার কারী অবাধ্য তার দুইবার কিংবা বারবার মৃত্যুর স্বাদ গ্রহন করবে যতক্ষন না জান্নাতে যাওয়ার মত পরিশুদ্ধ না হবে। এ বিষয়ে সূরা ইনশিকাকে আল্লাহ বলেনঃ নিশ্চয় তোমরা ধাপে ধাপে আরোহণ করিবে। (৮৪:১৯)

অন্যত্র আরো পরিস্কার ভাবে আল্লাহ বলেনঃ
আর এইরূপ সাফল্যের জন্য সাধকদের উচিত সাধনা করা,( ৩৭:৬১)

এ আয়াতেই জন্ম চক্রের রহস্য লুকায়িত। কারন হলো ইচ্ছাশক্তি প্রয়োগের বেলায় আল্লাহ নিরপেক্ষ । সুরা মোমিনের ৩৩ নং আয়াতে আল্লাহপাক বলেছেনঃ
” যে সময়ে তোমরা ফিরিয়া যাইবে পিছনে, আল্লাহর তরফ হইতে থাকিবে না তোমাদের জন্য কোনো সংরক্ষক এবং আল্লাহ যাহাকে ভ্রান্তিতে ফেলেন তাহার জন্য কোনো হাদী নাই ।”
আল্লাহ কাহাকেও ভ্রান্তির মধ্যে ফেলতে চান না ।
কারণ আল্লাহ সূরা হুদে বলে দিয়েছেনঃ “যে ব্যক্তি নিজের ভাগ্য নিজে পরিবর্তন করেনা আল্লাহ তার ভাগ্য পরিবর্তন করেনা । (১১ঃ৫৩)

তাঁরই সৃজিত প্রাকৃতিক নিয়ম যে মানুষ মহামানবের হেদায়েতের বিরোধীতা করলে মৃত্যুর পরে পেছনের দিকে অর্থাৎ পশুকুলে জন্ম নেয় । তখন তাদের জন্য কোনো হাদী থাকে না । একেই আল্লাহর বিভ্রান্তি বলা হয়েছে ।

মোহাম্মদ গোষ্ঠীর সাথে মিলিত না হওয়া পর্যন্ত (মুসলমান মুত্তাকী অবস্থায় উত্তীর্ণ না হওয়া পর্যন্ত ) মানুষের মুক্তি হবে না এবং জন্মচক্রের ফেরে রুপান্তরিত হয়ে বারবার এই দুনিয়া নামক জাহান্নামে আসতে হবে ।

এই দুনিয়াটাই যে জাহান্নাম এটা মোমিন অর্থাৎ সত্যদ্রষ্টা ব্যতীত কারো পক্ষে উপলব্ধি করা অসম্ভব। আল্লাহপাক কোরানে ঘোষণা করেছেন-
” তোমাদের যদি দিব্যচক্ষু থাকত তাহলে জান্নাত এবং জাহান্নাম দেখতে পেতে ” (সুরা তাকাচ্ছুর ) ।
কোরানের ঘোষণা অনুযায়ী মানুষকে জাহান্নামে দেওয়া হবে বলা হয়নি । মানুষ জাহান্নামে আছে বলা হয়েছে । একটু লক্ষ্য করে দেখুন তো জীবজগৎ ও প্রানিজগতে কয়টা জীব বা প্রানী অন্ধ, আতুর, খোঁড়া ও অঙ্গহীন হয়ে জন্মাচ্ছে ? সুরা বাকারার ২৮ নং আয়াতের দিকে, আমরা একটু লক্ষ্য করিলে কিছু চিন্তায় ফেলিয়া দিবে,আল্লাহ বলেনঃ
তোমরা কিরূপে আল্লাহ্কে অস্বীকার কর ? অথচ তোমরা ছিলে প্রাণহীন, তিনি তোমাদেরকে জীবন্ত করেছেন, আবার তোমাদের মৃত্যু ঘটাবেন ও পুনরায় জীবন্ত করবেন, পরিণামে তাঁর দিকেই তোমাদেরকে ফিরিয়ে আনা হবে। (আল বাকারা – ২৮)

যদি আমরা কোরান মাজিদের বিভিন্ন ধরনের আয়াত দ্বারা আল্লাহপাক মানুষকে বুঝাতে চেয়েছেন যে ” জন্ম মৃত্যুর চক্রে আবব্ধ হইয়া থাকিলে জান্নাতের সন্ধান পাইবে না।
আল্লাহ বলেনঃ  আমি তোমাদের জন্য মৃত্যু নির্ধারিত করেছি এবং আমি অক্ষম নই— তোমাদের স্থলে তোমাদের সদৃশ আনয়ন করতে এবং তোমাদেরকে এমন এক আকৃতিতে সৃষ্টি করতে যা তোমরা জান না আর অবশ্যই তোমরা অবগত হয়েছ (প্রথম সৃষ্টি) সম্পর্কে??, তবে তোমরা উপদেশ গ্ৰহণ করা না কেন? (৫৬ঃ৬০-৬২)

প্রথম মৃত্যুর পর এবং আমাদেরকে শাস্তি দেওয়া হইবে না!ইহা তো মহাসাফল্য। আর এইরূপ সাফল্যের জন্য সাধকদের উচিত সাধনা করা,( ৩৭:৫৯-৬১)

আরেক ধাপ এগিয়ে গিয়ে আল্লাহ বলেনঃ “হে মানুষ! তুমি তোমার প্রতিপালকের নিকট পৌঁছা পর্যন্ত কঠোর সাধনা করিতে থাক,পরে তুমি তাঁহার সাক্ষাৎ লাভ করিবে। ( ৮৪ঃ ৬)

পৃথিবীতে অথবা ব্যক্তিগতভাবে তোমাদের উপর যে বিপর্যয় আসে আমি উহা সংঘটিত করিবার পূর্বেই উহা লিপিবদ্ধ থাকে ; আল্লাহ্‌র পক্ষে ইহা খুবই সহজ।(৫৭ঃ২২)

তোমরা কিরূপে আল্লাহ্‌কে অস্বীকার কর ? অথচ তোমরা ছিলে প্রাণহীন, তিনি তোমাদেরকে জীবন্ত করিয়াছেন, আবার তোমাদের মৃত্যু ঘটাইবেন ও পুনরায় জীবন্ত করিবেন, পরিণামে তাঁহার দিকেই তোমাদেরকে ফিরাইয়া আনা হইবে। (2:28)

উহারা বলিবে, ‘হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি আমাদেরকে প্রাণহীন অবস্থায় দুইবার রাখিয়াছ এবং দুইবার আমাদেরকে প্রাণ দিয়াছ। আমরা আমাদের অপরাধ স্বীকার করিতেছি; এখন নিষ্ক্রমণের কোন পথ মিলিবে কি?’ (৪০:১১)

সরাসরি একবার মৃত্যুতে যেন আল্লাহর দিদার পাওয়া যায় সে জন্য আল্লাহ প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেনঃ “হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা আল্লাহ্‌কে যথার্থভাবে ভয় কর এবং তোমরা মুসলমান না হইয়া কোন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করিও না। (৩ঃ১০২)

আমার এ বিশ্লেষনে আপনি একমত থাকুন সে দাবী আমি করবো না, এবং আমি চুড়ান্ত বুঝেছি সে কথাও দাবী করব না। কিন্তু দ্বীমত হলে আপনি রেফারেন্স সহ তা তুলে ধরুন। আমাকে সত্য উম্মোচনে সহায়তা করুন। নচেৎ সত্যকে অস্বীকার বা মিথ্যেকে মেনে নেয়ার অপরাধে দায়ী থাকবেন আপনিও।
******************************

নিশ্চয় তোমরা ধাপে ধাপে আরোহণ করিবে। (৮৪:১৯)
لَتَرْكَبُنَّ طَبَقًا عَنْ طَبَقٍؕ
লাতারকাবুন্না  তাবাক্কান  আন  তাবাক।
অনুবাদঃ নিশ্চয় তোমরা ধাপে ধাপে আরোহণ করবে।

তারকীকঃ    لَتَرْكَبُنَّ =   তোমরা  অবশ্যই আরোহণ করবে,     طَبَقًا =  স্তর,   عَنْ =  থেকে,     طَبَقٍ =  স্তরে,

বালাগাত (শব্দ বিন্যাস)ঃ তোমাদের অবশ্যি স্তরে স্তরে এক অবস্থা থেকে আর এক অবস্থার দিকে এগিয়ে যেতে হবে।

সূফি কবি নজরুল ইসলাম অনেক আগেই জন্মচক্র রহস্য অনুধাবন করতে পেরেছিলেন বলেই এ গানটি রচনা করেছিলেন।

Categories
Innovator My text

জেনে শুনে বিষ করেছি পানঃ

 আমি জেনে শুনে বিষ করেছি পানঃ

আল্লাহ কি উপাস্য নাকি হুকুম দাতা (ইলাহ)?

আল্লাহ কুরআন এ বলেন আল্লাহ ইলাহ হুকুম দাতা। মানুষ আল্লাহকে বানাইল উপাস্য। ইসলাম এ কোন উপাসনা নাই। আছে কর্ম পদ্ধতি।

আল্লাহ সালাত দিল যেন মানুষ নিয়ম করে সালাতে কুরআন পাঠ করে, আল্লাহর হুকুমের ব্যাপারে যেন বেখেয়াল হয়ে না পড়ে। মানুষ বানিয়ে নিল না বুজে পড়া, উঠা, বসার রিচুয়াল উপাসনা। প্রত্যহ পাঁচ বেলা সালাত আদায় করে। কিন্তু একটিও কুরআনের শিক্ষা গ্রহন করে না। তাই নামাজ অশ্লিল ও খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখেও না।

আল্লাহ হজ্ব কে করল মুসলিম দের সম্মেলন স্থল। এখানেও মানুষ শুধু রিচুয়াল রেখে, মৌলিক বিষয় সম্মেলনে কে বাদ দিল। হজ্বের রিচুয়াল পালন হয়। কিন্তু কোন সম্মেলন হয় না।শুধু রিচুয়াল ই যদি হজ্ব হত তাহলে বিদায় হজ্ব এ রাসুলুল্লাহ মুসলিম দের উদ্দেশ্য বক্তৃতা দিল কেন? যা পরিচিত বিদায় হজ্বের ভাষন নামে? আজ মুসলমানদের কোন নেতাও নাই, কোন সম্মেলন ও নাই।

রোযা দেয়া হল, আত্মসংযমের মাধ্যমে নিজেকে পরিশুদ্ধ করার পদ্ধতি হিসেবে। এটাকে বানিয়ে নিল না খেয়ে থাকার রিচুয়াল। দুনিয়ার সব অপকর্ম সব করে রোযা থেকেও।

সবকাজে মুসলমানরা আজ ইসলামের মৌলিক শিক্ষা বাদ দিয়ে কিছু রিচুয়ালের মধ্যে ইসলাম কে বন্দি করল। যার সাথে অন্য ধর্মের উপাসনার মাঝে মৌলিক কোন পার্থক্য রইল না।

মুসলমানরা ইসলামের কর্মপদ্ধতি কে উপাসনা বানিয়ে আল্লাহর সাথে প্রতারণা করল। আল্লাহ ও মুসলমানদের নামিয়ে দিল অধপতনের নিম্ন সীমায়।

উপাস্য আর ইলাহ বা হুকুম দাতার এক নয়। বিষ আর মধু সমতুল্য।

অন্য সকল ধর্মে রয়েছে বিভিন্ন উপাস্য। একমাত্র ইসলাম অন্য সকল ধর্ম থেকে ব্যতিক্রম এ জন্যই যে ইসলামে উপাসনা নেই। আছে বিধান মেনে জীবন চলার নির্দেশ। আর এই বিধান দাতা একমাত্র আল্লাহ।।

Verified by MonsterInsights