Categories
My text

ঈশা আঃ কি আবার আসবেন?

ঈশা আঃ কি আবার পৃথিবীতে আগমন করবেন?

আমাদের মুসলিম সমাজে দাজ্জাল, ঈমাম মেহিদী এবং হযরত ঈসা (আঃ) নিয়ে অনেক ভুল ধারনা/গল্প চালু আছে। আমরা সবাই এইটা শুনেছি/জানি যে এই তিন জন পৃথিবীর শেষ মুহূর্তে আসবেন এবং শেষের দুইজনের একজন অথবা উভয়েই প্রথম জন কে পরাজিত করবেন।

পৃথিবী আবার শান্তিতে পরিরপূর্ন হবে। এরপর হবে কিয়ামত। এই গল্প আমরা শুনেছি আমাদের বাপ দাদাদের কাছ থেকে। তারা শুনেছে তাদের বাপ দাদাদের কাছ থেকে। এই গল্প শুনে ১৪০০ বছর ধরে আমরা আশায় বুক বেধে আছি কবে তারা আসবে আর আমাদের অপেক্ষার প্রহর শেষ হবে। কিন্তু কোনদিন কি আমারা চিন্তা করে দেখেছি এই সব গল্প কতটুকো সত্য? এই সব গল্পের কোন ভিত্তি আছে কি না? নাকি এইসব বানোয়াট, মিথ্যা কল্প কাহিনি? আমি ব্যক্তিগতভাবে নিজেও এইসব গল্প বিশ্বাস করতাম। কিন্তুু কোরআন পরে যখন এইসব প্রশ্নের উত্তর খুজতে গেলাম তখন বুজতে পারলাম আমার ধারনা কতটা ভুল।

যেহেতু কোরআন সত্য এবং মিথ্যা এর মধ্যে পাথর্ক্য নির্ণয়কারী, আমরা কোরআনের এই বিশেষণ টি ব্যবহার করব উপরের ঘটনাগুলি পর্যালোচনা করার জন্য। আমরা দেখব এইসব ঘটনা সম্পর্কে কোরআন কি বলে। আমাদের অবশ্যই মনে রাখতে হবে, কোরআনের ভাষ্য আনুযয়ী “কোরআনে যা কিছু বলা হয়নি তা আমাদের ধর্ম/দ্বীন এ হযরত ঈসা (আঃ) কি দ্বিতীয় বার পৃথিবীতে আসবেন?

এই প্রশ্নটার উত্তর পেতে হলে আমাদের দেখতে হবে যে উনি জীবিত নাকি মৃত এবং উনি দ্বিতীয় বার পৃথিবীতে আসবেন -আল্লাহ কি এই ধরনের কোন কথা বলেছেন কিনা। ঈশা(আঃ) এর পূর্বে যত নবী এসেছিলেন সবাই মতৃগর্ভ থেকে ভুমিষ্ঠ হয়েছেন তারপর তাদের উপর কিতাব বা ওহী নাজিল করেছে এর পর মানুষের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় আল্লাহর করা বিধান অনুযায়ী সবাই মৃত্যুবরন করেছেন। ঈশা (আঃ) জন্মের পর কোলের শিশু অবস্হায় তার জন্ম,কিতাব লাভ ও মৃত্যুর কথা বলেছিলেন। পবিত্র কুরআনে সূরা মারইয়ামে তার জন্ম বৃত্তান্ত ও তার কথা গুলি সুন্দর ভাবে উপস্হাপন করা হয়েছে। আল্লাহ্ বলেন—-

(19) সে বললঃ আমি তো শুধু তোমার পালনকর্তা প্রেরিত, যাতে তোমাকে এক পবিত্র পুত্র দান করে যাব।

(20) মরিইয়াম বললঃ কিরূপে আমার পুত্র হবে, যখন কোন মানব আমাকে স্পর্শ করেনি এবং আমি ব্যভিচারিণীও কখনও ছিলাম না ?

(21) সে বললঃ এমনিতেই হবে। তোমার পালনকর্তা বলেছেন, এটা আমার জন্যে সহজ সাধ্য এবং আমি তাকে মানুষের জন্যে একটি নিদর্শন ও আমার পক্ষ থেকে অনুগ্রহ স্বরূপ করতে চাই। এটা তো এক স্থিরকৃত ব্যাপার।

(22) অতঃপর তিনি গর্ভে সন্তান ধারণ করলেন এবং তৎসহ এক দূরবর্তী স্থানে চলে গেলেন।

(23) প্রসব বেদনা তাঁকে এক খেজুর বৃক্ষ-মূলে আশ্রয় নিতে বাধ্য করল। তিনি বললেনঃ হায়, আমি যদি কোনরূপে এর পূর্বে মরে যেতাম এবং মানুষের স্মৃতি থেকে বিলুপ্ত হয়ে, যেতাম!

(24) অতঃপর ফেরেশতা তাকে নিম্নদিক থেকে আওয়ায দিলেন যে, তুমি দুঃখ করো না। তোমার পালনকর্তা তোমার পায়ের তলায় একটি নহর জারি করেছেন।

(25) আর তুমি নিজের দিকে খেজুর গাছের কান্ডে নাড়া দাও, তা থেকে তোমার উপর সুপক্ক খেজুর পতিত হবে।

(26) যখন আহার কর, পান কর এবং চক্ষু শীতল কর। যদি মানুষের মধ্যে কাউকে তুমি দেখ, তবে বলে দিওঃ আমি আল্লাহর উদ্দেশে রোযা মানত করছি। সুতরাং আজ আমি কিছুতেই কোন মানুষের সাথে কথা বলব না।

(27) অতঃপর তিনি সন্তানকে নিয়ে তার সম্প্রদায়ের কাছে উপস্থিত হলেন। তারা বললঃ হে মারইয়াম, তুমি একটি অঘটন ঘটিয়ে বসেছ।

(28) হে হারূণ-ভাগিনী, তোমার পিতা অসৎ ব্যক্তি ছিলেন না এবং তোমার মাতাও ছিল না ব্যভিচারিনী।

(29) অতঃপর তিনি হাতে সন্তানের দিকে ইঙ্গিত করলেন। তারা বললঃ যে কোলের শিশু তার সাথে আমরা কেমন করে কথা বলব?

(30) সন্তান বললঃ আমি তো আল্লাহর দাস। তিনি আমাকে কিতাব দিয়েছেন এবং আমাকে নবী করেছেন।

(31) আমি যেখানেই থাকি, তিনি আমাকে বরকতময় করেছেন। তিনি আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন, যতদিন জীবিত থাকি, ততদিন নামায ও যাকাত আদায় করতে।

(32) এবং জননীর অনুগত থাকতে এবং আমাকে তিনি উদ্ধত ও হতভাগ্য করেননি।

(33) আমার প্রতি সালাম যেদিন আমি জন্মগ্রহণ করেছি, যেদিন মৃত্যুবরণ করব এবং যেদিন পুনরুজ্জীবিত হয়ে উত্থিত হব।(সূরা মারইয়াম 19-33)

ঈসা (আঃ) ক্রুসবিদ্ধ হননি/তাকে হত্যা করাও হয়নিঃ
এই বিষয়ে কারও কোন সন্ধেহ নাই। আল্লাহ পরিষ্কারভাবে কোরআনে এই কথা বলে দিয়েছেন।
আল্লাহ্ বলেন—-

এবং তাদের এ কথার কারণে যে, ‘আমরা আল্লাহর রাসূল মারইয়াম পুত্র ঈসা মাসীহকে হত্যা করেছি’। অথচ তারা তাকে হত্যা করেনি এবং তাকে শূলেও চড়ায়নি। বরং তাদেরকে ধাঁধায় ফেলা হয়েছিল। আর নিশ্চয় যারা তাতে মতবিরোধ করেছিল, অবশ্যই তারা তার ব্যাপারে সন্দেহের মধ্যে ছিল। ধারণার অনুসরণ ছাড়া এ ব্যাপারে তাদের কোন জ্ঞান নেই। আর এটা নিশ্চিত যে, তারা তাকে হত্যা করেনি।(সূরা নিসা ৪:১৫৭)

যেহেতু কোরআনের ভাষ্য মতে ঈসা (আঃ) ক্রুসবিদ্ধ হননি/তাকে হত্যা করাও হয়নি সুতরাং আমাদের কোরআন থেকে দেখতে হবে যে উনার স্বভাবিক মৃত্যু হয়েছিল কি না।

হযরত ঈসা (আঃ) এর স্বভাবিক মৃত্যুর প্রমাণঃ

১। হযরত ঈসা (আঃ)একজন মরনশীলঃ
আল্লাহ বলেছেন “আপনার পূর্বেও কোন মানুষকে আমি অনন্ত জীবন দান করিনি। সুতরাং আপনার মৃত্যু হলে তারা কি চিরঞ্জীব হবে? (২১:৩৪)
সুতরাং দেখা যাচ্ছে কেউ অমর নয়। আপনি বলতে পারেন যে হযরত ঈসা (আঃ) অমর নয় কিন্তু পৃথিবীতে দ্বিতীয়বার আসার পর কিয়ামতের আগে উনার মৃত্য হবে। তাহলে দেখি উনার সম্পর্কে আর কি কি বলা হয়েছে

২। সব রাসূলই মৃত আল্লাহ্ বলেন—

﴿ مَا الۡمَسِيۡحُ ابۡنُ مَرۡيَمَ اِلَّا رَسُوۡلٌ‌ۚ قَدۡ خَلَتۡ مِنۡ قَبۡلِهِ الرُّسُلُؕ وَاُمُّهٗ صِدِّيۡقَةٌ‌ؕ كَانَا يَاۡكُلٰنِ الطَّعَامَ‌ؕ اُنْظُرۡ كَيۡفَ نُبَيِّنُ لَهُمُ الۡاٰيٰتِ ثُمَّ انْظُرۡ اَنّٰى يُؤۡفَكُوۡنَ‏﴾
মারইয়াম পুত্র মসীহ্ তো একজন রসূল ছাড়া আর কিছুই ছিল না? তার পূর্বেও আরো অনেক রসূল অতিক্রান্ত হয়েছিল। তার মা ছিল একজন সত্যনিষ্ঠ মহিলা। তারা দু’জনই খাবার খেতো। দেখো কিভাবে তাদের সামনে সত্যের নিদর্শনগুলো সুস্পষ্ট করি। তারপর দেখো তারা কিভাবে উল্টো দিকে ফিরে যাচ্ছে।(৫:৭৫)

মুহাম্মাদ একজন রসূল বৈ তো আর কিছুই নয়। তার আগে আরো অনেক রসূলও চলে গেছে। (সূরা আল ইমরান ৩:১৪৪)

এইখানে এই দুইখানা আয়াতের সামঞ্জস্য বিশেষভাবে লক্ষণীয়। আয়াত ৫:৭৫ এ আল্লাহ পরিষ্কারভাবে বলে দিয়েছেন যে হযরত ঈসা (আঃ) এর পূর্বে সমস্ত রাসূল গত হয়েছেন। তারা (ঈসা (আঃ) এবং উনার মা বেচে থাকার জন্য খাদ্য গ্রহন করতেন। এইটাই আল্লাহর নিদর্শন যে হযরত ঈসা (আঃ) এবং উনার মা মরণশীল মানুষ,এবং এই ভাবেই আল্লাহ তার নিদর্শন পরিস্কার ভাবে আমাদের কাছে ব্যক্ত করেন।

এখন আয়াত ৩:১৪৪ এ আল্লাহ ঠিক একই ভাবে নবী মুহাম্মাদ (সাঃ) সম্পর্কে বলছেন যে, মুহাম্মাদ (সাঃ) এর পূর্বে সকল রাসূল গত হয়েছেন। সুতরাং ঈসা (আঃ) ও গত হয়েছেন। এটাই স্বাভাবিক। এটাই সত্য।

যারা কোরআনে বিশ্বাস করেন তাদের জন্য উপরের দুইটি প্রমাণই যথেষ্ট। কিন্তু অনেক দিনের জমানো বিশ্বাস, মোল্লাদের শিক্ষা, হাদিস এর লিখা, পূর্বপুরুষদের কথার উপরে উঠে কোরআনের কথা মেনে নেয়া কষ্টকর। কোরআন বিশ্বাস করি এই কথা মুখে বললেও আগের বিশ্বাস নিয়েই মানুষ আঁকড়ে পরে থাকে। সুতরাং যাদের বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে, তাদের জন্য দেখি আল্লাহ কোরআনে আর কি কি বলেছেন।

আল্লাহ ঈসা (আঃ) এর স্বভাবিক মৃত্যুর কথা কোরআনে বলেছেনঃ
এই বিষয়ে যাওয়ার আগে আমাদের কোরআনের অনুবাদ সম্পর্কে কিছু সত্য জানতে হবে। আমার মত অনেকেই আছেন যারা আরবী ভাষা জানেননা, শুধু পড়তে জানেন। যারা কোরআন বুঝে পড়তে চান, তারা কোরআনের অনুবাদ পড়েন। কিন্তু সমস্যা হল যারা এই অনুবাদ এর কাজটি করেছেন, তারা নিজেদের দল, মতার্দশ, এবং বিশ্বাস কে পুজি করে অনুবাদ করেছেন। কোরআনের অনুবাদ করতে গিয়ে তারা নিজেদের দল, মতার্দশ, এবং বিশ্বাস এর উর্ধ্বে ওঠতে পারেননি। প্রায় সবাই কোরআন কে নিজের মত অনুবাদ করে নিজেদের দলীয়/ উপদলীয় (শিয়া, সুন্নী, আহালে হাদিস, কাদিয়ানী ইত্যাদি এইসব দল এবং এর উপদল) বিশ্বাস কে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছেন। এর ফলে কোরআনের আসল মেসেজ এর বিকৃতি হয়েছে। এক আয়াত এর সাথে আর এক আয়াতের অর্থের অমিল/অসামঞ্জস্য দেখা দিয়েছে। এর উদাহরণ অনেক। আমি একই সাথে কোরআনে ঈসা (আঃ) এর স্বভাবিক মৃত্যুর আয়াত এবং এর অনুবাদ এর অসামঞ্জস্য দেখাব এবং সঠিক অনুবাদটি দিয়ে দেখাব যে উনার মৃত্যু হয়েছে। স্বভাবিক কারনেই এখানে ইংলিশ অনুবাদ অনুসরণ করব, কারন কোরআনের যেসব বাংলা অনুবাদ পাওয়া যায়, তা সবই এইসব দোষে দুষ্ট, এবং বাংলা অনুবাদের ভাষার প্রয়োগের ক্ষেত্রে অনেক দুর্বলতা রয়েছে। ইংলিশ অনুবাদেও এই সমস্যা প্রকট, কিন্তু ভাষার ব্যাবহার তুলনামূলকভাবে অনেক পরিষ্কার।

এখন আমি ভুল আনুবাদের একটা উদাহরণ দেখাব। আয়াত ৩:৫৫…

অনুবাদ ১ঃ মুহাম্মদ আসাদঃ
Lo! God said: “O Jesus! Verily, I shall cause thee to die, and shall exalt thee unto Me, and cleanse thee of [the presence of] those who are bent on denying the truth; and I shall place those who follow thee [far] above those who are bent on denying the truth, unto the Day of Resurrection. In the end, unto Me you all must return, and I shall judge between you with regard to all on which you were wont to differ

অনুবাদ ২ঃ ইউসুফ আলীঃ
Behold! Allah said: “O Jesus! I will take thee and raise thee to Myself and clear thee (of the falsehoods) of those who blaspheme; I will make those who follow thee superior to those who reject faith, to the Day of Resurrection: Then shall ye all return unto me, and I will judge between you of the matters wherein ye dispute.

উপরের দুই ধরনের অনুবাদ দেখে প্রশ্ন জাগে কোনটা সঠিক। এইখানে مُتَوَفِّيكَ وَرَافِعُكَ দুইটি আরবী শব্দের অর্থ বোঝতে হবে। কোরআনের যত জায়গায় مُتَوَفِّيكَ এই শব্দ ব্যবহার হয়েছে ঈসা (আঃ) এর ঘটনা ব্যতীত, সব জায়গায় মৃত্যু বুঝানো হয়েছে। উদাহরণসরূপ (৩২:১১,৪:৯৭,৮:৫০,২২:৫,১২:১০১) কিন্তু মজার ব্যপার হল শুধুমাত্র ঈসা (আঃ) এর ক্ষেত্রে অনেক অনুবাদক মৃত্যু অনুবাদ করেন নাই। কেন? কারন ঐ যে বললাম নিজেদের দলীয়/উপদলীয় (শিয়া, সুন্নী, আহালে হাদিস, কাদিয়ানী এইসব দল উপদলীয়) বিশ্বাস। এইভাবে মানুষ কোরআনের আয়াত দিয়ে নিজেদের মতমতো অর্থ করে নিজের প্রচলিত বিশ্বাস কে প্রচার করে। আসুন এবার আয়াতটির বাংলা অনুবাদ দেখি। আল্লাহ্ বলেন—-

إِذْ قَالَ اللَّهُ يَا عِيسَىٰ إِنِّي مُتَوَفِّيكَ وَرَافِعُكَ إِلَيَّ وَمُطَهِّرُكَ مِنَ الَّذِينَ كَفَرُوا وَجَاعِلُ الَّذِينَ اتَّبَعُوكَ فَوْقَ الَّذِينَ كَفَرُوا إِلَىٰ يَوْمِ الْقِيَامَةِ ۖ ثُمَّ إِلَيَّ مَرْجِعُكُمْ فَأَحْكُمُ بَيْنَكُمْ فِيمَا كُنتُمْ فِيهِ تَخْتَلِفُونَ

যখন আল্লাহতায়ালা বল‌লেন, হে ঈসা, আমি তোমার এ দু‌নিয়ার (জীবন কাটা‌নোর) কাল শেষ কর‌তে যা‌চ্ছি এবং (অচিত‌রেই) আমি তোমা‌কে আমার কা‌ছে তু‌লে আন‌বো,যারা (তোমা‌কে মে‌নে নি‌তে) অস্বীকার ক‌রে‌ছে তা‌দের (যাবতীয় পাপ) থে‌কেও আমি তোমা‌কে প‌বিত্র ক‌রে নে‌বো, আর যারা তোমা‌কে অনুসরন কর‌ছে, তা‌দের আমি কিয়ামত পর্যন্ত এই অস্বীকারকারী‌দের উপর (বিজয়ী ক‌রে) রাখ‌বো; অতপর তোমা‌দের সবাইকে আমার কা‌ছেই ফি‌রে আস‌তে হ‌বে; সে‌দিন (ঈসা সম্প‌র্কিত) যেসব বিষ‌য়ে তোমরা মত‌বি‌রোধে লিপ্ত ছি‌লে, তার সব কয়‌টি বিষ‌য়েই আমি মিমাংসা ক‌রে দে‌বো।(সূরা আল-ইমরান ৩:৫৫)

এখানে তুলে নেয়ার বিষয়টি রূপক; আমরা যেমন কেউ মারা গেলে বলি আল্লাহ তার কাছে নিয়ে গেছেন/ আল্লাহ নিয়ে গেছেন/ উপরে চলে গেছেন ইত্যাদি।

মুতাওয়াফফিকা শব্দটি এখানে ব্যবহার করা হয়েছে; ওফাত থেকে তাওয়াফ; তাওয়াফ থেকে মোতাওয়াফ শব্দটি এসেছে; আরবী অবিধান অনুযায়ী মুতাওয়াফ শব্দের অর্থ মৃত্যুবরন করা।

এই পর্যন্ত আমরা কোরআনের মাধ্যমে প্রমান করেছি ঈসা (আঃ) এর স্বভাবিক মৃত্যু হয়েছে। এখন বাকি থাকল দুইটা জিনিষ, উনাকে স্বশরীরে তুলে নেওয়া হয়েছে কিনা? এবং উনি আবার আসবেন কি না?

এইখানে وَرَافِعُكَ আরবী শব্দের অর্থ বোঝতে হবে, এবং এই শব্দ কোরআনে আর কোথায় কি অর্থে ব্যবহার হয়েছে তা দেখতে হবে। ইউসুফ আলী এই শব্দ “রাফা” এর অনুবাদ করেছেন “raise” মানে উঠিয়ে নেওয়া।অন্যদিকে,মুহাম্মদ আসাদ অনুবাদ করেছেন “exalt”(উচ্চে স্হাপন করা)। ইউসুফ আলী এবং অন্য অনুবাদকগন এই শব্দ “রাফা” এর অর্থ করতে গিয়ে বুঝিয়েছেন স্বশরীরে তুলে নেওয়া। কিন্তু এই একই শব্দ যখন কোরআনের অন্য যায়গায় এসেছে, তখন তারা এই অর্থ করেন নাই। কেন?

আল্লাহ ঈদ্রিস (আঃ) সম্পর্কে বলেছেন এবং ইউসুফ আলী অনুবাদ করেছেন…
And We raised him to a lofty station (19:57)

وَرَفَعْنٰهُ مَكَانًا عَلِيًّا

আর আমি তাকে উচ্চ মর্যাদায় সমুন্নত করেছিলাম। (19:57)
আল্লাহ মুহাম্মদ (সাঃ) সম্পর্কে বলেছেন এবং ইউসুফ আলী অনুবাদ করেছেন…
And raised high the esteem (in which) thou (art held)? (94:4)
وَرَفَعْنَا لَكَ ذِكْرَكَ

আর আমি তোমার (মর্যাদার) জন্য তোমার স্মরণকে সমুন্নত করেছি।(94:4)

ডিকশনারিতে “রাফা” মানে হচ্ছে “ exalt in honor, not physical ascention”.
এখন, যদি “রাফা” এর অর্থ করা হয় “স্বশরীরে তুলে নেওয়া”- তাহলে, আল্লাহর কোরআন অনুসারে ঈদ্রিস (আঃ) এবং মুহাম্মদ (সাঃ) কেও স্বশরীরে তুলে নিয়েছেন, এবং তারা আবার আসবেন।

এখন দেখব, ঈসা (আঃ) এর দ্বিতীয়বার আসার ব্যপারে আল্লাহ কোরআনে কিছু বলেছেন কিনা। এই ব্যপারে আমি কোনও আয়াত খুজে পাইনি। তবে এটা পরিষ্কার যে উনি দ্বিতীয়বার আসবেন না। কারনঃ

১। ঊনি মারা গেছেন। আল্লাহর আইন অনুসারে,মৃত ব্যক্তি পৃথিবীতে দুইবার আসতে পারেন না।
২। আল্লাহ কোরআনের ৫:১১৭ আয়াতে বলেছেন,

مَا قُلْتُ لَهُمْ إِلَّا مَآ أَمَرْتَنِى بِهِۦٓ أَنِ اعْبُدُوا اللَّهَ رَبِّى وَرَبَّكُمْ ۚ وَكُنتُ عَلَيْهِمْ شَهِيدًا مَّا دُمْتُ فِيهِمْ ۖ فَلَمَّا تَوَفَّيْتَنِى كُنتَ أَنتَ الرَّقِيبَ عَلَيْهِمْ ۚ وَأَنتَ عَلٰى كُلِّ شَىْءٍ شَهِيدٌ

‘আমি তাদেরকে কেবল তাই বলেছি, যা আপনি আমাকে আদেশ করেছেন যে, তোমরা আমার রব ও তোমাদের রব আললাহর ইবাদাত কর। আর যতদিন আমি তাদের মধ্যে ছিলাম ততদিন আমি তাদের উপর সাক্ষী ছিলাম। অতঃপর যখন আপনি আমাকে উঠিয়ে নিলেন তখন আপনি ছিলেন তাদের পর্যবেক্ষণকারী। আর আপনি সব কিছুর উপর সাক্ষী।(সূরা মায়েদা ৫:১১৭)

এই আয়াত দিয়ে বুঝা যায় যে, উনার আসার আর কোন সম্ভাবনা নাই।

৩। অনেকে কোরআনের ৪৩:৬১ নাম্বার আয়াত দিয়ে প্রমান করার চেষ্টা করেন যে উনি আবার কিয়ামতের আগে আসবেন। সুতরাং দেখা যাক ৪৩:৬১ নাম্বার আয়াতে আল্লাহ আসলে কি বলেছেন।

وَإِنَّهُ لَعِلْمٌ لِّلسَّاعَةِ فَلَا تَمْتَرُنَّ بِهَا وَاتَّبِعُونِ ۚ هَٰذَا صِرَاطٌ مُّسْتَقِيمٌ

Yusuf Aliঃ
And (Jesus) shall be a Sign (for the coming of) the Hour (of Judgment): therefore have no doubt about the (Hour), but follow ye Me: this is a Straight Way.

Muhammad Asad ঃ
AND, BEHOLD, this [divine writ] is indeed a means to know [that] the Last Hour [is bound to come]; hence, have no doubt whatever about it, but follow Me: this [alone] is a straight way.

এইখানে ইউসুফ আলী সবচেয়ে বড় manipulation করেছেন। মূল আরবী আয়াত দেওয়া হয়েছে এই জন্য যাতে পাঠক বুঝতে পারে এবং তুলনা করতে পারে আমি কি বুঝাতে চাচ্ছি। প্রথমত, ইউসুফ আলী ব্রাকেটে ঈসা (আঃ) এর নাম ঢুকিয়েছেন, এবং তার সাথে এই আয়াতটি সম্প্রৃক্ত করার চেষ্টা করেছেন, (আমি অনেক অনুবাদ দেখেছি যেখানে এই আয়াতের অনুবাদে সরাসরি ঈসা (আঃ) এর নাম ঢুকিয়ে দেয়া হয়ছে) যদিও এই আয়াতের সাথে ঈসা (আঃ) এর কোন সম্প্রৃক্ততা নাই। এর আগের আয়াতে (৪৩:৬০) আল্লাহ ফেরেস্তার কথা বলেছেন, ঈসা (আঃ) এর কথা নয়। আল্লাহ্ বলেন,

وَلَوْ نَشَآءُ لَجَعَلْنَا مِنكُم مَّلٰٓئِكَةً فِى الْأَرْضِ يَخْلُفُونَ

আর যদি আমি চাইতাম, তবে আমি তোমাদের পরিবর্তে ফেরেশতা সৃষ্টি করে পাঠাতাম যারা যমীনে তোমাদের উত্তরাধিকার হত।(৪৩:৬০)

দ্বিতীয়ত,এইখানে “ইলম” শব্দটির অর্থ করেছেন sign বা নিদর্শন, কিন্তু এই শব্দটির অর্থ হবে knowledge/ জ্ঞান। সুতরাং, দ্বিতীয় অনুবাদটি সঠিক।

এই আয়াতটি যে ঈশা আঃ এর পুনঃর আগমন স্পর্কিত তা তাফসীরকারকরাও একমত হতে পারেনি। যুক্তিও এর স্বপক্ষে নয়। যেখানে আল্লাহ্ সব কিছু পরিস্কার ভাবে বলে দিয়েছেন সেখানে মানুষের অনুমান নির্ভর কথার প্রয়োজন আছে বলে মনে হয় না।তাপরও যাদের আল্লাহর সুষ্পষ্ট বানী মন ভরেনা মানুষের অনুমান নির্ভর কথার দিকে মন পড়ে থাকে তাদের জন্য নিচের উদ্বৃতি।

وَاِنَّهٗ لَعِلۡمٌ لِّلسَّاعَةِ فَلَا تَمۡتَرُنَّ بِهَا وَاتَّبِعُوۡنِ‌ؕ هٰذَا صِرَاطٌ مُّسۡتَقِيۡمٌ‏﴾

আর প্রকৃতপক্ষে সে তো কিয়ামতের একটি নিদর্শন।অতএব সে ব্যাপারে তোমরা সন্দেহ পোষণ করো না এবং আমার কথা মেনে নাও। এটাই সরল-সোজা পথ।(সূরা যুখরুফ ৪৩:৬১)

এ আয়াতাংশের অনুবাদ এও হতে পারে যে তিনি কিয়ামত সম্পর্কে জ্ঞানের একটি মাধ্যম। এখানে এই মর্মে একটি প্রশ্ন দেখা দেয় যে, ‘সে’ শব্দ দ্বারা কি জিনিস বুঝানো হয়েছে? হযরত হাসান বাসারী এবং সাঈদ ইবনে জুবায়েরের মতে এর অর্থ ‘কুরআন মজীদ’। অর্থাৎ কিয়ামত আসবে কুরআন মজীদ থেকে মানুষ তা জানতে পারে। কিন্তু এ ব্যাখ্যা পূর্বাপর প্রসঙ্গের সাথে একেবারেই সম্পর্কহীন। কথার মধ্যে এমন কোন ইঙ্গিত বর্তমান নেই যার ভিত্তিতে বলা যাবে যে এখানে কুরআনের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। অন্য সব তাফসীরকারগণ প্রায় সর্বসম্মতভাবে এ মত পোষণ করেন যে, এর অর্থ হযরত ঈসা ইবনে মারয়াম এবং পূর্বাপর প্রসঙ্গের মধ্যে এটাই সঠিক। এরপর প্রশ্ন আসে, তাঁকে কোন অর্থে কিয়ামতের নিদর্শন অথবা কিয়ামত সম্পর্কিত জ্ঞানের মাধ্যম বলা হয়েছে? ইবনে আব্বাস, মুজাহিদ, ইকরিমা, কাতাদা, সুদ্দী, দাহহাক, আবুল আলিয়া ও আবু মালেক বলেন, এর অর্থ হয়রত ঈসা আলাইহিস সালামের দ্বিতীয় আগমন, যে সম্পর্কে বহু হাদীসে বলা হয়েছে। এক্ষেত্রে আয়াতের অর্থ হচ্ছে, তিনি দ্বিতীয় বার যখন পৃথিবীতে আগমন করবেন তখন বুঝা যাবে কিয়ামত নিকটবর্তী হয়েছে। কিন্তু এসব সম্মানিত ব্যক্তিবর্গের মহাসম্মান সত্ত্বেও একথা মেনে নেয়া কঠিন যে, এ আয়াতে হযরত ঈসার পুনরাগমনকে কিয়ামতের নিদর্শন অথবা সে সম্পর্কে জ্ঞান লাভের মাধ্যম বলা হয়েছে। কেননা, পরের বাক্যই এ অর্থ গ্রহণের পথে প্রতিবন্ধক।
وَلَا يَصُدَّنَّكُمُ الشَّيْطَانُ ۖ إِنَّهُ لَكُمْ عَدُوٌّ مُّبِينٌ

(আয্‌-যুখরুফ – ৬২)
শয়তান যেন তোমাদেরকে তা থেকে নিবৃত্ত না করে। সে তোমাদের প্রকাশ্য শুত্রু।

তাঁর পুনরাগমন কিয়ামত সম্পর্কিত জ্ঞানের মাধ্যমে শুধু তাদের জন্য হতে পারে যারা সেই যুগে বর্তমান থাকবে অথবা সেই যুগের পরে জন্ম লাভ করবে। মক্কার কাফেরদের জন্য তিনি কিভাবে কিয়ামত সম্পর্কিত জ্ঞানের মাধ্যম হতে পারেন যার কারণে তাদেরকে সম্বোধন করে একথা বলা সঠিক হবে যে, ‘অতএব তোমরা সে ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করো না’। অতএব, অন্য কয়েকজন মুফাসসির এ আয়াতের যে ব্যাখ্যা পেশ করেছেন আমাদের মতে সেটিই সঠিক ব্যাখ্যা। তাঁদের মতে এখানে হযরত ঈসার বিনা বাপে জন্ম লাভ, মাটি দিয়ে জীবন্ত পাখি তৈরী করা এবং মৃতকে জীবিত করাকে কিয়ামতের সম্ভাবনার একটি প্রমাণ হিসাবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। আল্লাহর বাণীর তাৎপর্য এই যে, যে আল্লাহ‌ বিনা বাপে সন্তান সৃষ্টি করতে পারেন এবং যে আল্লাহর এক বান্দা মাটির একটি কাঠামোর মধ্যে জীবন সঞ্চার করতে ও মৃতদের জীবিত করতে পারেন তিনি মৃত্যুর পর তোমাদের ও সমস্ত মানুষকে পুনরায় জীবিত করবেন তা তোমরা অসম্ভব মনে করো কেন?(তাফীমুল কুরআন)

“ঈশা (আঃ) তো কিয়ামতের নির্দেশন।” অর্থাৎ ঈশা (আঃ)-এর মাধ্যমে আমি যেসব মুজিযা দুনিয়া বাসীকে দেখিয়েছি, যেমন মৃতকে জীবিত করা,কুষ্ঠ রোগীকে আরোগ্য দান করা ইত্যাদি, এগুলি কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার দলীল হিসেবে যথেষ্ট। সুতরাং তোমরা কিয়ামতে সন্দেহ পোষন করো না এবং আমাকেই অনুসরন কর।এটাই সরল পথ।(তাফসীর ইবনে কাছির)

অনেকে সূরা নিসার ১৫৯ নাম্বার আয়াতটি দলিল হিসাবে উপস্হাপন করে অথচ এই আয়াতটি ইহুদিদের বিষয়ে বলা হয়েছে,এই আয়াতের পূর্বের আয়াত গুলি পাঠকরলে যে কোন মানুষ তা বুজতে পারবে। ১৫৯ নাম্বার আয়াতে আল্লাহ্ বলেন,

وَإِن مِّنْ أَهْلِ ٱلْكِتَٰبِ إِلَّا لَيُؤْمِنَنَّ بِهِۦ قَبْلَ مَوْتِهِۦۖ وَيَوْمَ ٱلْقِيَٰمَةِ يَكُونُ عَلَيْهِمْ شَهِيدًا

কিতাবওয়ালাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যে, তার মৃত্যুর পূর্বে তার প্রতি অবশ্যই ঈমান আনবে না, আর ক্বিয়ামাতের দিন সে তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে।
(সূরা নিসা ৪:১৫৯)

(ইহুদিরা) ঈশা (আঃ)-এর সত্যতা স্বীকার করবে। ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন যে, কোন কিতাবী মারা যায় না যে পর্যন্ত না সে ঈশা (আঃ)-এর উপর ঈমান আনয়ন করে।মুজাহিদেরও (রাঃ) এটাই উক্তি।এমন কি ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে তা এতদূর পর্যন্ত বর্নিত আছে যে, যদি কোন আহলে কিতাবের গর্দান তরবারী দ্বারা উড়িয়ে দেয়া হয় তথাপি তার আত্মা বের হয় না যে পর্যন্ত না সে ঈশা (আঃ)-এর উপর ঈমান আনে এবং এটা বলে দেয় যে, তিনি আল্লাহ তা’আলার বান্দা ও তাঁর রাসূল। ইবনে আব্বাস (রাঃ)-কে জিঞ্জাস করা হয়ঃ মনে করুন কেউ হয়তো দেয়াল হতে পড়ে মারা গেল।তখন সে কি করে ঈমান আনতে পারে? তিনি উত্তরে বলেনঃ সে ঐ মধ্যবর্তী দূরত্বের মধ্যেই ঈমান আনতে পারে। ইকরামা (রাঃ), মুহাম্মদ ইবনে সীরিন (রাঃ), যহ্হাক (রাঃ), জুয়ইবির (রাঃ) হতেও এটাই বর্নিত আছে।(তাফসীর ইবনে কাছির)

অনেকে প্রশ্ন করেন ইশা আঃ মৃত্যুবরন করে থাকলে তার কবর কোথায়?

ইশা আঃ কে নিয়ে যেসব বিভ্রান্ত সৃষ্টি হয়েছে তার নিরসন করবেন আল্লাহ্ কিয়ামতের দিন।

তোমা‌দের সবাইকে আমার কা‌ছেই ফি‌রে আস‌তে হ‌বে; সে‌দিন (ঈসা সম্প‌র্কিত) যেসব বিষ‌য়ে তোমরা মত‌বি‌রোধে লিপ্ত ছি‌লে, তার সব কয়‌টি বিষ‌য়েই আমি মিমাংসা ক‌রে দে‌বো।(সূরা আল-ইমরান ৩:৫৫)

উপসংহারঃ
১। ঈসা (আঃ) ক্রুসবিদ্ধ হননি/তাকে হত্যা করাও হয়নি (৪:১৫৭)
২। উনি স্বভাবিক মৃত্যু বরন করেছেন (২১:৩৪, ৩:১৪৪, ৩:৫৫, ৫:১১৭ )
৩। উনি দ্বিতীয়বার পৃথিবীতে আসবেন না। কারন আল্লাহর আইন মানুষ একবারই পৃথিবীতে আসবে, এবং একবারই মরন হবে।
৪। যেহেতু উনি পৃথিবীতে দ্বিতীয়বার আসবেন না, সেহেতু, দাজ্জাল এর সাথে যুদ্ধ করার প্রশ্নই আসেনা। দাজ্জাল একটা মিথ এবং এর কোন ভিত্তি নাই। সবই বানানেয়া গল্প। মেহিদীর ক্ষেত্রেও একই কথা। কুরআনে মোশা,মাছির কথা আছে অথচ কিয়ামতের আগে এরা আসবেন এমন গুরুত্বপূর্ণ তথ্যটি নেই ? কুরআনের কোথাও এই বিষয়ে একটি আয়াতও নেই। এই গুলি আলিফ লায়লার গল্পকারদের মাধ্যমে ইহুদি ও খৃষ্টানরা রাসূল সাঃ এর নামে মিথ্যা কথা চালিয়ে দিয়েছে হাদিসের নামে।অবশেষে এই গল্প গুলি মানুষের মুখে মুখে বর্নিত হয়ে রাসূল সাঃ এর ওফাতের দীর্ঘ প্রায় ২৫০ বছর পর সহী সনদের অন্তরালে রাসূল সাঃ এর নামে জাল কথা স্হান পেয়েছে হাদিস গ্রন্থ গুলিতে।

এই মিথ্যা গল্প গুলি বিশ্বাস করার ফলে মুসলিম জাতীর মাঝে এর নেতিবাচক প্রভাব পরেছে।যুগে যুগে মোল্লারা এই গল্প গুলির মাধ্যমে সাধারন মানুষকে বুজাতো যে আমাদের দ্বারা ইসলামী খিলাফত প্রতিষ্টা সম্ভব না তারা এসে খিলাফত প্রতিষ্টা করবে।এই প্রচারনার ফলে অতিসহজে জালেমরা তাদের জুলুমতন্ত্র প্রতিষ্টা করছে অতি সহজে। যখন মানুষ বিশ্বাস করে ইমাম মেহেদি এসে খিলাফত প্রতিষ্টা করবে, তখন মানুষ ভাবে এখন যখন খিলাফত প্রতিষ্টা করা সম্ভব না তাহলে এখন খিলাফত প্রতিষ্টার জন্য জীবন দান করার কোন মানে হয় না।

মুসলিমদের কে আবার তাদের হারানো গৌরবকে ফিরে পেতে হলে এই মিথ্যা গল্প গুলি কে আস্তাকুড়ে নিক্ষেপ করতে হবে, এর কোন বিকল্প নাই। এই মিথ্যা কথাগুলি বাদ দিয়ে আমরা যদি সূরা নূরের ৫৫ আয়াত অনুযায়ী কাজ করতে পারি তবে আল্লাহ্ আমাদের কে আবার পৃথিবীর বুকে খিলাফত দান করবে। আল্লাহ্ যেন আমাদের সকল কে এই সত্য কথাটি বুজার তৌফিক দান করুন, আমিন।

By Ekramul hoq

I am A.K.M Ekramul hoq MA.LLB. Rtd Bank Manager & PO of Agrani Bank Ltd. I am interested writing and reading. Also innovator of history of Islam. Lives in Bangladesh, District Jamalpur.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights