Categories
My text

আদম ও হাওয়া (আ.) একই সময়ে একই ছাঁচে তৈরী।

আদম ও হাওয়া (আ.) একই সময়ে একই ফরমা বা ছাঁচে তৈরী।

আল্লাহ মানব জাতিকে সৃষ্টি করিবেন, এই জন্য আল্লাহ ঘোষণা দিলেন, আমি মাটি কাদা দিয়ে বাশার অর্থাৎ মানব সৃষ্টি করিব।(সূরা-সাদ-৭১) । উত্তম আকৃতির মধ্য দিয়ে ইনসানকে তৈরী করা হয়েছে (সূরা ত্বীন-৪)। এখানে ইনসান বা বাশার বলতে মানুষকে বুঝানো হয়েছে। মানুষ বলতে আদম ও হাওয়াকে বুঝানো হয়েছে। এখানে উল্লেখ্য যে, আদম ও হাওয়া একই সাথে একই ফরমূলা বা পদ্ধতিতে তৈরী বা একই বস্তু দিয়ে তৈরী। কারণ যেহেতু তৈরীর সময় আয়াতে বাশার বা ইনসান শব্দ এসেছে, সেহেতু আদম ও হাওয়া একই সাথে একই ফরমূলা বা পদ্ধতিতে তৈরী বা একই বস্তু দিয়ে তৈরী। কারণ বাশার বা ইনসান বলতে আদম হাওয়াকেই বুঝায়। যদি আয়াতে বাশার বা ইনসান শব্দ না এসে শুধু ্আদম শব্দ আসত তাহলে আদম এবং হাওয়া ভিন্ন পদ্ধতিতে বা ভিন্ন বস্তুতে তৈরী প্রমাণ হতো। এখানে উল্লেখ্য যে, আল্লাহ বলেন, মাটি দিয়ে আমি বাশার বা মানুষ তৈরী করব (৩৮ঃ৭১)। উত্তম আকৃতির মধ্য দিয়ে ইনসানকে তৈরী করা হয়েছে (সূরা ত্বীন-৪)। এই দুই আয়াতে খালক শব্দ এসেছে, আর খালক শব্দের অর্থ হচ্ছে সৃষ্টি করা। (আরবি অভি. পৃ. নং-১২৩১)। আর বাশার এবং ইনসান বলতে মানুষকে বুঝানো হয়েছে। আর মানুষ বলতে আদম ও হাওয়াকে বুঝানো হয়েছে। অতএব, আদম ও হাওয়া উভয়কে উত্তম আকৃতির ছাঁচের মধ্য দিয়ে একই সময়ে মাটি দিয়ে তৈরী করা হয়েছে এটা নিশ্চিত। অতঃপর হাওয়াকে আদম (আঃ) এর (সাথে বিবাহের মাধ্যমে) স্ত্রী হিসাবে নির্ধারণ করা হইল (৭ঃ১৮৯)। এই আয়াতে যাআলা শব্দ এসেছে, যার অর্থ হচ্ছে নির্ধারণ করা বা নির্দিষ্ট করা (আরবি অভি. পৃ. নং-১১০০)। অনেকেই এই আয়াতে যাআলা শব্দকে সৃষ্টি করা অর্থে ব্যবহার করে। কিন্তু যাআলা শব্দকে সৃষ্টি করা অর্থে ব্যবহার করা যাবেনা, কারণ সৃষ্টি করা শব্দের আরবী হচ্ছে খালক, একই আয়াতে খালক এবং যাআলা শব্দ এসেছে (৭ঃ১৮৯)। আর এই দুইটি শব্দই আরবী শব্দ, আর এই দুইটি শব্দই দুইটি অর্থে কোরআনের বিভিন্ন আয়াতে ব্যবহৃত হয়েছে। দুইটি শব্দের দুইটি অর্থ, আর উদ্দেশ্যও দুইটি। এখন যদি কেহ যাআলা এবং খালক শব্দের একই অর্থ করে অর্থাৎ যাআলা শব্দকে সৃষ্টি করা অর্থে ব্যবহার করে তাহলে যাআলা শব্দের প্রকৃত অর্থ ও উদ্দেশ্য ব্যর্থ হবে। সে ক্ষেত্রে উক্ত আয়াতের উদ্দেশ্য ব্যর্থ হয়। আর কোন আয়াতের উদ্দেশ্য ব্যর্থ করা যাবেনা (১১ঃ২০)। আর যদি কেহ আয়াতের উদ্দেশ্য ব্যর্থ করার চেষ্টা করে তার জন্য কঠিন শাস্তি জাহান্নাম (২২ঃ৫১)। এই জন্য এই কোরআনের যতগুলি আয়াতে যাআলা শব্দ এসেছে সেসমস্ত আয়াতের অর্থ নির্ধারণ করা অর্থে করতে হবে। যেমন সূরা বাকারার ৩০ নং আয়াতে যাআলা শব্দ এসেছে, যে অর্থ আল্লাহ আদমকে জমিনে খলিফা নির্ধারণ করবে। অতএব, সুরা আরাফের ১৮৯ নং আয়াতের যাআলা শব্দ দিয়ে সৃষ্টি করা অর্থে ব্যবহার করা যাবে না। অতঃপর আদমকে খলিফা বা প্রতিনিধি হিসাবে নির্ধারণ করা হয়েছে (২ঃ৩০)। অতঃপর আদম (আঃ)কে খলিফা হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে তাকে সেজদার নির্দেশ দিলেন (৭ঃ১১)। অতঃপর আল্লাহ বললেন, হে আদম তুমি ও তোমার স্ত্রী একই সাথে জান্নাতে বসবাস কর (২ঃ৩৫)। তাহলে দেখা গেল, আদম ও হাওয়াকে মাটি দিয়ে একইসাথে তৈরী করা হয়েছে (৩৮ঃ৭১) (৯৫ঃ৪)। অতঃপর তাদের বিবাহ দিলেন অর্থাৎ হাওয়াকে আদম (আঃ) এর স্ত্রী হিসাবে নির্ধারণ করলেন (৭ঃ১৮৯)। অতঃপর আদমকে খলিফা বা প্রতিনিধি হিসাবে নির্ধারণ করা হয়েছে (২ঃ৩০)। অতঃপর আদম (আঃ)কে সেজদার নির্দেশ দিলেন (৭ঃ১১)। অতঃপর আল্লাহ বললেন, হে আদম তুমি ও তোমার স্ত্রী একই সাথে জান্নাতে বসবাস কর (২ঃ৩৫)। অতঃপর জমিনে এসে সমগ্র মানবদেহ সৃষ্টিতে তিনটি পদ্ধতির সন্ধান পবিত্র কোরআনে এসেছে, (১) মাটি দিয়ে ইনসান তথা আদম ও হাওয়া তৈরী; (সূরা-সাদ-৭১), স্বামী স্ত্রীর মিলনের মাধ্যমে অর্থাৎ আদম ও হাওয়ার মিলনের দ্বারা। এই লক্ষে হাওয়াকে আদমের স্ত্রী হিসাবে নির্ধারণ করা হইয়াছে; (সূরা আরাফ-১৮৯)। কুন বা হও শব্দে তৈরী; (সূরা ইমরান-৫৯) (১৯:৩৫)। উপরোক্ত ৩টি পদ্ধতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, আদম (আঃ) মাটি দিয়ে তৈরী. (সূরা ইমরান-৫৯)। আর ঈসা (আঃ) কুন শব্দে তৈরী (সূরা ইমরান-৫৯) এবং সকল বনি আদমগণ পিতা মাতার মিলনের মাধ্যমে তথা নফসের মাধ্যমে সৃষ্টি। (সূরা আরাফ-১৮৯)। এখানে উল্লেখ্য যে আদমের স্ত্রী হাওয়া (আঃ) এই তিন পদ্ধতির যে কোন এক পদ্ধতিতে তৈরী। তবে তিনি পিতা মাতার মিলনের মাধ্যমে তথা নফসের মাধ্যমে সৃষ্টি হয় নাই এটা নিশ্চিত, কারণ তিনিই প্রথম নারী। তিনি কুন শব্দে তৈরী এই মর্মে কোন আয়াত পবিত্র কুরআনে আসে নাই, কারণ আদম ও ঈসা (আঃ) এর সৃষ্টির দৃষ্টান্ত দিতে গিয়ে আল্লাহ বলেন, আমি আদমকে মাটি দিয়ে তৈরি করেছি, আর ঈসা (আঃ)কে কুন শব্দে তৈরী করেছি (সূরা ইমরান-৫৯)। কিন্তু আদমকে মাটি দিয়ে তৈরী এবং হাওয়াকে কুন শব্দে তৈরী করা হয়েছে এই মর্মে কোন আয়াত পবিত্র কুরআনে আসে নাই। এতে প্রমাণ হয় মা হাওয়াকে কুন শব্দে তৈরী করা হয় নাই। তাহলে নিশ্চয়ই মা হওয়াকে মাটি দিয়ে তৈরী করা হয়েছে। তাহলে দেখা গেল আল্লাহ মাটি দিয়ে বাবা আদম (আঃ) এবং মা হাওয়া (আঃ)কে তৈরী করেছেন, এটা নিশ্চিত। তার পূর্বে জ্বীনকে অগ্নিথেকে এবং ফেরেস্তাদেরকে নূর থেকে সৃষ্টি করেছেন। এই ৪ জন সৃষ্টির মধ্যে জমিনে একজন আল্লাহর প্রতিনিধিত্ব করবেন এই লক্ষে আল্লাহ ঘোষণা করিলেন, ‘আমি জমিনে আমার প্রতিনিধি নির্ধারণ করিব’ (সূরা বাকারা-৩০)। এই আয়াতে যা’আলা শব্দ এসেছে। দেখা গেল যদি আল্লাহ ফেরেস্তাদেরকে খেলাফত দেয় তাহলে বাকী তিনজন অর্থাৎ আদম, হাওয়া ও জ্বীন এরা সকলেই ফেরেস্তাদেরকে সেজদা করবে। আবার যদি জ্বীনকে খেলাফত দেয় তাহলে ফেরেস্তা ও ইনসান তথা আদম ও হাওয়া সকলেই জ্বীনকে সেজদা করবে। আর যদি ইনসানকে খেলাফত দেয় তাহলে ফেরেস্তা ও জ্বীন উভয়ই আদম ও হাওয়াকে সেজদা দিবে। কারণ আদম ও হাওয়া উভয়ই ইনসান। সে ক্ষেত্রে মা হাওয়া (আঃ)ও সেজদার যোগ্য হয়ে যায়। আর যদি শুধু মা হাওয়া (আঃ)কে খেলাফত দেয় তাহলে ফেরেশতা, জ্বীন ও বাবা আদম (আঃ) সেজদা দিবে। আর সেই মতে জমিনে এসে মা হাওয়াই প্রতিনিধিত্ব করতো। এ বিষয়ে পবিত্র কোরআন গবেষণা করে দেখা গেছে, তোমরা ফেরেশ্তাকে সেজদা করবে এই মর্মে কোন আয়াত আসে নাই। তাতে বুঝা যায় ফেরেস্তারা খেলাফত পায় নাই, আবার তোমরা জ্বীন সম্প্রদায়কে সেজদা করবে এই মর্মে কোন আয়াত আসে নাই। তাতে বুঝা যায় জ্বীন সম্প্রদায় খেলাফত পায় নাই, আবার তোমরা ইনসানকে সেজদা করবে এই মর্মে কোন আয়াত আসে নাই। তাতে বুঝা যায় সকল ইনসানই খেলাফত পায় নাই। তোমরা হাওয়া (আ.)কে সেজদা কর এমন আয়াত আসে নাই। আয়াতে এসেছে ওয়াসজুদু লি আদামা, তোমরা আদমকে সেজদা কর। (সূরা আরাফ-১১)। এতে প্রমাণ হয় একমাত্র আদমই খেলাফতের দাবীদার। যেহেতু তোমরা ইনসানকে সেজদা কর, আয়াত আসেনাই বিধায় মা হাওয়া ইনসান হওয়া সত্ত্বেও খেলাফতের অধিকারী নয়। এজন্য তিনি সেজদার অধিকারী নয়, কারণ খেলাফত যেখানে, সেজদা সেখানে। অনেকেই বলেন ইনসানকে শ্রেষ্ঠ জীব হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষে এই সেজদার হুকুম হয়েছিল। এ কথাটা ঠিক নহে, কারণ আয়াতে ওয়াসজুদু লি ইনসানা বলা হয় নাই, কারণ ইনসানকে সেজদা কর বললে মা হাওয়া সেজদাযোগ্য হয়ে যায়। সে ক্ষেত্রে বেহেস্তের ভিতরে যখন একই সাথে বাবা আদম ও মা হওয়া অবস্থান করেছিল (বাকারা-৩৫), তখন ত ফেরেস্তারা বাবা আদম ও মা হওয়া উভয়কেই সেজদা করার বিধান প্রতিষ্ঠিত হয়। কিন্তু বেহেস্তের ভিতরে মা হওয়া উপস্থিত থাকা সত্বেও ফেরেস্তরা তাকে সেজদা করে নাই। তাতে বুঝা গেল ইনসানকে শ্রেষ্ঠ জাতি হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষে আদম সেজদার হুকুম হয় নাই, এবং খেলাফতকে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে ঐ সেজদার হুকুম ছিল, এটা নিশ্চিত। তাছাড়াও আল্লাহ বলেন, যারা ঈমান আনবে এবং সৎকর্ম করবে তারাই সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব। (সূরা বানিয়্যা-৯৭)। যেহেতু আদম ছিল আল্লাহর খলিফা, অতএব সকল সৃষ্টি আদমকে কেবলা করে আল্লাহকে সেজদা করবে, এটাই ছিল আদম সৃষ্টির উদ্দেশ্য বা রহস্য। সেক্ষেত্রে বেহেস্তের ভিতর যারা যারা উপস্থিত ছিল, (ফেরেশস্তা, জ্বীন ও মা হওয়া) তারা সকলেই আদমকে সেজদা দিয়েছে একমাত্র ইবলিশ ব্যতীত। (সূরা বাকারা-৩৪)। ইবলিশ আদমকে সেজদা না দিয়ে কাফির হয়ে গেল (সূরা বাকারা-৩৪)। এবং আদমকে বলা হইল তুমি এবং তোমার স্ত্রী একই সাথে জান্নাতে বসবাস কর। (সূরা বাকারা-৩৫)। আর ইবলিশকে বহিষ্কার করা হইল। (সূরা হিযর-৩৪)। কাজেই যেহেতু আদম সেজদার সময় বেহেস্তের ভিতরে মা হাওয়া উপস্থিত ছিল, এই আয়াতে তার প্রমাণ। আর উপস্থিত সকলেই আদমকে সেজদা করিল একমাত্র ইবলিশ ব্যতীত। (সূরা বাকারা-৩৪)। এই আয়াতে প্রমাণ হয় মা হাওয়া ঐ সময় আদম (আঃ)কে সেজদা করেছেন। কারণ আদমতো সকল সৃষ্ট জীবের জন্য খলিফা ছিল, শুধু জ্বীন ও ফেরেস্তাদের জন্য তিনি প্রতিনিধি ছিল এমনটা নয়, বরং তার স্ত্রী সহ সকল বণি আদমের জন্যই তিনি খলিফা ছিলেন, আর যারা তাকে খলিফা হিসাবে মেনে সেখানে আনুগত্য বা সেজদা করবেনা তারাই ইবলিশের দলভুক্ত বলে গণ্য হবে। যেহেতু বেহেস্তের ভিতরে আদমের স্ত্রী উপস্থিত ছিলেন (বাকারা -৩৫) আর যদি তিনি সেখানে উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও আদম (আঃ)কে সেজদা না দিতেন তাহলে তাকেও ইবলিশের সাথে বহিষ্কার ঘোষণা দেওয়া হতো। যেহেতু মা হাওয়াকে বহিষ্কার ঘোষণা দেওয়া হয় নাই, একমাত্র আদমকে সেজদা না দেওয়ার কারণে ইবলিশকে বহিস্কার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, এতে প্রমাণ হয় মা হাওয়া বেহেস্তের ভিতরে আদম আঃ কে সেজদা দিয়েছে। আর তাই দুনিয়াতে সকল স্ত্রীগণ তার স্বামীর আনুগত্য করে থাকেন। আর তারই ধারাবাহিকতায় ইউসুফ আঃকে সেজদা দিল ইউসুফের ১১ ভাই। (ইউসুফ-১০০)। অনেকেই বলে আদম (আঃ) এবং ইউসুফ আঃ কিংবা অন্যান্য নবীগণ তারা কোন আদম কাবায় সেজদা দিয়েছে? এই মর্মে আল্লাহ নবীদের উদ্দেশ্যে বলেন, তোমরা প্রত্যেক সেজদার সময় তোমাদের চেহারা প্রতিষ্ঠিত কর। (সূরা আরাফ-২৯)। এই নির্দেশ মতে আদম আঃ নিজের চেহারাকে দৃষ্টিতে আয়ত্ব করে নিজ চেহারাকে কেবলা করে সেজদা দিয়েছেন। আর সকল নবীগণই তাহাদের নিজের চেহারাকে অন্তরে প্রতিষ্ঠিত করে সেজদা দিয়েছেন। এইভাবেই আদম কাবায় সেজদা দিয়ে সকলেই ইবলিশ থেকে পবিত্র হবে।

By Ekramul hoq

I am A.K.M Ekramul hoq MA.LLB. Rtd Bank Manager & PO of Agrani Bank Ltd. I am interested writing and reading. Also innovator of history of Islam. Lives in Bangladesh, District Jamalpur.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights