Categories
My text

কোরান একসাথে নাযিল হয়েছে কি ?

মানুষের কাছে বর্ননা করার জন্য কুরআনের কোন ঘটনা বা বিষয় ভিত্তিক আয়াত গুলি একসাথে করে বলা যাবে, লিখা যাবে এমন কি বই আকারে প্রকাশ করা যাবে। কিন্তু এর বিনিময়ে কোন প্রতিদান (সুবিধা) নেয়া যাবে না
ٱللَّهُ نَزَّلَ أَحْسَنَ ٱلْحَدِيثِ كِتَٰبًا مُّتَشَٰبِهً
আল্লাহ অবতীর্ণ করেছেন উত্তম হাদিস সম্বলিত কিতাব যার অংশসমূহ পরস্পর সাদৃশ্যপূর্ণ। (আয-যুমার ৩৯:২৩)
وَقُرْءَانًا فَرَقْنَٰهُ لِتَقْرَأَهُۥ عَلَى ٱلنَّاسِ عَلَىٰ مُكْثٍوَنَزَّلْنَٰهُ تَنزِيلًا
আমি এ কুরআনকে ভাগে ভাগে বিভক্ত করেছি যাতে তুমি অল্প অল্প করে মানুষকে তা পাঠ করে শুনাতে পার। আর আমি তা ধাপে ধাপে অবতীর্ণ করেছি।(আল-ইসরা ১৭:১০৬)
وَٱتْلُ عَلَيْهِمْ نَبَأَ نُوحٍ إِذْ قَالَ لِقَوْمِهِۦ يَٰقَوْمِ إِن كَانَ كَبُرَ عَلَيْكُم مَّقَامِى وَتَذْكِيرِى بِـَٔايَٰتِ ٱللَّهِ فَعَلَى ٱللَّهِ تَوَكَّلْتُ فَأَجْمِعُوٓا۟ أَمْرَكُمْ وَشُرَكَآءَكُمْ ثُمَّ لَا يَكُنْ أَمْرُكُمْ عَلَيْكُمْ غُمَّةً ثُمَّ ٱقْضُوٓا۟ إِلَىَّ وَلَا تُنظِرُونِ

আর তাদেরকে নূহের বৃত্তান্ত পড়ে শোনাও*। সে তার লোকদেরকে বলেছিল, “হে আমার লোকেরা! আমি যে তোমাদের মাঝে আছি এবং তোমাদেরকে আল্লাহর নিদর্শনসমূহ স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি এটা যদি তোমাদের কাছে কষ্টকর মনে হয় তাহলে আমি আল্লাহর ওপরই নির্ভর করলাম। এখন তোমরা তোমাদের কাজ ঠিক করো এবং (প্রয়োজনে) তোমাদের শরীকদের ডেকে লও! পরে যেন তোমাদের কাজ তোমাদের কষ্টের কারণ না হয়। তারপর আমার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নাও, আমাকে কোন অবকাশ দিও না।” (ইউনুস ১০:৭১)

* সালামুন আলা নূহ্ এর ঘটনা কুরআনের বিভিন্ন স্হানে বর্ননা করা হয়েছে সেই গুলি বর্ননা করতে বলেছেন।
وَٱتْلُ عَلَيْهِمْ نَبَأَ إِبْرَٰهِيمَ
আর তাদের কাছে ইবরাহীমের ঘটনা বর্ণনা কর*। (আশ-শু’আরা ২৬:৬৯)

* সালামুন আলা ইব্রাহিম এর ঘটনা কুরআনের বিভিন্ন জায়গায় বলা হয়েছে এখানে সেই ঘটনা গুলি বর্ননা করতে বলা হয়েছে।

وَٱتْلُ عَلَيْهِمْ نَبَأَ ٱبْنَىْ ءَادَمَ بِٱلْحَقِّ إِذْ قَرَّبَا قُرْبَانًا فَتُقُبِّلَ مِنْ أَحَدِهِمَا وَلَمْ يُتَقَبَّلْ مِنَ ٱلْءَاخَرِ قَالَ لَأَقْتُلَنَّكَۖ قَالَ إِنَّمَا يَتَقَبَّلُ ٱللَّهُ مِنَ ٱلْمُتَّقِينَ
তুমি তাদেরকে আদমের পুত্রদ্বয়ের ঘটনা সঠিকভাবে পাঠ করে শুনিয়ে দাও; যখন তারা উভয়েই এক একটি কুরবানী উপস্থিত করল এবং তন্মধ্য হতে একজনের (হাবীলের) কুরবানী কবূল হল এবং অপরজনের কবূল হলনা। অপরজন বলতে লাগলঃ আমি তোমাকে নিশ্চয়ই হত্যা করব; প্রথমজন বললঃ আল্লাহ আল্লাহভীরুদের ‘আমলই কবূল করে থাকেন।(আল-মা’য়েদা ৫:২৭)

★ এখানে সালামুন আলা আদমের পুত্রদ্বয়ের ঘটনা বর্ননা করতে বলেছেন।

وَٱتْلُ عَلَيْهِمْ نَبَأَ ٱلَّذِىٓ ءَاتَيْنَٰهُ ءَايَٰتِنَا فَٱنسَلَخَ مِنْهَا فَأَتْبَعَهُ ٱلشَّيْطَٰنُ فَكَانَ مِنَ ٱلْغَاوِينَ
তুমি এদেরকে সেই ব্যক্তির বৃত্তান্ত শুনিয়ে দাও, যাকে আমি আয়াত দান করেছিলাম, কিন্তু সে উহা বর্জন করে। ফলে শাইতান তার পিছনে লেগে যায়, আর সে পথভ্রষ্টদের মধ্যে শামিল হয়ে যায়।
وَلَوْ شِئْنَا لَرَفَعْنَٰهُ بِهَا وَلَٰكِنَّهُۥٓ أَخْلَدَ إِلَى ٱلْأَرْضِ وَٱتَّبَعَ هَوَىٰهُۚ فَمَثَلُهُۥ كَمَثَلِ ٱلْكَلْبِ إِن تَحْمِلْ عَلَيْهِ يَلْهَثْ أَوْ تَتْرُكْهُ يَلْهَثۚ ذَّٰلِكَ مَثَلُ ٱلْقَوْمِ ٱلَّذِينَ كَذَّبُوا۟ بِـَٔايَٰتِنَاۚ فَٱقْصُصِ ٱلْقَصَصَ لَعَلَّهُمْ يَتَفَكَّرُونَ
আর আমি ইচ্ছা করলে তাকে এই আয়াতসমূহের সাহায্যে উন্নত করতাম, কিন্তু সে দুনিয়ার প্রতি অধিক ঝুঁকে পড়ে এবং স্বীয় কামনা বাসনার (প্রবৃত্তির) অনুসরণ করতে থাকে। তার উদাহরণ একটি কুকুরের ন্যায়, ওকে যদি তুমি কষ্ট দাও তাহলে জিহবা বের করে হাঁপায়, আবার কষ্ট না দিলেও জিহবা বের করে হাঁপাতে থাকে। যারা আমার আয়াতসমূহকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে, এই উদাহরণ হল সেই সম্প্রদায়ের জন্য। তুমি কাহিনী বর্ণনা করে শোনাতে থাক, হয়তো তারা এটা নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করবে।
سَآءَ مَثَلًا ٱلْقَوْمُ ٱلَّذِينَ كَذَّبُوا۟ بِـَٔايَٰتِنَا وَأَنفُسَهُمْ كَانُوا۟ يَظْلِمُونَ
কতই না মন্দ উদাহরণ সেই সম্প্রদায়ের জন্য যারা আমার আয়াতসমূহকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে এবং তারা নিজেরাই নিজেদের উপর অত্যাচার করতে থাকে।
مَن يَهْدِ ٱللَّهُ فَهُوَ ٱلْمُهْتَدِىۖ وَمَن يُضْلِلْ فَأُو۟لَٰٓئِكَ هُمُ ٱلْخَٰسِرُونَ
আল্লাহ যাকে পথ দেখান সে’ই পথ প্রাপ্ত হয়, আর যাকে তিনি পথ প্রদর্শন হতে বঞ্চিত করেন সে ব্যর্থ ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
وَلَقَدْ ذَرَأْنَا لِجَهَنَّمَ كَثِيرًا مِّنَ ٱلْجِنِّ وَٱلْإِنسِۖ لَهُمْ قُلُوبٌ لَّا يَفْقَهُونَ بِهَا وَلَهُمْ أَعْيُنٌ لَّا يُبْصِرُونَ بِهَا وَلَهُمْ ءَاذَانٌ لَّا يَسْمَعُونَ بِهَآۚ أُو۟لَٰٓئِكَ كَٱلْأَنْعَٰمِ بَلْ هُمْ أَضَلُّۚ أُو۟لَٰٓئِكَ هُمُ ٱلْغَٰفِلُونَ
আমি বহু জিন ও মানুষকে জাহান্নামের জন্য সৃষ্টি করেছি। তাদের হৃদয় রয়েছে, কিন্তু তারা তদ্বারা উপলব্ধি করেনা; তাদের চক্ষু রয়েছে, কিন্তু তারা তদ্বারা দেখেনা। তাদের কর্ণ রয়েছে, কিন্তু তদ্বারা তারা শোনেনা। তারাই হল পশুর ন্যায়, বরং তা অপেক্ষাও অধিক বিভ্রান্ত। তারাই হল গাফিল বা উদাসীন।(আল-আরাফ ৭:১৭৫-১৭৯)*

*এখানে কুরআনের আয়াত ত্যাগকারী এক ব্যক্তির ঘটনা বর্ননা করতে বলছেন।

♦ দ্বীনের কথা বলে বিনিময় নেয়া প্রসঙ্গে নবীরা যা বলেছেন তা নিচে উপস্থাপন করা হলো।

♥সালামুন আলা নূহ

وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا نُوحًا إِلَىٰ قَوْمِهِۦٓ إِنِّى لَكُمْ نَذِيرٌ مُّبِينٌ
আর অবশ্যই আমি নূহকে প্রেরণ করেছিলাম তার কওমের কাছে (এই বার্তা দিয়ে) যে, ‘আমি তোমাদের জন্য স্পষ্ট সতর্ককারী’।
أَن لَّا تَعْبُدُوٓا۟ إِلَّا ٱللَّهَۖ إِنِّىٓ أَخَافُ عَلَيْكُمْ عَذَابَ يَوْمٍ أَلِيمٍ
‘যেন তোমরা আল্লাহ ছাড়া কারো ইবাদাত না কর। নিশ্চয় আমি তোমাদের উপর যন্ত্রণাদায়ক দিবসের আযাবের ভয় করছি’।
فَقَالَ ٱلْمَلَأُ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ مِن قَوْمِهِۦ مَا نَرَىٰكَ إِلَّا بَشَرًا مِّثْلَنَا وَمَا نَرَىٰكَ ٱتَّبَعَكَ إِلَّا ٱلَّذِينَ هُمْ أَرَاذِلُنَا بَادِىَ ٱلرَّأْىِ وَمَا نَرَىٰ لَكُمْ عَلَيْنَا مِن فَضْلٍۭ بَلْ نَظُنُّكُمْ كَٰذِبِينَ
অতঃপর তার কওমের নেতৃস্থানীয়রা, যারা কুফরী করেছিল, তারা বলল, ‘আমরা তো তোমাকে আমাদের মত একজন মানুষ ছাড়া আর কিছু দেখছি না এবং আমরা দেখছি যে, কেবল আমাদের নীচু শ্রেণীর লোকেরাই বিবেচনাহীনভাবে তোমার অনুসরণ করেছে। আর আমাদের উপর তোমাদের কোন শ্রেষ্ঠত্ব আমরা দেখছি না; বরং আমরা তোমাদেরকে মিথ্যাবাদী মনে করছি’।
قَالَ يَٰقَوْمِ أَرَءَيْتُمْ إِن كُنتُ عَلَىٰ بَيِّنَةٍ مِّن رَّبِّى وَءَاتَىٰنِى رَحْمَةً مِّنْ عِندِهِۦ فَعُمِّيَتْ عَلَيْكُمْ أَنُلْزِمُكُمُوهَا وَأَنتُمْ لَهَا كَٰرِهُونَ
সে বললঃ হে আমার কাওম! আচ্ছা বলত, আমি যদি স্বীয় রবের পক্ষ হতে প্রমাণের উপর (প্রতিষ্ঠিত হয়ে) থাকি এবং তিনি আমাকে নিজ সন্নিধান হতে রাহমাত (নবুওয়াত) দান করেন, অতঃপর ওটা তোমাদের বোধগম্য না হয়, তাহলে কি ঐ বিষয়ে তোমাদের বাধ্য করতে পারি যখন তোমরা ওটা অবজ্ঞা করতে থাক?
وَيَٰقَوْمِ لَآ أَسْـَٔلُكُمْ عَلَيْهِ مَالًاۖ إِنْ أَجْرِىَ إِلَّا عَلَى ٱللَّهِۚ وَمَآ أَنَا۠ بِطَارِدِ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓا۟ۚ إِنَّهُم مُّلَٰقُوا۟ رَبِّهِمْ وَلَٰكِنِّىٓ أَرَىٰكُمْ قَوْمًا تَجْهَلُونَ
‘আর হে আমার কওম, এর বিনিময়ে আমি তোমাদের কাছে কোন সম্পদ চাই না। আমার প্রতিদান শুধু আল্লাহর কাছে। যারা ঈমান এনেছে, আমি তাদের তাড়িয়ে দিতে পারি না। নিশ্চয় তারা তাদের রবের সাথে সাক্ষাৎ করবে। কিন্তু আমি তো দেখছি তোমরা এক অজ্ঞ জাতি’।(১১:২৫-২৯)

♥সালামুন আলা হুদ

وَإِلَىٰ عَادٍ أَخَاهُمْ هُودًاۚ قَالَ يَٰقَوْمِ ٱعْبُدُوا۟ ٱللَّهَ مَا لَكُم مِّنْ إِلَٰهٍ غَيْرُهُۥٓۖ إِنْ أَنتُمْ إِلَّا مُفْتَرُونَ
আর ‘আদ জাতির নিকট তাদের ভাই হূদকে পাঠিয়েছিলাম। সে বলেছিল, ‘হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা আল্লাহর ‘ইবাদাত কর, তিনি ছাড়া তোমাদের আর কোন ইলাহ নেই। তোমরা তো শুধু মিথ্যে বানিয়ে নিয়েছ।
يَٰقَوْمِ لَآ أَسْـَٔلُكُمْ عَلَيْهِ أَجْرًاۖ إِنْ أَجْرِىَ إِلَّا عَلَى ٱلَّذِى فَطَرَنِىٓۚ أَفَلَا تَعْقِلُونَ
‘হে আমার কওম, আমি তোমাদের কাছে এর বিনিময়ে কোন প্রতিদান চাই না। আমার প্রতিদান তো কেবল তাঁরই কাছে যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন। এরপরও কি তোমরা বুঝবে না’?(হুদ ১১:৫০-৫১)

♥সালামুন আলা সালিহ

إِذْ قَالَ لَهُمْ أَخُوهُمْ صَٰلِحٌ أَلَا تَتَّقُونَ
যখন তাদের ভাই সালিহ তাদেরকে বলেছিল, ‘তোমরা কি তাকওয়া অবলম্বন করবে না’?
إِنِّى لَكُمْ رَسُولٌ أَمِينٌ
‘নিশ্চয় আমি তোমাদের জন্য এক বিশ্বস্ত রাসূল’;
فَٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ وَأَطِيعُونِ
‘সুতরাং তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন কর এবং আমার আনুগত্য কর’।
وَمَآ أَسْـَٔلُكُمْ عَلَيْهِ مِنْ أَجْرٍۖ إِنْ أَجْرِىَ إِلَّا عَلَىٰ رَبِّ ٱلْعَٰلَمِينَ
আমি এর জন্য তোমাদের কাছে কোন প্রতিদান চাই না। বিশ্বজগতের প্রভুই আমার প্রতিদান দেবেন।” (আশ-শু’আরা ২৬:১৪২-১৪৫)

♥ সালামুন আলা লুত

إِذْ قَالَ لَهُمْ أَخُوهُمْ لُوطٌ أَلَا تَتَّقُونَ

যখন তাদের ভাই লূত তাদেরকে বলল, “তোমরা কি (আল্লাহকে) ভয় করো না?”
إِنِّى لَكُمْ رَسُولٌ أَمِينٌ
“আমি তোমাদের জন্য একজন বিশ্বস্ত রসূল।
فَٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ وَأَطِيعُونِ
অতএব, আল্লাহকে ভয় করো এবং আমার আনুগত্য কর।
وَمَآ أَسْـَٔلُكُمْ عَلَيْهِ مِنْ أَجْرٍۖ إِنْ أَجْرِىَ إِلَّا عَلَىٰ رَبِّ ٱلْعَٰلَمِينَ
আমি এর জন্য তোমাদের কাছে কোন প্রতিদান চাই না। বিশ্বজগতের প্রভুই আমার প্রতিদান দেবেন।” (আশ-শু’আরা ২৬:১৬১-১৬৪)

♥সালামুন আলা শোয়েব

إِذْ قَالَ لَهُمْ شُعَيْبٌ أَلَا تَتَّقُونَ
যখন শোয়াইব তাদেরকে বলল, “তোমরা কি (আল্লাহকে) ভয় করো না?”
إِنِّى لَكُمْ رَسُولٌ أَمِينٌ
“আমি তোমাদের জন্য একজন বিশ্বস্ত রসূল।
فَٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ وَأَطِيعُونِ
অতএব, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং আমার আনুগত্য কর।
وَمَآ أَسْـَٔلُكُمْ عَلَيْهِ مِنْ أَجْرٍۖ إِنْ أَجْرِىَ إِلَّا عَلَىٰ رَبِّ ٱلْعَٰلَمِينَ
আমি এর জন্য তোমাদের কাছে কোন প্রতিদান চাই না। বিশ্বজগতের প্রভুই আমার প্রতিদান দেবেন।” (আশ-শু’আরা ২৬:১৭৭-১৮০)

♥মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ (সালামুন আলাল মুরছালিন)

أَمْ تَسْـَٔلُهُمْ أَجْرًا فَهُم مِّن مَّغْرَمٍ مُّثْقَلُونَ
তবে কি তুমি তাদের কাছে প্রতিদান চাও যে, তারা তা ভারী জরিমানা মনে করে?(আত-তুর ৫২:৪০)
قُل لَّآ أَسْـَٔلُكُمْ عَلَيْهِ أَجْرًاۖ إِنْ هُوَ إِلَّا ذِكْرَىٰ لِلْعَٰلَمِينَ
বল, “আমি তোমাদের কাছে এর (কুরআনের) জন্য কোন প্রতিদান চাই না। এ তো সারা বিশ্ববাসীর জন্য এক (অমূল্য) স্মারক।”(আল-আন’আম ৬:৯০)
وَمَآ أَكْثَرُ ٱلنَّاسِ وَلَوْ حَرَصْتَ بِمُؤْمِنِينَ
তুমি কামনা করলেও অধিকাংশ মানুষ মুমিন হবে না।
وَمَا تَسْـَٔلُهُمْ عَلَيْهِ مِنْ أَجْرٍۚ إِنْ هُوَ إِلَّا ذِكْرٌ لِّلْعَٰلَمِينَ
আর তুমিতো তাদের কাছে কোন বিনিময় দাবী করছোনা, এটাতো বিশ্বজগতের জন্য উপদেশ ছাড়া কিছু নয়।(ইউসুফ ১২:১০৩-১০৪)
قُلْ مَآ أَسْـَٔلُكُمْ عَلَيْهِ مِنْ أَجْرٍ وَمَآ أَنَا۠ مِنَ ٱلْمُتَكَلِّفِينَ
বলঃ আমি এর জন্য তোমাদের নিকট কোন প্রতিদান চাইনা এবং যারা মিথ্যা দাবী করে আমি তাদের অন্তর্ভুক্ত নই।
إِنْ هُوَ إِلَّا ذِكْرٌ لِّلْعَٰلَمِينَ
ইহাতো বিশ্বজগতের জন্য উপদেশ মাত্র।
وَلَتَعْلَمُنَّ نَبَأَهُۥ بَعْدَ حِينٍۭ
কিছুকাল পরই তোমরা এর সংবাদ (এতে বর্ণিত যাবতীয় তথ্যের সত্যতা) অবশ্যই জানতে পারবে।(সাদ ৩৮:৮৬-৮৮)
ذَٰلِكَ ٱلَّذِى يُبَشِّرُ ٱللَّهُ عِبَادَهُ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَعَمِلُوا۟ ٱلصَّٰلِحَٰتِۗ قُل لَّآ أَسْـَٔلُكُمْ عَلَيْهِ أَجْرًا إِلَّا ٱلْمَوَدَّةَ فِى ٱلْقُرْبَىٰۗ وَمَن يَقْتَرِفْ حَسَنَةً نَّزِدْ لَهُۥ فِيهَا حُسْنًاۚ إِنَّ ٱللَّهَ غَفُورٌ شَكُورٌ
আল্লাহ তাঁর ঈমানদার ও সৎকর্মশীল বান্দাদেরকে (জান্নাতের) এই সুসংবাদই দিয়ে থাকেন। বল, “আমি এজন্য (তোমাদেরকে আল্লাহর পথে ডাকার জন্য) তোমাদের কাছে আত্মীয়তার সৌহার্দ্য ছাড়া কোন (জাগতিক) প্রতিদান চাই না।” কেউ কোন ভাল কাজ করলে আমি তার জন্য তাতে কল্যাণ বাড়িয়ে দেই। নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল, প্রতিদান দানকারী। (আশ-শুরা ৪২:২৩)

♦ আল্লাহ্ তার আয়াতসমূহকে অর্থাৎ কুরআন কে বিনিময়ের মাধ্যম হিসাবে গ্রহন করতে নিষেধ করেছেন। কিন্তু যারা ইসলামের কথা বলে কুরআনের বিনিময় গ্রহন করে তারা আল্লাহর এই নিষেধাজ্ঞার আয়াত গুলি বলেনা গোপন রাখে। এমনকি নিজ হাতে কিতাব লিখে এটিকে হালাল করে নিয়েছে। তারা নিজ হাতে কিতাব লিখে তারপর বলে, ‘এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে’, যাতে তা তুচ্ছ মূল্যে বিক্রি করতে পারে। এদের বিষয়ে আল্লাহ্ পবিত্র কুরআনে কি বলেছেন আসুন আমরা সেটা অনুধাবনের চেষ্টা করি।
وَءَامِنُوا۟ بِمَآ أَنزَلْتُ مُصَدِّقًا لِّمَا مَعَكُمْ وَلَا تَكُونُوٓا۟ أَوَّلَ كَافِرٍۭ بِهِۦۖ وَلَا تَشْتَرُوا۟ بِـَٔايَٰتِى ثَمَنًا قَلِيلًا وَإِيَّٰىَ فَٱتَّقُونِ
আর তোমাদের সাথে যা আছে (অর্থাৎ তাওরাত ও ইনজীল) তার সত্যায়ন-কারীরূপে আমি যা অবতীর্ণ করেছি (অর্থাৎ কুরআন) তা বিশ্বাস করো এবং তোমরা তার প্রথম অবিশ্বাসকারী হয়ো না। আর তোমরা আমার আয়াতসমূহ বিক্রি করে সামান্য মূল্য (সুবিধা) গ্রহণ করো না। আর আমাকেই ভয় কর।(আল-বাকারাহ ২:৪১)

★ আমরা সালাতে ইমামের অনুসরণ করি। আমরা টাকা দেই তার বিনিময়ে ইমাম সাহেব সালাত পড়ান। অথচ আল্লাহ্ বলেছেন ‘অনুসরণ কর তাদের, যারা তোমাদের কাছে কোন বিনিময় কামনা করে না’। তার মানে আমরা বিনিময় গ্রহনকারী ইমামকে অনুসরণের মাধ্যমে আল্লাহর আদেশ লঙ্ঘন করছি, তা নয় কি?
ٱتَّبِعُوا۟ مَن لَّا يَسْـَٔلُكُمْ أَجْرًا وَهُم مُّهْتَدُونَ
অনুসরণ কর তাদের, যারা তোমাদের কাছে কোন বিনিময় কামনা করে না, অথচ তারা সুপথ প্রাপ্ত।(ইয়াছিন ৩৬:২১)
وَإِذَا جَآءُوكُمْ قَالُوٓا۟ ءَامَنَّا وَقَد دَّخَلُوا۟ بِٱلْكُفْرِ وَهُمْ قَدْ خَرَجُوا۟ بِهِۦۚ وَٱللَّهُ أَعْلَمُ بِمَا كَانُوا۟ يَكْتُمُونَ
তারা যখন তোমাদের কাছে আসে তখন বলে, “আমরা বিশ্বাস করেছি”, অথচ তারা অবিশ্বাস নিয়ে প্রবেশ করেছিল এবং তারা অবিশ্বাস নিয়েই বেরিয়ে গিয়েছে। তারা যা গোপন করত আল্লাহ তা ভালভাবে অবহিত আছেন।
وَتَرَىٰ كَثِيرًا مِّنْهُمْ يُسَٰرِعُونَ فِى ٱلْإِثْمِ وَٱلْعُدْوَٰنِ وَأَكْلِهِمُ ٱلسُّحْتَۚ لَبِئْسَ مَا كَانُوا۟ يَعْمَلُونَ
তুমি তাদের অনেককে পাপ, বাড়াবাড়ি ও হারাম খাওয়ায় তৎপর দেখবে। তারা যা করছে আসলে তা খুবই খারাপ।
لَوْلَا يَنْهَىٰهُمُ ٱلرَّبَّٰنِيُّونَ وَٱلْأَحْبَارُ عَن قَوْلِهِمُ ٱلْإِثْمَ وَأَكْلِهِمُ ٱلسُّحْتَۚ لَبِئْسَ مَا كَانُوا۟ يَصْنَعُونَ
দরবেশ ও আলেমরা কেন তাদেরকে পাপ কথা বলতে এবং হারাম ভক্ষণ করতে নিষেধ করে না? তারা খুবই মন্দ কাজ করছে।(আল-মা’য়েদা ৫:৬১-৬৩)
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓا۟ إِنَّ كَثِيرًا مِّنَ ٱلْأَحْبَارِ وَٱلرُّهْبَانِ لَيَأْكُلُونَ أَمْوَٰلَ ٱلنَّاسِ بِٱلْبَٰطِلِ وَيَصُدُّونَ عَن سَبِيلِ ٱللَّهِۗ وَٱلَّذِينَ يَكْنِزُونَ ٱلذَّهَبَ وَٱلْفِضَّةَ وَلَا يُنفِقُونَهَا فِى سَبِيلِ ٱللَّهِ فَبَشِّرْهُم بِعَذَابٍ أَلِيمٍ
হে বিশ্বাসীগণ! অবশ্যই ‘আলিম ও দরবেশদের অনেকেই মিথ্যা কর্মকান্ডের মাধ্যমে মানুষদের সম্পদ গ্রাস করে থাকে আর আল্লাহর পথে বাধা সৃষ্টি করে। যারা স্বর্ণ ও রৌপ্য জমা করে আর আল্লাহর পথে তা ব্যয় করে না তাদেরকে ভয়াবহ শাস্তির সুসংবাদ দাও।
ٱتَّخَذُوٓا۟ أَحْبَارَهُمْ وَرُهْبَٰنَهُمْ أَرْبَابًا مِّن دُونِ ٱللَّهِ
আল্লাহকে বাদ দিয়ে তারা তাদের ‘আলিম আর দরবেশদেরকে রব(বিধান দাতা) বানিয়ে নিয়েছে।(আত-তাওবাহ ৯:৩৪,৩১)
وَإِنَّ مِنْهُمْ لَفَرِيقًا يَلْوُۥنَ أَلْسِنَتَهُم بِٱلْكِتَٰبِ لِتَحْسَبُوهُ مِنَ ٱلْكِتَٰبِ وَمَا هُوَ مِنَ ٱلْكِتَٰبِ وَيَقُولُونَ هُوَ مِنْ عِندِ ٱللَّهِ وَمَا هُوَ مِنْ عِندِ ٱللَّهِ وَيَقُولُونَ عَلَى ٱللَّهِ ٱلْكَذِبَ وَهُمْ يَعْلَمُونَ
তাদের মধ্যে একদল রয়েছে, যারা নিজদের জিহবা দ্বারা বিকৃত করে কিতাব পাঠ করে, যাতে তোমরা সেটা কিতাবের অংশ মনে কর, অথচ সেটি কিতাবের অংশ নয়। তারা বলে, ‘এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে’, অথচ তা আল্লাহর পক্ষ থেকে নয়। আর তারা আল্লাহর উপর মিথ্যা বলে, অথচ তারা জানে।(আলে-ইমরান ৩:৭৮)
فَوَيْلٌ لِّلَّذِينَ يَكْتُبُونَ ٱلْكِتَٰبَ بِأَيْدِيهِمْ ثُمَّ يَقُولُونَ هَٰذَا مِنْ عِندِ ٱللَّهِ لِيَشْتَرُوا۟ بِهِۦ ثَمَنًا قَلِيلًاۖ فَوَيْلٌ لَّهُم مِّمَّا كَتَبَتْ أَيْدِيهِمْ وَوَيْلٌ لَّهُم مِّمَّا يَكْسِبُونَ
সুতরাং ধ্বংস তাদের জন্য যারা নিজ হাতে কিতাব লিখে। তারপর বলে, ‘এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে’, যাতে তা তুচ্ছ মূল্যে বিক্রি করতে পারে। সুতরাং তাদের হাত যা লিখেছে তার পরিণামে তাদের জন্য ধ্বংস, আর তারা যা উপার্জন করেছে তার কারণেও তাদের জন্য ধ্বংস।(আল-বাকারাহ ২:৭৯)
وَمَا قَدَرُوا۟ ٱللَّهَ حَقَّ قَدْرِهِۦٓ إِذْ قَالُوا۟ مَآ أَنزَلَ ٱللَّهُ عَلَىٰ بَشَرٍ مِّن شَىْءٍۗ قُلْ مَنْ أَنزَلَ ٱلْكِتَٰبَ ٱلَّذِى جَآءَ بِهِۦ مُوسَىٰ نُورًا وَهُدًى لِّلنَّاسِۖ تَجْعَلُونَهُۥ قَرَاطِيسَ تُبْدُونَهَا وَتُخْفُونَ كَثِيرًاۖ وَعُلِّمْتُم مَّا لَمْ تَعْلَمُوٓا۟ أَنتُمْ وَلَآ ءَابَآؤُكُمْۖ قُلِ ٱللَّهُۖ ثُمَّ ذَرْهُمْ فِى خَوْضِهِمْ يَلْعَبُونَ
আর তারা আল্লাহকে যথার্থ সম্মান দেয়নি, যখন তারা বলছে, আল্লাহ কোন মানুষের উপর কিছুই নাযিল করেননি। বল, ‘কে নাযিল করেছে সে কিতাব, যা মূসা নিয়ে এসেছে মানুষের জন্য আলো ও পথনির্দেশস্বরূপ, তোমরা তা বিভিন্ন কাগজে লিখে রাখতে, তোমরা তা প্রকাশ করতে আর অনেক অংশ গোপন রাখতে; আর তোমাদেরকে শিক্ষা দেয়া হয়েছিল যা জানতে না তোমরা ও তোমাদের পিতৃপুরুষ’? বল, ‘আল্লাহ’। তারপর তাদেরকে ছেড়ে দাও, তারা তাদের অযাচিত সমালোচনায় খেলতে থাকুক।(আল-আন’আম ৬:৯১)
إِنَّ ٱلَّذِينَ يَكْتُمُونَ مَآ أَنزَلَ ٱللَّهُ مِنَ ٱلْكِتَٰبِ وَيَشْتَرُونَ بِهِۦ ثَمَنًا قَلِيلًاۙ أُو۟لَٰٓئِكَ مَا يَأْكُلُونَ فِى بُطُونِهِمْ إِلَّا ٱلنَّارَ وَلَا يُكَلِّمُهُمُ ٱللَّهُ يَوْمَ ٱلْقِيَٰمَةِ وَلَا يُزَكِّيهِمْ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ
আল্লাহ কিতাবের যে বিধান অবতীর্ণ করেছেন তা যারা গোপন করে এবং এর বিনিময়ে সামান্য (বৈষয়িক) মূল্য গ্রহণ করে তারা শুধু আগুন খেয়ে নিজেদের পেট ভর্তি করে। কেয়ামতের দিন আল্লাহ তাদের সাথে কথা বলবেন না এবং তিনি তাদেরকে শোধন করবেন না। তাদের জন্য রয়েছে কষ্টদায়ক শাস্তি। (আল-বাকারাহ ২:১৭৪)

By Ekramul hoq

I am A.K.M Ekramul hoq MA.LLB. Rtd Bank Manager & PO of Agrani Bank Ltd. I am interested writing and reading. Also innovator of history of Islam. Lives in Bangladesh, District Jamalpur.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights