Categories
My text

কোরান নিজ ভাষায় বুঝে না পড়লে কোন এবাদই সঠিক হবে না

‘কুরআন বুঝে পড়ার কঠিন তাগিদ’

➡️ “তোমরা কি মানুষকে সৎকর্মের নির্দেশ দিবে এবং নিজেদের কথা ভুলে যাবে, অথচ তোমরা কিতাব পাঠ কর, তবে কি তোমরা বুঝ না?”
(QS. Al-Baqarah 2: Verse 44)

➡️ আল্লাহ্ ইচ্ছা করেন তোমাদের নিকট বিশদ ভাবে বিবৃত করিতে, তোমাদের পূর্ববর্তীদের রীতিনীতি তোমাদেরকে অবহিত করিতে এবং তোমাদের ক্ষমা করিতে। আল্লাহ্ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়। – (সূরা নম্বরঃ ৪, আয়াত নম্বরঃ ২৬)

➡️ আমি তো তোমার ভাষায় কুরআনকে সহজ করিয়া দিয়াছি যাহাতে তুমি উহা দ্বারা মুত্তাকীদেরকে সুসংবাদ দিতে পার এবং বিতণ্ডাপ্রবণ সম্প্রদায়কে উহা দ্বারা সতর্ক করিতে পার। – (সূরা নম্বরঃ ১৯, আয়াত নম্বরঃ ৯৭)

➡️ এভাবেই আল্লাহ তোমাদের জন্য তার বিধানগুলো বিশদ ব্যাখ্যাসহকারে বিবৃত করেন, যাতে তোমরা বুঝতে পারো। – [২৪: নুর-৬১: ৪৪ দুখান-৫৮]

➡️ যাহারা কুফরী করে তাহাদের উপমা : যেমন কোন ব্যক্তি এমন কিছুকে ডাকে যাহা হাঁক-ডাক ছাড়া আর কিছুই শ্রবণ করে না-বধির, মূক, অন্ধ, সুতরাং তাহারা বুঝিবে না। – (সূরা নম্বরঃ ২, আয়াত নম্বরঃ ১৭১)

➡️ যাদের তাওরাতের দায়িত্বভার দেয়া হয়েছিল; অতঃপর তা বুঝতে চেষ্টা করেনি, তাদের উপমা পুস্তক বহনকারী গাধার মতো। কত নিকৃষ্ট সে জাতি, যারা আল্লাহর আয়াতকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে। আল্লাহ জালিম জাতিকে সৎপথ দেখান না। – [৬২ জুমুয়া-৫]

➡️ তবুও কি এরা কুরআনসূত্র নিয়ে চিন্তা গবেষণা করবে না? না তাদের হৃদয়ে তালা মারা রয়েছে!! – [৪৭: মুহাম্মদ-২৪]

➡️ আমি তোমাদের প্রতি কেতাব অবতীর্ণ করেছি, যা তোমাদের জন্য উপদেশে পরিপূর্ণ। তবুও কি তোমরা বুঝতে চেষ্টা করবে না? – [২১: আম্বিয়া-১০]

➡️ আল্লাহর নিকট নিকৃষ্টতম জীব সেই, বধির ও মুক যাহারা কিছুই বোঝে না। – (সূরা নম্বরঃ ৮, আয়াত নম্বরঃ ২২)

➡️ আমি তো বহু জিন ও মানবকে জাহান্নমের জন্য সৃষ্টি করিয়াছি ; তাহাদের হৃদয় আছে কিন্তু তদ্দ্বারা তাহারা উপলব্ধি করে না, তাহাদের চক্ষু আছে তদ্দ্বারা দেখে না এবং তাহাদের কর্ণ আছে তদ্দ্বারা শ্রবণ করে না; ইহারা পশুর ন্যায়, বরং উহারা অধিক পথভ্রষ্ট। উহারাই গাফিল। – (সূরা নম্বরঃ ৭, আয়াত নম্বরঃ ১৭৯)

➡️ “আর কারো ঈমান আনা হতে পারে না, যতক্ষণ না আল্লাহর হুকুম হয়। পক্ষান্তরে তিনি অপবিত্রতা আরোপ করেন যারা বুদ্ধি প্রয়োগ করে না তাদের উপর।” – (QS. Yunus 10: Verse 100)

➡️ তাদের মধ্যে এমন আহম্মক লোক আছে যাদের মিথ্যা আশা ব্যতীত কেতাব সম্বন্ধে কোনোই জ্ঞান নেই, তারা শুধু অবাস্তব ধারণায় বিশ্বাসী। – [২: বাকারা-৭৮]

➡️ যাদেরকে কেতাব দিয়েছি তাদের যারা যথাযথভাবে তা আবৃত্তি করে তারাই এতে বিশ্বাস করে, আর যারা তা প্রত্যাখ্যান করে তারা ক্ষতিগ্রস্থ। – [২: বাকারা-১২১]

✅ যারা কুরআনের আয়াতের অর্থ উপলব্ধি বাদ দিয়ে শুধুমাত্র সুর-তাল ঠিক রেখে পড়লে বা মুখস্থ করলেই অক্ষর প্রতি ১০টি ছোয়াবে বিশ্বাসী। মূলত উপরোল্লিখিত আয়াতগুলোর আলোকে তাদের বিশ্বাসগুলো ভ্রান্ত ও কুরআন বিরুদ্ধ বলেই প্রমাণ করে। মূলত কুরআনে আল্লাহ যা বলছেন বা বুঝাতে চাচ্ছেন, এটাই নিরপেক্ষ জ্ঞানে বিচার-বিশ্লেষণে ঠিক ঠিক যেন তাই-ই পাঠক হৃদয়ঙ্গম করেন; এমন তীব্র তীক্ষ্ণ সচেতনতা অবলম্বন করে কুরআন পাঠে বুঝতে বলা হয়েছে; যাতে কোনো প্রকারের ভুল-ভ্রান্তি বা ব্যতিক্রম না হয়। এটাই ‘যথাযথভাবে’ পড়ার তাৎপর্য। শুধুমাত্র উচ্চারণ বা সুর তাল রক্ষার জন্য কুরআন নাজিল হয়নি। বিষয়টি উপলব্ধি করতে পারলে ইসলামের ব্যক্তিক ও আন্তর্জাতিক অবক্ষয় রোধ হয়ে পুনঃ প্রগতির দিকে ধাবিত হওয়া সম্ভব..ইনশাআল্লাহ।

By Ekramul hoq

I am A.K.M Ekramul hoq MA.LLB. Rtd Bank Manager & PO of Agrani Bank Ltd. I am interested writing and reading. Also innovator of history of Islam. Lives in Bangladesh, District Jamalpur.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights