Categories
My text

সম্পত্তি বেদখল হলে আপনি কি করবেন?

জোড় করে আপনাকে আপনার জমি থেকে উচ্ছেদ করে অবৈধ ভাবে সেখানে অন্য কেউ তার স্বত্ব প্রতিষ্ঠিত করার অবস্থাকে বেদখল বলে।
বেদখল হতে প্রতিকার পেতে আপনাকে প্রমান করতে হবে —-
১) আপনাকে জোর পুর্বক বেদখল করা হয়েছে
২) আপনাকে আপনার সম্মতি ছাড়া বেদখল করা হয়েছে।
৩) যথাযথ আইনগত পদ্ধতি ছাড়া বেদখল করা হয়েছে
৪) আপনি বেদখল হওয়ার ৬ মাসের মধ্যে মামলা দায়ের করেছেন।

ক) ফৌজদারী আদালতে মামলাঃ জমি দখলকে কেন্দ্র করে অস্থিতিশীল পরিস্থতির সৃষ্টির আশংকা দেখা দিলে ফৌজদারী কার্যবিধির ১৪৫ ধারা অনুযায়ী প্রতিকার চাইতে পারেন। এ ধারা অনুযায়ী প্রতিকার চাইতে হবে ১ম শ্রেনীর ম্যাজিষ্ট্রেটের আদালতে। আর এ মামলা করতে হবে বেদখল হয়ে গেলে বা বেদখল হওয়ার আশংকা দেখা দেওয়ার দুই মাসের মধ্যে। মামলা করলে ম্যাজিষ্ট্রেট প্রতিপক্ষের উপর সমন জারী করবেন। পরবর্তি সময়ে উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনবেন এবং সাক্ষ্য প্রমান শেষে সম্পত্তির দখলকার কে তা নির্ধারন করবেন। প্রয়োজনে সরজমিনে আদেশ দিতে পারবেন পুলিশকে।  তাদের দেওয়া প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দখলকার কে সে বিষয়ে রায় দিবেন।
তবে ১৪৫ ধারায় প্রতি কার চাইতে গেলে এখানে স্বত্ব বা মালিকানা দাবি করা যাবে না। এর মধ্যে শুধু প্রকৃত দখলদার নির্নয় করার জন্য প্রতিকার চাওয়া যাবে।

খ) দেওয়ানী আদালতে মামলাঃ
১৮৭৭ সনের সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৮,৯ ও ৪২ ধারায় জমি জমার মালিকানা নিয়ে প্রতকারের ক্ষেত্রে
নির্দিষ্ট এখতিয়ারধীন আদালতে মামলা করতে হবে।
মামলার মুল্যমান ৪ লাখ টাকার কম হলে সহকারী জজ আদালতে  এবং চার লাখের বেশী হলে  অসীম এখতিয়ার পর্যন্ত যুগ্ম জেলা জজ আদালতে প্রতিকার চাইতে হবে। মামলা দায়ের করতে হবে আইনজীবির মাধ্যমে।
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৯ ধারা অনুযায়ী প্রতিকার চাইতে হলে মালিকানা প্রমানের দরকার নাই। শুধু জমি থেকে দখলচ্যুত হয়েছেন এটি প্রমান করলেই চলবে।

৯ ধারায় উল্লেখ আছে, যদি কোন ব্যক্তি বেদখল হন,  তবে তিনি তার মাধ্যমে দাবীদার কোনও ব্যক্তি মোকদ্দমার মাধ্যমে এর দখল পুনরুদ্ধার করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে যেসকল দিক বিবেচনা করা হয়,  সে গুলি হল —–
বাদী অর্থাত যিনি প্রতিকার দাবী করেছেন, তিনি জমিটি দখল করে আসছিলেন কি না, বিবাদীপক্ষ তাকে জোরপুর্বক বেদখল করেছেন কি না? বি বাদী বেআইনীভাবে জমিতে প্রবেশ করেছেন কি না। তবে বাদীকে অবশ্যয় ৬ মাসের মধ্যে মামলা করতে হবে। অন্যথায় এ ধারায় মামলা করার অধিকার হারাতে হবে তাকে।

বাদী যদি সম্পত্তিতে নিজের স্বত্ব মালিকানা প্রমানে সামর্থ নাও হয় কেবল বেদখল হওয়ার পুর্ব পর্যন্ত দখল থাকা প্রমান করতে পারেন তবে তিনি তার পক্ষে ডিক্রি
পেতে পারেন। সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৯ ধারা মতে প্রদত্ত ডিক্রী বা আদেশের বিরুদ্ধে আপীল বা রিভিউ করার কোন বিধান নাই। * তবে মহামান্য হাইকোর্টে রিভিশন করা যাবে।

By Ekramul hoq

I am A.K.M Ekramul hoq MA.LLB. Rtd Bank Manager & PO of Agrani Bank Ltd. I am interested writing and reading. Also innovator of history of Islam. Lives in Bangladesh, District Jamalpur.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights