Categories
My text

শয়তান এবং ইবলিশ এর সংক্ষিপ্ত পরিচয়:

শয়তান এবং ইবলিশ এর সংক্ষিপ্ত পরিচয়:

শয়তান আলাদা কোন চরিত্র না,
মানুষ মন্দের অনুসরণ করে শয়তান হয়ে উঠে।

#কোর’আন শয়তানকে আমাদের প্রকাশ্য শত্রু বলে।

এ থেকে আমাদের সিদ্ধান্ত হলো, শয়তান মূলত মানুষের মধ্যে কৃত্রিম ভাবে নিজের মধ্যে নিজেরই সৃষ্ট মিথ্যা অবয়ব বা false image/ego

মানুষের নিজের কাছে যা সবচেয়ে বেশি প্রকাশ্য, তাহলো, তার নিজের এই মিথ্যা অবয়ব, যা অতি নিকটে/প্রকাশ্যে থাকে বলেই আমরা আত্ম প্রবঞ্চনায় আর বিভ্রমে তা দেখতে অক্ষম হই।

অন্যদিকে ইবলিশ শব্দটি এসেছে ” বালাসা” শব্দ থেকে, অর্থ নিরাশ বা হতাশা হওয়া থেকে। নিরাশা বা হতাশা আসে নিজের সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে অজ্ঞতা প্রসূত উচ্চধারণা হতে। মানে আমরা যখন নিজের সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে অজ্ঞ থাকি, তখন নিজের সম্পর্কে এমন সব উচ্চধারণা পোষণ করি, বা নিজের সম্পর্কে এমন দাবী উপস্থাপন করতে থাকি, যা মূলত মিথ্যা বলে,পরিণতিতে নিরাশ বা হতাশ হওয়া ছাড়া কোন বিকল্প থাকে না।

মানুষের মধ্যে God-Complex কাজ করে, মানে সে নিজেকে খোদা ভাবতে পছন্দ করে, বিশেষ করে যারা ক্ষমতা, অর্থবিত্ত বা বুদ্ধিমত্তায় তুলনামূলকভাবে সুবিধাভোগী।

মানুষ-ই মূলত শয়তান এবং ইবলিশ হয়ে উঠে যদিও, তবুও কোর’আনে ইবলিশকে আলাদা ব্যক্তি সত্তা হিসাবে বিবেচনা করে, কিন্তু এর সুস্পষ্ট ব্যাখা সহ কোন আয়াত আমার গোচরে আসে নি। হতে পারে ইবলিশ একই সাথে কোন সুনির্দিষ্ট ব্যক্তি সত্তা আবার বিশেষ ধরণের চরিত্র হিসাবে কাজ করে। আল্লাহ যতটুকু প্রকাশ করেছেন তার বাহিরে সব আমাদের অনুমান, চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়।

ইবলিস এবং শয়তান উভয়ের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য:

শয়তান আত্ম সম্মানহীন, নিজের ক্ষুদ্র স্বার্থে যেকোন হীন কাজে নিমজ্জিত হতে পারে, স্বল্প মূল্যে নিজেকে বিকিয়ে দিতে সামান্য দ্বিধাগ্রস্ত নয়। আমাদের চারপাশের বেশির ভাগ মানুষ মূলত শয়তান। শয়তানের ধোঁকা মূলত মানুষের নিজেকে দেয়া নিজেরই ধোঁকা। মানুষ যতক্ষণ পর্যন্ত তার নিজের এই শয়তান রূপ থেকে বের হতে না পারে ততক্ষণ সে ইবলিসের দেখা পায় না।

অন্যদিকে, ইবলিস প্রথাগত ভাবে আত্ম-অহংকারী, বিদ্রোহী, অভিশপ্ত হিসাবে বিবেচিত হয়।

প্রচণ্ড আত্ম-অহংকার আল্লাহ ছাড়া অন্যকোন সত্তার সামনে ইবলিসকে মাথা নত করতে দেয় না।

#ধার্মিক মানুষদের মধ্যে এই ইবলিস-কমপ্লেক্সটা বেশি দেখা যায়, তারা অন্য মানুষকে গুরুত্বহীন, মর্যাদাহীন ভাবে, এবং মানুষের প্রতি অবিনীত ভাব প্রকাশ করে।

সুফী প্রথায় ইবলিস খুবই গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র:

ইবলিসকে একনিষ্ঠ একত্ববাদীর প্রতীক হিসাবে দেখা হয়, আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন সত্তার সামনে মাথা ঝু্ঁকায় না, অনন্ত জাহান্নামের ভয়কে তোয়াক্কা করে না। খোদা প্রদত্ত দায়িত্ব পালনে ইবলিস সর্বদা একনিষ্ঠ, যদিও সে জানে তার পুরস্কার অনন্ত জাহান্নাম।

ইবলিশ ও শয়তান কে একত্রে ইবলিশ শয়তান বলেই জেনে থাকে সবাই।
আদম সত্বা যখন নিজেকে শয়তান হতে আলাদা করতে সক্ষম হয় তখনই বিশুদ্ধ চিত্তের অধিকারী হয়। সূফী…

By Ekramul hoq

I am A.K.M Ekramul hoq MA.LLB. Rtd Bank Manager & PO of Agrani Bank Ltd. I am interested writing and reading. Also innovator of history of Islam. Lives in Bangladesh, District Jamalpur.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights